হামের ভয়াবহতার মধ্যে ভয় দেখাচ্ছে ডেঙ্গু

সহযোগীদের খবর

হামের ভয়াবহতার মধ্যে ভয় দেখাচ্ছে ডেঙ্গু

ফন্ট সাইজ:

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘হামের ভয়াবহতার মধ্যে ভয় দেখাচ্ছে ডেঙ্গু’। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীসহ সারা দেশে টানা কয়েক দিন বৃষ্টিপাতের পর আবারও বেড়েছে মশার প্রকোপ। তবে এবার আর কিউলেক্স মশা না, বাড়ছে ডেঙ্গুর জন্য দায়ী এডিসের বিস্তার। গত পাঁচ বছরের হিসাব অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে সারা দেশে মোট মৃত্যুর অর্ধেকই রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা। তাই এবার ডেঙ্গু নিয়ে আগাম সতর্কতার কথা জানিয়েছেন দুই সিটির কর্মকর্তারা। তাঁরা বলেছেন, এডিস মশা প্রতিরোধে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ডেঙ্গু মৌসুমের শুরুতে চলতি বছর এখন পর্যন্ত সারা দেশে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুজনই রাজধানীর বাসিন্দা।

গত কয়েক দিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। এ রকম বৃষ্টিতেই পথঘাট ছাড়াও পরিত্যক্ত বোতল বা পাত্র, ডাবের খোসা ইত্যাদিতে জমা পানিতে এডিস মশার বিস্তার ঘটে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৃষ্টিপাতের আগে প্রচণ্ড গরমে কিউলেক্স প্রজাতির মশার বিস্তার ঘটেছিল। বৃষ্টির ফলে সেই মশা থেকে রেহাই পেয়েছে নগরবাসী। তবে জমা পানির কারণে এখন বাড়ছে এডিস মশার বংশ।

গুলশান অঞ্চলের বিশাল কড়াইল বস্তির বাসিন্দা আকরাম মিয়া বড় রাস্তায় একটি ফলের দোকানে কাজ করেন। তিনি জানান, মশার কয়েল না জ্বালিয়ে দোকানে বসা যায় না। আজকের পত্রিকাকে আকরাম বলেন, ‘দিনের বেলায়ও কয়েল ধরাইতে হয়। এখন তো ডেঙ্গু (এডিস) মশার সিজন। এই মশা তো দিনেই নাকি বেশি কামড়ায়।’

গুলশান লেকের যে অংশ ঘেঁষে কড়াইল বস্তির অবস্থান, তা প্রায় সারা বছরই জঞ্জালে ভরা থাকে। লেকের ঘোলা বদ্ধ পানি মশার অন্যতম বড় প্রজনন ক্ষেত্র। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে এডিস স্বচ্ছ পানিতে বংশ বৃদ্ধি করলেও সাম্প্রতিককালে ঢাকায় তাঁরা নোংরা পানিতেও এ মশার জন্ম হতে দেখছেন।

রাজধানীজুড়ে সব সময় বহু ভবন নির্মাণাধীন থাকে। অনেক ক্ষেত্রেই দীর্ঘসময় লাগে এসবের কাজ শেষ হতে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এ ধরনের স্থাপনায় জমে থাকা পানিতে ডেঙ্গুর বংশবিস্তার হচ্ছে। জায়গাগুলো নজরে রেখে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না করলে এ বছর ডেঙ্গুর মাত্রা গত বছরের তুলনায় বাড়তে পারে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণি- বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও মশাবাহিত রোগবিষয়ক গবেষক কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার আজকের পত্রিকাকে জানান, এখনই যথাযথ প্রস্তুতি না নিলে সামনে ডেঙ্গুর প্রভাব বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, টানা বৃষ্টি ও আর্দ্র আবহাওয়ার ফলে এডিস মশা বাড়বে। একই সঙ্গে ডেঙ্গুও বাড়বে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে। যেসব কীটনাশক প্রয়োজন তার পর্যাপ্ত মজুদ রাখতে হবে সিটি কর্তৃপক্ষকে।

রাজধানীতে এবার ডেঙ্গুর মাত্রা কেমন হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে কবিরুল বাশার বলেন, ‘এবারের ডেঙ্গুর ঢেউ ২০২৩ সালের মতো ব্যাপক হয়তো হবে না। তবে গত বছরের চেয়ে বেশি হতে পারে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া গত ৫ বছরের ডেঙ্গু রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এ সময়ে সারা দেশে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর অর্ধেকই ছিল রাজধানীর বাসিন্দা। দুই সিটি করপোরেশনের মধ্যে রাজধানীর দক্ষিণে মৃত্যুর হার বেশি। প্রতিবছরের মে-জুন মাসে এডিস মশার বিস্তার এবং ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের সংখ্যার সূচক ঊর্ধ্বমুখী হতে দেখা গেছে।

মৃত্যুর হিসাব ঊর্ধ্বমুখী

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু গত কয়েক বছরে উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ২০২১ সালে রাজধানীতে ৯৫ জন এবং সারা দেশে ডেঙ্গুতে মোট ১০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২২ সালে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেয়। সে বছর সারা দেশে ২৮১ জনের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে রাজধানীতেই মারা যান ১৭৩ জন। ২০২৩ সালে ডেঙ্গু ছিল দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী। বছরটিতে সারা দেশে ডেঙ্গুতে মোট ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক মারা যায় রাজধানীতে। সারা দেশে ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে যথাক্রমে ৫৭৫ ও ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়। সাম্প্রতিককালের নতুন বিপদ হচ্ছে, আগে মূলত ঢাকাসহ নগরে সীমিত থাকলেও এডিস মশা এখন গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় চলতি বছরও সরকার ও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নানা ধরনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ড চিহ্নিত করে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ডেঙ্গু রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে আক্রান্ত এলাকায় কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) পাঠিয়ে বিশেষ মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জনসচেতনতা বাড়াতে ‘শনিবারের অঙ্গীকার, নিজ নিজ বাসা-বাড়ি করি পরিষ্কার’ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। লিফলেট, এসএমএস এবং গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপনসহ সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলেছেন, ডেঙ্গু নিয়ে এ বছর আগাম সতর্ক তাঁরা। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) জানিয়েছে, বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে লার্ভিসাইডিং ও ফগিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি ড্রেন, খাল ও জলাবদ্ধ স্থান পরিষ্কার অভিযান চলছে। ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাইকিংয়ের মাধ্যমে নাগরিকদের সতর্ক করা হচ্ছে। কিছু নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনা মূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, রোববার থেকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোধে বাউল গানের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছেন তাঁরা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) রোববারই প্রথমবারের মতো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় রাজধানীর ৭৫ ওয়ার্ডে ডেঙ্গুর হটস্পট শনাক্তে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ‘প্রাক্‌-বর্ষা এডিস লার্ভা জরিপ শুরু করেছে। এ সময় ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে তথ্যভিত্তিক ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দায়িত্বে অবহেলা বরদাশত করা হবে না।

এ ছাড়া ডিএসসিসি বিশেষ ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা ও সচেতনতা কার্যক্রম, খাল, ড্রেন ও বক্স কালভার্ট পরিষ্কার এবং জলাবদ্ধতা কমাতে পোর্টেবল পাম্প ব্যবহারের উদ্যোগ এবং প্রতি মাসের প্রথম শনিবার ‘ক্লিনিং ডে’ পালনের ঘোষণা দিয়ে নাগরিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. হালিমুর রশিদ বলেছেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। গতকাল তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘হাম বা অন্য কোনো রোগের কারণে ডেঙ্গুকে কম গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—বিষয়টি এমন নয়। আমরা সমান গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

হালিমুর রশিদ বলেন, ‘আজও (গতকাল) ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক হয়েছে। সেখানে দেশের প্রতিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনার জন্য ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে, যাতে রোগী শনাক্ত, চিকিৎসা ও সমন্বয় কার্যক্রম দ্রুত করা যায়। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক, বিশেষ করে স্যালাইন, ওষুধ ও পরীক্ষার সামগ্রী জেলা ও উপজেলা হাসপাতাল পর্যন্ত পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।’

বিশেষজ্ঞের বহুমাত্রিক পরামর্শ

এডিস মশা ও ডেঙ্গু রোগের ক্রমবর্ধমান বিস্তারের জন্য বর্তমান নগর কাঠামোকে অন্যতম বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করলেন নগর বিশেষজ্ঞ, ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান। আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে রাজধানীতে জনঘনত্ব অত্যন্ত বেশি। এত জনঘনত্বপূর্ণ স্থানে মশাবাহিত রোগ খুব দ্রুত ছড়ায়। ঢাকায় বৃষ্টিপাতের সময়ে নানা কারণে জলাবদ্ধতা হয়। এ ছাড়া তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’ (শহরের যেসব স্থানে উষ্ণতা বেশি) এর প্রভাব থাকে, যার ফলে মশার বংশবিস্তারের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।’

আদিল মুহাম্মদ খান এ কারণে সমন্বিত নগর পরিকল্পনা এবং জৈবিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মশা নিয়ন্ত্রণের নামে সিটি করপোরেশন মূলত ফগিং করে থাকে, যা কার্যত লোকদেখানো। কিন্তু পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা, নগর পরিকল্পনার মাধ্যমে তাপমাত্রা কমানো বা জনঘনত্ব নিয়ন্ত্রণের কোনো উদ্যোগ তাদের নেই। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অবস্থাও অত্যন্ত খারাপ। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা এবং জৈবিক ব্যবস্থাপনা করতে না পারব, ততক্ষণ শুধু কেমিক্যাল দিয়ে ফগিং করে কোনো লাভ হবে না।’

এ বছর ডেঙ্গুর প্রভাব বাড়বে এমন আশঙ্কা জানিয়ে এই নগর গবেষক বলেন, ‘পরিসংখ্যান আমাদের সে তথ্যই দিচ্ছে। নগর কাঠামোর কোনো পরিবর্তন না হওয়া এবং বর্তমান নগর পরিকল্পনার অব্যবস্থাপনা এসব মিলিয়ে পরিস্থিতি সেদিকেই ইঙ্গিত করছে।’

প্রথম আলো

আরাস্তুর বাসায় গিয়ে এস আলম বলেন, ‘ইউ হ্যাভ টু স্টেপ ডাউন’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার প্রতিবেদন। খবরে বলা হয়, ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি ‘ডিজিএফআই প্রযোজিত’ পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটিতে নিজেদের লোক নিয়োগ করা শুরু করে। পাশাপাশি ব্যাংকে আগে থেকে কর্মরত পছন্দের কর্মীদের বসানো হয় বড় পদে।

তখন দুটি বিষয় নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরাস্তু খানের সঙ্গে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের বিরোধ তৈরি হয়। বিষয় দুটি হলো, ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মীদের বাদ দেওয়া এবং এস আলমের নিয়ন্ত্রণাধীন অন্য কয়েকটি ব্যাংককে দেওয়া ঋণের টাকা ফেরত চাওয়া।

একপর্যায়ে সাইফুল আলম আরাস্তু খানের বাসায় গিয়ে তাঁকে বলেন, ‘ইউ হ্যাভ টু স্টেপ ডাউন (আপনাকে পদত্যাগ করতে হবে)।’ এরপরই পদত্যাগ করেন আরাস্তু খান।

আরাস্তু খানই এ বিষয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন। পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংক দখলের ভেতরের গল্প প্রথম আলোকে বলেছেন ব্যাংকটির তৎকালীন দুজন পরিচালক, দুজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এবং পরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়া এক ব্যক্তি। তাঁরা নাম প্রকাশ করতে চাননি। বাংলাদেশ ব্যাংক, এস আলম গ্রুপসহ বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গেও কথা বলেছে প্রথম আলো।

এ নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব ছিল ‘“এই, আপনারা কারা”, এটি একটি ব্যাংক দখলের গল্প’ শিরোনামে। তাতে তুলে ধরা হয় যে কীভাবে এস আলম ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) তৎকালীন মহাপরিচালক মোহাম্মদ আকবর হোসেনসহ কিছু কর্মকর্তার ভূমিকা কী ছিল।

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তনের বিষয়টি ২০১৭ সালের ৬ জানুয়ারি প্রথম আলো পত্রিকায় প্রধান খবর করা হয়েছিল। শিরোনাম ছিল ‘ইসলামী ব্যাংকে “শান্তিপূর্ণ” বদল’। শান্তিপূর্ণ শব্দটি উদ্ধৃতিচিহ্নের মধ্যে রাখা হয়েছিল। কারণ, সেটি ছিল ইসলামী ব্যাংকের পদত্যাগ করা চেয়ারম্যান মুস্তাফা আনোয়ারের বক্তব্য। এই ‘শান্তিপূর্ণ’ যে প্রশ্নবিদ্ধ ছিল, তা-ই বলা হয় উদ্ধৃতিচিহ্ন দেওয়ার মাধ্যমে।

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকের খবর পেয়ে সেদিন এই প্রতিবেদককে প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ পাঠিয়েছিল র‍্যাডিসনে। প্রবেশপথে নিরাপত্তাকর্মীরা পথ আটকান। পরিচয় দেওয়া এবং ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ সভার খবর সংগ্রহে যাওয়ার কথা বলা হলে নিরাপত্তাকর্মীরা বলেছিলেন, কোনো সাংবাদিকের সেখানে যাওয়ার অনুমোদন নেই।

এই বৈঠক যে ডিজিএফআই ‘প্রযোজিত’, সেই আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু কেউ মুখ খুলছিলেন না। এমনকি ইসলামী ব্যাংকের পদত্যাগ করা চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকও এ বিষয়ে তখন ‘ভয়ে’ কোনো তথ্য দেননি। তাঁদের দুজনের সঙ্গেই প্রথম আলো কথা বলেছিল। অন্যদিকে দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকাগুলো ঘেঁটে দেখা গেছে, তারাও শুধু ইসলামী ব্যাংকে বদলের খবর প্রকাশ করেছিল।

ব্যাংক দখলের কাহিনি যাতে প্রকাশ না পায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে চেয়েছিল ডিজিএফআই। ৫ জানুয়ারি (২০১৭) রাতে একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নেতৃত্বে ডিজিএফআইয়ের সদস্যরা হাজির হয়েছিলেন প্রথম আলোর ছাপাখানায়। তখন পত্রিকার প্রথম সংস্করণ ছাপার প্রস্তুতি চলছিল। তাঁরা ছাপাখানায় প্রবেশ করে পরের দিনের পত্রিকায় কী লেখা হচ্ছে, তা জানতে ও পড়তে চান। এই চাওয়া পূরণ না হলে সেই রাতে ছাপাখানা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

ডিজিএফআই কর্মকর্তারা গভীর রাত পর্যন্ত প্রথম আলোর ছাপাখানায় অবস্থান করেন। ঢাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যান রাজধানীর একটি হাসপাতালে, যেখানে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান চিকিৎসাধীন ছিলেন। যদিও তিনি দেখা করতে পারেননি। একপর্যায়ে ডিজিএফআই সদস্যরা ছাপাখানা থেকে চলে যাওয়ার পর অনেক বিলম্বে সেদিন ছাপা শুরু হয়।

পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তনের পরের দিন প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ এই প্রতিবেদককে মালিকানা বদলের নেপথ্যের ঘটনা অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়। এর উদ্দেশ্য কী, তা জানার জন্য বলা হয়। এই প্রতিবেদক ইসলামী ব্যাংকের অনেকের সঙ্গে কথা বলেন। তাতে এস আলমের ভূমিকা জানা সম্ভব হয়। কিন্তু ডিজিএফআইয়ের ভূমিকা নিয়ে তখন কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

পরের দিন (৭ জানুয়ারি ২০১৭) প্রথম আলোর প্রথম পাতায় ‘জামায়াতমুক্ত করতেই ইসলামী ব্যাংকে পরিবর্তন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তাতে এস আলমের সংশ্লিষ্টতা তুলে ধরা হয়।

প্রথম আলো এরপর নিয়মিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে খবর প্রকাশ করেছে। ২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম ছিল ‘ইসলামী ব্যাংকে ভয়ংকর নভেম্বর’। এই প্রতিবেদনে ইসলামী ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে হাজার হাজার কোটি টাকা বের করে নেওয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়। এই প্রতিবেদন দেশজুড়ে আলোচনা তৈরি করেছিল।

ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে সংস্থাটির বক্তব্য জানতে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে লিখিত প্রশ্ন পাঠানো হয়েছিল। তবে তারা কোনো বক্তব্য দেয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেছেন, তখন এসব কাজে ডিজিএফআইয়ের কেউ জড়িত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে তাঁদের জানা নেই। যদি জড়িত থেকেও থাকেন, তাঁরা এখন কেউ দায়িত্বরত নেই।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘সড়কে অটোরিকশার নৈরাজ্য’। খবরে বলা হয়, রাজধানীর সড়কে এখন যা সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে তা হলো, ব্যাটারিচালিত রিকশা। অলিগলি থেকে প্রধান সড়ক-সর্বত্র দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই তিন চাকার বাহন। চালকের লাইসেন্স নেই, ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ নেই, গাড়ির কোনো আইনি নিবন্ধনও নেই। তবুও যেন তারা রাস্তার রাজা! প্রায় ১০ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশার দখলে ঢাকার রাজপথ। স্থানীয় প্রভাবশালী ও ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এসব রিকশার দৌরাত্ম্যে নগরে চরম বিশৃঙ্খলা, দুর্ঘটনা ও তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও এসব রিকশা প্রতিদিন বিদ্যুৎ খাচ্ছে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট।

যার বড় অংশই চুরি করা হচ্ছে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে। তাই সড়কে শৃঙ্খলা আনতে ১৪ মে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, ডিএমপি ও ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান যুগান্তরকে বলেন, ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণে যানজট হয়। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হয়। এটা আমরা দ্রুত সমাধান করতে চাই। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে আমরা ডিএমপি কমিশনার ও ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছি। ট্রাফিক বিভাগ এ নিয়ে কাজও করছে। যানজট নিরসনের বিষয়গুলো নিয়ে ১৪ মে আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করব। আশা করছি, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক যুগান্তরকে বলেন, চালকের অভিজ্ঞতা বা প্রশিক্ষণ ছাড়া যে কোনো এলাকায় রিকশা চালানো ঝুঁকিপূর্ণ। এতে যাত্রী ও পথচারীদের মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে ঢাকা শহরে গত দুই বছরে যেভাবে ব্যাটারিচালিত রিকশা বৃদ্ধি পেয়েছে, এটা আমাদের জন্য হতাশার। এখন এসব রিকশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। কারণ, এই পেশায় যারা জড়িত, তারা কিন্তু আন্দোলনের ভয় দেখাবে। তারা যদি একত্রিত হয়ে আন্দোলনে যায়, সরকারও বিপদে পড়বে। তাই সরকার ও সংশ্লিষ্টদের উচিত হবে দ্রুত তাদের শৃঙ্খলায় নিয়ে আসা।

সরেজমিন দেখা যায়, রাজধানীতে গড়ে উঠেছে প্রায় ১৩ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার গ্যারেজ। এসব গ্যারেজে গড়ে রিকশা রয়েছে ৭০ থেকে ৮০টা। সে হিসাবে নগরে ব্যাটারিচালিত রিকশার পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ। এসব গ্যারেজের আওতায় চার্জিং স্টেশন রয়েছে ৬৫ হাজার ৯৬৪টি। এতে দিনে খরচ হচ্ছে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এর মধ্যে ডিপিডিসিরই বৈধ চার্জিং স্টেশন রয়েছে মাত্র ২ হাজার ১৪৬টি। বাকি চার্জিং স্টেশন সম্পূর্ণ অবৈধ। অনেকে আবাসিক মিটার ও চোরাই লাইন ব্যবহার করে চার্জ দিচ্ছেন রিকশায়। অথচ গ্যারেজ মালিক ও ব্যবসায়ীরা বিদ্যুৎ বিল এবং গ্যারেজ ভাড়া দেখিয়ে দিনে নিচ্ছেন ৭০ থেকে ১৫০ টাকা। রাজধানীতে চলাচল করা অধিকাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশার চালক দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা।

প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতা ছাড়াই তাদের হাতে রিকশা তুলে দিচ্ছেন গ্যারেজ মালিকরা। মূলত এসব রিকশার মালিক স্থানীয় প্রভাবশালী, রাজনৈতিক দলের নেতা এবং বিভিন্ন শ্রেণির ব্যবসায়ী। দিনে ৫০০ টাকার বিনিময়ে দিনমজুর ও নিুবিত্তের মানুষের হাতে রিকশা তুলে দিচ্ছেন তারা। অনেকে আবার অল্প সময়ে অধিক আয়ের আশায় ব্যক্তিগত উদ্যোগেও তৈরি করেছেন ব্যাটারিচালিত রিকশা।

রাজধানীতে প্রতিদিন কী পরিমাণ ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে, এর সঠিক সংখ্যা জানে না সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের কেউই। ব্যাটারিচালিত রিকশা দিনে কী পরিমাণ বিদ্যুৎ গিলছে, তারও পরিসংখ্যান জানেন না ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) শীর্ষ কর্তারা। এই খাতে দিনে কী পরিমাণ বিদ্যুৎ চুরি হচ্ছে, তারও তদারকি করছেন না তারা। যদিও অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ সংযোগ ও চোরাই লাইনে বিদ্যুৎ দিয়ে আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন ডিপিডিসির কিছু কর্মকর্তা। ফলে এসব গ্যারেজে অবৈধ চার্জিং স্টেশন থাকলেও দৃশ্যমান কোনো অভিযান পরিচালনা করা হয় না।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে চেষ্টা করেও সংশ্লিষ্ট কারও মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ডিপিডিসির একাধিক কর্মকর্তাকে ফোনে কল দিলেও তারা এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

রাজধানীর মানিকনগর, মুগদা, মান্ডা ও ধলপুর এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার গ্যারেজ রয়েছে প্রায় ১ হাজার। যাত্রাবাড়ী, কুতুবখালী, ছনটেক, শেখদী, কাজলার পাড়, বিবির বাগিচা, গোয়ালবাড়ী মোড়, মাতুয়াইল, রায়েরবাগ, পলাশপুর, সিটিধারা, শ্যামপুর ও জুরাইন এলাকায় গ্যারেজের সংখ্যা ১২ শতাধিক। অধিকাংশ গ্যারেজে ব্যবহার করা হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ। চকবাজার, কামরাঙ্গীরচর, হাজারীবাগ, লালবাগ ও শহীদনগর এলাকায় রয়েছে ৮ শতাধিক ব্যাটারিচালিত রিকশার গ্যারেজ। এছাড়াও মিরপুরের রূপনগর, দুয়ারিপাড়া, বাউনিয়াবাঁধ, কালশী, বাইশটেকি ও কাফরুল এলাকায় ১ হাজারের বেশি ব্যাটারিচালিত রিকশার গ্যারেজ রয়েছে।

তেজগাঁও শিল্প এলাকার বিএসটিআই মূল সড়কের দুই পাশের ফুটপাতজুড়ে গড়ে উঠেছে কয়েকশ রিকশার গ্যারেজ। এসব গ্যারেজে দিনে বাণিজ্যিক মিটার ব্যবহার করলেও রাতে চোরাই বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন মালিকরা। এর বাইরেও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে শত শত ব্যাটারিচালিত রিকশার গ্যারেজ।

মানিকনগর এলাকার একটি গ্যারেজের মালিক মেহেদি যুগান্তরকে বলেন, সড়কে অন্য যানবাহন যেভাবে চলছে, ব্যাটারিচালিত রিকশাও সেভাবে চলতে দেওয়া উচিত। প্রয়োজনে সরকার আমাদের নীতিমালা করে দিক।

রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা সোহাগ মিয়া যুগান্তরকে বলেন, এই ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো এখন সড়কের আতঙ্ক। চালকদের বয়স বা অভিজ্ঞতার কোনো বালাই নেই। এমনকি ট্রাফিক আইনও তারা বোঝে না। একটু ফাঁকা পেলেই সড়কে বেপরোয়া গতিতে ছুটে। এদের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশের দাবি, অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন তারা। বিশেষ করে প্রধান সড়কে উঠতে বাধা দেওয়া, ডাম্পিং করা, সিট জব্দ করা, কেবল লাইন বিচ্ছিন্ন করাসহ নানাভাবে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে চালকদের।

কালের কণ্ঠ

‘লোকসানে হাবুডুবু ৫৪ কম্পানি’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে এখনো স্থিতিশীলতা ফেরেনি। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ক্রমাগত বাজার চাহিদা হ্রাস, বিনিয়োগ মন্দা, ব্যাংকিং খাতের তীব্র চাপে দেশের করপোরেট খাতে মুনাফা কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এক সময়ের মুনাফাধারী বহুজাতিক কম্পানি থেকে শুরু করে দেশীয় নামি অনেক প্রতিষ্ঠান লোকসানের খাতায় নাম লিখিয়েছে। এই সংকটের ঢেউ লেগেছে দেশের পুঁজিবাজারে, যেখানে বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতায় সূচক এখন খাদের কিনারায়।

বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতায় পুঁজিবাজারের মন্দাভাব কাটছেই না। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। অনেকে পোর্টফোলিও বিক্রি করে লোকসান মেনে নিচ্ছেন। বাজারে তারল্য কমে যাওয়ায় নতুন বিনিয়োগও আসছে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে পুঁজিবাজার থেকে বিনিয়োগ তুলে নিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে বিভিন্ন কম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তালিকাভুক্ত ৫৪টি কম্পানি নতুন করে লোকসানে পড়েছে। ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবনমন হওয়া কম্পানির সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে, যা বাজারের মোট কম্পানির ২৫ শতাংশ। এমনকি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত ব্যাংক খাতও এখন লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।

এক সময়ের ভালো মৌলভিত্তির কম্পানিও একের পর এক ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমে যাচ্ছে। কম্পানিগুলোর প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন ও ও সংশ্লিষ্ট তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি হিসাব বছরে লোকসানের পেছনে বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, ডলার সংকট, ঋণের উচ্চ সুদহার এবং কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি বড় কারণ হয়ে উঠেছে। উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, এসব চাপের কারণে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা ব্যাবসায়িক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। উচ্চ সুদহার, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ-পরবর্তী জ্বালানি সংকট ও গ্যাস সংকটে ৩০ শতাংশের বেশি কমেছে উৎপাদন। উচ্চমূল্যস্ফীতি বাজার চাজিদা কমে যাওয়ায় বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি বর্তমানে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যার সরাসরি এবং নেতিবাচক প্রভাব আমরা পুঁজিবাজারে লক্ষ্য করছি। বেশ কয়েক বছর ধরেই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা প্রতিকূল ফ্যাক্টর, যা শিল্প উৎপাদন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকটে থাকা পুঁজিবাজার মূলত অর্থনীতির আয়না। ফলে সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলো যতক্ষণ পর্যন্ত ইতিবাচক ধারায় না ফিরবে, ততক্ষণ বাজার থেকে ভালো কিছু আশা করা কঠিন।’

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুঁজিবাজারে সবচেয়ে বেশি লভ্যাংশ প্রদানকারী খাত হচ্ছে ব্যাংক ও লিজিং কম্পানি। কিন্তু বর্তমানে এই দুই খাতই সবচেয়ে বেশি সংকটের মধ্যে রয়েছে। এরই মধ্যে ১০টির বেশি ব্যাংক ও চারটি লিজিং কম্পানি গভীর সংকটে পড়েছে এবং ভবিষ্যতেও তারা লভ্যাংশ দিতে পারবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ব্যর্থতা।’

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার প্রতিবেদন ‘দশ বছরে নার্স বেড়েছে শতভাগ দক্ষতা ঘাটতি ৮২ ভাগ’। খবরে বলা হয়, দেশে এক দশকে নার্স বেড়ে দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে নার্সিং কলেজ ও ইনস্টিটিউট। তবে নার্সের সংখ্যা বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি স্বাস্থ্যসেবার মানে। দুর্বল কারিকুলাম, পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণের অভাব ও শিক্ষক সংকটে বিশেষ দক্ষতা ছাড়াই কাজ করছেন ৮২ শতাংশ নার্স। বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পেশাগত অবমূল্যায়নের কারণে নার্সিং খাত এখনও কাঠামোগত সংকটে রয়েছে। এছাড়া নার্সিং গবেষণার পরিধি এখনও সীমিত। গবেষণায় অর্থায়নের অভাব, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ঘাটতি এ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। দক্ষ ও ক্ষমতায়িত নার্স ছাড়া সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা (ইউএইচসি) এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন সম্ভব নয়। এমন বাস্তবতায় আজ মঙ্গলবার বিশ্ব নার্স দিবস পালিত হচ্ছে। এই দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য ‘আমাদের নার্স, আমাদের ভবিষ্যৎ: ক্ষমতায়িত নার্স জীবন বাঁচায়’।

বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের (বিএনএমসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দেশে নিবন্ধিত নার্স ও মিডওয়াইফের সংখ্যা প্রায় ১১০ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে এ সংখ্যা ১ লাখ ১৬ হাজার ৫৮৪। ১০ বছর আগে ছিল ৫৫ হাজার ৫০০ জন। বর্তমানে সরকারি চাকরিতে কর্মরত ৪৭ হাজার ১২৬ জন নার্স। একই সময়ে নার্সিং কলেজ ও ইনস্টিটিউট ৩১৯ থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৫৩টি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি এক হাজার মানুষের বিপরীতে নার্স আছেন মাত্র দশমিক ৬৬ জন, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ডের অনেক নিচে। ডাক্তার-নার্স অনুপাতও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড থেকে পিছিয়ে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও দক্ষতা বাড়েনি জাপানের হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব বায়োমেডিকেল অ্যান্ড হেলথ সায়েন্সের পিএইচডি গবেষক সালমা আখতার বলেন, দেশে নার্সিং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও মানসম্মত শিক্ষার ক্ষেত্রে এখনও বড় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণের সুযোগ নেই। আধুনিক সিমুলেশন ল্যাবের অভাব, দক্ষ শিক্ষকের সংকট এবং গবেষণাভিত্তিক শিক্ষার ঘাটতি নার্সিং শিক্ষাকে পিছিয়ে দিচ্ছে। ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন (সিপিডি) কার্যক্রমও পর্যাপ্ত নয়। এ কারণে নতুন প্রযুক্তি ও আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির সঙ্গে অনেক নার্স তাল মেলাতে পারছেন না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার প্রশিক্ষিত নার্স এবং ৮ হাজার মিডওয়াইফ বেকার রয়েছেন। অথচ অনেক বেসরকারি হাসপাতালে পেশাদার নার্সের পরিবর্তে অপ্রশিক্ষিত ব্যক্তিদের দিয়ে নার্সিং সেবা পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি এ পরিস্থিতিকে জাতীয় বিপর্যয় বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতালে ডিজিটাল ড্যাশবোর্ডে কর্মরত নার্সদের নিবন্ধন নম্বর প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা উচিত। এতে পেশাদার নার্স নিশ্চিত করা সহজ হবে।

তিনি আরও বলেন, থাইল্যান্ডের আদলে বাংলাদেশেও প্রতি তিন বছর অন্তর পরীক্ষার মাধ্যমে লাইসেন্স নবায়ন বা কন্টিনিউয়াস প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট (সিপিডি) ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। এতে নার্সদের দক্ষতা ও সেবার মান বাড়বে।

নার্স দিবস উপলক্ষে গতকাল আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নার্সিং পরিস্থিতি, সংকট, চ্যালেঞ্জ ও করণীয় বিষয়ক প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশে নার্সিং গবেষণার পরিধি এখনও সীমিত। গবেষণায় অর্থায়নের অভাব এবং আন্তর্জাতিক জার্নালে কম প্রকাশনার কারণে প্রমাণভিত্তিক নার্সিং সেবা গড়ে উঠছে না। অন্যদিকে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা, টেলি-নার্সিং ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবার ব্যবহারও সীমিত পর্যায়ে রয়েছে। ফলে স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়নে নার্সদের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। প্রবন্ধে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে নার্সিং পেশাকে এখনও অনেক ক্ষেত্রে অবমূল্যায়ন করা হয়। সমাজের একটি অংশ একে শুধু নারীদের পেশা হিসেবে দেখে। বর্তমানে দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ নার্স নারী হওয়ায় লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা, সহিংসতা ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স ড. মাহবুবা আফরিন বলেন, দেশের গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে নার্স সংকট সবচেয়ে প্রকট। সুযোগ-সুবিধার অভাব এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক নার্স গ্রামে কাজ করতে অনাগ্রহী। এ কারণে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, জনবল সংকটের কারণে একজন নার্সকে অনেক সময় একাধিক রোগীর দায়িত্ব নিতে হয়। অতিরিক্ত কর্মচাপ, দীর্ঘ সময় কাজ করা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পাওয়া এবং সীমিত পেশাগত স্বাধীনতার কারণে নার্সদের মধ্যে মানসিক চাপ বাড়ছে।

বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার হালিমা আক্তার বলেন, নার্সিং খাত উন্নয়নে আধুনিক ও দক্ষতাভিত্তিক কারিকুলাম চালু, ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি, সিমুলেশন ল্যাব স্থাপন এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত নার্স নিয়োগ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা, বেতন-প্রণোদনা বৃদ্ধি, কর্মঘণ্টা নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নে নার্সদের অন্তর্ভুক্ত করাও জরুরি। পাশাপাশি ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা ও টেলিমেডিসিনে নার্সদের প্রশিক্ষণ এবং গবেষণায় অর্থায়ন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। সঠিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিকমানের নার্সিং সেবা গড়ে তোলা সম্ভব।

ইত্তেফাক

‘হামে এত শিশুমৃত্যুর দায় কার?’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বিয়ের ১১ বছর পর কোল জুড়ে আসা আট মাস বয়সি চাঁদপুরের শিশু তাজিম গত ২২ এপ্রিল প্রাণ হারায় হামে। মৃত সন্তান কোলে ফারজানা-হেলাল দম্পতির সেদিনের বুকফাটা কান্নার ছবি দেখে চোখের পানি আটকাতে পারেনি দেশবাসী। হাম আর উপসর্গে প্রাণ হারানো শিশুগুলোর পরিবারের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছিল এবারের মা দিবস। গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত ৫৮ দিনে এভাবেই ঝরে গেছে ৪১৫ শিশুর প্রাণ। হাসপাতালে লড়াই করতে হয়েছে ৩৫ হাজার ৯৮০ শিশুকে।

দেশব্যাপী হামের এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়, অনেকটাই মহামারি পর্যায়ে চলে গেছে। সরকারের জরুরি টিকাদান কর্মসূচি ও পদক্ষেপের মধ্যেই আরো কত শিশু প্রাণ হারাবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। প্রশ্ন উঠছে এত শিশুর মৃত্যুর জন্য দায়ী কে, কারা? এসব বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে উঠে এসেছে ভীতিকর তথ্য। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকা কেনার পুরো ব্যবস্থা বদলে ফেলা, ভিটামিন এ, বুকের দুধ ও কৃমিনাশকের ঘাটতি, সর্বোপরি ইউনিসেফের দফায় দফায় সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার কারণেই হামের সংক্রমণ মৃত্যুর মিছিলে পরিণত হয়েছে। যে ভুলের মাশুল দিতে হচ্ছে কচি প্রাণগুলোকে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান মনে করছেন টিকার সংকটের কারণে হাম পরিস্থিতির চরম অবনতির জন্য দায়ী মূলত অন্তর্বর্তী সরকার। তিনি ইত্তেফাককে বলেন, ‘প্রয়োজন ছাড়াই উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা কেনার সিদ্ধান্তের ফলে হামের বর্তমান পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এর জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের নিজ উদ্যোগেই শ্বেতপত্র প্রকাশ করা উচিত।’

তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে মিয়ানমার সীমান্তের কাছে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে প্রথম হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। কেউ সেদিকে গুরুত্ব না দেওয়ায় মার্চের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। বর্তমানে ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতেই ছড়িয়ে পড়েছে হাম। প্রতিদিনই হাম ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে অসংখ্য শিশু। প্রাণ হারাচ্ছে অনেকে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার গত ৬ মে হাম-রুবেলা, ওরাল পোলিওসহ ১০ ধরনের টিকার চালান এনেছে দেশে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, ১৫ লাখ ডোজ হামের টিকা দেশে এসেছে। আরো ১০ ধরনের ১ কোটি ৮ লাখ ডোজ টিকা আনার তথ্য জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে টিকার আর সংকট হবে না।

তবে মাঠের চিত্র ভিন্ন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে টিকে নিয়ে সচেতনতা কমেছে। রাজধানীর অনেক বস্তিতে শিশুদের টিকা দিতে অভিভাবকদের অনাগ্রহী দেখা গেছে। টিকা দিলে শিশু মারা যায় বলে গুজবও ছড়ানো হয়েছে। যে কারণে সরকারের টিকাদান কর্মসূচি খানিকটা ব্যাহত হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকা নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা বা জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি ছিল না। ব্র্যাকের মতো বেসরকারি সংস্থা কিছু কাজ করলেও তা থেকেছে সীমিত পরিসরে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর টিকা সংগ্রহের পুরোনো পদ্ধতি বাতিল করে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি চালু করেছিল। সে সময় ইউনিসেফের কর্মকর্তারা একাধিকবার সরকারের উচ্চপর্যায়ে সতর্ক করে জানিয়েছিলেন, নতুন সিদ্ধান্ত ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে। টিকা সংগ্রহে ১২ মাস বিলম্ব ঘটবে। ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকেও বারবার সতর্ক করেছিলেন। তবে কেউ শোনেননি তার কথা।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গেল মার্চ মাসে কেন্দ্রীয় গুদামে হাম-রুবেলাসহ ১০টি রোগের টিকার মজুত শূন্যে নামে। যে মাসে সারা দেশে ৪১ শিশু প্রাণ হারায়। এক সাক্ষাত্কারে ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উচ্চপর্যায়ে প্রতি দফায় বৈঠকের পরপরই চিঠির মাধ্যমে টিকার সম্ভাব্য ঘাটতি, রোগের প্রাদুর্ভাব, মৃত্যুহারের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। তবে কেউই সেসব সতর্কবার্তা আমলে নেয়নি। এমনকি জাতীয় টিকাদান পরামর্শক কমিটিও আজ থেকে দেড় বছর আগে হাম নিয়ে সতর্ক করেছিল। তবে সে সতর্কবার্তাও উপেক্ষিত হয়েছে।

অবশ্য, দেশের বৃহত্তম বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক জরুরি ভিত্তিতে ১৫ লাখ ডোজ হামের টিকার ক্যাম্পেইন চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্র্যাক স্বাস্থ্য কর্মসূচির অধীনে লিড, রুরাল প্রাইমারি হেলথকেয়ার হিসেবে কর্মরত মেহেদী হাসান। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্র্যাকের এক কর্মকর্তার ভাষ্য, জাতীয় টিকাদান ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে একটি বেসরকারি সংস্থার পক্ষে এত বড় সংকট মোকাবিলা করা অসম্ভব।’ বিশ্লেষকদের মতে, ব্র্যাকের টিকাদান প্রশংসনীয় হলেও ২ কোটি শিশুর তুলনায় এটি নগণ্য।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা-সংকটের সঙ্গে আরো বহুমুখী সংকটের কারণেও হাম ও উপসর্গে শিশুমৃত্যু বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের ২৭টি জেলায় স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ দেওয়া হলেও বাকি ৩৭ জেলায় মাঠপর্যায়ে ৪৫ শতাংশ কর্মীও নেই। এর ওপর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে স্বাস্থ্য সহকারীরা অন্তত তিন দফায় কর্মবিরতিতে গিয়েছিলেন। তাতে সারা দেশে টিকা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তাছাড়া নয় মাস ধরে বেতন বঞ্চিত ছিলেন টিকা বহনের কাজ করা ১ হাজার ৩২৬ পোর্টার। সে সময় ইপিআইয়ের পরিচালকের পদ শূন্য থাকায় সংকট ঘনীভূত হয়েছিল।

অন্যদিকে, টিকার ঘাটতির সুযোগে হামে শিশু মৃত্যুর মিছিলকে দীর্ঘায়িত করেছে পুষ্টিহীনতা। সর্বশেষ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপ (২০২২) অনুযায়ী, ছয় মাস পর্যন্ত শুধু মায়ের দুধ খায় এমন শিশুর হার চার বছর আগে ছিল ৬৫ শতাংশ। বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৫৩ শতাংশে। ইউনিসেফের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপক রিয়াদ মাহমুদ জানান, গেল ২০২৫ সালে সেই হার আরো কমে ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বলা যায়, প্রতি দুই শিশুর একজন প্রয়োজনীয় মায়ের দুধ পাচ্ছে না।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুশতাক হোসেনের মতে, শিশুদের ওপর একের পর এক অন্যায় করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন নেই, মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর পক্ষে প্রচারণা নেই, কৃমিনাশক ঠিকমতো খাওয়ানো হয়নি। এসব কারণে শিশুদের অপুষ্টি বেড়েছে। পুষ্টিহীন শিশুরা টিকা না পেয়ে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে বিপজ্জনক অবস্থা চলে গেছে। যার পরিণতি হামের প্রাদুর্ভাব, মৃত্যুর মিছিল।’

আবার সারা দেশে হাসপাতালে ভর্তি হতে আসা শিশুদেরও সর্বোচ্চ চিকিত্সাসেবাও দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না আইসিইউ ও ভেন্টিলেটরের ঘাটতির কারণে। তবে চিকিত্সরা বলছেন, ‘হাসপাতালে শিশুদের আনা হচ্ছে অনেক জটিলতা হওয়ার পর। লাইফ সাপোর্ট দিয়েও বাঁচানো যাচ্ছে না।’

সরকারের দ্রুত ‘জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করা জরুরি বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি বলেন, মৌখিক নির্দেশ নয়, এই মুহূর্তে করণীয় হলো যতগুলো শিশুর আইসিইউতে যাওয়া দরকার সবাইকে আইসিইউতে দিতে হবে, কোনো কথা নাই। প্রয়োজনে প্রাইভেট হাসপাতালগুলোর আইসিইউ অধিগ্রহণ করতে হবে। একটা শিশুও যাতে আইসিইউর অভাবে মারা না যায়। প্রয়োজনে স্বাস্থ্যের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হোক। তাহলে আর্মি, বিডিআর, পুলিশ, প্রাইভেট খাত সবাই এগিয়ে আসবে। বিদেশিরাও এগিয়ে আসবে। এছাড়া ম্যানেজমেন্ট পরিবর্তন করতে হবে। আগে যা ছিল সেভাবে চললে আরো মৃত্যু দেখে যেতে হবে।

এ বিষয়ে ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, ‘শুধু ক্যাম্পেইননির্ভর না হয়ে রুটিন টিকাদান কর্মসূচি আরো শক্তিশালী করতে হবে।’ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, ‘ইতিমধ্যে ছয় মাস বয়স থেকেই হামের টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে টিকার আওতায় আনার কাজ চলছে।’

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘পররাষ্ট্র সম্পর্কে নতুন মোড়’। খবরে বলা হয়, দীর্ঘ কয়েক দশকের শীতল সম্পর্কের পর ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে ১০ বছর মেয়াদি গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে প্রস্তাবিত চুক্তির খবর দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত সমীকরণে বড় ধরনের কম্পন সৃষ্টি করেছে।

১. গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও কৌশলগত শিফট: ডিফেন্স রিসার্চ ফোরামের (ডিআরএফ) তথ্য মতে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ১০ বছরের জন্য গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

ভারতের উদ্বেগ: নয়াদিল্লি এই চুক্তিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। ভারতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এটি দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের দীর্ঘদিনের কৌশলগত প্রাধান্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

পরিবর্তিত সমীকরণ: কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের নিরাপত্তা নীতি ভারতের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল। পাকিস্তানের সাথে এই নতুন সমঝোতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ঢাকা এখন তার বৈদেশিক ও নিরাপত্তা নীতিতে ‘মাল্টি-অ্যালাইনমেন্ট’ বা বহুমুখী ভারসাম্যের পথে হাঁটছে।

২. সন্ত্রাসবাদ দমন ও আইনি সহযোগিতা

গত ৮ মে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পাকিস্তান একটি খসড়া চুক্তি প্রস্তাব করেছে, যা বর্তমানে ঢাকা পর্যালোচনা করছে। এই প্রস্তাবের মূল বিষয়গুলো হলো :

সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা: আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে যৌথ উদ্যোগ।

নথিপত্র জালিয়াতি রোধ: পাসপোর্ট বা অন্যান্য সরকারি নথি জালিয়াতি বন্ধে প্রযুক্তিগত ও তথ্যগত সহযোগিতা।

আইনি পর্যালোচনা: প্রস্তাবিত চুক্তিটি বর্তমানে আইনি যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।

৩. ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের সতর্কতা

ভারতীয় বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি কেবল দ্বিপক্ষীয় নয়, বরং এটি একটি ‘বড় ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন’।

আঞ্চলিক প্রভাব: পাকিস্তান-বাংলাদেশ এই ঘনিষ্ঠতা বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে ভারতের যে একচ্ছত্র প্রভাব ছিল, তাতে ফাটল ধরাতে পারে।

প্রতিরক্ষা সমীকরণ: গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের অর্থ হলো- আঞ্চলিক নিরাপত্তা অবকাঠামোতে এখন থেকে পাকিস্তানের একটি পরোক্ষ ভূমিকা তৈরি হবে, যা দিল্লির জন্য অস্বস্তিকর।

ভারতীয় থিংক-ট্যাংক ও বিশ্লেষকদের প্রতিক্রিয়া

ভারতের শীর্ষস্থানীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং আইডিএসএ (মনোহর পারিকর ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস) ও ওআরএফ (অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন)-এর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো এই পরিবর্তনকে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ হিসেবে চিহ্নিত করছে :

ভারতীয় বিশ্লেষকদের প্রধান উদ্বেগ হলো, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই যদি বাংলাদেশের নিরাপত্তা অবকাঠামোতে সরাসরি প্রবেশাধিকার পায়, তবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় (সেভেন সিস্টার্স) রাজ্যগুলোর নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। উলফা বা অন্যান্য বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো আবার মাথাচারা দিয়ে উঠতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গত ১৫ বছর ধরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের যে ‘সোনালী অধ্যায়’ ছিল, তা মূলত নিরাপত্তা সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে টিকে ছিল। এখন ঢাকা যদি ইসলামাবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ে, তবে দিল্লির ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ নীতি বড় ধরনের ধাক্কা খাবে।

বণিক বার্তা

‘অর্থনীতি স্থিতিশীল হতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সরকার একটি ‘ফায়ার ফাইটিং’ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে এর মধ্যেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আইসিটি খাতের আধুনিকায়ন এবং রফতানি বাণিজ্যে বৈচিত্র্য আনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের কাজও সমানতালে এগিয়ে চলেছে।

বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নাগরিক সেবা ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে দুর্নীতি কমিয়ে আনা এ মুহূর্তে সরকারের অগ্রাধিকার। সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতিকে একটি মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে এবং স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে। গতকাল বণিক বার্তা আয়োজিত ‘সোনার বাংলা নীতি আলোচনা ২০২৬’-এ এসব কথা বলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বাংলা অঞ্চলের সমৃদ্ধির উত্তরাধিকার হিসেবে ফিরে দেখা ইতিহাসের আয়নায় ভবিষ্যতে চলার পথরেখা খোঁজার চেষ্টায় এ বছর থেকে বণিক বার্তা শুরু করেছে ‘সোনার বাংলা নীতি আলোচনা’ বা পলিসি কনক্লেভ। এর প্রথম আয়োজনটি গতকাল ঢাকার শেরাটন হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। এবারের নীতি আলোচনার শিরোনাম ছিল ‘বৈশ্বিক অস্থিরতায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের পথরেখা’। এতে মূল আলোচক ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান এমপিসহ দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ, গবেষক, লেখক, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী, শীর্ষ নির্বাহীসহ বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমি যদি বলি কাল সকালেই অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে, তবে তা সত্য হবে না। প্রথম বছরটি আমাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে এবং এ সময়টি মূলত “‍ফায়ার ফাইটিং”-এর বছর। এরই মধ্যে আমরা স্পট মার্কেট থেকে তেল ও গ্যাস আমদানির জন্য প্রায় ৪-৫ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত খরচ করেছি, যার ফলে আমাদের ফিসকল স্পেস বা খরচ করার সক্ষমতা কমে গেছে। তবে আমরা সামাজিক সুরক্ষা খাত যেমন—ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষকদের সার-বীজের ভর্তুকিতে অগ্রাধিকার দিচ্ছি যাতে গ্রামীণ অর্থনীতি সচল থাকে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের কর্মীরা বিদেশে নিম্নমানের কাজ করায় রেমিট্যান্স কম আসছে। দক্ষ কর্মী পাঠাতে পারলে অর্ধেক জনবল দিয়েই বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ রেমিট্যান্স অর্জন সম্ভব। সরকারের লক্ষ্য পাঁচ বছরের মধ্যে রেমিট্যান্স আয় ৪০-৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা। এ উদ্দেশ্যে এখন থেকে প্রতিটি কারিগরি শিক্ষা ও ভোকেশনাল প্রজেক্টে আন্তর্জাতিক মানের “‍অ্যাক্রেডিটেশন ও সার্টিফিকেশন” বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।’

বর্তমান সরকার প্রাথমিক অবকাঠামো উন্নয়ন ও রফতানি খাতকে বৈচিত্র্যময় করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের একটু সময় দিতে হবে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, গ্যাস সরবরাহ ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট—তিনটি হলো প্রাথমিক বা প্রাইমারি ইনফ্রাস্ট্রাকচার। বিগত দিনে এ তিন জায়গায় অগ্রাধিকার না দিয়ে অন্য জায়গায় বিনিয়োগ করা হয়েছে, যা ছিল বড় ভুল। যদি আগে শুধু এ তিন খাতে বিনিয়োগ করা হতো, তবে আজ সরকারকে আর কিছু করতে হতো না; ব্যবসায়ীরাই অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতেন। অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে আমাদের অন্তত দুই বছর সময় লাগবে।’

ভিয়েতনামের উদাহরণ টেনে রফতানি খাতের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘ভিয়েতনাম ইলেকট্রনিকস খাতে ১ বিলিয়ন ডলার দিয়ে শুরু করে আজ ১৬০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বাংলাদেশের ইলেকট্রনিকস ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতেও একই সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, গার্মেন্ট সেক্টর বর্তমানে যেসব সুবিধা ভোগ করছে, যেকোনো রফতানিমুখী শিল্পকেও ঠিক একই সুবিধা দেয়া হবে। রফতানিকারকরা শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আনবেন এবং পণ্য রফতানি করবেন; আমরা তাদের এ শুল্ক-সংক্রান্ত জটিলতা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করতে চাই।’

বণিক বার্তা সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে সূচনা বক্তব্য রাখেন ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এহতেশামুল হক খান। তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের করভিত্তি সবচেয়ে কম, যা মাত্র ১০-১৫ শতাংশ। এছাড়া বাজেট বাস্তবায়নের হার ক্রমান্বয়ে কমে যাওয়া এবং কর-জিডিপি অনুপাতের ভারসাম্যহীনতা অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

তার আরো বলেন, ‘রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা এবং প্রকৃত সংগ্রহের মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে, তা দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।’ একই সঙ্গে শিল্প ও ব্যবসাবান্ধব নীতিসহায়তার মাধ্যমে দেশের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক পথরেখা নির্ধারণেরও আহ্বান জানান তিনি।

দেশ রূপান্তর

‘সিআইডির মামলায় সাজা বেশি, কিন্তু কেন’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, অর্থ পাচার, মানব পাচার, ফরেনসিক ল্যাব ও ডিএনএ টেস্টসহ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো তদন্ত করে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এখন পর্যন্ত সিআইডির দেওয়া চার্জশিটভুক্ত আসামিদের নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে খালাস পাওয়ার সংখ্যা খুবই কম। অর্থ পাচার ও মানব পাচার মামলার তদন্তে সিআইডির সাফল্য বেশি। গত দুয়েক বছরের মধ্যে সিআইডির আলোচিত প্রশ্নফাঁস, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির অর্থ ফেরত ও ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্ধারসহ গুরুত্বপূর্ণ সব মামলায় তদন্ত সংস্থাটি বরাবরই আলোচনায় ছিল।

চলতি পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ এ পুলিশের তিনটি বিশেষ ইউনিট নিজেদের কার্যক্রম ও পরিকল্পনা তুলে ধরবে। তার মধ্যে রয়েছে স্পেশাল ব্যাঞ্চ (এসবি), সিআইডি ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সেখানে মানব পাচারের ওপর একটি বিশেষ স্লাইড প্রদর্শন করবে সিআইডি। সেখানে মানব পাচারের সম্ভব্য রুট ও গন্তব্য সম্পর্কে তুলে ধরা হবে।

অর্থ পাচার মামলার এক তদন্ত কর্মকর্তা প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, পুলিশে একমাত্র সিআইডি অর্থ পাচার মামলা তদন্ত করে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এসব মামলা করার আগে তার সম্পর্কে প্রাথমিক অনুসন্ধান করা হয়। ফলে মামলা থেকে আসামিরা তেমন একটা খালাস পায় না। প্রতিটি মামলায় হয় তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে, কারও মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে নয়। এটাই মামলাকে শক্তিশালী করে। মামলা রেকর্ড হওয়ার পর তদন্তে কোনো ত্রুটি রাখার সুযোগ থাকে না।

ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডি ও পিবিআইকে বিশেষ তদন্ত সংস্থা বলা হয়। তাদের জটিল ও আলামতবিহীন মামলা তদন্তের অভিজ্ঞতা অনেক বেশি। তারা দীর্ঘ সময় নিয়ে মামলা বিশ্লেষণসহ গভীরভাবে অনুসন্ধান করে। এসব কারণেই তারা যখন কোনো মামলায় কাউকে অভিযুক্ত হিসেবে দেখায়, সেখানে যুক্তি থাকে। কোর্টও বিষয়টি আমলে নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে। সামগ্রিকভাবে এ দুই ইউনিটের মামলায় সাজার হারও বেশি হয়ে থাকে।

সিআইডির তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে নতুন করে জিআর মামলা হয় ১৭২৩টি, নিষ্পত্তি হয় ২৪১২টি, তদন্তধীন ছিল ৩৫৭৮টি। আর ২০২৫ সালে মামলা ছিল ২০৩০টি। গত বছরের তুলনায় ৩০৭টি মামলা বেড়েছে। ওই বছরে ২০৯৩টি মামলা নিষ্পত্তি হয়। এ ছাড়া তদন্তাধীন ছিল ৩৫১৫টি। এদিকে সিআর মামলা ২০২৪ সালে নতুন করে হয় ১০ হাজার ২৬৩টি, নিষ্পত্তি হয় ১১ হাজার ৯৯১টি, তদন্তাধীন ৮২৫৫টি। আর ২০২৫ সালে ১২ হাজার ৬১৫টি মামলা ছিল। গত বছরের তুলনায় ২৩৫২টি মামলা বেড়েছে (২৩%)। ওই বছরে ১২ হাজার ৯৬৩টি মামলা নিষ্পত্তি হয়। এ ছাড়া তদন্তাধীন আছে ৭৯১১টি। এসব মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের প্রায় ৭০ শতাংশ সাজা পেয়েছে। এর মধ্যে অর্থ পাচার ও মানব পাচার মামলায় সাজার হার বেশি।

র্তমানে সিআইডিতে মুলতবি মামলার সংখ্যা ৬০৮টি। এর মধ্যে ৩-৪ বছর মুলতবি রয়েছে ৩৫১টি, ৪-৫ বছর মুলতবি ১৭৯টি এবং পাঁচ বছরের ওপরে মুলতবি রয়েছে ৭৮টি মামলা। এর মধ্যে অধিকাংশ জিআর মামলা। এসব মামলা নিষ্পত্তির জন্য নতুন করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিআইডি। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলা দেশের ইতিহাসে আর্থিক অপরাধ প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।

সংস্থাটির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের তথ্য বলছে, সালমান এফ রহমান, এস আলম, শেরাটন ঢাকা হোটেলের অর্থ পাচার, ইউনিক গ্রুপ, বোরাক রিয়েল এস্টেট ছাড়াও অনেক মাদক কারবারি ও শতাধিক রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান এবং ১৪টি রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে পাচার আইনে মামলা করা হয়। তাদের মধ্যে ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল, স্নিগ্ধা ওভারসিজ, আহমেদ ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন এজেন্সির নাম রয়েছে। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে প্রবাসীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে তা বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। তাদের অনেকের সম্পদ জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

দৈনিক বাংলাদেশের প্রতিদিনের প্রথম পাতার খবর ‘এক-এগারোর ষড়যন্ত্রকারীদের কি মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচার হবে?’। প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, এক-এগারোর সরকারের সময় যেসব অমানবিক ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনা ঘটেছে, এগুলোর নেপথ্যে মূল মহানায়ক ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। গত রবিবার ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর এ কথা বলেন। গত বৃহস্পতিবার মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই গণ অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখান ট্রাইব্যুনাল-২। একই দিন মাসুদ উদ্দিনকে এক দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু চিফ প্রসিকিউটর স্পষ্ট করে বলেছেন, তাকে এক-এগারোর মানবতাবিরোধী এবং অমানবিক অপরাধের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দৃশ্যত এটি পরিষ্কার হলো যে, এক-এগারোর ষড়যন্ত্র, সেই শাসনকালে সংঘটিত জুলুম, নির্যাতন, গুম হত্যাকাণ্ড, চাঁদাবাজির ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের আওতাভুক্ত হওয়ার প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ৩(১) ক ধারায় মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তা হলো-মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ : যথা, হত্যা, নিশ্চিহ্ন করণ, দাসকরণ, নির্বাসিত করা, কারারুদ্ধ করণ, অপহরণ, অবরোধ, নির্যাতন, ধর্ষণ অথবা বেসামরিক নাগরিকদের ওপর অন্যান্য অমানবিক কাজ পরিচালনা করা অথবা সংগঠিত হওয়ার স্থানের অভ্যন্তরীণ আইন ভঙ্গ করে বা না করে রাজনৈতিক, গোত্রগত, জাতিগত অথবা ধর্মীয় কারণে অভিশংসন করা।’

এই ধারা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এক-এগারোর সময় সংগঠিত অনেক অবৈধ কর্মকাণ্ড এ ধারার আওতায় পড়েছে। অর্থাৎ ২০০৭ সালের এগারো জানুয়ারি ফখরুদ্দীন আহমদ এবং মইন উ আহমেদের সরকার যা করেছে তার বেশির ভাগই এই ধারায় মানবতাবিরোধী অপরাধ। যেমন, এক-এগারো সরকারের আমলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পরই অস্ত্র উদ্ধারের নামে বিভিন্ন জায়গায় ক্রস ফায়ারে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের হিসাব অনুযায়ী এক-এগারোর সময় ৬৭ জনকে বিচারবহির্ভূত ভাবে হত্যা করা হয়েছিল। বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম এবং আয়নাঘরের সূচনা এক-এগারোর সময় থেকেই।

এক-এগারোর সময় নিরীহ মানুষকে নির্যাতন, বিনাবিচারে কারা অন্তরিন, নির্বাসিত জীবনে বাধ্য করার ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং বেগম জিয়ার জেষ্ঠ্য পুত্র বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বেগম জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকো, আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাসহ সহস্রাধিক রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে বিনাবিচারে আটক করা হয়েছিল। বিশেষ করে মাসুদ উদ্দিনের প্রত্যক্ষ নির্দেশে তারেক রহমানের ওপর চালানো হয় বর্বর নির্যাতন। এসবই মানবতাবিরোধী অপরাধ। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, এক-এগারোর যে সরকারটি ছিল, সেখানে মাসুদ উদ্দিন বা আরও কয়েকজনকে ‘ডিফ্যাক্টো গভর্মেন্ট’ (কার্যত সরকার) বলা হতো। পুরো সরকারটাই তাঁরা চালাতেন। সে কারণে তারা (ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশন) জিজ্ঞাসাবাদ করে যে তথ্য পেয়েছে, আরও হয়তো তথ্য পাওয়া যাবে। যে কথাগুলো তিনি তাঁদের বলেছেন, সেগুলো তাঁরা যাচাইবাছাই করছেন। যদি প্রয়োজন হয় তাঁকে আবার তাঁরা জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।

সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে এ সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ১/১১-এর সময় ২০০৭ সালের ৭ মার্চ তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয় ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে। তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের নির্দেশে কর্নেল (অব.) ইমরান মইনুল রোডের বাসভবন থেকে তাঁকে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ ছাড়াই গ্রেপ্তার করে ডিজিএফআই-এর জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে নিয়ে যাওয়া হয়। জেনারেল মইন ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ টি এম আমিনের উপস্থিতিতে আর্মি হেড কোয়ার্টারে তারেক রহমানকে গ্রেপ্তারের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই গ্রেপ্তারের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন এবং সুশীল সমাজের কয়েকজন প্রতিনিধি।

মেজর ইমরানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একজন রানার ও একজন ড্রাইভার নিয়ে তিনি মইনুল হোসেন রোডস্থ খালেদা জিয়ার বাসভবনে উপস্থিত হন। এ সময় বাসভবনের চারপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া উপস্থিতি ছিল। মেজর ইমরান বাসভবনের মেইন গেট দিয়ে প্রবেশ করে বাড়ির ভিতরে নিজ গাড়িতেই অবস্থান নেন।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন