কঠিন চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশের বোলিং

কঠিন চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশের বোলিং

ফন্ট সাইজ:

বাজে বোলিং আর ফিল্ডিংয়ে মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারাতে বসেছে বাংলাদেশ। প্রথম দিনে আধিপত্য বিস্তার করা টাইগাররা এদিন পুরোপুরি খেই হারিয়েছে। দ্বিতীয় দিনের শুরুতে স্বাগতিকদের বিশাল স্কোরের স্বপ্ন একাই ধূলিসাৎ করে দিয়েছেন মোহাম্মদ আব্বাস। এই ডানহাতি পেসারের আগুনে বোলিংয়ে প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রানে গুটিয়ে যায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এরপর ব্যাট হাতে দারুণভাবে জ্বলে ওঠেন পাকিস্তানের দুই তরুণ অভিষিক্ত ওপেনার। বিশেষ করে আজান আওয়াইজের দুর্দান্ত ব্যাটিং স্বাগতিক দলের বোলারদের ভীষণভাবে হতাশ করেছে। প্রথম দিন শেষে চার উইকেটে ৩০১ রান করা বাংলাদেশ গতকাল নিজেদের ইনিংসে খুব বেশি রান বোর্ডে যোগ করতে পারেনি। অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম ৭১ রানে আউট হওয়ার পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে স্বাগতিকদের লোয়ার অর্ডার। জবাবে ব্যাট করতে নেমে দিন শেষে এক উইকেট হারিয়ে ১৭৯ রান তুলেছে সফরকারীরা। এখনও ২৩৪ রানে পিছিয়ে থাকলেও আজানের অপরাজিত ৮৫ রানের সুবাদে দারুণ আত্মবিশ্বাসী তারা। প্রথম ঘণ্টার ধাক্কা সামলে পাকিস্তান যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তাতে মিরপুর টেস্টের বাকি সময়টা টাইগারদের জন্য কঠিন হতে যাচ্ছে, তা নিশ্চিত। ম্যাচের লাগাম নিজেদের হাতে নিতে স্বাগতিকদের বড় চ্যালেঞ্জ হলো দ্রুত প্রতিপক্ষের উইকেট নেয়া। আগের দিনের চার উইকেটে ৩০১ রান নিয়ে খেলতে নামা

বাংলাদেশ বড় সংগ্রহের স্বপ্ন
দেখেছিল। কিন্তু দ্বিতীয় দিনের শুরু থেকেই তাদের সেই স্বপ্নে আঘাত হানেন আব্বাস। দিনের প্রথম সেশনেই এই পেসারের দুর্দান্ত বোলিংয়ে দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে শান্তর দল। মুশফিক কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে তিনি বোল্ড হয়ে যান। এর আগে লিটন দাস ৩৩ রান করে আব্বাসের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ ও স্পিনার তাইজুল ইসলামও দ্রুত সাজঘরে ফিরে যান। এই দুজনের উইকেটও তুলে নেন আব্বাস।

এমনকি পেসার ইবাদত হোসেন কোনো রান না করেই আব্বাসের শিকারে পরিণত হন। সব মিলিয়ে ৯২ রান খরচায় ৫ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং মেরুদণ্ড একাই ভেঙে দেন আব্বাস। এছাড়া ১১৩ রানে ৩টি উইকেট নেন আফ্রিদি। একটি করে উইকেট লাভ করেন হাসান আলি ও নোমান আলী। শেষ দিকে বোলার তাসকিন আহমেদ ২৮ রান না করলে স্বাগতিকদের স্কোর চারশ পার হওয়া কঠিন ছিল। ১১২ রান যোগ করতেই শেষ ৬ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা ছিল যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। স্বাগতিক বোলারদের এলোমেলো বোলিংয়ের সুযোগ নিয়ে দুই ওপেনার ইমাম-উল-হক এবং আজান দারুণ এক ভিত গড়ে দেন। উদ্বোধনী জুটিতে তারা যোগ করেন মূল্যবান ১০৬ রান। মিরাজের বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে ৪৫ রানের একটি কার্যকরী ইনিংস খেলেন ইমাম। তবে সব আলো কেড়ে নেন অভিষিক্ত আজান।

নাহিদ রানার একটি ভয়ংকর বাউন্সার তার হেলমেটে আঘাত হানলেও তিনি দমে যাননি। সাময়িক অস্বস্তি কাটিয়ে পুনরায় মাঠে ফিরে অসাধারণ দৃঢ়তা দেখিয়েছেন এই তরুণ। তার অপরাজিত ৮৫ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিল নান্দনিক সব শটে। ইমাম ফিরে যাওয়ার পর আরেক অভিষিক্ত ব্যাটার আব্দুল্লাহ ফাজালকে নিয়ে দলের হাল ধরেন আজান। ফাজালও তাকে দারুণ সঙ্গ দিয়ে ৩৭ রানে অপরাজিত থাকেন। এই দুজন মিলে অবিচ্ছিন্ন ৭৩ রানের জুটি গড়ে নিরাপদ অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছেন। স্পিনার ও পেসারদের সমন্বয়ে গড়া বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ তাদের সামনে কোনো বাধাই তৈরি করতে পারেনি। ম্যাচের এই কঠিন পরিস্থিতিতে স্বাগতিকদের হতাশা আরও বাড়িয়েছে বাজে ফিল্ডিং। উইকেটে যখন বোলাররা সুবিধা পাচ্ছিলেন না, তখন ফিল্ডাররাও যোগ্য সঙ্গ দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। পেসার ইবাদতের দারুণ এক গতিময় ডেলিভারিতে স্লিপে সহজ ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন ইমাম। কিন্তু জয় সেই সুযোগ হাতছাড়া করেন। একইভাবে তাসকিনের বলে দ্বিতীয় স্লিপেই ফাজালের ক্যাচ ছেড়ে দেন সাদমান ইসলাম। সুযোগ হাতছাড়া করার চরম মূল্য এখন চোকাতে হচ্ছে শান্তর দলকে। নতুন বলে তাসকিন ও ইবাদত প্রথমদিকে টানা ‘নো’ বল করে নিজেদের ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছিলেন। লাইন ও লেংথে ধারাবাহিকতার অভাবে তারা তরুণ ব্যাটারদের কোনো পরীক্ষাতেই ফেলতে পারেননি। সারা দিনে বাংলাদেশের বোলাররা মাত্র একটি উইকেট শিকার করতে পেরেছেন। ৩৭ রান দিয়ে একমাত্র উইকেটটি তুলে নেন স্পিনার মিরাজ। ফিল্ডারদের ব্যর্থতা এবং বোলারদের ছন্নছাড়া পারফরম্যান্সের কারণে সফরকারীরা চালকের আসনে বসেছে। তৃতীয় দিনে তাই বাংলাদেশের সামনে পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন