মানবতাবিরোধী অপরাধে কাদের-সাদ্দামসহ শীর্ষ ৭ নেতার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

ফন্ট সাইজ:

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ অঙ্গসংগঠনের আরও ৭ নেতার বিরুদ্ধে বিচারকাজ শুরু হয়েছে। এদিন, মামলায় সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে এই মামলার বিচার শুরু হয়। পরে, প্রসিকিউশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে সাক্ষ্যগ্রহণ মুলতবি করে ২২শে ফেব্রুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এ মামলায় পলাতক অন্য আসামি হলো- আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। এদিন, রাষ্ট্রপক্ষ ট্রাইব্যুনালে তাদের লিখিত সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন করে। পরে, প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন শহীদ আসিফ ইকবালের বাবা এমএ রাজ্জাক। ২০২৪ সালের ১৯শে জুলাই মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় শহীদ হন তার ছেলে। জবানবন্দিতে রাজ্জাক বলেন, মণিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে লেখাপড়ার পাশাপাশি দারাজ-এ চাকরি করতো আমার ছেলে। ১৯শে জুলাই মিরপুর-১০ এ আন্দোলনে অংশ নেয় আসিফ। সেদিন জুমার নামাজ ওই এলাকার একটি মসজিদে আদায় করে আন্দোলনে যোগ দেয় সে। এ সময় প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলামের আবেদনের প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্যগ্রহণ মুলতবি করে ২২শে ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।
উপদেষ্টা সাখাওয়াত আসেনি ইনুর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে: জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য উপস্থাপনের জন্য গতকাল দিন ধার্য ছিল। এদিন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনের সাক্ষ্য দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু ট্রাইব্যুনালকে ইনুর আইনজীবীরা জানায়, সাক্ষী এম সাখাওয়াত হোসেন এ মামলায় ইনুর পক্ষে সাক্ষ্য দিবেন না। তাই তারা নতুন করে ৩ জন সাক্ষীর নাম উপস্থাপন করেন। তারা হলেন- ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ‘ল এক্সপার্ট ডেভিড কারসন, জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসিব আল ইকবাল ও টিভি উপস্থাপক ঝুমি রহমান। পরে এ তালিকায় থাকা বিদেশি নাগরিকের নাম নামঞ্জুর করে, বাকি দু’জনকে ডিফেন্সের সাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করেছে ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে মামলায় আসামিপক্ষের সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২২শে ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনে নামেন ছাত্র-জনতা। হাসানুল হক ইনুর নির্দেশে তাদের ওপর গুলি চালায় পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র বাহিনী। তাদের গুলিতে শহীদ হন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। আহত হন বহু নিরীহ মানুষ। এ ছাড়া উস্কানি-প্ররোচনাসহ সুনির্দিষ্ট ৮টি অভিযোগ আনা হয় ইনুর বিরুদ্ধে।


Shah Alam Bhuiyan.

৩ মাস আগে

ইনু, মেনন, আনিস,সালমান, পলক সহ গ্রেফতার কৃতদের বিচার করতে এত সময় কেন লাগতেছ আমাদের বুঝে আসছেনা।
এদের দ্রুত বিচার হওয়া উচিত।
অন্যথায় পরবর্তীতে দায় বিএনপির উপর আসবে। বিরোধী পক্ষ বলবে বিএনপি ইচ্ছে করে বিচার কে প্রলম্বিত করেছে।

মন্তব্য করুন