আসন্ন বিশ্বকাপে ফুটবলের চেয়ে যেন বাণিজ্য খাত নিয়েই ফিফার মাথাব্যথা বেশি। বিশ্ব ফুটবল নিয়ন্ত্রণ সংস্থার নতুন এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে এবার মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে আলোচনায় ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ বা পানি পানের বিরতি। মাঠের উত্তাপে খেলোয়াড়দের সতেজ রাখতে যে বিরতি দেয়া হয়, তাকেই এবার কোটি ডলারের বিজ্ঞাপনী খনিতে রূপান্তর করতে যাচ্ছে ফিফা।
জানা গেছে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সম্প্রচারকারী চ্যানেলগুলোকে ম্যাচ চলাকালীন এই বিরতিতে বিজ্ঞাপন দেখানোর অনুমতি দিচ্ছে ফিফা। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র দাবদাহে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার কথা ভেবে প্রতি অর্ধে প্রায় ২২ মিনিটের মাথায় তিন মিনিটের এই বাধ্যতামূলক বিরতি দেয়া হবে। আর এই ৩ মিনিটই এখন বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে সোনার হরিণ। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপের একটি সংক্ষিপ্ত বিজ্ঞাপনের স্লট ২ থেকে ৬ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। যদিও এটি এ বছরের সুপার বোলের রেকর্ড ১০ মিলিয়ন ডলার ভাঙতে পারছে না। তবে ফুটবলের ইতিহাসে একে একটি বড় বাণিজ্যিক বিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফিফার এই কৌশলী সিদ্ধান্তের বিষয়ে ক্রীড়া বিপণন বিশেষজ্ঞদের বিশ্বাস, ফুটবল এখন ধীরে ধীরে বাণিজ্যের প্রয়োজনে ‘আমেরিকানাইজেশন’-এর দিকে ঝুঁকছে। এনবিএ বা এনএফএলের মতো নির্ধারিত বিরতিতে বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে ফিফা আসলে দর্শকদের আধুনিক অভ্যাসের সঙ্গে তাল মেলাতে চাইছে বলে ধারণা তাদের।
তবে শুধু বিজ্ঞাপনই নয়, এই বিরতিগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করতে ডাগআউটের মাইক্রোফোনের মাধ্যমে কোচ ও খেলোয়াড়দের মধ্যকার কৌশলগত আলাপচারিতাও সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা রয়েছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্যমতে, বিরতি শুরু হওয়ার প্রথম ২০ সেকেন্ড এবং খেলা শুরু হওয়ার আগের ৩০ সেকেন্ডে কোনো বিজ্ঞাপন দেখানো যাবে না। অর্থাৎ, মাঝের ২ মিনিট ১০ সেকেন্ড সময় পুরোপুরি বিজ্ঞাপনের দখলে থাকবে।
পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে এমন ২০৮টি নতুন বিজ্ঞাপনী উইন্ডো তৈরি হওয়ায় সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পকেটে যে বড় অংকের অর্থ ঢুকতে যাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য। ফিফা একে ‘প্লেয়ার ওয়েলফেয়ার’ বা খেলোয়াড়দের কল্যাণমূলক পদক্ষেপ বললেও, সমালোচকরা এটিকে ‘কৌশলী বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।
