লক্ষ্মীপুরে টুইন পিট ল্যাট্রিন নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য পর্যাপ্ত ও সমতাভিত্তিক পয়ঃনিষ্কাশন এবং স্বাস্থ্যবিধিসম্মত জীবন রীতিতে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং খোলা জায়গায় মলত্যাগের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাংক (এআইআইবি) অর্থায়নে এ প্রকল্পের কাজ শুরু করেন।
লক্ষ্মীপুরের তিন উপজেলার ৪১টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের সহায়তায় প্রতিটি ইউনিয়নে ২২৯টি পরিবারের তালিকা তৈরি করেন প্রকল্পের সহযোগী এনজিওসহ স্থানীয় প্রতিনিধিরা। সদরের ২১টি ইউনিয়নের জন্য চার হাজার ৮০৯টি, রায়পুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের জন্য দুই হাজার ২৯০টি ও রামগঞ্জ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের জন্য দুই হাজার ২৯০টি মোট ৯ হাজার ৩৮৯টি টয়লেট নির্মিত হচ্ছে।
সূত্র জানায়, প্রতিটি টুইন পিট ল্যাট্রিন নির্মাণে ৩৫ হাজার ১০৮ টাকা করে বরাদ্দ রয়েছে। রায়পুরসহ তিন উপজেলার ৯ হাজার ৩৮৯টি ল্যাট্রিন নির্মাণে মোট ব্যায় হবে ৩২ কোটি ৯৬ লাখ ২৯ হাজার ১২ টাকা। কিন্তু বাস্তব অবস্থা ভিন্ন। কাজ চলছে দায়সারাভাবে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের এত নিম্নমানের কাজ হওয়ায় হতাশ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
প্রতিটি ল্যাট্রিন নির্মাণে কিছু ইট, ১০টি রিং, দুটি স্ল্যাব এবং চার ইঞ্চি ব্যাসার্ধের সিমেন্টের তৈরি পিলার এবং কিছু টিন দিয়ে তৈরি হয়। কিন্তু নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ উপকরণ প্রদানে দুর্নীতির আশ্রয় নিচ্ছে। এদিকে ভেঙে ফেলা রিং ও স্ল্যাবগুলো জোড়াতালি দিয়ে পুনরায় ল্যাট্রিন নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি টয়লেট নির্মাণে প্রকল্প কর্তৃক ব্যয় ৩৫ হাজার ১০৮ টাকা ধরা হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হচ্ছে সর্বোচ্চ ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা। আর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এগুলো নির্মাণে সর্বোচ্চ ১০- ১৫ হাজার টাকা ব্যয় করছে।
বাকী টাকা জনস্বাস্থ্যের নির্বাহী প্রকৌশলী বিলকিস আকতারসহ উপজেলা প্রকৌশলীরা ও কর্মকর্তাগণ তাদের মধ্যে সুষম বণ্টন করে গাড়ি বাড়ির মালিক হচ্ছেন।
জানা যায়, ‘মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি’ শীর্ষক এ প্রকল্পের আওতায় দেশের ৩০ জেলার ৯৮টি উপজেলায় দরিদ্র জনগণের জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন স্থাপন কার্যক্রম চলছে। বিশ্বব্যাংক ও এআইআইবি থেকে ৯৭ শতাংশ ঋণ নিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। বাকি দুই শতাংশ টাকা নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দিচ্ছে সরকার। স্থানীয় সরকার বিভাগের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। কাজ শেষ হবে চলতি বছর।
অভিযোগ উঠেছে, প্রতিটি ল্যাট্রিন নির্মাণে বরাদ্দের এক-তৃতীয়াংশ অর্থে এসব নির্মাণ কাজ চলছে। ফলে প্রশ্ন রয়েছে এসবের মান নিয়েও। অভিযোগ রয়েছে, এসব ল্যাট্রিন নির্মাণে জেলার প্রায় সব ঠিকাদারের সঙ্গে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী বিলকিস আকতারের নেতৃত্বে উপজেলা প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারাও এঅনিয়মে জড়িত। প্রকৌশলী বিলকিস আকতার আসার পর থেকে অনিয়মের সিন্ডিকেট তৈরি করেন উপজেলা কর্মকর্তাদেকে সাথে নিয়ে।
এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন স্কুলে ওয়াস ব্লক কার্যক্রম চলমান থাকলেও কাজ অসম্পন্ন রেখে চূড়ান্ত বিল পাস করে দিয়ে কমিশন বাণিজ্য করার অভিযোগ রয়েছে এ প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর অভিযোগ এক কর্মকর্তা দীর্ঘদিন এক অফিসে কর্মরত থাকলে তাদের দৌরাত্ম্য ও অনিয়মের মাত্রা এবং ঘুষ বাণিজ্য কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
সদর ও রায়পুর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, নিম্নমানের ইটের সুড়কি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে রিং ও স্ল্যাব। ভেঙে ফেলা রিং ও স্ল্যাবও জোড়াতালি দিয় ফের লাগানে হয়েছে। যার ফলে এগুলোর মান নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
চররুহিতা ও লক্ষ্মীপুর পৌরসভাসহ কয়েক জন ব্যক্তি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানিয়েছেন, তালিকায় নাম ওঠাতে টাকা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
লক্ষ্মীপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী বিলকিস আকতারকে এসব অনিয়মের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি কোন উত্তর দেননি মানবজমিনকে। তিনি চুপচাপ বসে থাকেন।
লক্ষ্মীপুর জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের হরিলুট
মো. ইউসুফ, লক্ষ্মীপুর থেকে
বাংলারজমিন
৩ মাস আগে
১৭ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার), ২০২৬, ১০ঃ০৮ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%

Anita
৩ মাস আগেযুগে যুগে এভাবে হরি লোট হয়েছে বর্তমান নতুন সরকারের কাছে দাবি জবাবদিহিতা মূলক প্রকল্প চালু করুন