ডায়াবেটিস রোগীর অসুস্থতার দিনের (Sick Day) ব্যবস্থাপনার নির্দেশিকা

ডায়াবেটিস রোগীর অসুস্থতার দিনের (Sick Day) ব্যবস্থাপনার নির্দেশিকা

ফন্ট সাইজ:

ডায়াবেটিক রোগী অসুস্থ হলে (যেমন, জ্বর, সর্দি, বমি, ডায়ারিয়া ইত্যাদি) রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে বা কমে যেতে পারে। তাই এসময় বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি।

অসুস্থতার দিনের (Sick Day) ঝুঁকিসমূহঃ
১। হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া)
২। হাইপারগ্লাইসেমিয়া (রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়া)
৩। ডায়াবেটিক কিটোএসিডোসিস
৪। পানিশূন্যতা

অসুস্থতার দিনের (Sick Day) ব্যবস্থাপনার মূলনীতি সমূহঃ
১। ইনসুলিন ও অন্যান্য ডায়াবেটিসের ওষুধ সমূহ চালিয়ে যাওয়া - বমি বা পাতলা পায়খানা হলে ইনসুলিন এবং Sulfonylurea (সালফোনাইলইউরিয়া) Glitinide (গ্লিটিনাইড) গ্রুপের ওষুধ সেবনকারী রোগীদের হাইপোগ্লাইসেমিয়া হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই এসব ওষুধ সমূহের মাত্রা কমিয়ে গ্রহণ করতে হবে এবং মেটফরমিন নেওয়া বন্ধ করতে হবে।
২। ঘন ঘন রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা ও প্রসাবে কিটোনের উপস্থিতি পরীক্ষা করতে হবে। চার ঘন্টা পর পর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করা উচিৎ। তবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা যদি <৪ মিলিমোল/লি অথবা কিটোনের উপস্থিতি থাকে তবে ২ ঘন্টা পরপর বা আরো ঘন ঘন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করতে
৩। ডায়াবেটিস রোগীর জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে- ডায়াবেটিস রোগীর পরিচর্যাকারীর অসুস্থতার দিনের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকতে হবে এবং রোগীকে কখন চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে সে ব্যাপারে জানতে হবে।

৪। পর্যাপ্ত পানি ও শর্করা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে-
- পানিশূন্যতা রোধে প্রতি ঘন্টায় ১২৫-১৫০ মিলি পানি পান করতে হবে। -শর্করা জাতীয় খাবার গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে কারণ এটা হাইপোগ্লাইসেমিয়া প্রতিরোধ করে এবং রোগীকে শক্তি জোগায়।
৫। মূল অসুস্থতার যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
৬। হাইপোগ্লাইসেমিয়া প্রতিরোধ যথাযথ নির্দেশনা প্রদান করতে হবে।
৭। অসুস্থতা দিনের ব্যবস্থাপনার যথাযথ নির্দেশনা প্রদান ও প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। -ডায়াবেটিস রোগীকে এবং রোগীর সহায়তাকারীকে অবশ্যই অসুস্থতার দিনের ব্যবস্থাপনার সম্পর্কে জানতে হবে এবং ব্যবস্থাপনার জন্য যথাযথ প্রস্তুতি রাখতে হবে। বাসায় কিভাবে অসুস্থতার দিনের ব্যবস্থাপনা করবেন এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন সে ব্যাপারে সাম্যক ধারণা থাকতে হবে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন-
১। যদি ৬ ঘন্টার বেশি বমি বা পাতলা পায়খানা ভাল না হয়।
২। ২ দিন ধরে অসুস্থ থাকেন এবং ভাল না হন।
৩। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা> ১৫ মিলি মোল/লি এর বেশি হয়।
৪। চিকিৎসার পরও প্রসাবের সাথে কিটোন যাওয়া বন্ধ না হয়।
৫। কিটোএসিডোসিস, অতিরিক্ত দ্রুত ও গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস (হাইপারভেন্টিলেশন- Hyperventilation), পেটে ব্যথা তন্দ্রাচ্ছন্নতা এসব লক্ষণ দেখা দিলে।
৬। রোগী যদি শিশু বা বৃদ্ধ হয়
৭। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায় (হাইপোগ্লাইসেমিয়া)
৮। ডায়াবেটিসের সাথে আরো অন্য অসুখ (Co-morbidity) থাকে
৯। যদি অসুস্থতার কারণে রোগী খাবার ও পানি গ্রহণে অসমর্থ হন। অসুস্থতার দিনের (Sick Day) এর ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রোগীর জীবন বাঁচায় এবং তাকে চিকিৎসা সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।

লেখকঃ
ডা. রেজওয়ানা লাবণী
ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন বিশেষজ্ঞ
সহকারী অধ্যাপক
চেম্বার: আলোক হাসপাতাল লি. মিরপুর-৬
হটলাইনঃ ১০৬৭২, ০৯৬১০১০০৯৯৯

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন