সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের চন্ডীতলা গ্রামে স্বামীর লাথিতে সাজিদা খাতুন (৩৫) নামে দুই সন্তানের জননীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এদিকে মেয়ের মৃত্যুর শোক সহ্য করতে না পেরে নিহত সাজিদার বাবা কেরামত মোল্লাও স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অন্যদিকে মামলায় মূল আসামিদের বাদ দেয়ার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের স্বজনরা।
শুক্রবার (৮ মে) রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাজিদা খাতুন চন্ডীতলা গ্রামের মনিরুল ইসলামের স্ত্রী। তার বাবার বাড়ি উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের উত্তর রঘুনাথপুর গ্রামে। তিনি কেরামত মোল্লা ওরফে কেনার মেয়ে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী মনিরুল ইসলাম, শ্বশুর-শাশুড়ি ও ভাসুরসহ পরিবারের সদস্যরা সাজিদাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে স্বামীর লাথিতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয়। স্বজনদের দাবি, মনিরুল ইসলাম দ্বিতীয় বিয়ে করার পর প্রথম স্ত্রী সাজিদা তার “পথের কাঁটা” হয়ে দাঁড়ান। তাকে সরিয়ে দিতেই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে কালিগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে মনিরুল ইসলামের সঙ্গে সাজিদার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই ছেলে সন্তান রয়েছে।
এ ঘটনায় মনিরুল ইসলাম, তার ভাই আবু সাঈদ গাজী ও সহোদর নুরুজ্জামান গাজীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। তবে মামলায় কয়েকজনের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে রোববার (১০ মে) দুপুর ১২টার দিকে কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন নিহতের স্বজনরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত সাজিদার ভাই মো. আব্দুল খালেক। তিনি অভিযোগ করেন, সাজিদা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রথমে পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হলেও পরবর্তীতে কর্তন করে মাত্র দুইজনকে আসামি করা হয়েছে। এতে প্রকৃত অপরাধীরা আড়ালে থেকে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
আব্দুল খালেক বলেন, “আমার বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার স্বামী ও স্বামীর বাড়ির লোকজন মিলে তাকে মেরে ফেলেছে। আমার বোনের পেটে লাথি মারা হয়েছে। মাথাতেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জুয়েল হোসেনের পক্ষপাতমূলক আচরণের কারণে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হচ্ছে। এ সময় তিনি হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত, বাদ পড়া আসামিদের অন্তর্ভুক্ত করা এবং প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
এদিকে মেয়ের মৃত্যুর খবর ও ঘটনার শোক সহ্য করতে না পেরে নিহত সাজিদার বাবা কেরামত মোল্লা ওরফে কেনা রোববার সন্ধ্যায় স্ট্রোকজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে। পরপর দুই মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জুয়েল হোসেন বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা কোনোভাবেই চাই না কোনো নিরীহ মানুষ এ মামলায় জড়িয়ে পড়ুক। যারা জড়িত নয়, তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।” তবে ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। বিষয়টি তদন্ত করছে কালিগঞ্জ থানা পুলিশ।
