সেই সাম্বা নৃত্যের তালে যেন আবারও মেতে উঠলেন নেইমার জুনিয়র। বিশ্বকাপের মূল স্কোয়াড ঘোষণার আগে জানান দিলেন, তিনি এখনই ফুরিয়ে যাবার নন। সেলেসাও মহাতারকার পায়ের জাদুতে দীর্ঘ তিন ম্যাচ পর জয়ের মুখ দেখলো সান্তোস এফসি।
ব্রাগান্তিনোর বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানের এই জয়ে প্রথম গোলটি নেইমারের।
তবে এই গোলের মাহাত্ম্য কেবল ক্লাবের জয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলোত্তি বিশ্বকাপের জন্য যে ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক দল সাজিয়েছেন, তাতে জায়গা করে নিয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। যদিও ২৬ জনের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করা হবে আগামী ১৮ই মে। তবে সান্তোসের জার্সিতে শেষ ১৭ ম্যাচে ১১ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করে সেখানে নিজের অন্তর্ভুক্তির দাবি জোরালো করে রেখেছেন নেইমার।
ঘরের মাঠের ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে সান্তোসই। ম্যাচের ৫৭ শতাংশ সময় বল দখলে রাখা নেইমার বাহিনী আক্রমণের ঝড় তোলে প্রতিপক্ষের সীমানায়। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে গ্যাব্রিয়েল বোন্টেম্পোর নিখুঁত পাস থেকে জাল খুঁজে নিয়ে দলকে লিড এনে দেন নেইমার। এরপর ৭৬তম মিনিটে অ্যাডোনিস ফ্রাইয়াস ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এ জয়ের ফলে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ১৫ নম্বরে উঠে এসেছে সান্তোস। নেইমার নিজে মাঠে ছিলেন ৮২ মিনিট। বেশিরভাগ সময়েই লড়াকু ফুটবল ও দৃষ্টিনন্দন ড্রিবলিংয়ে নিজের সক্ষমতা জানান দেন এ সাবেক বার্সেলোনা ও পিএসজি তারকা। রাফিনহাদের মতো সতীর্থরা যখন নেইমারকে ফিরে পেতে ব্যাকুল, তখন এই গোলটি যেন আনচেলোত্তির ড্রেসিংরুমে আশার প্রদীপ হয়ে জ্বলে উঠলো।
দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে থাকা নেইমারকে নিয়ে ভক্তদের সংশয় ছিল মূলত ফিটনেস নিয়ে। ব্রাজিলের হয়ে তিনি সবশেষ ম্যাচটি খেলেন ২০২৩ সালের অক্টোবরে। এরপর বেশ কয়েকবার আশা জাগালেও এখনও প্রত্যাবর্তন হয়নি দলের সর্বকালের সেরা গোলদাতার। তবে এবার প্রাথমিক দলে জায়গা পাওয়ায় বিশ্বকাপ দিয়েই জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হলো নেইমারের।
