মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) একটি বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বেস্টিনেট পরিচালিত ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফডব্লিউসিএমএস) সম্পর্কে প্রচারিত বেশ কিছু দাবিকে সংস্থাটি সরাসরি ভুল বলে চিহ্নিত করেছে।
আইএলও তার বিবৃতিতে জানায়, সকল চাকরিপ্রার্থী, বিশেষত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে থাকা অভিবাসী শ্রমিকদের কাছ থেকে নিয়োগ ফি আদায় না করার নীতিটি ন্যায্য ও নৈতিক নিয়োগ ধারণার কেন্দ্রবিন্দু। ২০১৮ সালের নভেম্বরে জেনেভায় বিশেষজ্ঞদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে গৃহীত এবং ২০১৯ সালের মার্চে আইএলও গভার্নিং বডি অনুমোদিত আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে শ্রমিকদের বহন করতে হয় এমন যেকোনো ফি বা ব্যয়কেই নিয়োগ ফি হিসেবে গণ্য করা হয়।
মালয়েশিয়া সরকার ২০২১ সালে বাংলাদেশ সরকারের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করে, যেখানে মালয়েশিয়ায় বিমান ভাড়াসহ নিয়োগ সংশ্লিষ্ট ব্যয় নিয়োগকর্তার বহন করার বিধান রাখা হয়। তবে এই সদিচ্ছা সত্ত্বেও ২০২৩ সাল থেকে এমন প্রতিবেদন আসতে থাকে যে বাংলাদেশি শ্রমিকরা বৈধ ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর পর আবিষ্কার করছেন প্রতিশ্রুত চাকরিই অস্তিত্বহীন।
এই পরিস্থিতিতে ২০২৪ সালের মে মাসে আইএলও, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং মাদক ও অপরাধবিষয়ক জাতিসংঘ কার্যালয় (ইউএনওডিসি) যৌথভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের আলোকে মালয়েশিয়ার শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থা পর্যালোচনায় সহায়তার প্রস্তাব দেয়।
বিবৃতিতে আইএলও আরও জানায়, চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল লুই ও ভুল্লারের একটি প্রেস বিবৃতিতে এফডব্লিউসিএমএস’কে জাতিসংঘ স্বীকৃত এবং আইএলও কর্তৃক সুপারিশকৃত বলে দাবি করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সংস্থাটি স্পষ্ট করে জানায়, এফডব্লিউসিএমএস-কে যে পুরস্কার দেয়া হয়েছে তার আনুষ্ঠানিক নাম ওয়ার্ল্ড সামিট অ্যাওয়ার্ডস (ডব্লিউএসএ), যা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর নিউ মিডিয়া নামক একটি অলাভজনক সংস্থার কার্যক্রম। এটি জাতিসংঘের কোনো পুরস্কার নয়, সুতরাং এটি জাতিসংঘের স্বীকৃতিও বোঝায় না।
এফডব্লিউসিএমএস প্রসঙ্গে আইএলও জানিয়েছে, সংস্থাটি কেবল ২০১৩ সালে প্রস্তাব পর্যায়ে বেস্টিনেটের উপস্থাপনায় প্রাথমিক মন্তব্য দিয়েছিল। সেই মন্তব্যে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল যে, প্রস্তাবিত ব্যবস্থা পরিচালনায় বেস্টিনেটের যোগ্যতা বা দক্ষতা সম্পর্কে আইএলও অবগত নয় এবং ওই মন্তব্যকে কোনোভাবেই কোম্পানির প্রতি সমর্থন হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। আইএলও আরও স্পষ্ট করে যে, সেই মন্তব্যগুলো পরবর্তী কোনো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
বিবৃতির শেষে আইএলও জানিয়েছে, সংস্থাটি আন্তর্জাতিক শ্রম মানদণ্ড এবং ন্যায্য নিয়োগ সংক্রান্ত সাধারণ নীতিমালার আলোকে মালয়েশিয়ার শ্রম অভিবাসন প্রশাসন উন্নয়নে সহায়তায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের ত্রিপক্ষীয় অংশগ্রহণে চাহিদাভিত্তিক ও ন্যায্য শ্রম অভিবাসন করিডোর গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি পরামর্শ সভা আয়োজনে সহায়তা করতেও সংস্থাটি প্রস্তুত বলে জানানো হয়।
