নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার গেট বাজার সংলগ্ন নির্মিত গণশৌচাগারটি তালাবদ্ধ রয়েছে দীর্ঘ কয়েক বছর। ফলে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারীসহ সাধারণ মানুষ। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেলওয়ে স্টেশন, রেলওয়ে কারখানার আশপাশ এলাকাবাসীর সেবা দিতেই ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় শৌচাগারটি। সৈয়দপুর পৌরসভার বাস্তবায়নে নির্মিত গণশৌচাগারটি স্যানিটারি বিভাগকে তদারকির দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু মাত্র ৩ মাস পরেই সেটি তালাবদ্ধ হয়ে যায়।
এ বিষয়ে তদারকির দায়িত্বে থাকা পৌরসভার স্যানিটরি বিভাগের কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, শৌচাগারটি নির্মাণের পরপরই একাধিক জনকে পরিচর্যার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই এলাকার লোকজন শুরুর দিকে শৌচাগারটি ব্যবহার করলেও করোনার সময় লোকজন কমে যাওয়ায় উপার্জনও কমে যায়। ফলে বাধ্য হয়েই তালাবদ্ধ রাখা হয়েছিল গণশৌচাগারটি। করোনার পরে সেটির তালা খুলে দেয়া হয়নি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছিল না বলে সেটি খুলে দেয়া হয়নি। রেলওয়ে কারখানার গেটবাজারের মানুষ জানান, ওই এলাকায় মানসম্মত পাবলিক টয়লেট না থাকায় রেলঘুন্টি এলাকায় ব্যবহারের জন্য যেতে হতো।
দীর্ঘদিন দুর্ভোগের পর ২০১৪-২০১৫ সালে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে গেট বাজার সংলগ্ন নির্মাণ করা হয় আধুনিক ওই শৌচাগারটি। কিন্তু সেটি যেন সাময়িকের জন্য। মাত্র ৩ মাস ব্যবহারের পর পৌর কর্তৃপক্ষ সেটি তালাবদ্ধ করে দেয়। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের লোকজন বা পৌর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি না থাকা বা অবহেলার কারণেই একদিকে শৌচাগারটি তালাবদ্ধ। অপরদিকে শৌচাগারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে গেছে চোরেরা। দখল হয়ে গেছে শৌচাগারের আশপাশের জমি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরসভার প্রশাসক ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা জানান, গণশৌচাগারটি যে তালাবদ্ধ রয়েছে তা আমাকে কেউ জানায়নি। কেন বন্ধ রয়েছে সেটি জানার জন্য এবং ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি।
