মিরপুর টেস্ট জয়ের রেশ কাটতে না কাটতে সিলেটে শুরু হয়েছে দ্বিতীয় টেস্টের প্রস্তুতি। গতকাল সিলেটে অনুশীলনের ফাঁকে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন জাতীয় দলের ফিল্ডিং কোচ আশিকুর রহমান মজুমদার। আলাপচারিতায় নাহিদ রানাকে টাইগার স্কোয়াডের প্লাস পয়েন্ট বলে উল্লেখ করেন তিনি। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে পাকিস্তানি ব্যাটারদের রীতিমতো কাঁপিয়ে দিয়েছেন ফাস্ট বোলার নাহিদ রানা। তার গতির প্রশংসা এখন বিশ্ব ক্রিকেটে। ফিল্ডিং কোচ আশিকুর রহমানও রানাকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে আগেও ১৪০-১৪৫ কিমি গতিতে বল করার মতো বোলার ছিল। তবে নাহিদ রানা আমাদের পেস বোলিংয়ের নতুন এক সেনসেশন।
সে দলের জন্য অনেক বড় একটা প্লাস পয়েন্ট।’ রানার সঙ্গে তাসকিন আহমেদ, ইবাদত হোসেন ও শরিফুল ইসলামের উপস্থিতিকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য দারুণ ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন এই কোচ। মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে কিছু সুযোগ হাতছাড়া হলেও দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ছিল দুর্দান্ত। বিশেষ করে স্লিপে সাদমান ইসলামের ক্যাচটি ছিল দর্শনীয়। ফিল্ডিং কোচ বলেন, ‘স্লিপ ক্যাচিংয়ে আমাদের ছেলেরা এখন অনেক ভালো করছে। ১৪০ কিলোমিটার গতির বল অত কাছ থেকে ধরা সহজ নয়। সাদমানের কনসেন্ট্রেশন পাওয়ার এখন ১০০ তে ১০০।’ কোচ আশিকুরের হাতের তালুতে প্রায়ই কিছু লেখা দেখা যায়। এটি নিয়ে কৌতূহল ছিল অনেকের। সেই রহস্য ফাঁস করে আশিকুর বলেন, ‘এগুলো আসলে অনুপ্রেরণামূলক স্লোগান। একেক দিন একেকটা লিখে আনি-যেমন পজিটিভিটি, টিম বন্ডিং বা পিউরিটি। এটা ছেলেদের মেন্টালি বুস্ট আপ করে।
আমি বিশ্বাস করি, প্লেয়াররা হলো সূর্যের আলোর মতো আর কোচরা আয়নার মতো। আয়না যেমন আলো প্রতিফলিত করে, আমরা শুধু তাদের প্রতিভাটাকে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করি।’ দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানের সেরা ব্যাটার বাবর আজমের ফেরার কথা শোনা যাচ্ছে। তবে একে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন না আশিকুর। তিনি জানান, বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা বাবর আজমের শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে বেশ অভিজ্ঞ। তাই বাড়তি কোনো চাপ অনুভব করছে না দল। ড্রেসিংরুমে ফিল্ডারদের উজ্জীবিত করতে পয়েন্ট সিস্টেম ও পুরস্কারের ব্যবস্থা রেখেছেন আশিকুর। মিরপুর টেস্টের দুই ইনিংস মিলিয়ে নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাসকে সেরা ফিল্ডারের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এই ছোট ছোট স্বীকৃতিগুলো দীর্ঘ ফরম্যাটের ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করছে বলে মনে করেন তিনি।
আশিকুর বলেন, ‘দুইটা ইনিংসে বেস্ট যারা পয়েন্ট গ্রেড সিস্টেম গ্রেড ওয়ান, গ্রেড টু, গ্রেড থ্রিতে যারা ফিল্ডিং ভালো করেছে, ক্যাচ ভালো ধরেছে, দুইজনকেই আমাদের যে নাজমুল শান্ত এবং লিটন দাসকে পুরস্কৃত করা হয়েছিল। এই পুরস্কারটা আসলে একটা আমরা সব কাজের পিছনে একটা আনন্দ খুঁজি, সব কাজের পিছনে একটা আমরা ইন্সপিরেশন খুঁজি, একটা রিওয়ার্ড খুঁজি। তো এটা আমার কাছে মনে হয় একটা একটা গুড মেসেজ, গুড মেসেজ ফর অল যে আমরা সব কাজের শেষে দিন আমরা স্বীকৃতি দেই এটা অনেক এনার্জি ফিল এনার্জি লাভ করা যায়।’
ফিল্ডিংয়ে উন্নতি হলেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পরিশ্রম চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন আশিকুর। টাইগারদের ফিল্ডিং কোচ বলেন, ‘মানুষের জীবনে উন্নতির কোন শেষ নেই। প্রতিদিনই আমরা শিখি, প্রতিদিনই আমরা উন্নতি করি। আর আমার কাছে মনে হয় আমাদের প্লেয়ারদের যে ডেডিকেশন, ফিল্ডিং এর প্রতি যে ওদের একটা ভালোবাসা, ওদের যে উৎসাহ। তো এটা জাস্ট ১%, ১% যদি আমরা অ্যাড করি এতেই হবে। আমাদের প্লেয়াররা অনেক ভালো, আমাদের প্লেয়াররা অনেক অ্যাথলেটিক এবং ওরা ফিজিক্যালি অনেক ফিট।’
