আলীকদমে মেয়াদ শেষ হলেও শেষ হয়নি সড়কের কাজ

আলীকদমে মেয়াদ শেষ হলেও শেষ হয়নি সড়কের কাজ

ফন্ট সাইজ:

বান্দরবানের আলীকদমে কোটি টাকার প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও এখনো কার্পেটিং সড়কের কাজ শেষ হয়নি। শুধু তাই নয় জেলার আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য ও ঠিকাদার রাজু বড়ুয়া ব্যাংকের ঋণখেলাপি রেখে কাজের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য কোনো আবেদন করেনি বলে জানিয়েছে সংশিষ্টরা।

অভিযোগ আছে, ঠিকাদারের সঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলীর সুসম্পর্ক থাকায় কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও প্রকল্পের অগ্রগতি করতে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম। উপ-ঠিকাদারদের অভিযোগ, রাজু বড়ুয়া শুরুতেই সড়কের কাজ করে রানিং বিল তুলে ফেলেন। এরপর উপ-ঠিকাদারদের প্রকল্পটি বিক্রি করে দেন। জানা গেছে, থানচি সড়ক থেকে উত্তর পালংপাড়া প্রায় সোয়া ১ কিলো কার্পেটিং সড়কের কাজ পেয়েছিলেন ঠিকাদার রাজু বড়ুয়া। যে প্রকল্পটির নাম ছিল আম্পান ঘূর্ণিঝড় ও পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন শীর্ষক প্রকল্পের। শুরুতে কাজ করলেও রানিং বিল উত্তোলন করে একই প্রকল্পটি উপ-ঠিকাদারদের বিক্রি করে দেন। অথচ নিজেই রানিং বিল উত্তোলন করে ব্যাংকের ঋণখেলাপি রেখে সড়কের নির্মাণকাজ শেষ করেননি তিনি। যার কারণে ঋণখেলাপি ও কাজের মেয়াদ শেষ হলেও কাজের কোনো অগ্রগতি হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরুতেই এই সড়কে কাজ করলেও পরে আর কাজ করেনি। গত বছরের মধ্যবর্তী সময়ে আবার সড়কের কাজ শুরু হলেও আবারো তা বন্ধ হয়ে যায়। যার কারণে সড়কের কোথাও ভাঙন, কোথাও খানাখন্দ- এভাবে পড়ে আছে। চলাচল থেকে শুরু করে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এলাকার বাসিন্দাদের। এলজিইডি’র তথ্যমতে, ২০২৩-২৪ অর্থ সালে থানচি সড়ক থেকে উত্তর পালংপাড়া পর্যন্ত ১ কিলো ২৭৫ মিটারে কার্পেটিং সড়কের কাজ বরাদ্দ। যে প্রকল্পটির নাম ছিল আম্পান ঘূর্ণিঝড় ও পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন শীর্ষক। যার বরাদ্দ ১ কোটি ৭১ লাখ টাকা। প্রকল্পটি পেয়েছেন মেসার্স রাজু বড়ুয়া কনস্ট্রাকশন স্বত্বাধিকারী ঠিকাদার রাজু বড়ুয়া। কিন্তু এই প্রকল্পের কাজের ধীরগতি আর ব্যাংকের ঋণখেলাপির কারণে থমকে যায় সড়কের কাজ। সরজমিন দেখা গেছে, থানচি সড়ক অর্থাৎ পান বাজার মুখ থেকে উত্তর পালংপাড়া পর্যন্ত গ্রাম রয়েছে চারটি। কাজের অগ্রগতি মাত্র ৪০ শতাংশ। সড়ক জুড়ে কোথাও খানাখন্দে ভরা আবার কোথাও ভেঙে গেছে। ধুলোবালিতে অতিষ্ঠ সড়কের পাশে থাকা ঘরগুলো। কিছুটা সড়কের কাজ করলেও বর্তমানের সড়কের চিত্রে পুরোপুরি নাজেহাল। মুকবুল হোসেন পাড়া বাসিন্দা রেহানা ও শারমিন আক্তার বলেন, শুরুতেই রাস্তার কাজ করেছিল আবার বন্ধ হয়ে যায়। উপ-ঠিকাদার রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের বিল না পাওয়ার কারণে কাজ বন্ধ করতে হয়েছে। আর মূল ঠিকাদারের ঋণখেলাপি থাকায় টাকার লেনদেনে নানা সমস্যা হয়েছে। এখন নিজেদের টাকা দিয়ে কাজ শুরু করবো বলে সামগ্রী মজুত করছি। মেসার্স রাজু বড়ুয়া কনস্ট্রাকশন স্বত্বাধিকারী ঠিকাদার রাজু বড়ুয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে মঙ্গলবার সকালে বান্দরবান এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান বলেছেন, ঠিকাদারের ব্যক্তিগত কোনো সমস্যা হলে আমাদের কিছু করার থাকে না। মেয়াদের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে লাইসেন্স ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন। এই সড়কের মেয়াদ শেষ হয়েছে ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ইং। কিন্তু কাজের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য কোনো আবেদনও করেনি ঠিকাদার।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন