বগুড়ার গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক উর্বর ভূমির নাম বগুড়ার রাজনীতি। আর সেই উর্বরভূমির তৃণমূল থেকে উঠে আসা এক লড়াকু বিপ্লবী সৈনিকের নাম মীর শাহে আলম এমপি। তিনি এমন একজন নেতা যিনি ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে রাজপথের প্রতিটি ধূলিকণায় নিজের ঘাম ও শ্রম মিশিয়ে আজ এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র বগুড়া জেলা শাখার সহ-সভাপতি এবং শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত এই তরুণ নেতা শিবগঞ্জের সাধারণ মানুষের কাছেও আস্থার নাম। জেল, জুলুম আর প্রতিকূলতার পাহাড় সমান বাধা সত্ত্বেও তিনি কখনো আদর্শচ্যুত হননি বরং জাতীয়তাবাদী আদর্শের পতাকাকে অটুট সাহস আর বিশ্বাসে উঁচিয়ে ধরে রেখেছেন। বিশেষ করে বিগত বছরগুলোতে যখন রাজনীতির মাঠ ছিল কণ্টকাকীর্ণ, তখন তিনি তৃণমূলের কর্মীদের আগলে রেখেছেন বড় ভাইয়ের মতো। নিজের ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে তিনি দিনরাত এক করে দিয়েছেন দলের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করতে। প্রতিটি মিছিলে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়া এবং কর্মীদের বিপদে ঢাল হয়ে দাঁড়ানোই তাকে আজ সাধারণ মানুষের মণিকোঠায় ঠাঁই করে দিয়েছে।
রাজনীতির দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় মীর শাহে আলম প্রমাণ করেছেন যে, জনগণের ভালোবাসা আর রাজপথের লড়াই কখনো বৃথা যায় না। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৭ বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে তিনি ধানের শীষের কাণ্ডারী হয়ে লড়াই করেন এবং বিপুল ভোটে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার এই বিজয় ছিল শিবগঞ্জের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান এবং এক নতুন আশার সূচনা। তৃণমূলের এই নেতার কর্মনিষ্ঠা ও যোগ্যতার প্রতি সম্মান জানিয়ে বর্তমান মন্ত্রিসভায় তাকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করানো হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তিনি শিবগঞ্জের উন্নয়নকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। শিবগঞ্জের ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়সহ পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং স্থানীয় ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার পরিকল্পনাও তার আধুনিক রূপরেখার অংশ। তিনি বিশ্বাস করেন, শিবগঞ্জকে একটি আধুনিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে হলে কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়ন ও অবকাঠামোগত পরিবর্তন অপরিহার্য। সেই লক্ষ্যে তিনি উন্নত সেচ ব্যবস্থা এবং কৃষিপণ্য সরাসরি বাজারজাতকরণের জন্য হিমাগার ও আধুনিক কৃষি সরঞ্জাম সরবরাহের ওপর জোর দিয়েছেন।
শিক্ষার প্রসারে মীর শাহে আলমের ভূমিকা অপরিসীম। তিনি এলাকার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ তৈরির জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তার এই আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত রূপরেখা কেবল কাগুজে পরিকল্পনা নয়, বরং বাস্তবসম্মত এক স্বপ্ন যা তিনি শিবগঞ্জের তরুণদের চোখে বুনে দিয়েছেন। এছাড়া শিবগঞ্জের বিশাল তরুণ সমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে তিনি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছেন। শিবগঞ্জের আপামর জনতার দুখে-সুখে পাশে থাকা এই জননেতা উত্তরবঙ্গের রাজনীতির এক নতুন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছেন। যার ত্যাগ, সততা ও আদর্শিক অটলতা আগামীর প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে। মীর শাহে আলমের সুযোগ্য নেতৃত্বে শিবগঞ্জ হয়ে উঠবে একটি শোষণমুক্ত, আধুনিক ও উন্নত জনপদ এটাই এখন পুরো শিবগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা।
প্রথমবার এমপি হয়েই প্রতিমন্ত্রী হলেন মীর শাহে আলম
প্রতীক ওমর, বগুড়া থেকে
১৮ ফেব্রুয়ারি (বুধবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
