প্রথম আলো
‘হামের প্রাদুর্ভাব: হাসপাতালে ভর্তির দুই দিনের মধ্যে মারা গেছে ৪০% শিশু’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, হামে খুব কম বয়সী শিশুর মৃত্যু হতে দেখা যাচ্ছে। তিন মাস, চার মাস বয়সী শিশুরও মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর ক্ষেত্রে ছেলেশিশু মেয়েশিশুর সংখ্যায় তেমন কোনো তারতম্য সেই। দেখা যাচ্ছে, ৪০ শতাংশ শিশুর মৃত্যু হচ্ছে হাসপাতালে আসার দুই দিনের মধ্যে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) থেকে পাওয়া ৬০ শিশুর মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া গেছে।
হামে আক্রান্ত ছিল বলে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে মারা যাওয়া শিশুরা কেউ টিকা পেয়েছিল কি না, তা জানা যায়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার হিসাবে (সোমবার সকাল আটটা থেকে মঙ্গলবার সকাল আটটা পর্যন্ত) সারা দেশে হামের উপসর্গে ৬ জনের এবং নিশ্চিত হামে ৩ জনের অর্থাৎ এক দিনে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ বছর ১৫ মার্চ থেকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৩৫৬ জনের এবং নিশ্চিত হামে ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। জনস্বাস্থ্যবিদেরা মনে করেন, এই ৪২৪ মৃত্যুই হামে।
কোন বয়সের শিশু মারা যাচ্ছে
এতকাল ধারণা করা হয়েছিল, খুব অল্প বয়সী শিশুরা হামে আক্রান্ত হয় না। শিশুরা মায়ের গর্ভ থেকে হাম প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে জন্মায় এবং জন্মের পর মায়ের বুকের দুধও তাকে হাম থেকে সুরক্ষা দেয়। তবে এবার হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর জানা গেছে, ১৯ দিনের নবজাতক, ২৪ দিনের নবজাতক হামে আক্রান্ত হয়েছে।
ঢাকার একটি ছেলেশিশু রাজধানীর মহাখালী এলাকার ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৮ এপ্রিল ভর্তি হয়। সেদিনই সে মারা যায়। শিশুটির বয়স ছিল তিন মাস। এ রকম আরও তিনটি শিশু মারা গেছে তিন মাস বয়সে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে বয়স বিভাজনে দেখা যায়, তিন মাস থেকে আট মাস বয়সী শিশু মারা গেছে ২৯টি। অর্থাৎ মারা যাওয়া শিশুদের প্রায় অর্ধেক টিকা পায়নি। কারণ, আগের নিয়মে তাদের তখন টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি।
৯ থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশু ২১টি। ১৬ মাস থেকে ২ বছর বয়সী দুটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। দুই বছর থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সাত শিশু মারা গেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চাঁদপুরের একটি মেয়েশিশু মারা যায় এপ্রিলের ৯ তারিখে। মেয়েটির বয়স ছিল ৯ বছর। এই ৩১ শিশু টিকা পেয়েছিল কি না, সেই তথ্য নেই এমআইএসের কাছে। মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে ছেলে ৩১ ও মেয়ে ২৯টি।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কত দিন পর শিশুরা মারা যাচ্ছে—এই তথ্য সব শিশুর ক্ষেত্রে নেই। বরিশালে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে মারা যাওয়া পাঁচ শিশুর মৃত্যুর তারিখ উল্লেখ আছে, তবে তারা কবে ওই হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছিল, সেই তারিখ নেই।
তারিখ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভর্তির দিনই পাঁচটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ভর্তির এক দিনের মধ্যে মারা গেছে ৯ শিশু। ভর্তির দুই দিনের মধ্যে মারা গেছে আরও ৯ শিশু। দেখা যাচ্ছে, ভর্তির পর প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় ২৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে ভর্তির পর ৪০ শতাংশ শিশুর মৃত্যু হচ্ছে প্রথম দুই দিনে।
১০ দিন বা তার চেয়ে বেশি দিন থেকে মারা গেছে ১৭ শিশু। একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে ভর্তি হওয়ার ৩৭ দিন পর।ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এখানে ১৫টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি শিশু এসেছিল ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে। এরপর বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে। এই হাসপাতালে মারা যাওয়া ১০ শিশুর ৬টি এসেছিল ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে। বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এখানে ছয়টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
৬০টি শিশুর মৃত্যু তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, ১৮টি শিশু ঢাকা জেলার। ৩০টি শিশু দেশের অন্যান্য জেলা থেকে এসে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিল। অর্থাৎ ঢাকার হাসপাতালে মারা গেছে ৪৮টি শিশু। বাকি ১২টি শিশু ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে মারা গেছে।
দুই সপ্তাহ ধরে জনস্বাস্থ্যবিদ ও সাংবাদিকেরা হামে মারা যাওয়া শিশুদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করার দাবি ও অনুরোধ জানিয়ে আসছে। কিন্তু এমআইএস যে তথ্য সংগ্রহ করছে, তাতে অনেক ঘাটতি আছে। মারা যাওয়া শিশুরা আগে অন্য কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা পেয়েছি কি না, টিকা পেয়েছি কি না, মারা যাওয়ার সময় তারা আইসিইউতে ছিল কি না—এমন তথ্য নেই।
জনস্বাস্থ্যবিদ ও সরকারের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার (সিডিসি) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক বে-নজীর আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখানে টিকার তথ্য না থাকা খুবই দুঃখজনক। মারা যাওয়া শিশুদের অন্তত ৩১ জনের টিকা পাওয়ার কথা ছিল। এদের কতজন টিকা পেয়েছিল, কতজন পূর্ণ দুই ডোজ টিকা পেয়েছিল, টিকা পাওয়ার পর কতজন মারা গেছে, সেটি জানার কোনো রাস্তা নেই। এটা শুধু সঠিকভাবে মৃত্যুর তথ্য পর্যালোচনা করলেই জানা সম্ভব। সেটাই হওয়া দরকার।’
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘ভরসার মানুষই ভয়ংকর!’। প্রতিবেদনে বলা হয়, এক সময় মানুষ ভয় পেত অন্ধকার, ভূত-প্রেত কিংবা হিংস্র প্রাণীকে। ভরসা করত মানুষকে। অন্ধকার কিংবা নির্জন পথে পাশে একজনকে সঙ্গী খুঁজত। কারও উপস্থিতি টের পেলে মনে জাগত সাহস। জন্ম নিত নিরাপত্তাবোধ। অথচ সময়ের নির্মম পরিহাস-আজ সেই মানুষই মানুষের সবচেয়ে বড় ভয়ের কারণ হয়ে উঠেছে। সহমর্মিতা, মমত্ববোধ ও মানবিকতা কমে গিয়ে জায়গা করে নিচ্ছে ঘৃণা, প্রতিশোধ আর অসহিষ্ণুতা। ছোটখাটো বিরোধ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব কিংবা সামাজিক মতপার্থক্যও এখন অনেক ক্ষেত্রে রূপ নিচ্ছে ভয়াবহ নির্মমতায়। শিশু হত্যা, নারী নির্যাতন, গণপিটুনি, রাজনৈতিক সহিংসতা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘৃণার চর্চা; সব মিলিয়ে সমাজে এক ধরনের অস্থির ও ভয়ংকর বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যেসব নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সংবাদ একের পর এক প্রকাশিত হচ্ছে, তা কেবল বিচ্ছিন্ন অপরাধই নয়, সামাজিক মনস্তত্ত্বের গভীর অসুস্থতার লক্ষণ।
আমেরিকান মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ সান্ড্রা ব্লুমের মতে, অপরাধ সংঘটনে ও সহিংসতা বিস্তারে ব্যক্তির চেয়ে সমাজ অধিক দায়ী। যে সমাজে আগ্রাসনকে উৎসাহিত করা হয়, বা যে সমাজ-রাষ্ট্রের রীতিনীতি-আইন-প্রতিষ্ঠান অপরাধ সংঘটনে সহায়ক, সেখানে এ ধরনের প্রবণতা বেশি। এছাড়া বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, হত্যার মতো সহিংস অপরাধের সঙ্গে ব্যক্তির সংঘাতপূর্ণ শৈশব, যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার ইতিহাস, মাদকাসক্তি, তাড়না নিয়ন্ত্রণ করার অক্ষমতাসহ ব্যক্তিত্বের বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য, পিতা-মাতার অপরাধ প্রবণতা প্রভৃতির সম্পর্ক রয়েছে।
বিখ্যাত অস্ট্রিয়ান নিউরোলজিস্ট ও মনোবিজ্ঞানী সিগমুন্ড ফ্রয়েডের মতবাদ উদ্ধৃত করে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের কমিউনিটি ও সোশ্যাল সাইকিয়াট্রি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মুনতাসীর মারুফ যুগান্তরকে বলেন, প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই অসচেতনে আত্মধ্বংসী মৃত্যু প্রবৃত্তি থাকে। এ প্রবৃত্তির অনিয়ন্ত্রিত আধিপত্যই মানুষের আগ্রাসী আচরণের জন্য দায়ী। কানাডিয়ান-আমেরিকান সাইকোলজিস্ট আলবার্ট বান্দুরার সামাজিক শিক্ষার মতবাদ অনুযায়ী, মানুষ সমাজের অন্যদের দেখে আচরণ শেখে এবং তা পুনরাবৃত্তির চেষ্টা করে। বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্মীয়, বন্ধু, প্রতিবেশী, সমাজের খ্যাত বা পরিচিত ব্যক্তি, ‘রোল-মডেল’, গল্প-উপন্যাস-নাটক-সিনেমার চরিত্র থেকে ও দেখে মানুষ শেখে এবং পছন্দ ও প্রণোদনা অনুযায়ী তা আত্মস্থ করে।
তিনি বলেন, এই মতবাদ অনুযায়ী, আমাদের চারপাশের মানুষ, প্রিয় টিভি শো, সিনেমা বা কম্পিউটার গেমের নায়ক চরিত্র যতটা অপরাধপ্রবণ হবে, আমাদের অপরাধ প্রবণতার ঝুঁকিও তত বাড়বে। মানুষ যত অপরাধী, খুনিকে পুরস্কৃত হতে, বাহবা পেতে, সমাজে প্রতিষ্ঠিত ও পূজনীয় হতে দেখবে, ততই এসব অপরাধে প্রবৃত্ত হতে উদ্বুদ্ধ হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও অবক্ষয়, পারিবারিক বন্ধনের দুর্বলতা, মূল্যবোধের সংকট, মাদকের বিস্তার, রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা এবং অনলাইনে উসকানিমূলক কনটেন্টের প্রভাব মানুষকে ক্রমেই সহিংস করে তুলছে। একই সঙ্গে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও আইনের দুর্বল প্রয়োগও অপরাধপ্রবণতাকে উৎসাহিত করছে। ফলে অপরাধীরা অনেক সময় ভয়হীন হয়ে উঠছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, নিত্যদিনের এসব নৃশংস ঘটনায় মানুষের একাংশের মধ্যে এক ধরনের অসাড়তা তৈরি হচ্ছে। ভয়াবহ কোনো হত্যাকাণ্ড বা নির্যাতনের সংবাদও অনেকের কাছে যেন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হচ্ছে। এটি সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক সংকেত। তারা বলছেন, এই হিংস্রতা ও নৃশংসতার বিস্তার ঠেকাতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্র ও সমাজ; সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কারণ মানবিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা ও ন্যায়বিচারের সংস্কৃতি জোরদার না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
৯ মে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় শারমিন আক্তার (৩০), তার তিন সন্তান মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮) ও ফারিয়া (২) এবং রসুল মিয়াসহ (২২) পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে-আর্থিক লেনদেন, পরকীয়া এবং পারিবারিক কলহের জেরে শারমিনের স্বামী ফোরকান মিয়া এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। শুধু গাজীপুরেই নয় প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যা, ধর্ষণসহ নানা ধরনের অহরহ ঘটনা ঘটেই চলেছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্যমতে, ঢাকা মহানগরীতে শুধু মাচেই ২৪টি খুনের ঘটনা ঘটে। আর এই সময়ে নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটে ৫৬টি।
কালের কণ্ঠ
‘ইউরোপেও পোশাক রপ্তানিতে বড় ধাক্কা’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে ফের অস্বস্তি নেমে এসেছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ইউরোপীয় বাজারে চাহিদা হ্রাস, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং জ্বালানিসংকটের কারণে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আয় কমেছে ২.৮২ শতাংশ।
দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি এই খাত এখন বহুমুখী সংকটে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত বছর জুলাই থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে মোট আয় হয়েছে তিন হাজার ১৭২ কোটি ডলার। এর মধ্যে নিটওয়্যার খাতে রপ্তানি কমেছে ৩.৬৮ শতাংশ এবং ওভেন খাতে কমেছে ১.৮৩ শতাংশ। বিশেষ করে প্রধান বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) রপ্তানি ৪.৩৮ শতাংশ কমে যাওয়ায় পুরো খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় অর্ধেক ইইউভুক্ত দেশগুলোতে যায়। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এই অঞ্চলে রপ্তানি হয়েছে এক হাজার ৫৫৪ কোটি ডলারের পোশাকপণ্য। কিন্তু ইউরোপে দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক ধীরগতি, মূল্যস্ফীতি এবং ভোক্তাদের ব্যয় সংকোচনের কারণে পোশাকের চাহিদা কমে গেছে। ফলে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও ক্রেতারা নতুন অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের অনেক দেশে এখনো জীবনযাত্রার ব্যয় উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। খাদ্য, জ্বালানি ও বাসাভাড়ার বাড়তি চাপের কারণে সাধারণ মানুষ পোশাকসহ অপ্রয়োজনীয় পণ্যে ব্যয় কমিয়ে দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের মতো রপ্তানিনির্ভর দেশের ওপর।
এদিকে শুধু ইউরোপ নয়, অপ্রচলিত বা নন-ট্র্যাডিশনাল বাজারেও রপ্তানি কমেছে। গত ১০ মাসে এসব বাজারে রপ্তানি আয় ৫.৮৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫১৬ কোটি ডলারে।
যদিও অপ্রচলিত বাজারগুলো বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির ১৬ শতাংশের ভোক্তা, তবু সেখানে প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি আসেনি। তবে কিছুটা ইতিবাচক দিকও রয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের বাজারে সামান্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বেড়ে ৬২৯ কোটি ডলার, কানাডায় ১০৯ কোটি ডলার এবং যুক্তরাজ্যে ৩৬৪ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। কিন্তু এই প্রবৃদ্ধি ইউরোপীয় বাজারের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ সংকটও পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। বর্তমানে পোশাকশিল্পের সবচেয়ে বড় সমস্যা উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি।
গত কয়েক বছরে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং ব্যাংকঋণের সুদহার বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ডলার সংকটের কারণে আমদানিনির্ভর কাঁচামাল কিনতেও অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। সুতা, কাপড়, রাসায়নিক ও অন্যান্য উপকরণের দাম বাড়ায় অনেক কারখানার উৎপাদন ব্যয় আগের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে।
কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতারা আগের তুলনায় বেশি দাম দিতে রাজি নন। বরং তাঁরা কম মূল্যে পণ্য কিনতে চাচ্ছেন। ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও রপ্তানিকারকরা পণ্যের দাম বাড়াতে পারছেন না। এতে অনেক প্রতিষ্ঠান লাভের পরিবর্তে টিকে থাকার লড়াইয়ে নেমেছে। ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলোর ওপর এর চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ছে।
একই সঙ্গে জ্বালানির সংকট পরিস্থিতিকে আরো কঠিন করে তুলেছে। শিল্পাঞ্চলগুলোয় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎবিভ্রাটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক কারখানা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারছে না। ফলে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘বড় ঋণ কারা পাচ্ছে যাচাই করছে বাংলাদেশ ব্যাংক’। খবরে বলা হয়, দেশের ব্যাংকগুলো থেকে বড় ঋণ কারা পাচ্ছে, তা যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে বিতরণ করা প্রতিটি ব্যাংকের ২০ কোটি টাকা বা এর বেশি ঋণ কোন কোন গ্রাহককে দেওয়া হয়েছে, তার তথ্য এরই মধ্যে সংগ্রহ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এখন গ্রাহক ধরে ধরে দেখা হবে জালিয়াতি ও অর্থ পাচারে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কেউ নতুন করে ঋণ পেয়েছে কিনা।
জানা গেছে, গভর্নরের নির্দেশে প্রতিটি ব্যাংকে টেলিফোন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি-সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো এ তথ্য সংগ্রহ করেছে। এখন নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে ঋণের আসল সুবিধাভোগীর যাবতীয় তথ্য যাচাই করা হবে। কোনো গ্রাহকের বিষয়ে আগে ঋণ নিয়ে অপব্যবহারের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঋণ শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে এবং সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্রহীতারা ঋণ পাওয়ার যোগ্য কিনা, জামানত কতটুকু রয়েছে এবং যে উদ্দেশ্যে ঋণ নিয়েছেন, সেখানে ব্যবহার করেছেন কিনা, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আলোচ্য সময়ে বিতরণ করা প্রতিটি ঋণের তথ্য যাচাই করবে না। পরীক্ষামূলক প্রতিটি ব্যাংকের কিছু গ্রাহকের তথ্য যাচাই হবে। এ ক্ষেত্রে বড় ঋণ অগ্রাধিকার পাবে।
নতুন করে বিতরণ করা ঋণের প্রকৃত সুবিধাভোগী বের করতে বাংলাদেশ ব্যাংক বেশ আগেই এমন পরিকল্পনা করেছিল। গত বছরের ডিসেম্বরে তৎকালীন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ব্যাংক খাতের ২০ কোটি টাকার বেশি সব নতুন ঋণের তথ্য যাচাই করা হবে। কাদের ঋণ দেওয়া হয়েছে, ঋণের জামানত ঠিক আছে কিনা, দেখা হবে। এসব ঋণে কোনো অপব্যবহার হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা, ব্যাংক পরিচালকদের জবাবদিহি করতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সেই পরিকল্পনা এখন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রবৃদ্ধি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৮৫ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।
ঋণের বিপরীতে আরোপিত সুদসহ এই স্থিতি হিসাব করা হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে ব্যাংক খাতের আমানতের গড় সুদহার ছিল ৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। আর ব্যাংকগুলো গড়ে ১১ দশমিক ৯৬ শতাংশ সুদে ঋণ দিয়েছে। এর মানে প্রকৃত সুদহার বিবেচনায় নিলে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি এখন ঋণাত্মক। এ রকম সময়ে কোনোভাবেই যেন ঋণের অপব্যবহার না হয়, সে জন্য তদারকি বাড়ানো এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং আমানতকারীদের সুরক্ষা দিতে চলতি বছর থেকে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রথাগত পরিদর্শন না করে ঝুঁকির মাত্রার ভিত্তিতে এ তদারকি হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১২টি তদারকি বিভাগের অধীনে ব্যাংকগুলোর সব তথ্য সংগ্রহ ও তদারকি করা হয়। এর বাইরে কারিগরি ও ডিজিটাল ব্যাংকিং তদারকি, ডেটা ব্যবস্থাপনা ও বিশ্লেষণ, তদারকি-সংশ্লিষ্ট নীতি প্রণয়ন, পেমেন্ট সিস্টেম সুপারভিশন, মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ নামে আরও পাঁচটি বিভাগ কাজ করছে।
গত বছরের জুলাই থেকে এ পর্যন্ত বড় ঋণের তথ্য যাচাইয়ের কারণ জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ঋণ জালিয়াতির অনেক তথ্য বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান। এখন লক্ষ্য, নতুন করে যাতে জালিয়াতি না হয়।
ইত্তেফাক
‘হামে বয়স্করাও আক্রান্ত হচ্ছেন, ঝুঁকিতে গর্ভবতী মায়েরা’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, হামে অনেক বয়স্করাও আক্রান্ত হচ্ছেন। বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্র ও বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা এই তথ্য জানিয়েছেন। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষতির আশঙ্কা কম, তবে গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।
সময়মতো টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন না করায় হামের ভাইরাসের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। হাম অত্যন্ত ছোঁয়াছে রোগ। ব্যাপক হারে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে মারাও যাচ্ছে। পাশাপাশি হামের ভাইরাসের ব্যাপক বিস্তার হওয়ায় প্রাপ্তবয়স্ক ও গর্ভবতী মায়েরা আক্রান্ত হচ্ছেন বলে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। সময়মতো শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হলে দেশব্যাপী ভাইরাসের বিস্তার ঘটত না। এতে শিশু আক্রান্ত ও মৃত্যু হতো না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী প্রতিদিন গড়ে সাত জন শিশুর মৃত্যু এবং সহস্রাধিক আক্রান্ত হচ্ছে। জনস্বাস্থ্যবিদ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাব আরো এক মাস পর্যন্ত চলতে পারে। তবে টিকার কার্যক্রম বর্তমান সরকার দ্রুত শুরু করায় হামে আক্রান্ত কমে আসছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৬ হাজার ৮৮১ জন শিশু। মোট হামে শনাক্ত হয়েছে ৭ হাজার ২৪ শিশু। সুস্থ্য হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৩২ হাজার ৮৭৭ শিশু। মৃত্যু হয়েছে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৪২৪ জনের।
বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক এমিরেটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ জানান, প্রতিদিন প্রাইভেট চেম্বারে এবং তার অধীনে হাসপাতালে হামে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্করা ভর্তি হচ্ছেন। তাদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি কম। আক্রান্ত বয়স্কদের মধ্যে মারা যাওয়ার তথ্য তিনি পান নাই। তার মতে, হাম ছোঁয়াচে রোগ এবং দ্রুত ছড়ায়। এ কারণে বয়স্করা আক্রান্ত হচ্ছেন। তিনি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। মাস্ক পরার পরামর্শ দেন। বাসায় কিংবা হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের সংস্পর্শে গেলে সেই প্রাপ্তবয়স্কদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে গর্ভবতী মা হামে আক্রান্ত হলে পেটের বাচ্চার ঝুঁকি বেশি। জন্মগত ত্রুটি, হার্টের সমস্যা ও বিকলাঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যে ঘরে কোনো শিশু কিংবা নিজের কোনো শিশুসন্তান হামে আক্রান্ত হচ্ছে সেই গর্ভবতী মাকে নিরাপদে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য এই বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক পরামর্শ দিয়েছেন।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল গাইনি বিভাগের প্রধান ও ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানা সুমি বলেন, হামের প্রাদুর্ভাবে গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি রয়েছে। তিনি তাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোসতাক হোসেন বলেন, ‘হামের প্রাদুর্ভাবে ভাইরাসের বিস্তার প্রসার ঘটায় প্রাপ্তবয়স্করা আক্রান্ত হচ্ছে। তাদের মৃত্যু ঝুঁকি নেই বলে তিনি জানান। বড়দের জন্য হাম-রুবেলার টিকা বছরে একটা নিতে পারেন বলেও তিনি জানান।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘সময়মতো ৯ মাস ও ১৫ মাস পর্যন্ত শিশুদের টিকা না দেওয়ায় দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাব হয়েছে। পাঁচ বছর পর্যন্ত ৯৫ ভাগ শিশুকে টিকাদানে কর্মসূচির আওতায় আনার বিষয়টি দেশব্যাপী নিশ্চিত করতে পারলে ভাইরাসের বিচরণ ঘটবে না। প্রাপ্তবয়স্করা আক্রান্ত হবে না বলে জানান তিনি।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার খবর ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উত্তপ্ত বিতর্ক’। খবরে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এজলাস কক্ষে সাক্ষ্য গ্রহণ চলাকালে গতকাল মঙ্গলবার এক উতপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এক সাক্ষীর জবানবন্দী নথিবদ্ধ করাকে কেন্দ্র করে বিচারপতি ও আসামি পক্ষের আইনজীবীর মধ্যে তীব্র বাক্যবিনিময় হয়। একপর্যায়ে আইনজীবী পরকাল ও ধর্মীয় প্রসঙ্গ টেনে মন্তব্য করলে বিচারপতির চরম ক্ষোভের মুখে পড়েন এবং তাকে আদালত কক্ষ থেকে বের করে দেয়ার হুঁশিয়ারি পর্যন্ত দেয়া হয়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় সাবেক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের জেআইসি (জয়েন্ট ইন্টারগেশন সেল) সেলে গুম করে রাখার অভিযোগে দায়েরকৃত একটি মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলাকালীন। মামলাটিতে পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দী দিচ্ছিলেন নাজিম উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সোমবার এই সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণের পর গতকাল মঙ্গলবার দিনভর তাকে জেরা করেন আসামি পক্ষের আইনজীবীরা। জেরার শেষ পর্যায়ে এসে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট পয়েন্টে সাক্ষীর ‘পুনঃ জবানবন্দী’ বা রি-এক্সামিনেশনের অনুমতি চাওয়া হয়। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো: শফিউল আলম মাহমুদ তখন প্রসিকিউশনের কাছে জানতে চান এই প্রক্রিয়ায় কত সময় লাগবে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী আদালতকে আশ্বস্ত করে বলেন যে, এটি দুই মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে।
বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদের অনুমতির পর প্রসিকিউটর এস এম তাসমিরুল ইসলাম যখন সাক্ষীকে প্রশ্ন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই আসামি পক্ষের আইনজীবীরা আপত্তি জানান। অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু আদালতকে বলেন, তারা চান প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে পুনঃ জবানবন্দীর জন্য একটি আনুষ্ঠানিক লিখিত আবেদন আসুক এবং এরপর আদালত তা বিবেচনায় নিক। তবে বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ এই দাবির সাথে একমত হননি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, নতুন করে লিখিত আবেদনের আর দরকার নেই এবং আদালত তার নিজস্ব এখতিয়ার থেকে এই সুযোগটুকু রাষ্ট্রপক্ষকে দিতে পারেন। এ সময় দুলু একটি আইনের ধারা আদালতে পড়ে শোনান। জবাবে বিচারপতি হাইকোর্টের একটি মামলার রেফারেন্স টেনে বিজ্ঞ আইনজীবীদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, কোনো আইনজীবী যদি কোর্টে এসে রেফারেন্স দেয়ার সময় আইনের কোনো দিক ভুলে যান, তবে উপস্থিত অন্য আইনজীবীরা (সেটি রাষ্ট্রপক্ষ হোক বা ডিফেন্স হোক) যদি সেই আইনটি জানেন তবে সহযোগিতা করতে পারেন। এতে আদালতের কাজের পরিবেশ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা অটুট থাকে।
আদালতের এই নির্দেশনার পর প্রসিকিউটর এস এম তাসমিরুল ইসলাম মামলার সাক্ষী নাজিম উদ্দিনকে প্রশ্ন করেন, ‘২০১৬ সালের ৫ মে গ্রেফতারের পর আপনি কোথায় ছিলেন?’ জবাবে সাক্ষী নাজিম উদ্দিন বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন। তিনি আদালতকে বলেন, ২০১৬ সালের ১৫ মে থেকে পরবর্তী পাঁচ মাস তিনি ডিজিএফআইয়ের জেআইসি সেলে (যা আয়নাঘর হিসেবে পরিচিত) বন্দী ছিলেন। সেখান থেকে তাকে র্যাব-২ এ ৪০ দিন রাখা হয়, এরপর র্যাব-১০-এ এক রাত এবং সর্বশেষ র্যাব-৭ এ ৯ দিন রাখার পর একটি ‘মিথ্যা মামলা’ দিয়ে তাকে চট্টগ্রাম জেলহাজতে পাঠানো হয়।
সাক্ষীর এই জবানবন্দী যখন রেকর্ড করা হচ্ছিল, তখন আবারো বাধা দেন অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু। তিনি দাবি জানান যে, এই সাক্ষ্যের বিষয়ে আসামি পক্ষের যে আপত্তি আছে তা যেন নথিতে লিখে রাখা হয়। বিচারপতি মো: শফিউল আলম মাহমুদ তখন বলেন যে এটার কোনো প্রয়োজন নেই, তখনই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অ্যাডভোকেট দুলু মন্তব্য করেন, ‘আপনারা না লিখলেও কাল হাসরের ময়দানে এটি রেকর্ড থাকবে।’ একজন আইনজীবীর মুখে বিচারিক কার্য চলাকালীন এমন ধর্মীয় রেফারেন্স ও মন্তব্য শুনে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন বিচারপতি। তিনি তৎক্ষণাৎ কড়া ভাষায় বলেন, ‘আপনি কী বলেন এসব? কোর্টে কি কেউ এভাবে কথা বলে? আপনাকে রুম থেকে বের করে দেয়া উচিত।’
বণিক বার্তা
‘পাঁচ বছরে বিদেশী ঋণ পরিশোধ দ্বিগুণ হয়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ দ্রুত বাড়ছে। পাঁচ বছরের ব্যবধানে সরকারের বিদেশী ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদেশী ঋণ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে ৪১১ কোটি ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরে এ ব্যয় ছিল ১৮০ কোটি ডলার। অর্থাৎ পাঁচ বছরে ঋণ পরিশোধ ব্যয় বেড়েছে প্রায় ১২৮ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সময়ের মধ্যে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ছিল, যা বিদেশী ঋণের দায় ও পরিশোধ সূচির চাপ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে বিদেশী ঋণ পরিশোধ বেড়ে দাঁড়ায় ২০০ কোটি ডলারে। পরের অর্থবছরে তা আরো বেড়ে হয় ২৫১ কোটি ডলার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো ঋণ পরিশোধ ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে ৩৪৮ কোটি ডলারে পৌঁছে। সর্বশেষ অর্থবছরে তা আরো বেড়ে ৪১১ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনাতেও এর প্রভাব পড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ‘ফরেক্স মার্কেট অ্যান্ড রিজার্ভ ম্যানেজমেন্ট রিপোর্ট ফর ফিসক্যাল ইয়ার ২০২৪-২৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ মূলত সরকারের বিদেশী দায় পরিশোধে ‘নেশনস ওয়ালেট’ বা রাষ্ট্রীয় অর্থভাণ্ডার হিসেবে কাজ করে। আমদানি ব্যয়, জ্বালানি বিল ও বেসরকারি খাতের বৈদেশিক দায়ের পাশাপাশি এখন সরকারি ঋণ পরিশোধেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডলার ব্যয় হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধ ব্যয়ও দ্রুত বেড়েছে। আগে যেখানে বাংলাদেশের এ ঋণের বড় অংশ ছিল স্বল্পসুদের কনসেশনাল ঋণ, এখন তুলনামূলক বেশি সুদে নেয়া ঋণের অংশও বাড়ছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এক দশক ধরে নেয়া বড় অবকাঠামো প্রকল্পের ঋণের কিস্তি পরিশোধ পর্যায়ে প্রবেশ করায় এখন চাপ দৃশ্যমান হচ্ছে। একই সঙ্গে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, বৈশ্বিক সুদের হার বৃদ্ধি এবং নতুন ঋণের তুলনায় পুরনো ঋণের কিস্তি দ্রুত বাড়ায় বৈদেশিক খাতে চাপ বাড়ছে।
এ প্রসঙ্গে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘২০১৫ সালে যখন বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হলো, তখন থেকেই আস্তে আস্তে কনসেশন বা সহজ শর্তের ঋণ কমে আসা শুরু করেছে এবং নন-কনসেশনাল বা কঠিন শর্তের ঋণ বাড়ছে। আগে যেখানে দশমিক ৭ শতাংশ সুদে দীর্ঘ ৩০ বছরের জন্য ঋণ পাওয়া যেত, সেই সুবিধা এখন আর নেই। এখন প্রায় সব ঋণের ক্ষেত্রেই সুদের হার বাড়ছে এবং গ্রেস পিরিয়ড ও রিপেমেন্ট পিরিয়ড কমছে।’
অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হয়ে আসায় এখন সুদের পাশাপাশি আসল পরিশোধও শুরু হয়েছে। রূপপুরের মতো কয়েকটি বড় প্রকল্প এখন রিপেমেন্ট পর্যায়ে প্রবেশ করছে। একই সঙ্গে নতুন ঋণগুলোর গ্রেস পিরিয়ড আগের তুলনায় ছোট এবং পরিশোধকালও কমে এসেছে। তাদের মতে, এ পরিস্থিতিতে কোন খাতে ঋণ নেয়া হচ্ছে, সেই ঋণ থেকে প্রত্যাশিত রিটার্ন পাওয়া যাচ্ছে কিনা এবং বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা বজায় থাকছে কিনা এসব বিষয়ে সতর্ক নজরদারি প্রয়োজন। রিজার্ভের ওপর ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়লে তা দেশের আমদানি সক্ষমতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের এ চাপের বড় অংশই এসেছে সরকারি খাতের ঋণ থেকে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সেতু, রেল ও যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে নেয়া বিভিন্ন ঋণের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ায় এখন নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করতে হচ্ছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী কয়েক বছর এ চাপ আরো বাড়তে পারে। কারণ ২০১৫ সালের পর থেকে দ্রুত বেড়ে যাওয়া বৈদেশিক ঋণের বড় অংশ এখন পরিশোধ পর্যায়ে প্রবেশ করছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এরই মধ্যে বাংলাদেশের ঋণ ব্যবস্থাপনায় সতর্কতার ওপর জোর দিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, ঋণ নিয়ে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন দক্ষতা ও রিটার্ন নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে ডেট সার্ভিসিং চাপ আরো বাড়তে পারে। একই সঙ্গে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো ও রফতানি আয় শক্তিশালী করার সুপারিশও রয়েছে তাদের।
বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ এখন ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। যদিও এখনো বাংলাদেশকে উচ্চ ঝুঁকির ঋণগ্রস্ত দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না, তবে ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা ধরে রাখতে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, রফতানি ও রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী না হলে আগামী বছরগুলোতে বৈদেশিক খাতে চাপ আরো বাড়তে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, এখনো বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের বড় অংশ দীর্ঘমেয়াদি ও তুলনামূলক কম সুদের। তবে নতুন ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যয়-সুবিধা বিশ্লেষণ, প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সক্ষমতাকে আগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হচ্ছে।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘পাঠ্যবইয়ে বদল: সরকার আসে, পড়া বদলায়’। প্রতিবেদনে বলা হয়, আবারও বদল হচ্ছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবই। ক্ষমতার পালাবদলের পর পাঠ্যবইয়ের এই বদল চলছে গত শতকের নব্বইয়ের দশক থেকে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ব্যাপক পরিবর্তনের পর বিএনপির সরকার ক্ষমতার আসার পর আবারও বড় ধরনের বদল হচ্ছে পাঠ্যবইয়ে। এনসিটিবি সূত্র বলেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক স্তরের বিভিন্ন শ্রেণির ৯৯টি এবং প্রাথমিক স্তরের ৩৬টি বই পরিমার্জন হচ্ছে। যুক্ত হচ্ছে নতুন তিনটি বিষয়ের বইও।
শিক্ষাবিদেরা বলছেন, পাঠ্যপুস্তক গবেষণাভিত্তিক, যুগোপযোগী এবং জ্ঞাননির্ভর হওয়া বাঞ্ছনীয়। কিন্তু দেশে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীন সরকার নিজেদের আদর্শ ও অবস্থান অনুযায়ী পাঠ্যবই পুনর্বিন্যাস করেছে। সরকার বদলের পর পাঠ্যবইয়ে পরিবর্তন তারই ধারাবাহিকতা। এতে দীর্ঘ মেয়াদে শিক্ষায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষাক্রম প্রণয়ন, মুদ্রণ, প্রকাশনা, বিতরণ ও বিপণন করে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন এই দপ্তরের সূত্র জানায়, আগামী বছরের জানুয়ারিতে শুরু হতে যাওয়া নতুন শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের কয়েকটি পাঠ্যবইয়ে নতুন বিষয় সংযোজনের পাশাপাশি একাধিক বইয়ে বড় ধরনের পরিমার্জন করা হচ্ছে। নতুন তিনটি বিষয় যুক্ত হচ্ছে।
দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক অধ্যাপক তাহমিনা আক্তার আজকের পত্রিকাকে বলেন, সরকার সময়ে সময়ে পাঠ্যবই পরিমার্জন বা শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করতেই পারে। তবে তা হতে হবে যুগের চাহিদা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে। তিনি বলেন, পাঠ্যবই প্রণয়নে একটি স্বাধীন ও স্থায়ী বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা প্রয়োজন, যা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে গিয়ে কাজ করবে। একই সঙ্গে পাঠ্যবই সংশোধনের ক্ষেত্রে শিক্ষক, গবেষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামত নিশ্চিত করতে হবে।
পাঠ্যপুস্তকে ব্যাপক পরিবর্তন শুরু হয়েছে মূলত গত শতকের নব্বইয়ের দশক থেকে। অতীতে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ), বিএনপি, এইচ এম এরশাদের জাতীয় পার্টির আমলে পাঠ্যবই পরিমার্জন হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে পাঠ্যবইয়ে ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়। ধাপে ধাপে শিক্ষাক্রম-২০২১ নামে নতুন শিক্ষাক্রমও চালু করেছিল। ওই শিক্ষাক্রম নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক হয়। ওই সরকারের বিরুদ্ধে পাঠ্যপুস্তকে নিজেদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী ইতিহাস সংযোজন-বিয়োজনের অভিযোগ রয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেওয়া ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বিগত অন্তর্বর্তী সরকার নতুন শিক্ষাক্রম বাতিল করে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে যায়। একই সঙ্গে পাঠ্যবই পরিমার্জন করে। ২০২৫ সালের পঞ্চম থেকে নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ও ইংরেজি বইয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বিষয়ে কবিতা, প্রবন্ধ ও গদ্য সংযোজন করা হয়। অনেক গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, ইতিহাসবিষয়ক তথ্য বাদ দেওয়া হয়। এরপর চলতি বছরের ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে ইতিহাসের অংশ হিসেবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়বস্তু এবং নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে তিনটি নতুন বিষয় যুক্ত করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। এগুলো হলো চতুর্থ শ্রেণিতে ‘ক্রীড়া এবং সংস্কৃতি’, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ এবং সপ্তম শ্রেণিতে ‘জীবন ও কর্মমুখী শিক্ষা’।
পাঠ্যবই পরিমার্জনের বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিটিবির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী (অতিরিক্ত দায়িত্বে) বলেন, পাঠ্যবই প্রতিবছরই কমবেশি পরিমার্জন হয়। এবার যেহেতু নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বিবেচনা করে পাঠ্যবই পরিমার্জন করা হচ্ছে।
দেশ রূপান্তর
‘কৃষক কার্ডে অস্তিত্বহীন ৫০৪’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে কৃষকদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১১ উপজেলায় ২২ হাজার ৬৫ জনের কৃষক কার্ড তৈরি করা হয়। গত পহেলা বৈশাখে কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে তৈরি হওয়া তালিকায় পাঁচ শতাধিক কৃষকের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটি তালিকাভুক্ত এসব কৃষকের খোঁজ না পাওয়ার কারণ চিহ্নিত করার উদ্যোগ নিয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার কৃষি মন্ত্রণালয় কমিটির এ সংক্রান্ত একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এসব কার্ডধারীর বিষয়টিকে প্রাথমিক ত্রুটি হিসেবে চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খোঁজার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরের ধাপে যাতে এ ধরনের সমস্যা না হয়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল-ই-মোহামেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, কিছু কৃষক আছেন, যারা এক ফসলি চাষের সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে আমন চাষে যুক্ত থাকেন। বাকি সময়টা শহরে বা বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে অন্য কাজ করেন। প্রি-পাইলটিংয়ে এ ধরনের ৪ শতাংশ কৃষক রয়েছেন, যারা এখনো কার্ড নেননি। ধারণা করছি, এর মধ্যে ২ শতাংশ হয়তো আর কখনই এ পেশায় ফিরবেন না। বাকি যারা থাকবেন, তাদের এ সুবিধায় আনার জন্য আমরা জুনের ১৫ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করব। তারা হয়তো আমনের চাষাবাদের আগে গ্রামে ফিরবেন। এর মধ্যে যদি না আসেন, তাহলে তালিকা থেকে তাদের চূড়ান্তভাবে বাদ দেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘সবারই স্বাধীনতা রয়েছে, তিনি (কৃষক) কী করবেন। স্থায়ীভাবে পেশা পরিবর্তন করলে তিনি আর এ সুবিধাভোগীর তালিকায় আসবেন না।’
সোনালী ব্যাংকসূত্র জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ২২ হাজার ৬৫ জনের মধ্যে ২১ হাজার ৫৬১ কৃষক তাদের ব্যাংক হিসাব খুলেছেন। সে হিসাবে এখনো ৫০৪ কার্ডধারীর হিসাব চালু হয়নি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় কেন কার্ডধারীরা অ্যাকাউন্ট খুলেনি, তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। সোনালী ব্যাংকসংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোতে এ নিয়ে প্রচারণাও চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, যেকোনো উদ্যোগ বাস্তবায়নের শুরুর দিকে জটিলতা দেখা দিতে পারে। কৃষক কার্ডের ক্ষেত্রেও জটিলতা থাকতে পারে। দেখা যাচ্ছে, জমির মালিক বাবা, কিন্তু ছেলে সেই জমি চাষ করছে। কিন্তু ছেলে সুবিধাভোগী হতে পারছে না। এমন অনেক বিষয় রয়েছে। এসব চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা পরের ধাপের কৃষক কার্ড বিতরণে বিবেচনায় নেওয়া হবে।
সূত্র বলছে, এ ধরনের সমস্যা যাতে পরে না হয়, সে জন্য প্রকৃত সুবিধাভোগী কৃষক নির্ণয়ে স্থানীয় এসিল্যান্ড অফিসের সহযোগিতা নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি এ কার্ডের মাধ্যমে বিতরণ করা টাকার প্রভাবও মূল্যায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে পাইলটিং পর্যায়ে নতুন চার উপজেলা যুক্ত হবে। আগামী জুন মাসে নতুন কার্ড তৈরি ও বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। তবে কতগুলো কার্ড বিতরণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের নীতি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মাহমুদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য একেবারেই নতুন এবং পরীক্ষামূলক। ফলে শুরুতে সমস্যা চিহ্নিত হওয়াটা ভালো। ইতিমধ্যে অল্প কিছু কার্ডের সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে, সংখ্যাটি খুব বেশি নয়। পরের ধাপের কার্যক্রম যাতে জটিলতা ছাড়াই শুরু করা যায়, সে জন্য এখন থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আগামী জুন মাসে পরের পর্যায়ের কৃষক কার্ড তৈরি ও বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘হাজার কোটি টাকার চাঁদাবাজি’। খবরে বলা হয়, সারা দেশের সড়ক ও ফুটপাতে গড়ে উঠেছে হকারকেন্দ্রিক ব্যবসা ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট। প্রতিটি নগরীর সিন্ডিকেট সদস্যরা রাস্তার মোড়ে মোড়ে, সড়কে এবং দোকানের সামনে হকার বসিয়ে চাঁদাবাজি করে তারা। সড়ক ও ফুটপাতের এসব হকারের কাছ থেকে দৈনিক ও মাসিক ভিত্তিতে হাজার কোটি টাকার চাঁদাবাজি করছে এ চক্রটি। বিশাল এই অর্থ ‘লাইনম্যান’ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ও প্রশাসনের এক শ্রেণির অসাধু কর্তাদের পকেটে গেলে সরকারি কোষাগারে যাচ্ছে না এক পয়সাও।
হকারকেও দিতে হচ্ছে না কোনো ধরনের ভ্যাট বা ট্যাক্স। তবে হকাররা যেসব মার্কেটের সামনে ব্যবসা করছে তার প্রতিটি দোকান মালিককে ব্যবসা করতে হয় ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়ে। এমনকি সড়ক দিয়ে চলাচলকারী পরিবহনও দিচ্ছে যথাযথ কর। কিন্তু সবকিছুর বাইরে থাকছে ওই হকাররা। বিশ্লেষকরা বলছেন, হকারদের লাইসেন্সের আওতায় না আনায় তারা বিশৃঙ্খল। এসব হকারকে ট্যাক্সের আওতায় আনলে শৃঙ্খলার পাশাপাশি সরকারের রাজস্বের আওতা বাড়বে।
জানতে চাইল বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, হকারদের কাছ থেকে প্রতিদিন যে চাঁদা আদায় হয়, তা একটি সমান্তরাল অর্থনীতি তৈরি করছে। এই অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে না গিয়ে একটি অস্বচ্ছ চক্রের হাতে যাচ্ছে। ফলে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা ওই অনিয়ন্ত্রিত হকার ব্যবস্থা এখন কেবল শৃঙ্খলার নয়, একটি বড় অর্থনৈতিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, হকারদের আয় অর্থনীতির অংশ হলেও তারা ভ্যাট-ট্যাক্সের বাইরে থাকায় বছরে শত শত কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে দেশ, যা উন্নয়ন খাতে ব্যয় করা যেত। তিনি বলেন, তাদের উচ্ছেদ না করে বরং লাইসেন্সিং, নির্দিষ্ট স্থান ও স্বল্প করের মাধ্যমে হকারদের আনুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে আনা জরুরি। এতে রাজস্ব বাড়বে, শৃঙ্খলাও ফিরবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আইন না মানার সংস্কৃতি আর কোনো দেশে নেই। একমাত্র বাংলাদেশে আছে। যে যেখানে পারছে রাস্তার মধ্যে দোকান খুলছে। আর একটি বিশেষ গোষ্ঠী তাদের থেকে নিয়মিত সুবিধা নিচ্ছে। দোকানে ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকা সরকারকে কর দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু হকাররা সেটা দেয় ওই বিশেষ গোষ্ঠীকে। এতে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আসলে কোনো সরকারই হকারদের নিয়ে কাজ করেনি। দু-একজন কাজ করতে চাইলেও তাদের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে চুপ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই হকারদের একটি নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসা হোক।
রাজধানীতে শত কোটির চাঁদাবাজি: শুধু গুলিস্তানে মাসে ২০ কোটি টাকার চাঁদাবাজি : রাজধানীর গুলিস্তান এলাকা অর্থাৎ শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউ, বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট, মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামের পশ্চিম পাশের সড়ক, গুলিস্তান সার্ক ফোয়ারা থেকে হযরত গোলাপ শাহ মাজার, সেখান থেকে ঢাকা ট্রেড সেন্টার, সার্ক ফোয়ারা থেকে হানিফ ফ্লাইওভার, আওয়ামী লীগ অফিস কার্যালয়ের সামনের সড়কসহ ভিতরের অলিগলিতে ২৫-৩০ হাজার হকার রয়েছে। এর মধ্যে কাপড়, ফল, খাবারসহ বিভিন্ন আইটেমের দোকান রয়েছে। এসব দোকানের ছোট বড় সাইজ রয়েছে। এসব দোকান থেকে দৈনিক ও মাসিক ভিত্তিতে চাঁদা উঠায় লাইনম্যানখ্যাত একটি শক্তিশালী চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট। প্রতিটি দোকান থেকে দৈনিক ৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত টাকা উঠানো হয়। এ ছাড়া কিছু দোকান থেকে মাসিক ভিত্তিতে ৫-১০ হাজার পর্যন্ত টাকা আদায় করছে তারা।
