পঞ্চগড়ে নির্মাণাধীন মসজিদের ছাদ থেকে পড়ে জুবায়ের রহমান (১৫) নামে এক আবাসিক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের টোকাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু দাবি করলেও চিকিৎসকরা বলছেন ওপর থেকে নিচে পড়ে যাওয়ার আঘাতে জুবায়েরের অভ্যন্তরীণ কিডনি ফেটে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে চিকিৎসক ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত জুবায়ের রহমান ঠাকুরগাঁও জেলার ভূল্লী উপজেলার জাকিরুল ইসলামের ছেলে। সে টোকাপাড়া তা’লিমুল কোরআন হাফেজিয়া মাদরাসার হাফেজ রিভিশন বিভাগের আবাসিক ছাত্র ছিল।
মাদরাসা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার আছরের নামাজ শেষে মাদ্রাসার অন্য বন্ধুদের সাথে বাইরে খেলতে যায় জুবায়ের। খেলার একপর্যায়ে সে ওই এলাকার একটি নির্মাণাধীন মসজিদের ছাদে ওঠে। সেখানে অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের মেইন লাইনের তারে স্পর্শ লাগলে সে প্রচণ্ডভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় এবং ছাদ থেকে পড়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দা ও মাদ্রাসার শিক্ষকরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাহবুব আলম জানান, প্রাথমিকভাবে মনে হতে পারে এটি ইলেকট্রিক শকের কারণে মৃত্যু। কিন্তু রোগীর পেটে প্রচণ্ড ব্যথার কথা জানালে আমরা দ্রুত আল্ট্রাসনোগ্রাফি করাই। রিপোর্টে দেখা যায় ওপর থেকে নিচে পড়ে যাওয়ার প্রচণ্ড আঘাতে তার কিডনি ফেটে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ (ব্লিডিং) হচ্ছিল। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় আমরা তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করি। কিন্তু এর মধ্যেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। পঞ্চগড় সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফুল ইসলাম জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অভিযোগ বা দাবি না থাকায় মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
