৫০ হাজার কনস্টেবলের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তদন্ত

সহযোগীদের খবর

৫০ হাজার কনস্টেবলের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তদন্ত

ফন্ট সাইজ:

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘৫০ হাজার কনস্টেবলের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তদন্ত’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) হিসেবে নিয়োগ পাওয়া অন্তত ৫০ হাজার জনের বিষয়ে তদন্ত চলছে। পুলিশের গোয়েন্দারা তাঁদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তদন্ত করছেন। এসব নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ ও প্রশ্ন ওঠায় বাহিনীতে অভ্যন্তরীণ এই তদন্ত চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, তদন্তে পুলিশের এই অর্ধলক্ষ সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, এমনকি স্থায়ী ঠিকানার সত্যতাও যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম, ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার ও দুর্নীতির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেবে সরকার।

এ বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, বিগত ১০ বছরের পুলিশের নিয়োগে বিভিন্ন পর্যায়ে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিষয়গুলো তদন্তে পাঠানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে অন্তত ৫০ হাজার ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে এক জেলার প্রার্থীকে অন্য জেলার কোটায় নিয়োগ, রাজনৈতিক সুপারিশ থাকা তালিকা ব্যবহার এবং লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের অজুহাতে মেধাবীদের বাদ দিয়ে দলীয় লোকজনকে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আলাদা কক্ষে পরীক্ষার ব্যবস্থা করাসহ বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগ তদন্তে পুলিশ সদর দপ্তরকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, পুলিশ সদর দপ্তর জেলা পুলিশ সুপারদের (এসপি) প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। প্রতিটি কমিটিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন), ডিআইও-১ এবং রিজার্ভ অফিস ইন্সপেক্টর সদস্য হিসেবে রয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদন এপ্রিলের মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে এ সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ হয়নি।

পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনা ৬৪ জেলায় পৌঁছানোর পর জেলা পুলিশ নিয়োগের তালিকা ধরে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বাড়িতে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। জেলা থেকে থানা পর্যায়ে পাঠানো এ-সংক্রান্ত চিঠিতে মূলত চারটি বিষয়ে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—নিয়োগপ্রাপ্ত ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলরা ভুয়া স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করে চাকরি পেয়েছেন কি না, অন্য জেলার প্রার্থীকে জমি কেনার ভিত্তিতে স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে দেখানো হয়েছে কি না, কিংবা অর্থের বিনিময়ে বিশেষ কক্ষে পরীক্ষা নেওয়ার মতো অনিয়ম হয়েছে কি না। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে অযোগ্য ঘোষণা বা অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের সিরাজগঞ্জ জেলার এক উপপরিদর্শক (এসআই) নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জেলা গোয়েন্দা শাখা থেকে চিঠি পাওয়ার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যে তিনি কাজ শুরু করেছেন। ওই সময়ে তাঁর থানা এলাকার ৩০-৩৫ জন কনস্টেবল নিয়োগ পেয়েছেন। তাঁদের বাড়িতে গিয়ে স্থায়ী ঠিকানা ও রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে কিছু সমস্যাও হচ্ছে। যেমন—নিয়োগ পরীক্ষায় অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার বিষয়টি খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের কনফিডেনশিয়াল শাখার উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) কামরুল আহসান আজকের পত্রিকাকে বলেন, জেলা থেকে তদন্ত প্রতিবেদন আসতে শুরু করেছে। সব প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হবে। রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং শাখা বিষয়টি দেখভাল করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে সারা দেশে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে কনস্টেবল পদে ৫০ হাজারের বেশি সদস্য নিয়োগ পান। বাকিরা ছিলেন উপপরিদর্শক পদের।

বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, আওয়ামী লীগ সরকার পুলিশ বাহিনীকে দলীয়করণ করেছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ধরপাকড়, গুম, নির্যাতন ও দমন-পীড়নে পুলিশকে ব্যবহার করতেই দলীয় লোকজনকে বাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ তাদের।

বর্তমানে ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) কর্মরত বগুড়ার এক কনস্টেবল নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অনিয়ম করে কেউ চাকরি নিলে তদন্ত হওয়া স্বাভাবিক। তবে যাঁরা নিয়ম মেনে চাকরি পেয়েছেন, তাঁরা যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটাও দেখতে হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের আমলে কনস্টেবলদের মতো উপপরিদর্শক নিয়োগেও জেলা কোটা লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও কিশোরগঞ্জের প্রার্থীদের বেশি নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী কিংবা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

সূত্রটি আরও বলছে, ২০১২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ৩৩তম থেকে ৪০তম ব্যাচে অন্তত ১৫ হাজার উপপরিদর্শক নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দ্রুত মাঠে নামাতে উপপরিদর্শকদের দুই বছরের প্রশিক্ষণ এক বছরে নামিয়ে আনা হয়েছিল। এমনকি লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর মৌখিক পরীক্ষার আগেই পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করা হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কনস্টেবল নিয়োগের বিষয়ে অভিযোগের তদন্ত শেষে সন্দেহজনকভাবে নিয়োগ পাওয়া উপপরিদর্শকদের বিষয়েও যাচাই-বাছাই করা হবে। বিশেষ করে ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও কিশোরগঞ্জের নিয়োগপ্রাপ্তদের বিষয়ে যাচাইয়ে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সার্বিক বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সাবেক আইজিপি মুহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, বিভিন্ন সময়েই টিআরসি নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ শোনা যায়। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কেউ ভেরিফিকেশনে বাদ পড়েন, আবার কেউ সহজে পার হয়ে যান। নিয়োগপ্রক্রিয়াকে মানসম্মত ও স্বচ্ছ করা গেলে ভবিষ্যতে এমন তদন্তের প্রয়োজন পড়বে না। সব সরকারেরই উচিত অন্তত ছোট ছোট নিয়োগেও রাজনৈতিক পছন্দ-অপছন্দ চাপিয়ে না দেওয়া।
প্রথম আলো

‘জামিন হয়, মুক্তি মেলে না, মামলার চক্করে আইভী’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথমে পাঁচ মামলায় গ্রেপ্তার। সেগুলোতে জামিন পান। এরপর আরও পাঁচ মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। দ্বিতীয় দফার পাঁচ মামলায়ও জামিন দেন আদালত। তারপর আরও দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সেই দুই মামলায়ও জামিন হয়েছে। কিন্তু প্রথম দুই দফার ১০ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত হয়েছে। সর্বশেষ দুই মামলায় জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন শুনানির অপেক্ষায়।

এই হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন ও গ্রেপ্তার দেখানোর চালচিত্র। যদিও ১২ মামলার মধ্যে ৭টির এজাহারে তাঁর নাম নেই।

গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের নিজ বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এক বছর পার হলেও তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।

আইভীর আইনজীবীরা বলছেন, একের পর এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর কারণে আইভীর মুক্তির প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। সর্বশেষ দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করে আইভীর করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট গত ২৬ এপ্রিল এক আদেশে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া তাঁকে গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রথম পাঁচ মামলায় গ্রেপ্তার, জামিন, পরে স্থগিত

মামলাগুলোর মধ্যে ৯টি হচ্ছে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক হত্যা মামলা। দুটি হত্যাচেষ্টা মামলা। গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এসব মামলা হয়। অপর মামলাটি হচ্ছে গত বছর তাঁকে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা।

আইভীকে গ্রেপ্তারের পর প্রথমে তিনটি হত্যা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। এসব মামলায় অধস্তন আদালতে জামিন চেয়ে বিফল হওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন।

গত বছরের ৯ নভেম্বর হাইকোর্ট ওই পাঁচ মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে পৃথক পাঁচটি আবেদন করে। এরপর ১২ নভেম্বর চেম্বার আদালত হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। আবেদনগুলো এখনো আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায়।

যেদিন জামিন, সেদিনই আবার গ্রেপ্তারের আবেদন

আইভীর আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রথম পাঁচ মামলায় যেদিন হাইকোর্ট আইভীর জামিন মঞ্জুর করেন, সেদিনই আরও পাঁচ মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ। নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত গত বছরের ১৮ নভেম্বর সেটা মঞ্জুর করেন।

নতুন পাঁচ মামলার মধ্যে চারটি ফতুল্লা থানায় করা হত্যা মামলা। অপরটি হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় করা মামলা। এসব মামলার এজাহারে আইভীর নাম নেই।

এসব মামলায়ও অধস্তন আদালতে জামিন চেয়ে বিফল হন আইভী। পরে হাইকোর্টে যান। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট এই পাঁচ মামলায় তাঁকে ৬ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। এই জামিন আদেশের বিরুদ্ধেও রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। এরপর ৫ মার্চ চেম্বার আদালত শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান। সেগুলোও শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

আরও দুই মামলায় গ্রেপ্তার

এদিকে আগের মামলাগুলোয় হাইকোর্টে জামিন মঞ্জুরের পর সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দুটি হত্যা মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখাতে আবেদন করে পুলিশ। এর মধ্যে ২ মার্চ একটি মামলায় এবং ১২ এপ্রিল অপর মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।

এই দুই মামলায়ও অধস্তন আদালত জামিন না দেওয়ায় হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন আইভী। গত ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট এই দুই মামলায় তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। এই জামিনও স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করেছে, যা শুনানির অপেক্ষায়।

হয়রানি না করার নির্দেশ আদালতের

এর আগে ওই দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন আইভী। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২৬ এপ্রিল হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। রুলে শুধু হয়রানি ও অপদস্থ করার উদ্দেশ্যে বারবার এবং মিথ্যা প্রকৃতির মামলায় আবেদনকারীকে জড়ানোর কার্যক্রম কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া তাঁকে গ্রেপ্তার না দেখাতে, গ্রেপ্তার ও হয়রানি না করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া আইভীকে গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আইনসচিব, নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশের মহাপরিদর্শক, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং নারায়ণগঞ্জ সদর, সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) রিটে বিবাদী করা হয়েছে। তাঁদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘বিদেশিদের অপরাধের জাল’। খবরে বলা হয়, ভালো চাকরি এবং বিদেশে নেওয়ার প্রলোভনে দুই নারীকে ঢাকায় নিয়ে আসেন মিষ্টি আক্তার (ছদ্মনাম) নামে এক নারী। পরে তুরাগের দলিপাড়া এলাকার একটি ফ্ল্যাটে তাদের আটকে রেখে বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে অবৈধভাবে বিয়ে দিয়ে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করার চেষ্টা চলে। অন্যদিকে চীনা নাগরিক জেং ফান ও জিন শুচুনসহ একটি চক্র তাদের চীনে পাচারের প্রস্তুতি নেয়। এভাবে প্রায় দুই মাস আটকে থাকার পর জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর গেলে র‌্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে দুই তরুণীকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় অভিযুক্ত নারী, চীনা নাগরিক জেং ফান ও জিন শুচুনকে গ্রেফতার করা হয়। তবে আরেক চীনা নাগরিক ঝেং ঝেন পালিয়ে যান।

অন্যদিকে মিরপুরের বাসিন্দা আফরোজা সুলতানার সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় ঘটে ‘David Casboult’ নামে একটি আইডির। ওই ফেসবুক আইডি থেকে নিজেকে লন্ডনের নাগরিক পরিচয় দিয়ে ধীরে ধীরে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করা হয়। একপর্যায়ে জন্মদিন উপলক্ষ্যে বিদেশ থেকে উপহার পাঠানোর কথা বলে প্রলুব্ধ করা হয় তাকে।

কিছুদিন পর ভুক্তভোগীকে কাস্টমস কর্মকর্তা সেজে ফোনে কল করে জানানো হয়, তার নামে একটি পার্সেল এসেছে, যা আটকে আছে বিমানবন্দরে। বলা হয়, সেটি ছাড়াতে কাস্টমস ফি ও ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে। এজন্য ব্যাংক হিসাবে টাকা পাঠাতে বলা হয়। সরলবিশ্বাসে তিনি ধাপে ধাপে ১২ লাখ ৩৪ হাজার টাকা পাঠান। পরে আরও অর্থ দাবি করা হলে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন ভুক্তভোগী।

এ ঘটনার পর মামলা দায়ের হলে ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের তদন্তে ভারতীয় নাগরিক এডউইন ডি কস্তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের ভিত্তিতে ২২ এপ্রিল রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস-এর একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে প্রতারক কথিত ওই ভারতীয় নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়।

শুধু এ দুটি ঘটনাই নয়; সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া অন্তত ১০টি মামলার তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন প্রতারণার ঘটনার কথা জানা গেছে।

বিশ্লেষণে রাজধানী ঢাকায় অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের একটি অংশের এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের চিত্র পাওয়া যায়। এর মধ্যে প্রতারণা, মাদক, এটিএম জালিয়াতি, অনলাইন ক্যাসিনো, স্বর্ণ চোরাচালান ও মানব পাচারের মতো নানা অপরাধের কথা জানা যায়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধে বিদেশি নাগরিকদের সম্পৃক্ততা দিনদিন বাড়ছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে তারা সংঘবদ্ধ প্রতারণা চালাচ্ছে। ফেসবুকে বন্ধুত্ব গড়ে তুলে বিদেশ থেকে ‘গিফট পার্সেল’ পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে কাস্টমস ফি, ভ্যাট কিংবা বিভিন্ন চার্জের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের দাবি, এসব প্রতারণার নেপথ্যে কিছু বিদেশি নাগরিক মূল পরিকল্পনাকারী হলেও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনে সহায়তা করছে স্থানীয় কিছু সহযোগী।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, হেরোইন, কোকেনসহ বিভিন্ন অপ্রচলিত মাদকের কারবার, জাল ডলার ব্যবসা, ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি, অনলাইন ক্যাসিনো এবং মানব পাচারের মতো অপরাধেও বিদেশিদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। অনেককে গ্রেফতার করা হলেও পরে কেউ কেউ জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তে আরও জানা যায়, চীন, ভারত, নাইজেরিয়া, কেনিয়াসহ, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত। বাংলাদেশে প্রবেশের পর কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেদের পাসপোর্ট নষ্ট করে ফেলে, যাতে তাদের প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এরপর রাজধানীর অভিজাত এলাকায় বাসা কিংবা হোটেল ভাড়া নিয়ে গড়ে তোলে অপরাধের ঘাঁটি।

কালের কণ্ঠ

‘সংকটে ব্যবসা, চাপে ভোক্তা’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, আরো জটিল হচ্ছে অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সংকট। উচ্চ সুদের হারে বিনিয়োগে মন্দা। বেসরকারি খাত ঋণ পাচ্ছে না। পেলেও তাতে ব্যবসায় খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বাড়তি জ্বালানি খরচ। এতে শিল্পের উৎপাদন খরচে প্রভাব পড়ছে। পোশাক খাতের উৎপাদন খরচ অন্তত ২০ শতাংশ বেড়েছে। লোকসানসহ নানা কারণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অনেক শিল্প-কারখানা।

গত তিন বছরে অন্তত ৪০০ কারখানা বন্ধ হয়েছে। যেগুলো চালু আছে, সেগুলো চলছে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ সক্ষমতায়। একদিকে বেসরকারি খাত ঋণ পাচ্ছে না, অন্যদিকে সরকার ঠিকই খরচ মেটাতে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার ঋণ করেছে। জ্বালানি তেল ও এলপিজির বাড়তি দামে শিল্প-গৃহস্থালির পাশাপাশি বেড়েছে পরিবহন খরচ।

যার প্রভাবে জিনিসপত্রের দাম আরেক দফা বেড়েছে। মূল্যস্ফীতি আবারও বাড়তির দিকে। সীমিত আয়ের মানুষের জীবনযাপন কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে। সরকারি কর্মচারীদের পে স্কেল দেওয়ার কথা থাকলেও টাকার অভাবে তা দেওয়া যাচ্ছে না। এই খাতে এক লাখ কোটি টাকারও বেশি প্রয়োজন।

ঘোষণামতো পে স্কেল না পাওয়ায় উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে ভোগান্তিতে সরকারি কর্মচারীরাও। অর্থনীতি বিশ্লেষক ও ফিন্যানশিয়াল এক্সিলেন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান মামুন রশীদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরলভাবে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে যখন সুদের হার বাড়ানো হয়, তখন তার আঘাত সরাসরি গিয়ে পড়ে উৎপাদনশীল খাতের ওপর। ব্যাংকঋণের এই ক্রমবর্ধমান ব্যয় ব্যাবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার খরচ বা কস্ট অব ডুইং বিজনেস এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যায় যে পণ্যের উৎপাদন খরচ আর প্রতিযোগিতামূলক থাকে না। কাঁচামাল কেনা থেকে শুরু করে শ্রমিকের মজুরি মেটানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে যখন বাড়তি সুদের বোঝা টানতে হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই ব্যবসার নিট মুনাফায় টান পড়ে।’

তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে বেসরকারি খাত ও সাধারণ মানুষের জীবনযাপন জটিল এবং বহুমুখী সংকটের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং মুদ্রানীতির কঠোর অবস্থান শিল্পোৎপাদন ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে ঋণের সুদহারের ওপর যে ক্যাপ বা সীমা ছিল, তা তুলে দিয়ে বাজারভিত্তিক সুদহার প্রবর্তনের ফলে বর্তমানে ব্যাংকঋণের সুদ ১৪ থেকে ১৬ শতাংশের ঘরে পৌঁছেছে। এই উচ্চ সুদহারের প্রভাবে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে এসেছে, যা বর্তমানে ৯ শতাংশের আশপাশে ঘোরাঘুরি করছে। এর ফলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের প্রবাহ প্রায় ৩০ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে এবং উদ্যোক্তারা নতুন কোনো প্রকল্প হাতে নেওয়ার পরিবর্তে বিদ্যমান ঋণের বোঝা কমাতেই বেশি ব্যস্ত থাকছেন। উচ্চ সুদের কারণে মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি কমে গেছে, যা দীর্ঘ মেয়াদে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শিল্প খাতের অভ্যন্তরীণ সংকট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় গত এক বছরে গড়ে ৪০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। পোশাক খাতের উৎপাদন খরচও প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং এলপি গ্যাসের উচ্চমূল্যের কারণে পরিবহন ও উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। ডলারের বিপরীতে টাকার ধারাবাহিক অবমূল্যায়ন কাঁচামাল আমদানির খরচ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে দেশের মোট শিল্প-কারখানার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ, মূলধনসংকট ও লোকসানের ভার সইতে না পেরে গত তিন বছরে অন্তত ৪০০ কারখানা বন্ধ হয়েছে। বড় কারখানাগুলো গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে তাদের পূর্ণ সক্ষমতার মাত্র ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ ব্যবহার করতে পারছে, যা সামগ্রিক শিল্পোৎপাদন স্থবির করে দিয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের টার্নওভার বা লেনদেন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অন্তত ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কমেছে বলে বাজার বিশ্লেষণে জানা যায়।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘হামে মৃত্যুর পেছনে অবহেলা কিনা তদন্ত করছে সরকার’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে হামের টিকার সংকট ও শিশুমৃত্যুর ঘটনা খতিয়ে দেখছে সরকার। এর পেছনে কোনো অবহেলা আছে কিনা, থাকলে কে দায়ী- তা নিশ্চিত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রম শেষ হলে তদন্ত প্রতিবেদনটি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এ তথ্য জানিয়েছেন।

গতকাল শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) 'হামের প্রাদুর্ভাব ও উত্তরণের পথ' শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনায় রাষ্ট্রের দায় আছে। এ জন্য সেসব ঘটনার যথাযথ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কেন বাচ্চাগুলো হারালাম, কারও কোনো গাফিলতি ছিল কিনা- এর তদন্ত হবে।

স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করেন এমন সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ) বৈঠকটির আয়োজন করে। এ সময় সচিব আরও বলেন, 'কেন এই বাচ্চাগুলো হারালাম, কোথায় সমস্যা ছিল, আমাদের কোনো গাফিলতি ছিল কিনা বা আমাদের কর্মকর্তাদের দায় কী ছিল- একটা তদন্ত হলে যা হয়, সবকিছুই হবে।' সাংবাদিকরা পাল্টা প্রশ্ন করেন, তদন্ত শুরু হবে-নাকি তদন্ত হচ্ছে? জবাবে সচিব বলেন, তদন্ত হচ্ছে।
তবে কাদের নিয়ে তদন্ত কমিটি হয়েছে, করে হয়েছে- এ ধরনের কোনো প্রশ্নের উত্তর কামরুজ্জামান চৌধুরী দেননি। তদন্তের বিস্তারিত তথ্য এবং এর সময়সীমা তাৎক্ষণিক জানতে পারেনি সমকাল। এদিকে হাম ও এই রোগের উপসর্গে গতকাল আরও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ বছর হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৩৫২ শিশুর মৃত্যু হলো।

রোগ প্রতিরোধ ঘাটতি অন্যতম কারণ

গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পেডিয়াট্রিক ইনফেকশন ডিজিজের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মির্জা জিয়াউল ইসলাম। তিনি বলেন, করোনা মহামারিজনিত টিকাদান কার্যক্রম বিঘ্নের কারণে সৃষ্ট রোগ প্রতিরোধ ঘাটতি (ইমিউনিটি গ্যাপ) হামের সংক্রমণ বাড়ার অন্যতম কারণ।

পাশাপাশি শিশু মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে নিউমোনিয়াকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো এলাকায় টিকাদানের হার ৯৫ শতাংশের 'হার্ড ইমিউনিটি' সীমার নিচে নেমে গেলে সেখানে ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। হাম মোকাবিলায় ব্যবস্থাপনা কৌশলের অংশ হিসেবে আক্রান্ত শিশুর জন্য বাধ্যতামূলক ভিটামিন 'এ' প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

মির্জা জিয়াউল বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুর মৃত্যুর অন্যতম কারণ নিউমোনিয়া। পাশাপাশি শিশুর শ্বাসকষ্ট, খিচুনি, অতিরিক্ত জ্বর, খেতে না পারা কিংবা তীব্র তীব্র ডায়রিয়ার ডায়ান মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

ইত্তেফাক

‘সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ থাকছে ৩৬ হাজার কোটি টাকা’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, আসছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা এবং ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। এর ফলে উপকারভোগীদের সংখ্যাও বাড়ানো হবে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর বিভিন্ন ভাতা এবং খাদ্য-বান্ধব কর্মসূচিসহ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ব্যয় ধরা আছে ২১ হাজার ৭০১ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে এসব কর্মসূচির আওতায় ৩৫ হাজার ৭০৮ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর ফলে চলতি অর্থবছরের ২ কোটি ৬০ লাখ উপকারভোগী থেকে বাড়িয়ে এই সংখ্যা ৩ কোটি ৬৩ লাখে পৌঁছাবে।

সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাজেট চূড়ান্তকরণ বিষয়ক এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানাগেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানাগেছে, বিএনপি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী বাড়ানো হবে। এসব কর্মসূচিতে বিপুল পরিমাণ জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া, বিএনপি সরকারের প্রতিশ্রুত মসজিদ ও অন্যান্য উপসনালয়ে কমর্রতদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রমে প্রায় ২ লাখ ৫৬ হাজার উপকারভোগী সুবিধা পাবেন।

আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেট বক্তব্যে বাংলাদেশকে কল্যাণকর রাষ্ট্রে রূপান্তর করার রূপরেখা তুলে ধরবেন তিনি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীর সংখ্যা ৪১ লাখে উন্নীত করতে চায় সরকার। গত ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণ শুরু করে এই কর্মসূচি উদ্বোধনের মাধ্যমে।

ফ্যামিলি কার্ডধারীদের প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা ভাতা দিচ্ছে সরকার। আগামী অর্থবছরে এখাতে বরাদ্দ থাকছে ১২ হাজার ৩৮৪ কোটি টাকা। তবে ফ্যামিলি কার্ডপ্রাপ্তরা অন্য কোনো ভাতা পাবে না, এমন সিদ্ধান্ত আসতে পারে। বাজেট উপস্থাপনে এমন প্রস্তাবনা আনতে পারেন অর্থমন্ত্রী। বিশেষ করে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় যারা আগে থেকেই অন্য সরকারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম। আগামী অর্থবছর ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষককে এই কার্ড দেওয়া হবে। কার্ডধারী কৃষকরা বছরে ২,৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা পাবেন। বর্তমান সরকারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হচ্ছে খাল খনন কর্মসূচি। চলতি অর্থবছর এই কর্মসূচির আওতায়, উপকারভোগী রয়েছে ২৬ লাখ ৬৭ হাজার, আগামী অর্থবছর উপকারভোগীর সংখ্যা আরো বাড়িয়ে ৩৪ লাখে উন্নীত করতে চায় সরকার।

আগামী অর্থবছরের বাজেটে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতার পরিমাণ বাড়ার পাশাপাশি উপকারভোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। এসব ভাতার ক্ষেত্রে ৯০ বছর বা তার বেশি বয়সিদের জন্য বাড়তি ভাতা দেবে সরকার। বর্তমানে ৬১ লাখ নাগরিক বয়স্ক ভাতা হিসেবে প্রতি মাসে ৬৫০ টাকা করে পাচ্ছেন। এতে সরকারের মোট ব্যয় হচ্ছে ৫ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরের বাজেটে ৬২ লাখ বয়স্ক নাগরিককে ভাতার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এক্ষেত্রে ৯০ বছরের কম বয়সি বয়স্ক নাগরিকদের ভাতার পরিমাণ ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হচ্ছে। আর ৯০ বছর বা তার বেশি বয়সি ২ লাখ ৫ হাজার বয়স্কভাতাধারী প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘সীমান্ত এলাকায় নতুন শরণার্থী সঙ্কটের আশঙ্কায় বাংলাদেশ’। খবরে বলা হয়, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাম্প্রতিক পশ্চিমবঙ্গ সফর এবং শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে এখন আন্তর্জাতিক আলোচনার বিষয় পরিণত হয়েছে। সে সময় অমিত শাহের ঘোষণা অনুযায়ী, নির্বাচনে জয়ী হলে বিজেপি তার ‘অঙ্গীকার’ মোতাবেক পশ্চিমবঙ্গকে অনুপ্রবেশকারী মুক্ত করবে। এই ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন বাংলাদেশ নিজেই কক্সবাজার জেলায় ১৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী নিয়ে এক ভয়াবহ সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে।

ভারতের গণমাধ্যম ও গোয়েন্দা সূত্রের তথ্যানুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের নিউটাউন, বনগাঁ এবং মেদিনীপুর এলাকাগুলোর বিভিন্ন রাজ্যে ‘ডিটেনশন সেন্টার’ বা বন্দিশিবির নির্মাণ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে অপরাধ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ভাষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনী রাজনীতির স্বল্পমেয়াদি লাভের জন্য এমন বক্তব্য দেয়া উচিত নয়, যা সীমান্তে উত্তেজনা, মানবিক সঙ্কট বা প্রতিবেশী দেশের সাথে অবিশ্বাস সৃষ্টি করতে পারে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই রোহিঙ্গা সঙ্কটের বিশাল চাপ বহন করছে। নতুন কোনো সীমান্ত বা উদ্বাস্তু সঙ্কট শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়; পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্যই অশনি সঙ্কেত হয়ে উঠতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর গত ৪ মে থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হওয়া সহিংসতা এখন সাম্প্রদায়িক রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে মুসলিমপ্রধান জেলাগুলোতে তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকদের ওপর হামলার আড়ালে সাধারণ মুসলিম পরিবারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ উঠেছে।

গত ৫ দিনে বিভিন্ন জেলায় সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬ জনে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ৩ জন সংখ্যালঘু মুসলিম। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা এবং বীরভূমের মতো মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

ভারতের গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী মুর্শিদাবাদ ও মালদহ এই দুই জেলায় অন্তত ১২টি গ্রামে মুসলিমদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিয়ে একদল দুষ্কৃতকারী লাঠিসোটা ও দেশী অস্ত্র নিয়ে ঘরবাড়িতে হামলা চালায়। এ ছাড়াও নদীয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমায় অনেক পরিবারকে গ্রামছাড়ার হুমকি দেয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, ‘অনুপ্রবেশকারী’ তকমা দিয়ে অনেক বৈধ নাগরিককেও এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে। এরই মধ্যে আসানসোল এবং শিলিগুড়িতে সংখ্যালঘু মালিকানাধীন ছোট দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয়েছে। এসব ঘটনায় অন্তত ৪০০ মানুষ বিভিন্ন জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের বড় একটি অংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের।

বণিক বার্তা

‘তিন দশক আগে অজানা কারণে পরিত্যক্ত হয় হরিপুর তেল ক্ষেত্র’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশের প্রথম তেল ক্ষেত্রটি আবিষ্কার হয় ১৯৮৬ সালে সিলেটের হরিপুরে। পরের বছরই এ ক্ষেত্র থেকে বাণিজ্যিকভাবে তেল উত্তোলন শুরু করে পেট্রোবাংলা।

টানা সাত বছর তেল ক্ষেত্রটি থেকে ৫ লাখ ৪২ হাজার ব্যারেলের মতো তেল (ক্রুড অয়েল) উত্তোলন করা হয়। একপর্যায়ে উৎপাদন কমতে কমতে ১৯৯৪ সালে উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। তেল ক্ষেত্রটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পেছনে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক না হওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ঠিক কী কারণে হরিপুরে (সিলেট-৭) তেল উত্তোলন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল তা এখনো অজানা বলে মনে করেন ভূতত্ত্ববিদ এবং পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি খাতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থায় কাজ করা অনেক সাবেক কর্মকর্তা।

রিপুর তেল ক্ষেত্রে উত্তোলন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পেছনে কারিগরি সমস্যা, ওয়েলহেড প্রেসার কমে যাওয়া এবং অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছেন ভূতত্ত্ববিদরা। আর পেট্রোবাংলার কর্মকর্তাদের দাবি, কূপে পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় বাণিজ্যিক উৎপাদন লাভজনক থাকেনি। অন্যদিকে তিন দশক পেরিয়ে গেলেও হরিপুরে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুরনো ও পরিত্যক্ত কূপ থেকে বিপুল পরিমাণ গ্যাসের মজুদ আবিষ্কার ও উত্তোলন করা হচ্ছে। জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদিও অজানা কারণে হরিপুরে তেল উত্তোলনের ক্ষেত্রে কোনো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়নি।

জ্বালানি খাতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিইআরসি, পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সে দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন মকবুল ই ইলাহী চৌধুরী। কর্মজীবনে তিনি পেট্রোবাংলার ভূতত্ত্ব বিভাগ, বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিইআরসি সদস্য (গ্যাস) হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। হরিপুর তেল ক্ষেত্র আবিষ্কারের সময় মকবুল ই ইলাহী চৌধুরী পেট্রোবাংলার ভূতত্ত্ব বিভাগে কাজ করেছেন। তখন তিনি ক্ষেত্রটি থেকে তেল উত্তোলনের বিষয়টিও পর্যবেক্ষণ করেছেন।

হরিপুর ক্ষেত্র থেকে কেন তেল উত্তোলন বন্ধ হয়েছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হরিপুর তেল ক্ষেত্রটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে তেল ফুরিয়ে যাওয়া, পাইপলাইনে মোমজাতীয় রাসায়নিক পদার্থ জমা হওয়া ছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ের কথা বলা হয়। তবে কোনো কূপ পরিত্যক্ত ঘোষণার আগে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা, এমনকি কী কারণে সেটি বন্ধ করা হচ্ছে সে বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন থাকে। আমার জানা মতে হরিপুর তেল ক্ষেত্রের বিষয়ে এ রকম কোনো প্রতিবেদন দেয়া হয়নি।’

উত্তোলন বন্ধ হওয়ার পর তিন দশক পেরিয়ে গেলেও হরিপুরের তেল নিয়ে কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি পেট্রোবাংলা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে তেল-গ্যাস আমদানিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আবারো সামনে এসেছে স্থানীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের বিষয়টি। তাই হরিপুরের মতো পরিত্যক্ত তেল ক্ষেত্রটি নিয়ে জোরালো উদ্যোগ ও অনুসন্ধানে জোর দিচ্ছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

সিলেটের হরিপুর স্ট্রাকচারে সিলেট-১০ কূপ খনন করে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তেল পাওয়ার কথা জানায় পেট্রোবাংলা। ওই সময় জানানো হয় সিলেট গ্যাস ক্ষেত্রের নতুন কূপে ১ হাজার ৩৯৭ থেকে ১ হাজার ৪৪৫ মিটার গভীরতায় তেলের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে দৈনিক ৩৫ ব্যারেল করে তেলের প্রবাহের কথাও জানিয়েছিলেন তৎকালীন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী। হরিপুরের পর এটিই বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বীকৃত তেল ক্ষেত্র।

দেশ রূপান্তর

‘ম্যানেজ কৌশল’ শেখায় দুর্নীতি-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, পুলিশ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যন্ত সবাই তাদের জুনিয়রকে ‘ম্যানেজ’ করে নেওয়ার নির্দেশ দেন। অধিকাংশ পুলিশ সদস্য ও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ম্যানেজ করার কৌশল শেখানোর ফলে পরিচ্ছন্ন ও দুর্নীতিমুক্ত পুলিশি সেবা পাওয়া এখনো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিভাগ যত কঠোরই হোক এতে তেমন লাভ হবে না। কেউ পরিবার-পরিজন রেখে ম্যানেজ কৌশলে আয়ের অনেকটাই খরচ করবে, এটা হয় না। মামলা রেকর্ড হওয়ার পর থেকে অপরাধী গ্রেপ্তারে অপারেশন পরিচালনা এবং মামলার তদন্ত পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিজের পকেট থেকে ম্যানেজ (খরচ) করতে নির্দেশ দেন।

পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, একজন পুলিশ সদস্য প্রশিক্ষণ শেষ করে কর্মজীবনের প্রথম কয়েক মাসের মধ্যেই এই ‘ম্যানেজ কৌশল’ রপ্ত করেন। এর পেছনে বড় ভূমিকা তার ঊর্ধ্বতনের। অনেক সময় দেখা গেছে, অফিসের প্রয়োজনে বের হওয়ার সময় ফান্ড পাচ্ছেন না। তার সিনিয়র বিষয়টি ম্যানেজ করে নিতে বলছেন। মন খারাপ হলেও একপর্যায় গিয়ে ওই নবীন পুলিশ কর্মকর্তা ম্যানেজ করার কৌশল শিখে যাচ্ছেন। এভাবে কমিশনার ডিসিকে, ডিসি ওসিকে আর ওসি তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিচ্ছেন। সিনিয়রের নির্দেশে পকেটের টাকা খরচ করে আর সে টাকা পাননি তদন্ত কর্মকর্তা এমন হাজারো উদাহরণ পুলিশে আছে। দুর্নীতিমুক্ত পুলিশিংয়ে বড় বাধা এ ম্যানেজ কৌশল।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কয়েকটি থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, তদন্ত ব্যয় বিল দেওয়া হয় খুবই নগণ্য। এর মধ্যে এক বছরের বেশি সময় ডিএমপির থানাগুলোতে কোনো তদন্ত ব্যয় বিলের বরাদ্দ ঠিকমতো পাচ্ছে না। এসব কারণে মানসিকসহ বিভিন্ন চাপে থাকছে সদস্যরা। আবার অনেক থানায় তদন্ত ব্যয় বিল নিয়িমিত দেওয়া হয়। যেখানে ব্যয় বিলের ফান্ড স্থায়ীভাবে থানায় থাকার কথা, সেখানে অনেক থানা সেটা পাচ্ছে না।

কোন মামলার তদন্ত বিল কত: খুন ও ডাকাতি মামলায় ৬ হাজার, অপহরণ ও মানব পাচার মামলায় ৫ হাজার, দস্যুতা ও অপমৃত্যু মামলায় (লাশ ব্যবস্থাপনা) ৪ হাজার; এসিড নিক্ষেপ, দ্রুত বিচার আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, অস্ত্র ও বিস্ফোরক মামলা, অর্থ পাচার মামলায় ৩ হাজার টাকা বরাদ্দ। এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, মাদক মামলাসহ অন্যান্য মামলায় ২ হাজার টাকা তদন্ত ব্যয় বিল বরাদ্দ রয়েছে। সর্বশেষ ২০২১ সালের ১০ নভেম্বর থানায় রুজুকৃত মামলার তদন্ত ব্যয় বিল পুনর্নির্ধারণ করে একটি আদেশ জারি করে সরকার।

ওই চিঠিতে বলা হয়, থানার ওসির কাছে স্থায়ী অগ্রিম ব্যয় বিল জমা রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে ডিএমপির থানায় এক লাখ, অন্য মেট্রো ও জেলা সদর থানায় ৮০ হাজার, জেলার সদর ব্যতীত অন্য থানায় ৩০ হাজার, রেলওয়ে থানায় ২০ হাজার, পার্বত্য থানায় ১০ হাজার ও পুলিশের তদন্তকারী ইউনিটগুলোতে ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম জমা থাকবে। ওই অর্থ থেকে কোনো কর্মকর্তাকে মামলার তদন্তভার দেওয়ার সঙ্গে ব্যয় বিলের ৫০ শতাংশ অর্থ প্রদান করতে হবে। এরপর মামলার চার্জশিট বা চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিলের পর বাকি অর্থ প্রদান করতে হবে।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘চরম হতাশায় ব্যবসায়ীরা’। খবরে বলা হয়, চরম হতাশায় ব্যবসায়ীরা। অন্তর্বর্তী সরকারের ভয়াবহ বৈরী অবস্থার পর নতুন সরকারের কাছে পাহাড় পরিমাণ প্রত্যাশা ছিল; কিন্তু কোনো প্রত্যাশাই পূরণ হচ্ছে না। সরকারি বন্ধ কারখানাগুলো চালু করার বিষয়ে মন্ত্রীরা কথা বললেও বেসরকারি কলকারখানা একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ভুয়া মামলা প্রত্যাহার হচ্ছে না। ব্যবসার কাজে অনেক ব্যবসায়ী বিদেশ যেতে পারছেন না। এমনকি চিকিৎসার জন্যও বিদেশ যাওয়ার অনুমতি মিলছে না।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে একজন শীর্ষ ব্যবসায়ী বলতে বাধ্য হয়েছেন, ব্যবসায়ীদের করের টাকা কোন খাতে ব্যবহার হচ্ছে, তা জানাতে হবে। বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল সরকারের কাছে প্রশ্ন তুলে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আপনি যেভাবে আমাকে ধরপাকড় করে কর আদায় করেন, আমার করের টাকা আপনি কীভাবে খরচ করেন, সেটার জবাবদিহি দরকার।’ প্রয়াত অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান দেশের শিল্পায়নের জন্য বিভিন্নভাবে নীতিসহায়তা দিয়ে সহায়তা করেছিলেন উল্লেখ করে বিটিএমএ সভাপতি আরও বলেন, ‘আমরা কি ওই পথে আছি এখন? আমার মনে হয়, না। এখন আমাদের ব্যবসায় ধস নামছে। শিল্পকারখানা বন্ধ হচ্ছে। ব্যবসার জন্য যে সুযোগ বা পরিবেশ দরকার, সেটা সরকার নিশ্চিত করতে পারছে না। নীতি সংস্কার হচ্ছে না।’

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করার পর একের পর এক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়েছে। বিভিন্ন তথ্যানুযায়ী, ওই সময়ে ৪০০টির মতো শিল্পকারখানা বন্ধ হয়েছে। যার মধ্যে গার্মেন্ট, টেক্সটাইল, স্পিনিং মিলের মতো প্রতিষ্ঠান ছাড়াও রয়েছে শতভাগ রপ্তানিমুখী কারখানা। এর ফলে চাকরি হারিয়েছেন প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক। বন্ধ শিল্পকারখানার মালিকদের প্রত্যাশা ছিল নির্বাচিত সরকার এসে এসব শিল্পকারখানা চালুর উদ্যোগ নেবে। বেকার শ্রমিকরা আবারও কাজে ফেরার সুযোগ পাবেন। তবে বাস্তবতা হচ্ছে সরকারি বন্ধ কারখানা চালুর বিষয়ে মন্ত্রীরা বক্তব্য দিলেও বেসরকারি খাতের বন্ধ শিল্পকারখানার বিষয়ে কী ধরনের নীতিসহায়তা দেওয়া হবে, সেটি এখনো জানা যায়নি। ফলে এসব শিল্পকারখানার মালিকদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসে বন্ধ কারখানা চালুর নীতি ঘোষণা করলেও পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে নানান সংকটে চালু কারখানাই এখন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। গত দুই মাসে সরকার এমন কোনো কর্মকাণ্ড দেখাতে পারেনি যা ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি করবে।

নিট তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘দীর্ঘদিনের অযত্ন-অবহেলার কারণে ব্যবসাবাণিজ্যে যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে, তা কাটানোর জন্য অনেক বেশি মনোযোগ দরকার ছিল। সেটি পাওয়া যায়নি।’ তৈরি পোশাক খাতের এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘যদিও নির্বাচিত সরকারের বয়স দুই মাস। এ সরকারের হয়তো অনেক অগ্রাধিকার আছে। তার মধ্যেও বেসরকারি খাত আরও বেশি মনোযোগ প্রত্যাশা করে। বিশেষ করে যেসব শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, সেগুলো চালুর ব্যাপারে সরকারের নীতিসহায়তা ঘোষণা করা উচিত।’ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার বিষয়টিও বর্তমানে দেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুতর উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে এ ধরনের মামলা কেবল ব্যক্তিগত হয়রানি নয়, বরং শিল্প খাত ধ্বংস এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ অস্থিতিশীল করার গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন