হাসপাতালে হামের রোগী কমছে না

সহযোগীদের খবর

হাসপাতালে হামের রোগী কমছে না

ফন্ট সাইজ:

প্রথম আলো

হাসপাতালে হামের রোগী কমছে না’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, হাসপাতালে হামের রোগী কমছে না। সারা দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় চার হাজার হামে আক্রান্ত শিশু ভর্তি থাকতে দেখা যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশেষ উদ্যোগ নিলেই হাসপাতালে রোগীর চাপ কমানো সম্ভব।

গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৪০ হাজার ১৭৬ জন রোগী ভর্তি হয়। এই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে ৩৬ হাজার ৫৫ জন ছাড়পত্র পায়। অর্থাৎ গতকাল সারা দেশে ৪ হাজার ১২১ জন হামের রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিল। হাসপাতালে ভর্তি ছাড়াও হামের রোগী আছে, যারা বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছে।

সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণে না আসায় হাসপাতালে রোগী আসছে, ভর্তিও হচ্ছে। অনেক হাসপাতালে হামের মতো সংক্রামক রোগের জন্য নির্ধারিত শয্যার চেয়ে রোগী বেশি। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য অনেক হাসপাতালের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির ঘাটতি রয়েছে।

কোন হাসপাতালে কত রোগী আছে, কত শয্যা খালি, আইসিইউ খালি আছে কি না—এসব তথ্য সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র প্রকাশ করে না। অথচ কোভিড ১৯ মহামারির সময় এসব তথ্য দেওয়া হতো, যা রোগী ব্যবস্থাপনার জন্য দরকার।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) পরিচালক আবু আহমেদ আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সারা দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের হামের রোগীর তথ্য আমরা নিয়মিত প্রকাশ করছি। প্রতিটি জেলার সিভিল সার্জন ও সিটি করপোরেশনগুলোর স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছ থেকে আমরা রোগীর তথ্য পাই। তবে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের তথ্য পৃথকভাবে নেই।’

সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা কমছে না। ১ মে সারা দেশের হাসপাতালে রোগী ভর্তি ছিল ৩ হাজার ৪৫০ জন। সাত দিন পর ৭ মে ভর্তি রোগী ছিল ৩ হাজার ৬৭৪ জন। আরও সাত দিন পর অর্থাৎ গতকাল শুক্রবার রোগী ছিল ৪ হাজার ১২১ জন।

মার্চ মাসের মাঝামাঝি হামের প্রাদুর্ভব দেখা দেওয়ার পর যেসব হাসপাতালে রোগীর চাপ বেশি ছিল, সেগুলোর একটি রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট। কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে ১৪ মে পর্যন্ত এই হাসপাতালে ৬৪৮টি শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ মে ৮৫টি শিশু ভর্তি ছিল। হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মো. মাহবুবুল হক প্রথম আলোকে বলে, ‘রোগীর চাপ সামান্য কমেছে। তবে আইসিইউতে রোগীর চাপ কমেনি।’

সরকার উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় হামের টিকা দেওয়া শুরু করে ৫ এপ্রিল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এসব উপজেলায় হামের সংক্রমণ কমে এসেছে। অনেকে মনে করেন, দেশব্যাপী হামের টিকার ক্যাম্পেইন শেষ হওয়ার এক–দেড় মাসের মধ্যে সারা দেশে সংক্রমণ কমে আসবে। তবে সামনের কোরবানির ঈদের ছুটিতে এই সংক্রমণ আবার বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি আছে বলে কেউ কেউ মনে করেন।

রাজধানীর সরকারি সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এফ এ আসমা খান প্রথম আলোকে বলেন, এখন মাঝেমধ্যে ঝড়বৃষ্টি হওয়ার কারণে কিছু শিশু সর্দি–জ্বরে পড়ছে। কোরবানির ঈদের ছুটির সময় বাচ্চারা অবাধভাবে হইচই করবে, একে অন্যের সংস্পর্শে আসবে, এতে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি আছে।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘আলাদা পথে হাঁটছে জামায়াত এনসিপি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় নির্বাচন একসঙ্গে করলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এখন পর্যন্ত আলাদা আলাদা পথে হাঁটছে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তাছাড়া জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে এ প্রশ্নে এখন পর্যন্ত আলোচনাও হয়নি। উপরন্তু এনসিপি ও জামায়াত ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আলাদাভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এতে ১১ দলের মধ্যে তৈরি হয়েছে কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

দলগুলোর কেউ বলছেন, নির্বাচনে একসঙ্গে, আবার কারও মতে, নির্বাচন পৃথক পৃথকভাবে হওয়া উচিত। তবে সেই প্রতিক্রিয়া এখন পর্যন্ত দুদলের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টির পর্যায়ে যায়নি বলে দাবি করেছেন ১১ দলের নেতারা।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা এটিএম মাছুম শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলগতভাবেই হবে। জোট আমরা করেছি জাতীয় নির্বাচনের জন্য, স্থানীয় নির্বাচনের জন্য নয়। তাছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকেও হবে না। জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন জোটে হবে না। এককভাবেই হবে। অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনে স্থানীয়ভাবে সমঝোতা হতে পারে। সেটা হবে প্রার্থী বুঝে। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো একক প্রার্থী দেওয়া হবে না।

এ প্রসঙ্গে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন আমাদের জন্য আরেকটি চ্যালেঞ্জ। এখন পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্ত হলো, এনসিপি এককভাবেই স্থানীয় নির্বাচন করবে। আমরা এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সব প্রস্তুতি নিয়েই সামনের দিকে এগোচ্ছি। সেই লক্ষ্যেই প্রার্থীর নাম ঘোষণা চূড়ান্ত করছি। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে কৌশল পরিবর্তন হয়। রাজনৈতিক মাঠে বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্ত নিতে হয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে যদি কোনো বোঝাপড়ার জায়গা তৈরি হয় এবং ১১ দলের মতো জোটগতভাবে অংশ নেওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমরা আলোচনা উন্মুক্ত রেখেছি।

দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন দাবি করেন, এনসিপি সময়ের সঙ্গে আরও শক্তিশালী এবং সুসংগঠিত দল হিসাবে এগিয়ে যাচ্ছে। সারা দেশে এনসিপির নব জোয়ার বইছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলে নিশ্চয়ই ভিন্ন ভিন্ন কৌশল থাকে এবং সে কৌশলী সিদ্ধান্ত নিতেই হয়। জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী চূড়ান্ত করছে। একক নির্বাচনের পথেই দুটি দল এগোচ্ছে। জোট হবে কিনা সেটা সময়ই বলে দেবে।

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান ইঙ্গিত দিয়েছেন এ বছরের শেষে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে স্থানীয় সরকারের কোন কাঠামোর নির্বাচন আগে হবে সে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। সরকারের নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগে অনুষ্ঠিত হতে পারে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বছরের মধ্যে নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছেন।

সূত্র জানাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পরপরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ১১ জোটের তৎপরতা বেড়ে যায়। ১১ দলের অন্যতম শরিক এনসিপি ১০ মে ১০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে। এর মধ্যে উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা চেয়ারম্যান ও মেয়র পদের প্রার্থীও রয়েছেন। ২৫ মের মধ্যে আরও ১০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবে দলটি। অন্যদিকে, জামায়াত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা না করলেও সারা দেশে সব পর্যায়ের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে এবং তারা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তবে ১১ দলের শরিক অন্য কোনো দল গতকাল পর্যন্ত কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি।

কালের কণ্ঠ

দুই হাজার শিল্পী নিগৃহীত’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, তিন ব্যক্তি একজন বয়োজ্যেষ্ঠ বাউলশিল্পীকে জোর করে ধরে তাঁর চুল-দাড়ি কেটে দিচ্ছেন। শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে লোকগুলোর হাত থেকে ছোটার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন বাউলশিল্পী।

শেষ পর্যন্ত অসহায় কণ্ঠে শুধু বলেন, ‘আল্লাহ, তুই দেহিস।’ ২০২৫ সালে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার কাশিগঞ্জ বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এই বাউলশিল্পীর নাম হালিম উদ্দিন আকন্দ (৭০)। উপজেলার কোদালিয়া গ্রামের বাসিন্দা তিনি।

হজরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহ পরান (রহ.)-এর ভক্ত এই বাউল। একসময় তিনি কৃষি কাজ করতেন; পরে মাজারে মাজারে থাকতেন আর মনের আনন্দে গান গাইতেন। একদিন তারাকান্দার কাশিগঞ্জ বাজারে হঠাৎ করেই তাঁকে জাপটে ধরে মেশিন দিয়ে তাঁর মাথার জট ও দাড়ি কেটে দেওয়া হচ্ছে—এ রকম একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

তারাকান্দা: ২০২৫ সালে ময়মনসিংহের তারাকান্দায় বাউলশিল্পী হালিম উদ্দিন আকন্দের মাথার চুল ও দাড়ি কর্তন। নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেড় বছরের শাসনামলে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষজনের বাসা, সংগঠন ও কর্মস্থলে ধারাবাহিকভাবে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার কথা জানা গেছে কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে।

মাঠ পর্যায়ের তথ্য, ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই দেড় বছরে শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের দুই হাজারের বেশি মানুষ মব সহিংসতা, হামলা, মামলা, হুমকি ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। জোর করে চাকরিচ্যুতির ঘটনাও ঘটেছে। আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন কবি-সাহিত্যিক-লেখক, নাট্যকর্মী, চলচ্চিত্রকর্মী, অভিনেতা-অভিনেত্রী, আবৃত্তিশিল্পী, চারুশিল্পী, নৃত্যশিল্পী ইত্যাদি অঙ্গনের মানুষ। দেশের নানা প্রান্তে যাত্রা, বাউল, সুফি, পালাগান, গ্রাম থিয়েটারসহ লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত শিল্পী, কলাকুশলী ও সংগঠকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। তাঁদের অনেকেই নিরাপত্তাহীনতায় কাজ বন্ধ রেখেছেন, কেউ কেউ এলাকা ছেড়েছেন, আবার কেউ নেশা-পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন।

বাউল, ফকির, সুফিদের ওপর হামলা ও অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়ার ঘটনা দেশের অধিকাংশ জেলায়ই পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ বাউল সমিতি ও বাংলাদেশ সুফি জাগরণ পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে দুই হাজারের কাছাকাছি পালাকার, বয়াতি, বাউলশিল্পী ও সংগঠক হামলা, অনুষ্ঠানে বাধার শিকার হয়েছেন। অনেক বাউলশিল্পী ও সংগঠকের নামে হত্যা বা হত্যাচেষ্টার মামলাও হয়েছে।

বাংলাদেশ বাউল সমিতির মহাসচিব ও সংগঠক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজেও মবের শিকার হয়েছি। মব করে দখল করা হয়েছে আমাদের বাউল সমিতির অফিস।’ তিনি আরো বলেন, ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূসের শাসনামলে দেশের বাউলশিল্পীরা তেমন কোনো অনুষ্ঠান করতে পারেননি। অল্প কিছু অনুষ্ঠান হলেও হামলা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বন্ধ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কিভাবে দেশের শিল্প-সংস্কৃতি বাধার মুখে পড়েছে, জাতীয় সংসদে বীর মুক্তিযোদ্ধা এমপি ফজলুর রহমানের বক্তব্যে তা অনেকটা স্পষ্ট হয়েছে। গত ২৮ এপ্রিল জাতীয় সংসদে তিনি বলেছেন, ‘৫ আগস্টের পর কী হলো—আপনারা জানেন। এখানে ইউনূস সরকার ছিল। আমি শিল্পকলা একাডেমির সামনে থাকি। একটা গান হইতে পারে নাই, একটা নাটক হইতে পারে নাই, একটা লালনের গীতি হইতে পারে নাই, একটা বাউল গান হইতে পারে নাই—সবকিছু কালো শক্তি ধ্বংস করে দিয়েছিল।’

ক্ষমতায় থাকাকালে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা কখনোই মব ঠেকাতে নিজেদের ব্যর্থতা মেনে নেননি। তবে গত ৫ এপ্রিল বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল স্বীকার করে নিয়েছেন, ‘মব ঠেকানোর ক্ষেত্রে দৃঢ়তা দেখাতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি।’

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘স্থানীয় ভোটের প্রস্তুতি এককভাবে এনসিপির, জোটের সিদ্ধান্ত পরে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে লড়াইয়ের প্রস্তুতি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিপি। তবে জোট হবে কিনা- এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তপশিল ঘোষণার পর। এককভাবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে প্রার্থী বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত হলেও গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকবে এনসিপি।

শুক্রবার রাজধানীর বাংলামোটর কার্যালয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগের দিন নির্বাহী কাউন্সিলের (ইসি) সভায় প্রস্তাব করা হয়েছিল, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন এবং দায়িত্ব পুনর্বণ্টন হবে। বিলুপ্ত হবে মুখ্য সংগঠক, মুখ্য সমন্বয়ক, মুখপাত্র পদ বিলুপ্ত হবে। বিভাগীয় সম্পাদক সৃষ্টি করা হবে। সাধারণ সভায় এসব প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

এদিন বিকেল ৪টায় শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত সাধারণ সভা চলে। এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব সমকালকে বলেছেন, আগামী বছরের জানুয়ারিতে দলের জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনে আলোচনা হয়েছে। এর আগে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হবে। বর্তমানে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে কার্যক্রম চলছে। জাতীয় কাউন্সিলের আগে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটিগুলোতে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন হবে।

সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে জোট করে নির্বাচন করে এনসিপি। তবে তপশিল ঘোষণার পরও দলটির নেতাদের একাংশ বিএনপির সঙ্গে জোট চেয়েছিল। ভোটের পর জামায়াতের জোট নির্বাচনী ঐক্য থেকে থেকে রাজনৈতিক জোটে রুপান্তর হয়েছে। সংসদের ভেতরে ও বাইরে এই জোটে রয়েছে এনসিপি। সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত হয়, গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারে জোটে থাকবে দলটি।

গত মার্চে ৫ সিটি করপোরেশনে দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে এনসিপি। গত সপ্তাহে ১০০ উপজেলা ও পৌরসভার জন্য দল সমর্থিত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সাধারণ সভায় এনসিপি নেতারা বক্তৃতায় জানতে চান, আসলেই দলটি এককভাবে নির্বাচন করবে কিনা? এককভাবে নির্বাচন করার মত সক্ষমতা এনসিপির রয়েছে কিনা?

পরে জ্যেষ্ঠ নেতারা বলেন, এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেবে এনসিপি। উপজেলা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জোটের প্রয়োজন রয়েছে কিনা- তা তপশিলের পর যাচাই করা হবে।

গত শুক্রবার প্রকাশিত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবীর সমিতির নির্বাচনের ফলাফলও সাধারণ সভার আলোচনা উঠে। এই নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা গড়ে আড়াই হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন। জামায়াত সমর্থিত জোটের প্যানেলের প্রার্থীরা গড়ে ৮০০ করে ভোট পেয়েছেন। ১৪টি পদের একটিতে জয়ী হয়েছে জামায়াত প্যানেল। এনসিপি প্যানেল একটি পদেও জিততে পারেনি। গড় ভোট ১০০। এ উদাহরণ দিয়ে জোটবদ্ধভাবে স্থানীয় নির্বাচনের মতামতও আসে। জ্যেষ্ঠ নেতারা বলেন, সিদ্ধান্ত হবে অবস্থা বুঝে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে এনসিপির সাংগঠনিক সংগঠনের বিস্তৃতিতে ১০ সাংগঠনিক বিভাগে একজন করে সাংগঠনিক সম্পাদককে দায়িত্ব দেওয়া হবে। তাদের সঙ্গে থাকবেন দুইজন করে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। তাদের দায়িত্ব হবে; এসব বিভাগের আওতাধীন জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের কমিটি গঠন। বর্তমানে মুখ্য সংগঠক, মুখ্য সমন্বয়ক, মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করা নেতারা সাংগঠনিক সম্পাদকের ভূমিকায় থাকতে পারেন।

আরিফুল ইসলাম আদীব সমকালকে বলেছেন, আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন হবে। কমিটিতে আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়ক, সদস্য সচিব, যুগ্ম সদস্য সচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং প্রয়োজনীয় কিছু সম্পাদক পদ থাকবেন।

ইত্তেফাক

হাম নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে জুনে’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাব চলছে। একইসঙ্গে শিশুদের মৃত্যু এবং আক্রান্তের হারও বেড়েই চলেছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীসহ দেশব্যাপী হামে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে নিশ্চিত হামে চার জনের এবং হাম উপসর্গে আট জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে আরো বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে ১১৯২ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১১১ জন।

১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত মোট হামের রোগীর সংখ্যা ৫৫ হাজার ৬১১ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামের রোগীর সংখ্যা ৭ হাজার ৪১৬ জন। হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৪০ হাজার ১৭৬ জন। হাসপাতাল থেকে ৩৬ হাজার ৫৫ জন ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফিরেছে। এ পর্যন্ত ৪৫১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৭৪ জন নিশ্চিত হামে মারা গেছে। বাকি ৩৭৭ জনের হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে।

আগামী জুন মাসের প্রথম দিক থেকে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আসা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র সরকার। তিনি বলেন, শিশু মৃত্যুর মধ্যে নিউমোনিয়া মৃত্যুর হার সর্বাধিক। ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়।

স্বাস্থ্যের মহাপরিচালক বলেন, ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। শতভাগ টিকাদান কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে। এই কর্মসূচিতে ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এ টিকাদান কার্যক্রমের বাইরে কিছু কিছু শিশু বাদ পড়েছে। তাদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়া হচ্ছে। টিকাদান কর্মসূচি চলমান। তার মতে টিকা দেওয়ার তিন থেকে চার সপ্তাহের পর থেকে হামে আক্রান্ত শিশুর দেহে এন্টিবডি তৈরি হওয়া শুরু হয়। প্রথমে ১৮ টি জেলা ও ৩০ টি উপজেলায় হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়।
সেসব জেলা ও উপজেলায় প্রথমেই টিকা দেওয়া হয়। বর্তমানে ঐসব জেলা-উপজেলায় হামের কোনো প্রাদুর্ভাব নেই। কোনো মৃত্যুর তথ্যও পাওয়া যায়নি।

আইইডিসিআর-এর সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহমুদুর রহমান বলেন, হামের টিকা দেওয়ার পর তিন ও চার সপ্তাহের মধ্যে হামে আক্রান্ত শিশুদের দেহে ইমিউনিটি (রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা) তৈরি হয়। টিকা দেওয়ার আগে শিশুদের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি। হামে যে সব শিশু মারা যায়, তাদের দেহে পুষ্টির ঘাটতি থাকে। ভিটামিন-এ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের সমস্যা থাকে। এ কারণে ঐ সব শিশুদের সময়মতো টিক দেওয়া অতীব জরুরি বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোসতাক হোসেন বলেন, হাসপাতালের বাইরে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্তের মধ্যে নিউমোনিয়ার হার বেশি। তাদের বেশির ভাগের আইসিইউর প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালের পক্ষে চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। বেসরকারি হাসপাতালগুলোর আইসিইউ হামে আক্রান্ত শিশুদের সুচিকিত্সার্থে ব্যবহার করার জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিতে পারে। ৯০ ভাগ শিশু সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে আসে। সময়মতো শিশুরা আইসিইউ সাপোর্ট না পাওয়ায় বেশির ভাগ নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়। পরবর্তীতে মারা যায়।

তিনি বলেন, বর্তমানে গ্রামাঞ্চলের শিশুরাই হামে আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। জ্বর হলে শিশুদের স্থানীয় উপজেলা অথবা জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থাপত্র নিতে হবে। এজন্য দেশব্যাপী হামের চিকিত্সা ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানো হলে শিশুরা দ্রুত সুচিকিত্সা পাবে।

শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শফি আহমেদ মোয়াজ বলেন, গ্রামে হার্ড ইমিউনিটি বাড়ছে। সামনে শুরু হতে পারে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব। দুটি মিলিয়ে পরিস্থিতি বেসামাল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, হাম একটি শক্তিশালী ছোঁয়াচে রোগ। আক্রান্তদের মধ্যে গ্রামে হামে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। রাজধানীর হাসপাতালের মধ্যে চিকিত্সাধীন শিশুদের মধ্যে ৭০ ভাগই ঢাকার বাইরের বলে তিনি জানান।

শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, প্রতিবছর পাঁচ বছর বয়সি শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২৪ হাজার মারা যায়। দেশে মোট শিশু মৃত্যুর মধ্যে প্রতি চার জনের একজনই নিউমোনিয়ায় মারা যায় বলে তিনি জানান।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘স্বার্থান্বেষী মহলের অর্থায়নে গড়ে উঠেছে অপতথ্যের সাম্রাজ্য’। প্রতিবেদনে বলা হয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপফেককে পুঁজি করে বাংলাদেশে অপতথ্যের এক বিশাল সাম্রাজ্য বা ‘ফেক নিউজ ইন্ডাস্ট্রি’ গড়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক দল এবং তাদের সমমনা দেশী-বিদেশী গোষ্ঠী এই প্রচারণার পেছনে সবচেয়ে বড় অঙ্কের অর্থায়ন করছে। তা ছাড়া বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও জাতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে বিদেশী কিছু স্বার্থান্বেষী মহল অর্থায়ন করছে। গত বছরের তুলনায় ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত অপতথ্য ছড়ানোর জন্য দেশী ও বিদেশী চক্রের বিনিয়োগ এবং অর্থায়নের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

নির্বাচন, ভূ-রাজনীতি ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতাকে পুঁজি করে এই অর্থায়িত অপপ্রচারের অর্থনীতি এখন শত কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। গত কয়েক মাসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে হাজার হাজার ভুয়া ফটোকার্ড, এআই-জেনারেটেড ভিডিও ও ক্লোন ওয়েবসাইট ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

সিআইডির সাইবার ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট জানিয়েছে, ভুয়া খবরের শিল্পটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি কোটি কোটি টাকার একটি সুসংগঠিত অর্থায়ন চক্র। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে বাংলাদেশে সক্রিয় ‘ফেসবুক পেজ ম্যানেজার’ এবং ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের’ ক্রিপ্টো ওয়ালেটে অর্থ পাঠানো হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এই বছর ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে ফেক নিউজ ইন্ডাস্ট্রিতে লেনদেনের হার ৪২০ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরে ভুল তথ্য ছড়ানোর পেছনে বিনিয়োগের পরিমাণ সামগ্রিকভাবে ৩৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এএফপি ফ্যাক্ট চেকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো সমন্বিত অপপ্রচারের একটি বড় অংশ নির্দিষ্ট কিছু বিদেশী নেটওয়ার্ক ও হ্যান্ডেল থেকে স্পনসর বা পেইড বুস্টিং করা হয়েছে। ক্লিকবেইট ও চাঞ্চল্যকর ভুয়া খবর প্রচার করে এডসেন্স এবং সামাজিক মাধ্যমের ভিউ থেকে অর্থ উপার্জন। ব্যবহারকারীদের অ্যালগরিদমিক বাবলের ফাঁদে ফেলে বিপুল পরিমাণ ট্রাফিক জেনারেট করা হয় এবং পেপাল বা পেওনিয়ারের মাধ্যমে এই ডলারগুলো বাংলাদেশে আসে।

একটি গবেষণায় দেখা যায়, ২০২৫ সালে রাজনৈতিক প্রচার ও গুজব ছড়ানোর জন্য ফেসবুক ও ইউটিউবে বুস্টিং এবং ট্রল আর্মি পরিচালনায় প্রতি মাসে গড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয় হতো। চলতি বছরে এআই ক্লোনিং সফটওয়্যার, ডিপফেক ভিডিও নির্মাণ এবং সমন্বিত বট নেটওয়ার্ক পরিচালনার জন্য মাসিক বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩ দশমিক পাঁচ ৫ কোটি টাকা।

রিউমার স্ক্যানার এবং ডিসমিসল্যাবের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে অপতথ্য ছড়ানোর হার আগের তুলনায় বহুগুণ বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই শনাক্তকৃত সুসংগঠিত ভুল তথ্যের সংখ্যা দুই হাজার ৪৫০টি অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে ৮২ শতাংশ কন্টেন্টই পেইড বুস্টিং বা স্পনসরড বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর ডিপফেক ও এআই কন্টেন্টের ব্যবহার ৪০৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে লক্ষ্য করে কয়েক শত সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে। মূলধারার গণমাধ্যমের লোগো ব্যবহার করে ভুয়া ফটোকার্ড তৈরির ঘটনা ৪৭ শতাংশ বেড়েছে। এমনকি মূলধারার নিউজ পোর্টালের হুবহু নকল ডোমেইন বা ক্লোন ওয়েবসাইট তৈরি করে আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

সিআইডি জানায়, আমরা ফেক নিউজ ইন্ডাস্ট্রির আর্থিক লেনদেনের রুটগুলো ট্র্যাক করছি। এটি শুধু তথ্যপ্রযুক্তির অপরাধ নয়, এর পেছনে বড় ধরনের অবৈধ মানিলন্ডারিং জড়িয়ে রয়েছে। হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে দেশের বাইরে থেকে যেসব অ্যাকাউন্টে অর্থ আসছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) সহায়তায় সেগুলো ফ্রিজ করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যেই তার চেয়ে তিন গুণ বেশি অর্থায়নের তথ্য সিআইডির হাতে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএফআইইউ এর সহায়তায় আমরা ইতোমধ্যে ১৭টি বড় ফাইন্যান্সিয়াল চেইন ব্লক করা হয়েছে।

বণিক বার্তা

বিদ্যুৎ সঞ্চালন করে ধারাবাহিক লোকসান, ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকায়’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশের বিদ্যুৎ সঞ্চালনে নিয়োজিত রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি তিন অর্থবছর ধরে ধারাবাহিক লোকসানের মুখে রয়েছে। এ সময় কোম্পানিটি লোকসান করেছে দেড় হাজার কোটি টাকারও বেশি। একই সঙ্গে সঞ্চালন খাতের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ঋণের দায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা। ক্রমবর্ধমান এ ঋণের চাপ এবং ধারাবাহিক লোকসানের ফলে আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে ৭৪ হাজার কোটি টাকার ডজন খানেকের বেশি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে পাওয়ার গ্রিড।

বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার ঋণ পরিশোধে অক্ষমতার কথা জানিয়েছে পাওয়ার গ্রিড। এছাড়া পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি, সঞ্চালন ব্যবস্থাপনায় ব্যয়ভার এবং সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার চাপ কোম্পানির কার্যক্রমকে আরো সংকটের মুখে ফেলছে বলে সম্প্রতি সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাওয়ার গ্রিড সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন সংস্থার ঋণে সঞ্চালন লাইন, সাবস্টেশন নির্মাণ, বৈদ্যুতিক বিভিন্ন যন্ত্রপাতি স্থাপন করছে সংস্থাটি। এসব প্রকল্পে গত বছরের জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির ঋণের পরিমাণ ছিল ৫৯ হাজার ৬৯২ কোটি টাকা। বিপুল ঋণ নিয়েই পাওয়ার গ্রিড নির্মাণ করেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঞ্চালন লাইন, পটুয়াখালী-গোপালগঞ্জ, আমিনবাজার-গোপালগঞ্জ, দিনাজপুর ও গাজীপুরের কালিয়াকৈরের মতো দীর্ঘ সঞ্চালন লাইন। বর্তমানে সঞ্চালন লাইন ও অবকাঠামো মিলিয়ে ১৪টি প্রকল্প চলমান রয়েছে কোম্পানিটির। এসব প্রকল্পে দেশী-বিদেশী ঋণ মিলিয়ে ব্যয় হচ্ছে ৭৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যেই আবার ২০২২-২৩ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বৃদ্ধিজনিত ক্ষতি হয়েছে ৩ হাজার ৮৪৩ টাকা।

পাওয়ার গ্রিডের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সঞ্চালন না হওয়ায় আয়ের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা সরাসরি লোকসানে প্রভাব ফেলছে। এছাড়া বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো নির্মাণের পর তা পর্যাপ্তভাবে ব্যবহার না হলেও বিপুল পরিমাণ পরিচালন ব্যয় বহন করতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে। অন্যদিকে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) গ্যাসভিত্তিক বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে প্রত্যাশিত পরিমাণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন না হওয়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে। ফলে দূরবর্তী কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের ক্ষেত্রে ট্রান্সমিশন লস বেড়ে গিয়ে পাওয়ার গ্রিডের আর্থিক ক্ষতি আরো বেড়েছে।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রশিদ খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘হুইলিং (সঞ্চালন) চার্জ দিয়ে মূলত পাওয়ার গ্রিডের পরিচালন, প্রকল্প বাস্তবায়নসহ সামগ্রিক ব্যয় নির্বাহ করা হয়। গত কয়েক বছর হুইলিং চার্জ বৃদ্ধি করা হয়নি। অন্যদিকে বিদ্যুতের বছরভিত্তিক সঞ্চালন যে পরিমাণ প্রাক্কলন করা হয়েছিল, সে লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ হয়নি। এছাড়া সঞ্চালন খাতের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়জনিত আর্থিক ক্ষতি হয়েছে পাওয়ার গ্রিডের। সব মিলিয়ে অব্যাহতভাবে লোকসান করেছে পাওয়ার গ্রিড।’

এ পরিস্থিতি থেকে দ্রুত বেরিয়ে না আসা গেলে কোম্পানি পরিচালনায় আর্থিক সংকট, বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নও চ্যালেঞ্জে পড়বে বলে মনে করেন পাওয়ার গ্রিডের এমডি। তিনি বলেন, ‘আমরা সার্বিক বিষয় তুলে ধরে সঞ্চালনে হুইলিং চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছি। এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে পাওয়ার গ্রিড পর্যায়ক্রমে লোকসান থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে বলে মনে করি।’

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের আর্থিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে কোম্পানিটির পুঞ্জীভূত লোকসান ১ হাজার ৪৮৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। আর মেয়াদি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৯ হাজার ৬৯২ কোটি টাকায়। অর্থবছর শেষে এ ঋণের বিপরীতে ১ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা সুদ বাবদ ব্যয় হয়েছে। প্রশাসনিক ব্যয় ছিল প্রায় ৯৪ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে গত অর্থবছর শেষে আয়-ব্যয়ের হিসাবে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট লোকসান হয় ২১১ কোটি টাকা।

এর আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে কোম্পানিটি বিপুল পরিমাণ লোকসান করে। ওই অর্থবছরে কর-পরবর্তী নিট লোকসান ছিল ৬১১ কোটি টাকা। তারও আগের অর্থবছরে (২০২২-২৩) পাওয়ার গ্রিড কর-পরবর্তী নিট লোকসান করে ৭১২ কোটি টাকা।

পাওয়ার গ্রিডের ঋণের পরিমাণ অব্যাহতভাবে বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ক্রমান্বয়ে ডিএসএল (ডেট সার্ভিস লায়াবিলিটি) বকেয়াও বেড়ে চলেছে। কোম্পানিটির আর্থিক হিসাব থেকে জানা যায়, চলতি ২০২৫-২৬ থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত এ বকেয়ার পরিমাণ ৩৫ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকবে। বর্তমানে পাওয়ার গ্রিডের রেট বেজের (নিট স্থায়ী সম্পদ ও রেগুলেটরি ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল) ওপর চলতি অর্থবছরে কর-পরবর্তী মুনাফা প্রয়োজন ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। আর সেটি না হলে ঋণের সুদ, আসলের কিস্তি বাবদ ডিএসএল অর্থ পরিশোধ ও শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দেয়ার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ দেখছে কোম্পানিটি।

জানতে চাইলে পাওয়ার গ্রিডের কোম্পানি সচিব মো. জাহাঙ্গীর আজাদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পাওয়ার গ্রিডের আর্থিক ক্ষতি ও ঋণসংক্রান্ত বিষয়টি জানিয়ে আমরা হুইলিং চার্জ বাড়ানোর জন্য বিইআরসিতে প্রস্তাব জমা দিয়েছি। আগামী ২০ তারিখ (মে) গণশুনানি রয়েছে। সেখানে যদি চার্জ বাড়িয়ে দেয়া হয় তাহলে এসব আর্থিক ক্ষতি ও ঋণ পরিশোধ থেকে বেরিয়ে আসতে পারব।’

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘অসাধু ঠিকাদারে প্রশ্নের মুখে ভালো উদ্যোগ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে এবং ঝরে পড়া রোধে সরকারের একটি ভালো উদ্যোগ ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচি। কিন্তু বিভিন্ন জেলায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আধা পাকা ও কাঁচা কলা, পচা ডিম, বাসি পাউরুটিসহ নিম্নমানের খাবার বিতরণের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে দুদিন পরপর।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিছু অসাধু ঠিকাদারের (খাবার সরবরাহকারী) কারণে ভালো এই উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে।

এর বাইরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষা প্রশাসনেরও গাফিলতি রয়েছে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী গতকাল শুক্রবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, খাবারের মানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না। সরকারের এ মহতী উদ্যোগ কিছু অসাধু ঠিকাদারের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে তদারকি আরও বাড়াতে হবে।

তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মিড-ডে মিল কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম বা শৈথিল্য সহ্য করা হবে না। অভিযোগ পাওয়া গেলে বিভাগীয় মামলা ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ গতকাল আজকের পত্রিকাকে বলেন, মিড-ডে মিলের খাবার নিয়ে কোনো অনিয়মের অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অনিয়ম ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো, দরপত্র পুনর্বিবেচনা এবং ঠিকাদারদের সঙ্গে বৈঠকসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খাবারের তালিকায় পরিবর্তন আনার বিষয়েও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) বার্ষিক প্রতিবেদন-২০২৪-এর তথ্য বলছে, দেশে ৬৫ হাজার ৫৬৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। এসব বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ১ কোটি ৩৪ লাখ ৮৪ হাজার ৬১৭ জন এবং শিক্ষক রয়েছেন ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৯৫ জন।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচি চালু হয়। খাবারের তালিকায় রয়েছে বানরুটি, সেদ্ধ ডিম, কলা, ইউএইচটি দুধ ও ফর্টিফায়েড বিস্কুট (বাড়তি পুষ্টিসমৃদ্ধ)। দেশের ১৫০টি উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি বিদ্যালয়ে ৩০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে এই খাবার দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী, শনি, রবি, বুধ ও বৃহস্পতিবার বানরুটি ও সেদ্ধ ডিম দেওয়া হয়। সোমবার বানরুটি ও ইউএইচটি দুধ এবং মঙ্গলবার দেওয়া হয় ফর্টিফায়েড বিস্কুট ও কলা। ইউএইচটি (আলট্রা হাই টেম্পারেচার) হলো দুধ সংরক্ষণের পদ্ধতি। এই দুধ প্যাকেট খুলে সরাসরি পান করা যায়।

তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও মাদারীপুর সদর উপজেলার কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিলের খাবার খেয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। বরগুনার আমতলীতে পচা কলা, ডিম ও রুটি সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া গেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।

এসব ঘটনায় সরকার একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। নরসিংদীতে সম্প্রতি কয়েকটি বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে খাবারের মান নিয়ে ঠিকাদারদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

দেশ রূপান্তর

নতুন আতঙ্ক জলাতঙ্ক’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন কেউ না কেউ তাদের দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রাণও যাচ্ছে কারও কারও। রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১,২০০ থেকে ১,৪০০ মানুষ কুকুর-বিড়ালে আক্রান্ত হয়ে টিকা নিতে ভিড় করছেন। তবে ২০২২ সাল থেকেই বন্ধ রয়েছে বেওয়ারিশ কুকুরের টিকা কার্যক্রম। থমকে আছে কুকুরের জন্মনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমও। বর্তমানে দেশে কী পরিমাণ বেওয়ারিশ কুকুর রয়েছে তারও নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই। এ ছাড়া দেশে এখন কুকুর-বিড়াল পালনের হারও বেড়েছে। তবে নেই কোনো নীতিমালা। ঘরে-বাইরে সবখানেই রয়েছে প্রাণঘাতী জলাতঙ্কের ঝুঁকি। নতুন করে আতঙ্ক বাড়িয়েছে এই রোগে আক্রান্তের হার ও মৃত্যু বৃদ্ধি।

সম্প্রতি কুকুরের কামড়ে গাইবান্ধায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আরও কয়েকজন চিকিৎসাধীন। একটি পাগলা কুকুর কামড়ালে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা নিতে যান। কিন্তু টিকা না পেয়ে বাইরে থেকে টিকা কিনে দেন। তবে সেই টিকায় কাজ হয়নি। অবশ্য গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. দিবাকর বসাক দাবি করেছেন, আক্রান্তরা টিকা নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাননি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে আক্রান্তরা টিকা পাননি এমন খবর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারা শুনেছি বাইরে থেকে টিকা নিয়েছেন। কিন্তু আমাদের এখানে টিকা আছে। তারা টিকা নিতে আসেননি। এলে আমাদের রেকর্ড থাকত।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ২০১৫ সালে দেশে জলাতঙ্কে ৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছ্ড়াা ২০১৬ সালে ৬৬, ২০১৭ সালে ৮০, ২০১৮ সালে ৫৭, ২০১৯ সালে ৫৭, ২০২০ সালে ২৬, ২০২১ সালে ৪০, ২০২২ সালে ৪৫, ২০২৩ সালে ৪৭, ২০২৪ সালে ৫৬ এবং ২০২৫ সালে একই রোগে ৫৯ জনের মৃত্যু হয়। চলতি বছর এখন পর্যন্ত কতজনের মৃত্যু হয়েছে তা নিশ্চিত করে জানা যায়নি।

সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এফ এ আসমা খান জানান, কুকুর-বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৪শ মানুষ সেখানে যায়। এখন টিকার সংকট নেই। জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত এই হাসপাতালে ছয়জন মারা গেছেন। বর্তমানে এক শিশু চিকিৎসাধীন।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘লক্কড়ঝক্কড় বাসের সিন্ডিকেট’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার আসে, সরকার যায়। পরিবর্তন হয় না নগরীর গণপরিবহন ব্যবস্থার। বিশেষ করে কোনোভাবেই বন্ধ করা যায় না লক্কড়ঝক্কড় বাসের দৌরাত্ম্য। সব সরকারের সময়েই গণপরিবহন ঘিরে তৈরি হয় নতুন নতুন সিন্ডিকেট। প্রভাবশালী এই সিন্ডিকেটের কারণে নগরীকে বিপজ্জনক পরিবহনমুক্ত করা যায় না। প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ, বিআরটিএ মিলেমিশে দশকের পর দশক রাজধানীকে নষ্ট করছে।

শুধু নগরের সড়কে নয়, মহাসড়কেও একই অবস্থা। অথচ একটি দেশ কতটা সভ্য তা বোঝা যায় সেদেশের বিমানবন্দর, গণপরিবহন এবং গণশৌচাগার দেখে। সভ্যতার এই মানদণ্ডে বাংলাদেশের অবস্থা লজ্জাজনক পর্যায়ে। সুতরাং মানসম্মত, বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে হলে সর্বপ্রথম নগর থেকে লক্কড়ঝক্কড় গণপরিবহন অপসারণ করা জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সামছুল হক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে পুলিশের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। লোক দেখানোর কোনো কাজ করলে চলবে না, মাঝপথে থেমেও যাওয়া যাবে না। ঢাকাসহ সারা দেশে ক্যানসারের মতো ছোট ছোট গাড়ি বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত রিকশা, অটোভ্যানে ছেয়ে গেছে। এগুলো শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। গণপরিবহন হিসেবে বাসকে জনপ্রিয় করতে হবে। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে সড়ক থেকে লক্কড়ঝক্কড় বাস প্রত্যাহার করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘বসুন্ধরা সোসাইটি, গুলশান-বনানী সোসাইটি পরিবহনে শৃঙ্খলা দেখিয়েছে। এসব সোসাইটি সফলতা দেখালে সরকার কেন পারবে না ঢাকা শহরকে সুন্দর করতে। মূলত ইচ্ছাশক্তি থাকা দরকার।'

সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভাঙা দরজা-জানালা, রং উঠে যাওয়া, ঘষামাজায় বিবর্ণ বাসের চারপাশ আর ত্রুটিপূর্ণ ইঞ্জিনের এসব গণপরিবহন একদিকে যেমন নগরীর সৌন্দর্য নষ্ট করছে, অন্যদিকে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি বাড়াচ্ছে যাত্রীদের। মাঝে মধ্যেই নানা দুর্ঘটনা ঘটিয়ে আলোচনায় আসা এই গণপরিবহনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব আসলে কার সে প্রশ্নই এখন উঠছে জোরেশোরে।

মূলত সরকারের দুটি প্রতিষ্ঠান ঢাকার সড়কে যানবাহন চলাচলের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। একটি হলো বিআরটিএ আর অন্যটি হলো পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। এর মধ্যে বিআরটিএ ফিটনেস সনদ ও রুট পারমিট দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করে থাকে। একটি বাসের ৩২টি বিষয় পর্যবেক্ষণের পর তাদের ফিটনেস সনদ দেওয়ার কথা থাকলেও ভাঙাচোরা বাসগুলো কীভাবে এই সার্টিফিকেট পায়, তা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে বহু বছর ধরেই। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিআরটিএ তে না নিয়েই গাড়ির ফিটনেস দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিবহন সংশ্লিষ্ট্রদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গেট পাস বা জিপি কিংবা সমিতির সদস্য ফিসহ নানা অজুহাতে রাজনৈতিক মদতপুষ্ট পরিবহন নেতারা সাধারণ বাস-ট্রাকমালিকদের কাছ থেকে দৈনিক, মাসিক ও এককালীন নানা অঙ্কের টাকা চাঁদা নিয়ে থাকে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন