বন্ড সুবিধায় টাইলস আমদানি করে শুল্ক ফাঁকি, ১০ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ফন্ট সাইজ:

বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের মাধ্যমে টাইলস আমদানি করে রপ্তানি প্রদর্শন না করে জাল কাগজপত্র তৈরি করে প্রায় ৩৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকার শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার দুদকের সহকারী পরিচালক ধীরাজ চন্দ্র বর্মণ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, সহযোগী ব্যক্তি এবং একটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকসহ মোট ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আসামিরা হলো- হাসান শরিফ, মো. জিয়া উদ্দিন, খাজা শাহাদতউল্লাহ, মো. জিয়াউর রহমান, আদিল রিজওয়ান, মো. খায়রুজ্জামান, মো. শহিদুল হক, হাসান শাহীন, দীপান্বিতা বড়ুয়া ও সুরীত বড়ুয়া। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪২০ ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ-তাইওয়ান সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামে শতভাগ রপ্তানিমুখী একটি প্রতিষ্ঠান ২০১৩ সালে বন্ড সুবিধার আওতায় নিবন্ধিত হয়। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকায় অবস্থিত কারখানাটির নামে ২০১৩ সাল থেকে সেপ্টেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত ৬২টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে ‘আনফিনিশড টাইলস’ ঘোষণা দিয়ে এইচএস কোড ব্যবহার করে মোট ২২ হাজার ৯৪৩ দশমিক ৬৫ টন সম্পূর্ণ প্রস্তুত টাইলস আমদানি করা হয়। পরবর্তীতে একটি চালান চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর স্থগিত করে। নমুনা পরীক্ষা, বিশেষজ্ঞ মতামত, কাস্টমস ট্যারিফ বিশ্লেষণ এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালা পর্যালোচনায় আমদানিকৃত পণ্যগুলো ‘ফিনিশড টাইলস’ হিসেবে শনাক্ত হয়। বন্ড নীতিমালা অনুযায়ী, আমদানি করা কাঁচামাল প্রক্রিয়াজাত করে সম্পূর্ণ রপ্তানি করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি ৮০টি বিল অব এক্সপোর্ট দাখিল করে রপ্তানি প্রদর্শনের দাবি করে।
তবে সংশ্লিষ্ট অফডক কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের ডক ব্যবহার করে কোনো রপ্তানি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি। একইভাবে দাখিল করা বিল অব লেডিং যাচাই করে সংশ্লিষ্ট শিপিং এজেন্টরাও জানায়, এসব নথি তাদের ইস্যুকৃত নয়। ফলে রপ্তানি সংক্রান্ত নথিপত্র জাল বলে প্রতীয়মান হয়। এ ছাড়া তদন্তকালে সংশ্লিষ্ট দুই কাস্টমস চালান পরীক্ষক জানান, তারা উল্লিখিত চালানগুলো পরীক্ষা করেননি এবং প্রদর্শিত স্বাক্ষরও তাদের নয়। বন্ড কমিশনারেটের অডিট প্রতিবেদনে মজুতের গরমিল ও স্থানীয় বাজারে বিক্রির প্রমাণও পাওয়া গেছে। দুদক চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ জানান, আসামিরা যোগসাজশে জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে ৩৮ কোটি ৮৬ লাখ ৪৮ হাজার ১০০ টাকা ৪৭ পয়সা শুল্ক ফাঁকি দিয়েছেন, যা সরকারি আর্থিক স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন; তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা মিললে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন