আফরোজা খান রিতার সফলতার গল্প

ফন্ট সাইজ:

আফরোজা খান রিতা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশে যতগুলো নারী-প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন সবাইকে ছাড়িয়ে রেকর্ডসংখ্যক ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়ে নতুন বাংলাদেশে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। শুধু তাই নয় বিএনপি’র প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ভোট ব্যবধানের রেকর্ডের ইতিহাসের পর দ্বিতীয়জন হচ্ছেন তারই আস্থাভাজন রিতা। তথ্য মতে, বেগম খালেদা জিয়া ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া ৬ আসনে ১ লাখ ৮০ হাজারের উপরে ভোটের ব্যবধানে রেকর্ড তালিকায় শীর্ষে আছেন। দীর্ঘ ২৫ বছর পর বিএনপি’র নারী প্রার্থী হিসেবে দলের দ্বিতীয় রেকর্ড তালিকায় মানিকগঞ্জ-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী আট প্রার্থীকে ভোটের মাঠে ঘোলাজল খাইয়ে ১ লাখ ৪ হাজার ভোট বেশি পেয়ে অবিস্মরণীয় বিজয় অর্জন করেন রিতা। ধানের শীষের জনপ্রিয়তার সঙ্গে তার নিজের ব্যক্তি জনপ্রিয়তাই এনে দিয়েছে ভোট ব্যবধানে বিজয়ের রেকর্ড। দুই যুগের রাজনীতির জীবনে একজন ক্লিন ইমেজের মানুষ হিসেবে আফরোজা খান রিতার পরিচিতি রয়েছে সর্বমহলেই। তার পিতা টানা চার বারের সংসদ সদস্য সাবেক মন্ত্রী মরহুম হারুণার রশীদ খান মুন্নু। যার ছোঁয়া যেখানেই পড়েছে সেখানেই আলোকিত হয়ে উঠেছে। যে কাজেই হাত দিয়েছেন সে কাজেই পেয়েছেন সফলতা। আলোকিত পিতার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে আফরোজা খান রিতাও বাবার প্রতিচ্ছবি হয়ে আলো ছড়াচ্ছেন মানিকগঞ্জের জনপদে। সেই আলোয় আলোকিত হয়েই সদ্য সম্পন্ন হওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রমাণ দিয়েছেন ভোটের ময়দানে। যোগ্য পিতার যোগ্যউত্তরসূরি রিতা তার বাবার হাত ধরে রাজনীতিতে হাতেখড়ি। দুই যুগের রাজনীতির জীবনে বাবার আদর্শের দীক্ষাতেই তিনি পথ চলছেন। শুধু রাজনীতির ময়দানেই নয় সর্বগুণে গুণান্বিত সংগ্রামী এই নারী সংসার, ব্যবসা-বাণিজ্য, মানবতা, সামাজিকতাসহ সব ক্ষেত্রেই আলো ছড়ানো একজন মানুষ। একহাতেই সামাল দিচ্ছেন সবকিছু।
রিতার আলোকিত হয়ে উঠার গল্পে তার পিতা: ১৯৬২ সালের ৪ঠা জুলাই দেশের স্বনামধন্য শিল্পপতি ও সাবেক মন্ত্রী মরহুম হারুণার রশীদ খান মুন্নু ও তার সহধর্মিণী হুরুন নাহারের ঘর আলোকিত করে পৃথিবীতে আসেন রিতা। শিশুকাল থেকেই তার পিতাকে অনুসরণ অনুকরণ করেই তার বড় হয়ে ওঠা। ১৯৭৮ সালে এসএসসি পরীক্ষায় ঢাকা অগ্রণী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য বিভাগে প্রথম হন। এরপর ১৯৮০ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় ইউনিভার্সিটি উইমেন্স ফেডারেশন কলেজ থেকে বাণিজ্য বিভাগে স্টারমার্কস পেয়ে সারা দেশে মেধা তালিকায় অষ্টম স্থান হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। ১৯৮৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্স এবং ১৯৮৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে এম কম পাস করার মধ্যদিয়ে শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করেন। তার বাবা চেয়েছিলেন তার সংসারে যেহেতু কোনো পুত্র সন্তান নেই তাই বড় মেয়ে আফরোজা খান রিতাকে নিজের প্রতিচ্ছবি হিসেবে গড়ে তুলবেন। বাবার ইচ্ছে পূরণে লেখাপড়ার গণ্ডি পেরিয়ে অল্প বয়সেই বাবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। খুব অল্প সময়ে হয়ে ওঠেন একজন মেধাবী ও সফল শিল্পোদ্যোক্তা। হারুণার রশীদ খান মুন্নু ছিলেন মুন্নু গ্রুপের চেয়ারম্যান আর মেয়ে আফরোজা খান রিতা ছিলেন মুন্নু গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ফলে বৃদ্ধ বয়সে বাবাকে ব্যবসা-বাণিজ্যর সাম্রাজ্য নিয়ে টেনশনে থাকতে হয়নি। মেয়ের প্রতি বাবার আস্থা ও ভরসা ছিল পুরোটাই। মরহুম হারুণার রশীদ খান মুন্নু সফল শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে স্বীকৃতপ্রাপ্ত ঠিক তেমনি মেয়ে রিতাও দেশের একজন সফল শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে আলোকিত। পাশাপাশি বিএনপি’র রাজনীতিতে বাবা-মেয়ে দু’জনেই আলোকিত নাম। জীবদ্দশায় হারুণার রশীদ খান মুন্নুর রাজনৈতিক জীবনে ক্লিন ইমেজ ছিল তার সবচেয়ে বড় পুঁজি। যার কারণে দলের ভেতর ছিল তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপি’র রাজনীতিতে নাম লিখিয়ে ১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোটের রেকর্ড সৃষ্টি করে জয়লাভ করে। ২০০১ সালের নির্বাচন পর্যন্ত টানা চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর মধ্যে ২০০১ সালের নির্বাচনে হারুণার রশীদ খান মুন্নুকে একইসঙ্গে মানিকগঞ্জ-৩ ও মানিকগঞ্জ-২ আসনের টিকিট দেন বিএনপি’র প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দু’টি আসনেই বিপুল ভোটে জয়ী হন মুন্নু। নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ আসনের নির্বাচন পরিচালনার পুরো দায়িত্ব দেয়া হয় মেয়ে আফরোজা খান রিতার ওপর। দক্ষ হাতে বাবার নির্বাচন পরিচালনা করায় রেকর্ডসংখ্যক ভোটে ধানের শীষ বিজয়ী হয় মানিকগঞ্জ-২ ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনে। নির্বাচন পরিচালনায় দক্ষতা, দলীয় নেতা কর্মীদের ভালোবাসা, ব্যাপক জনপ্রিয়তায় আফরোজা খান রিতা জড়িয়ে পড়েন বিএনপি’র রাজনীতিতে। বাবার হাত ধরেই ২০০১ সালে রাজনীতিতে অভিষেক তার। রাজনৈতিক ময়দানে তরুণ নেতৃত্ব হিসেবে তখন আফরোজা খান রিতার নামডাক ছড়িয়ে পড়ে মানিকগঞ্জ জেলা থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত। অল্প সময়েই দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় আফরোজা খান রিতা নজরে পড়ে যায় বিএনপি’র চেয়ারপারসনের। এরপর থেকে তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ব্যক্তি জনপ্রিয়তা ও ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবে পিতা হারুণার রশীদ খান মুন্নুর যোগ্য উত্তরসূরি হয়ে ওঠেন। রিতার সফলতায় তার বাবা জীবদ্দশায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। ২০১৭ সালের ১লা আগস্ট হারুণার রশীদ খান মুন্নু ইন্তেকালের পর মুন্ন গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। রিতার গর্বের পুরো জায়গা জুড়ে তার বাবা। বাবার আদর্শ ও সততা নিজের ভেতর ধারণ ও লালন করেই পথ চলছেন। বিএনপি’র চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার পাশাপাশি দেশের সংকটময় মুহূর্তে ২০১৩ সাল থেকে আফরোজা খান রিতা মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপি’র পর পর দুইবারের সফল সভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। রিতার জিয়া পরিবারের প্রতি রয়েছে অকৃত্রিম ভালোবাসা ও বিশ্বাস। বিএনপি’র সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আদর ভালোবাসা পেয়েছে খুব কাছে থেকেই।
বর্তমান দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় ফ্যাসিবাদ পতন আন্দোলনে মানিকগঞ্জের রাজনীতিতে যার ভূমিকা ছিল সবার ঊর্ধ্বে। টানা ১৭ বছর দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মানিকগঞ্জ থেকে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। নির্যাতিত নিপীড়িত নেতাকর্মীরা যারা গায়েবি মামলায় জেল খেটেছেন তাদের বিপদে-আপদে রিতাই ছিল একমাত্র ভরসা। আওয়ামী লীগের দুঃশাসনে তিনি যেমন নেতাকর্মীদের ছেড়ে যাননি ঠিক তেমনি নেতাকর্মীরাও তাকে আপন করে রেখেছিলেন। যার কারণে মানিকগঞ্জে বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনপ্রিয়তার কারণেই ভোটের রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন