ভোট কাস্টিং ৩৬. ৪৮ শতাংশ

সুপ্রিম কোর্ট বারে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন

ভোট কাস্টিং ৩৬. ৪৮ শতাংশ

ফন্ট সাইজ:

কোনো ধরনের লিখিত অভিযোগ ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের ২০২৬-২৭ সেশনের নির্বাচন। তবে নির্বাচনে আগের মতো আমেজ ও উৎসাহ একটু কম ছিল। নির্বাচন ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল ভোটার উপস্থিতি। চলতি বছরে গত ৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ভোট কাস্টিং হয়েছে এবারের নির্বাচনে।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, দুই দিনব্যাপী এ নির্বাচনে মোট ভোট পড়েছে ৪ হাজার ৪৮টি। মোট ভোটার ছিলো ১১ হাজার ৯৭ জন আইনজীবী। সে হিসাবে ভোট কাস্টিংয়ের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্যভাবে কম উপস্থিতি। মূল কারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগসমর্থিত আইনজীবীরা অংশ নিতে পারেনি। এর সাথে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি সমর্থিত অনেক আইনজীবীও ভোটারও ভোট দিতে আসেনি।

বিগত নির্বাচনের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ সেশনের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলো ৭ হাজার ৮৮৩ জন। সেখানে ভোট কাস্ট হয়েছিল ৫ হাজার ৩১৯টি। ২০২৩-২৪ সেশনে ৮ হাজার ৬০২ ভোটারের মধ্যে ভোট দেন ৪ হাজার ১৩৭ জন। ২০২২-২৩ সেশনে ৮ হাজার ৬২৩ জন ভোটারের মধ্যে ভোট কাস্ট হয় ৫ হাজার ৯৮৩টি। ২০২১-২২ সেশনে ৭ হাজার ৭২১ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দেন ৫ হাজার ৬৭৬ জন। এছাড়া ২০২০-২১ সেশনে ভোট কাস্ট হয়েছিল ৫ হাজার ৯৪০টি এবং ২০১৯-২০ সেশনে ৭ হাজার ৮২৫ ভোটারের মধ্যে ৫ হাজার ৮২১টি। তবে এসব নির্বাচনে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জামায়াত সমর্থিত আইনজীবীরা অংশ নিয়েছিল।

আইনজীবীদের অনেকে মনে করছেন, এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রভাব পড়েছে ভোটার উপস্থিতিতে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় তাদের বড় একটি অংশ ভোটকেন্দ্রে যাননি। ফলে নির্বাচন ঘিরে আগের মতো উৎসাহও দেখা যায়নি।
সকাল ১০টায় শুরু হয়ে দুপুরে এক ঘণ্টার বিরতি দিয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে দুইদিনব্যাপী ভোটগ্রহণ। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনের অডিটোরিয়ামে। ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ জানিয়েছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা।

নির্বাচনে ১৪টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪০ জন প্রার্থী। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রায় দুই বছর বিরতির পর অনুষ্ঠিত হওয়া এ নির্বাচনে মাঠে ছিল তিনটি প্যানেল। এগুলো হলো- বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল, জামায়াত সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য প্যানেল এবং এনসিপি সমর্থিত লাল-সবুজ প্যানেল। যদিও আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে যাচাই-বাছাইয়ে তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এ বিষয়ে নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া আইনজীবীদের লিখিত আবেদন ও সাধারণ আইনজীবীদের আপত্তির কারণে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি।

অন্যদিকে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের অভিযোগ, বারের গঠনতন্ত্র ও নিয়ম ভঙ্গ করে অ্যাডহক কমিটি ৪০ জনের বেশি প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে বাদ দিয়েছে। তারা এটিকে অসাংবিধানিক ও ন্যায়বিচার পরিপন্থি বলে দাবি করেছেন। নির্বাচন পরিচালনার জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী এর নেতৃত্বে নির্বাচন উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নির্বাচনে সভাপতি পদে জয়ী হন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মাহবুব উদ্দিন খোকন। আর সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী শাহ মঞ্জুরুল হক। তখন দুই পক্ষই বিভিন্ন পদে জয় পায়। তবে এবারের নির্বাচন ছিল ভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায়, আর সেই বাস্তবতার ছাপ পড়েছে ভোটের মাঠেও।

তিন প্যানেলের প্রার্থীরা হলেন
বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী প্যানেল তথা নীল প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সহ-সভাপতি মো. মাগফুর রহমান শেখ ও মো. শাহজাহান, সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আলী, কোষাধ্যক্ষ পদে মো. জিয়াউর রহমান, সহ-সম্পাদক পদে মাকসুদ উল্ল্যাহ ও মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম মুকুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাতটি সদস্য পদে এ কে এম আমজাদ হোসেন, এইচএম সানজিদ সিদ্দিকী, মো. কবির হোসেন, মো. টিপু সুলতান, মো. জিয়া উদ্দিন মিয়া, রিপন কুমার বড়ুয়া ও ওয়াহিদা আফরোজ চৌধুরী প্রার্থী হয়েছেন।

জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য প্যানেল তথা সবুজ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে আবদুল বাতেন, সহ-সভাপতি পদে মো. আবদুল হক ও মইন উদ্দিন ফারুকী, সম্পাদক পদে এ কে এম রেজাউল করিম খন্দকার, কোষাধ্যক্ষ পদে এসএম জাহাঙ্গীর আলম, সহ-সম্পাদক পদে মো. তারিকুল ইসলাম ও জোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সদস্য পদে আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী, ফারজানা খানম, ইসরাত জাহান অনি, মাহমুদুল হাসান, মো. ফয়জুল্লাহ, মো. জোবায়ের তায়েব ও মোহাম্মদ নাঈম উদ্দিন লিখন প্রার্থী হয়েছেন।

এছাড়া, এনসিপি সমর্থিত লাল-সবুজ প্যানেলের সম্পাদক প্রার্থী এসএম আজমল হোসেন, সহ-সম্পাদক পদে মোস্তফা আসগর শরীফ, সদস্য পদে আমিনা আক্তার লাভলী, কাজী আকবর আলী, মো. বন-ই-আমিন ও মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম। এনসিপি সমর্থিতরা আংশিক প্যানেল দিয়েছে। প্যানেলের বাইরে সভাপতি পদে ইউনুছ আলী আকন্দ, সম্পাদক পদে ফরহাদ উদ্দিন ভূঁইয়া, মো. আবু ইয়াহিয়া দুলাল, মো. ওমর ফারুক, মোহাম্মদ আশরাফ উজ-জামান খান, সদস্য পদে মো. জোবায়ের তায়েব ও তপন কুমার দাস প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন