প্রথম আলো
‘জাপানি ঋণের সুদের হার বাড়ল, চাপে বাংলাদেশ’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, জাপান বৈদেশিক ঋণসহায়তার ক্ষেত্রে সুদের হার আরও বাড়িয়েছে। সস্তায় ঋণ দিতে সুপরিচিত দেশটি সুদের হার বাড়ানোয় বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ঋণের বড় একটি উৎস জাপান। এখন দেশটি থেকে বাংলাদেশকে ঋণ নিতে হলে বাড়তি সুদ দিতে হবে।
ঢাকায় জাপানের দূতাবাস থেকে গত ২৯ মার্চ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে একটি চিঠি দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, জাপান সরকার বৈদেশিক সহায়তা বা অফিশিয়াল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্সের পর্যালোচনা করেছে। এটি নিয়মিত পর্যালোচনার অংশ। নতুন সুদের হার ও শর্তাবলি ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে।
চিঠির সঙ্গে মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের জন্য সুদের হার ও শর্তাবলি যুক্ত করা হয়েছে। সেই তালিকা বিশ্লেষণ করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেছেন, বিশেষ প্রকল্পের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এবং সাধারণ—এই তিন শ্রেণিতে জাপান ঋণ দেয়। কোনো ঋণের সুদের হার স্থির এবং কোনোটির পরিবর্তনশীল।
সাধারণ জাপানি ঋণের ক্ষেত্রে গত বছরের অক্টোবরেও সুদের হার (স্থির) ছিল ২ দশমিক ৯ শতাংশ। সেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশে। অর্থাৎ, সুদের হার বেড়েছে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশীয় বিন্দু। স্থির সুদের হারের ক্ষেত্রে আরও তিনটি বিকল্প রয়েছে। সে ক্ষেত্রে সুদ একই হারে বেড়েছে। তিন বিকল্পের মধ্যে সর্বনিম্ন সুদের হার ২ দশমিক ৭ শতাংশ, যা এত দিন ছিল ২ শতাংশ। আরও বিভিন্ন ধরনের ঋণ ও সুদের হার রয়েছে।
জাপানি নাগরিকদের জন্য পরামর্শক ফি বেড়েছে। তবে ঋণ পরিশোধের সময়কাল ও গ্রেস পিরিয়ড (যে সময়ের জন্য সুদ নেই) সময়সীমা অপরিবর্তিত রয়েছে। সাধারণ ও স্থির সুদহারের ঋণের ক্ষেত্রে পরিশোধের সময়সীমা ১৫ থেকে ৪০ বছর। গ্রেস পিরিয়ড ৫ থেকে ১০ বছর।
সুদের হার বাড়ানোর ফলে জাপানের ঋণে প্রস্তাবিত তিনটি প্রকল্প ফেরত পাঠিয়েছে ইআরডি। প্রকল্প তিনটি হলো উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্প (ইউজিডিপি), হাওর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উন্নয়ন প্রকল্প। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য তিনটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল।
ইআরডির একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, এত বেশি সুদে ঋণ নিয়ে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন লাভজনক হবে না। তাই তিনটি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ইআরডির অতিরিক্ত সচিব (জাপান অনুবিভাগ) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, জাপান নতুন ঋণের সুদের হার নির্ধারণের পর তাদের কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার বিষয়ে সরকার বেশ সতর্ক। এখন থেকে এমন প্রকল্প নেওয়া হবে, যেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকে বেশি। অর্থনৈতিক সুফলও বেশি থাকে।
বড় ঋণদাতা জাপান
জাপান বাংলাদেশের বড় উন্নয়ন সহযোগী। বিদেশি ঋণ ও সহায়তা বিষয়ে ইআরডির প্রতিবেদন (২০২৪–২৫) বলছে, ২০২৫ সালের ৩০ জুন বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের পরিমাণ (স্থিতি) ছিল ৭ হাজার ৭২৮ কোটি মার্কিন ডলার। এর ১৮ শতাংশই দিয়েছে জাপান।
বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ঋণ পেয়েছে বিশ্বব্যাংকের আইডিএ (ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন) থেকে, যা মোট পরিমাণের ২৯ শতাংশ। এরপর রয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), যাদের পরিমাণ ২৩ শতাংশ। তারপরই জাপান, রাশিয়া (১১ শতাংশ), চীন (৭ শতাংশ), ভারত (২ শতাংশ) এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার অবস্থান।
জাপান তাদের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার মাধ্যমে বাংলাদেশের মেট্রোরেল, মহেশখালীর মাতারবাড়ীর বিদ্যুৎকেন্দ্র, ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল, যমুনা নদীর ওপর নির্মিত রেলওয়ে সেতুসহ বিভিন্ন প্রকল্পে সাম্প্রতিক কালে ঋণ দিয়েছে।
জাইকার সঙ্গে গত বছরের ২৭ জুন রেলপথ মন্ত্রণালয় জয়দেবপুর থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণে প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা ঋণের চুক্তি করে। এ ঋণের সুদের হার ছিল ২ শতাংশ। ১০ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ৩০ বছর। পরামর্শক সেবা ছিল শূন্য দশমিক ৬৫ শতাংশ।
অবশ্য দুটি প্রকল্প নিয়ে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কিছুটা শীতল যাচ্ছে। প্রকল্প দুটি হলো মেট্রোরেল-১ (কমলাপুর থেকে পূর্বাচল) ও হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থার্ড টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা। জাইকার শর্তের কারণে মেট্রোরেল প্রকল্পে প্রতিযোগিতার সুযোগ কম। ব্যয় বেশি পড়ছে। অন্যদিকে থার্ড টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা করতে চায় জাপান।
বিদেশি ঋণ ও সুদের হার
কোন দেশ বা সংস্থার সুদের হার কত, তা একবাক্যে বলা কঠিন। কারণ, প্রকল্প ও ঋণের ধরনের কারণে সুদের হার ও শর্তে পরিবর্তন আসে। ইআরডি সূত্র বলছে, বিশ্বব্যাংকের আইডিএ ঋণের সুদের হার এখন ১ দশমিক ২৫ শতাংশ। সার্ভিস চার্জ বা সেবা মাশুল আরও দশমিক ৭৫ শতাংশ। সব মিলিয়ে সংস্থাটির ঋণের সুদের হার ২ শতাংশে দাঁড়ায়। ৫ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ২৫ বছরে বিশ্বব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করা হয়। তবে বিশেষ প্রয়োজনে কঠিন শর্তে বিশ্বব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হয়, যার সুদের হার ৪ শতাংশের বেশি।
এ ছাড়া এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বা এডিবি থেকে ২ শতাংশ হারে ঋণ নেয় বাংলাদেশ। ৫ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ২০ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করা হয়। এডিবি থেকেও বিশেষ প্রয়োজনে কঠিন শর্তে ঋণ নেয় বাংলাদেশ। তখন সে ঋণের সুদের হার ৪ শতাংশের বেশি হয়।
বাংলাদেশ সাধারণত বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও জাপান থেকে স্বল্প সুদ ও সহজ শর্তের ঋণ বেশি পায়। চীনা ঋণের শর্ত কঠিন। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে রাশিয়ার ঋণও তুলনামূলক কঠিন শর্তে নিয়ে বাংলাদেশ। এই প্রকল্পে রাশিয়া ১ হাজার ১৩৮ দশমিক ৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে, যার সুদের হার পড়বে ৪ শতাংশের মতো। পরিশোধের সময়কাল ২৮ বছর। গ্রেস পিরিয়ড ১০ বছর।
চীনা ঋণের সুদের হার সাধারণত ২ থেকে সোয়া ২ শতাংশ হয়ে থাকে। তবে পরিশোধের সময়কাল কম, ১৫ বছরের মতো।
সুদের হার কম রাখলেও অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্পে কেনাকাটা ঋণদাতা দেশ থেকে করতে হয়। তখন পণ্যের দাম বেশি রাখায় খরচ বেড়ে যায়।
দেশের আয়ের ওপর ভিত্তি করে সুদের হার কমবেশি হয়। বিশ্বব্যাংক মধ্যম আয়ের দেশগুলোকে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করে—নিম্নমধ্যম আয় ও উচ্চ মধ্যম আয়। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ নিম্নমধ্যম আয়ের শ্রেণিভুক্ত হয়। তখন থেকেই বিভিন্ন সংস্থার সুদের হার বাড়তে থাকে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সহজ শর্তে ঋণের (কনসেশনাল ফাইন্যান্স) সুযোগ সীমিত হয়ে আসছে। সবাই এখন বাজারমূল্য অনুযায়ী সুদ নেওয়া শুরু করেছে। এর চাপ এখনই কিছু কিছু পড়তে শুরু করেছে। ভবিষ্যতে চাপ আরও বাড়বে।
জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ২১ এপ্রিল জানান, বাংলাদেশ সরকারের বিদেশি ঋণ এখন ৭ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ সাড়ে ৯ লাখ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা করে)। ২০২৩-২৪ অর্থবছরেও বৈদেশিক ঋণের দায় ছিল ৬ হাজার ৮০০ কোটি ডলার।
সরকারকে প্রতিবছর বিপুল টাকা ব্যয় করতে হয় ঋণের সুদাসল হিসেবে পরিশোধে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধ করা হয় ৪০০ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা।
সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান প্রথম আলোকে বলেন, ভবিষ্যতে যাতে বিদেশি ঋণে ভেবেচিন্তে প্রকল্প নেওয়া হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। যেসব প্রকল্পে কর্মসংস্থান হবে এবং অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, কেবল সেসব প্রকল্প নিতে হবে।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পতার প্রতিবেদন ‘পুলিশের বিতর্কিত কর্মকর্তারা ফিরছেন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে’। খবরে বলা হয়, ‘থানার এসি-টিভি খুলে বাসায় নিলেন ওসি’-শিরোনামে ২০২৩ সালের ২৬ আগস্ট যুগান্তরে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। একই দিন অন্য একটি দৈনিকের শিরোনাম ছিল-‘বদলির আদেশ পাওয়ার পর থানার এসি-টেলিভিশন খুলে নিলেন ওসি।’ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় দৈনিক বা নিউজ পোর্টালসহ প্রায় সব গণমাধ্যমেই খবরটি জায়গা করে নেয়।
যাকে নিয়ে এই সংবাদ-তিনি ছিলেন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম। থানা থেকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), টেলিভিশন, আইপিএস ও সোফা সেট নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক আলোচনায় আসেন তিনি। অভিযোগ ওঠার পর ভূঞাপুর থানা থেকে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয় তাকে। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রভাবশালী সেই ফরিদুল এখন রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বনানী থানার ওসি।
ফরিদুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ভূঞাপুর থানা থেকে জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার খবরটি ওই সময় মিডিয়ায় অতিরঞ্জিতভাবে ছাপা হয়েছিল। তিনি নিজেকে বঞ্চিতও দাবি করেন।
শুধু ফরিদুল ইসলাম একা নন; আওয়ামী আমলের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তারা ফের বিভিন্ন থানায় ওসির দায়িত্ব পাচ্ছেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে যাদের ঢাকা থেকে দূরবর্তী স্টেশনে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছিল, তাদের পদায়ন দেওয়া হচ্ছে ঢাকায়। পুলিশের উচ্চপর্যায়কে ম্যানেজ করেই এসব পদায়ন হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের পদায়নের মাধ্যমে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে গোটা পুলিশ প্রশাসনের। প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে।
অপরদিকে আওয়ামী শাসনামলে বঞ্চনার শিকার পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ। তাদের অভিযোগ, পদায়নের ক্ষেত্রে বঞ্চিতদের উপেক্ষা করে হাসিনা সরকারের সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদেরই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
সাবেক আইজিপি নূরুল হুদা যুগান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের শেষের দিকে পুলিশ চরম ভাবমূর্তি সংকটে পড়ে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর সেই ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলানো হয়। সাম্প্রতিক সময়ে যেভাবে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হচ্ছে, তাতে পুলিশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার কঠিন হয়ে যাবে।
দুটি হত্যা মামলার আসামি মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানকে ৫ মে ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) হিসাবে পদায়ন করা হয়। পতিত আওয়ামী সরকারের আমলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছিলেন তিনি। ওই সময় তার বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াতের কর্মসূচিতে বাধা, হামলা ও বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর ব্যাপক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে মাহবুবের কর্মকাণ্ড সামনে আসে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের আদালত ও থানায় তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলা করেন ভুক্তভোগীরা। এর মধ্যে জেলার শিবগঞ্জ থানার যুবদল নেতা মিজান হত্যা মামলা উল্লেখযোগ্য। ওই মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানায় পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন মিজান। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আইনাল হক ২০২৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর শিবগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই মামলার ১০ নম্বর আসামি মাহবুব আলম খান। ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর ফিরোজ আহমেদ নামে আরও একজন ভুক্তভোগী বাদী হয়ে শিবগঞ্জ থানায় অপর হত্যা মামলাটি করেন। ওই মামলায় ১২ জন আসামির মধ্যে মাহবুব আলম খানের নাম ৩ নম্বরে।
মাহবুব আলম খান বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে দুটি হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল তার সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে আসামি করা হয়। আমি আশা করছি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ থেকে রেহাই পাব। ফেনী জেলায় কবে যোগদান করবেন-জানতে চাইলে বলেন, ‘আইজিপি মহোদয় যেদিন বলবেন, সেদিন।’
নুরুল মুত্তাকিন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ওসি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডেমরা, ভাটারা, তুরাগ এবং লালবাগ থানার ওসি হিসাবে। পদোন্নতি পেয়ে ডিএমপির সহকারী কমিশনার (এসি) হিসাবেও কাজ করেন একাধিক স্থানে। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর তাকে এপিবিএনে বদলি করা হয়। ৯ মার্চ তাকে এপিবিএন থেকে পদায়ন করা হয় ডিএমপিতে। এখন তিনি এসি (প্যাট্রোল) হিসাবে মোহাম্মদপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কর্মরত।
কালের কণ্ঠ
দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম ‘বাড়ছে সশস্ত্র ছিনতাই, হত্যা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোররাত ৪টা। তখনো চারদিকের অন্ধকার কাটেনি। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন অফিসের সামনের সড়কে একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিল। রিকশায় বসা শিল্পী বেগম (৪০)।
তাঁর চোখে-মুখে উদ্বেগ। ব্যাগে শাশুড়ির জরুরি চিকিৎসার জন্য ২৫ হাজার টাকা। কয়েক মিনিট আগে নিউরোসায়েন্স হাসপাতাল থেকে তাঁর স্বামী ফোন করে জানিয়েছেন, মায়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক, দ্রুত টাকা নিয়ে আসতে হবে। কিন্তু হাসপাতালের দোরগোড়ায় পৌঁছার আগেই তাঁর পথ আগলে দাঁড়ায় দুটি মোটরসাইকেল।
তাতে ছয়জন সশস্ত্র যুবক। মুহূর্তেই ঝিলিক দিয়ে ওঠে ধারালো অস্ত্র। বাধা দিতেই শিল্পী বেগমের পেট ও পায়ে কোপ বসিয়ে দেয় তারা। রক্তাক্ত শিল্পী বেগম যখন রিকশায় লুটিয়ে পড়েন, ছিনতাইকারী সশস্ত্র যুবকরা তখন টাকা আর মোবাইল নিয়ে উধাও হয়ে যায়।
এ ঘটনা শুধু শিল্পী বেগমের একার নয়। গত কয়েক সপ্তাহে রাজধানীর অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়কগুলোয় এমন অনেক সশস্ত্র
ছিনতাইয়ের ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন নগরীর বাসিন্দারা। ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাত আর সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির ঘটনায় বর্তমানে প্রায় প্রতিদিন আতঙ্কে ভুগছেন রাজধানীর সাধারণ মানুষ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু সশস্ত্র ছিনতাই নয়, চুরি-ডাকাতির সঙ্গে রাজধানীতে হত্যার ঘটনাও উদ্বেগজনক। গত চার মাসে রাজধানীতে ৭৮ জন হত্যার শিকার হয়েছেন।
আর গত ছয় মাসে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রায় এক হাজার ১০০ ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে গত ১ থেকে ৭ মে পর্যন্ত ৭০০ জনকে নানা অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ২০০ জন ছিনতাইকারী।
রাজধানীতে এত ছিনতাইকারী গ্রেপ্তারের পরও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ার কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু পুলিশি কার্যক্রম দিয়ে এসব অপরাধ রোধ করা যাবে না। এর থেকে মুক্তি পেতে রাজনীতিবিদ, সমাজের সাধারণ মানুষসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। যেসব ছিনতাইকারী মাদকের সঙ্গে জড়িত, তাদের মাদক নিরাময় কেন্দ্রে রেখে সুস্থ করে তুলে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।
আগারগাঁওয়ের ঘটনায় গুরুতর জখম শিল্পী বেগম ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁর স্বামী ব্যবসায়ী আবদুল হক কালের কণ্ঠকে জানান এক বিষাদময় কাহিনি। গত ১ মে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট থেকে স্ট্রোক করা মাকে নিয়ে এসেছিলেন ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে। মায়ের জীবন বাঁচাতে টাকার জন্য স্ত্রী শিল্পী বেগমকে ফোন করেছিলেন। সেই টাকা নিয়ে ইব্রাহিমপুরের বাসা থেকে আসার পথে স্ত্রী ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতের শিকার হন। আবদুল হকের অভিযোগ আরো গুরুতর।
গতকাল শুক্রবার তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এত বড় ঘটনার পর আমি যখন শেরেবাংলানগর থানায় মামলা করতে গেলাম, পুলিশ মামলা নিতে চাইল না। তারা বলল, ছিনতাইকারীদের নাম দিতে না পারলে মামলা হবে না। শেষমেশ শুধু একটি অভিযোগ নিয়ে আমাকে বিদায় করে দেওয়া হয়।’
থানা পুলিশের এ ধরনের শীতল আচরণে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা শঙ্কা আরো বাড়ছে। ছিনতাইয়ের অভিযোগটি তদন্তকারী কর্মকর্তা শেরেবাংলানগর থানার এসআই জাহিদ গতকাল কালের কণ্ঠকে জানান, তাঁরা তদন্ত করছেন, কিন্তু কোনো সিসিটিভি ফুটেজ পাননি। ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার করতে পারলে মামলা করা হবে।
প্রশ্ন উঠেছে, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যদি সিসিটিভি না থাকে বা পুলিশ যদি নাম ছাড়া মামলা নিতে গড়িমসি করে, তবে অপরাধীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠবে। আগারগাঁওয়ের মতো রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর, মালিবাগ, শাহবাগ, যাত্রাবাড়ী, আদাবরসহ নানা এলাকায় প্রায়ই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে।
সমকাল
‘ভারত ও চীনের চার কেন্দ্রের বিদ্যুতের দাম অস্বাভাবিক’-এটি দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত ও চীনের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে নির্মিত চারটি কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। সরকারের অভ্যন্তরীণ এক নথিতে বলা হয়েছে, এসব কেন্দ্রের বিদ্যুতের ট্যারিফ বা ক্রয়মূল্য অস্বাভাবিক বেশি। আগের সরকারের সময় করা বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির (পিপিএ) কিছু শর্তের কারণেই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্র চারটি হলো– ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি গ্রুপের গোড্ডা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, বাগেরহাটে ভারত সরকারের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে নির্মিত রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র (মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট), পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চীনের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে নির্মিত পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং আরপিসিএল-নরিনকো ইন্টারন্যাশনাল পাওয়ার লিমিটেড (আরএনপিএল)।
অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির জন্য প্রস্তুত করা নথিতে বলা হয়েছে, এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের বিদ্যুৎ খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এগুলোর উচ্চ ট্যারিফ দেশের ওপর আর্থিক চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে। উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিক্রি করতে গিয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি) বড় অঙ্কের ভর্তুকির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুসারে, আদানি গ্রুপের গোড্ডা এবং তিনটি যৌথ মালিকানার কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের জন্য বছরে প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি লাগবে।
এমন পরিস্থিতিতে ভারত ও চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা করে সংশ্লিষ্ট চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়ার চিন্তা করছে সরকার। বিদ্যুৎ বিভাগের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এসব চুক্তিতে রিটার্ন অন ইকুইটি (আরওই), নন-রেগুলেটেড রিটার্ন অন ইকুইটি (এআরওই), পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় (ওঅ্যান্ডএম কস্ট) এবং হিট রেটের মতো আর্থিক উপাদান এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বিদ্যুতের ট্যারিফ অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর ক্ষেত্রে উৎপাদন ব্যয় ও ক্যাপাসিটি চার্জ সরকারের ওপর দীর্ঘমেয়াদি বড় আর্থিক দায় তৈরি করেছে।
সরকারের নথিতে বলা হয়েছে, দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে এসব শর্ত পুনর্বিবেচনা করা গেলে ট্যারিফ কমানো সম্ভব হতে পারে। এতে রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা কমিটিও এর আগে বড় বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর চুক্তি ও ব্যয় কাঠামো পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করেছিল। কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছিল, দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে করা কয়েকটি চুক্তিতে অতিরিক্ত ব্যয় ও ঝুঁকির ভার চাপানো হয়েছে। বিশেষ করে ক্যাপসিটি চার্জ, ডলারভিত্তিক পরিশোধ ব্যবস্থা এবং উচ্চ রিটার্ন নিশ্চয়তার বিষয়গুলো দীর্ঘ মেয়াদে রাষ্ট্রের জন্য বড় আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। কমিটি কয়েকটি বিদ্যুৎ প্রকল্পের ট্যারিফ ও চুক্তির শর্ত পুনরায় আলোচনারও পরামর্শ দিয়েছিল।
বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, এখন চুক্তি সংশোধনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদেশি ঋণ। পায়রা ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিপরীতে বিদেশি ঋণ রয়েছে এবং সেই ঋণের জন্য রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টিও দেওয়া হয়েছে। ফলে ট্যারিফ কমাতে গেলে সংশ্লিষ্ট বিদেশি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এখন পর্যন্ত সেই ছাড়পত্র না পাওয়ায় সংশোধিত ট্যারিফ প্রস্তাব সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে উপস্থাপন করা যায়নি।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, এ বিষয়ে ঋণদাতাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি ভারত ও চীনের সঙ্গেও কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে যৌথ বিনিয়োগের দুটি বড় কেন্দ্র পূর্ণসক্ষমতায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। বাংলাদেশ-চীন যৌথ উদ্যোগের পায়রা এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ২০২০ সালের ডিসেম্বরে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যায়। অন্যদিকে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগের রামপাল এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কেন্দ্র উৎপাদনে আসে ২০২৪ সালের মার্চে। এ দুই কেন্দ্রকে গত মার্চ পর্যন্ত সরকার ভর্তুকি দিয়েছে। তবে আরপিসিএল-নরিনকো পাওয়ার লিমিটেডের (আরএনপিএল) পটুয়াখালী এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র এখনও পুরোপুরি বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে পারেনি। যদিও বিদ্যুৎ সংকট সামাল দিতে কেন্দ্রটির একটি ইউনিট গত সেপ্টেম্বর থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। কিন্তু পুরো প্রকল্পের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিল করতে পারছে না। ফলে কয়লা কেনার জন্য অর্থ সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ আশঙ্কা করছে, দ্রুত আর্থিক সমাধান না হলে কেন্দ্রটির উৎপাদন কার্যক্রমও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় অবস্থিত এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। কয়লার মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি নিয়ে আদানি ও পিডিবির মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় বিষয়টি বর্তমানে সিঙ্গাপুরে সালিশ পর্যায়ে রয়েছে। আদানির মতে, মার্চ পর্যন্ত বকেয়া প্রায় ৬৮৮ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ৩৯৩ মিলিয়ন ডলারকে বিতর্কহীন বলছে আদানি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার কারণে গ্যাস ও তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো জ্বালানি সংকটে পড়ায় সরকার এখন কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর ওপর আরও বেশি নির্ভর করছে। এ জন্য উচ্চমূল্যে কয়লা আমদানি করেও এসব কেন্দ্র সচল রাখার চেষ্টা চলছে। এতে ভর্তুকির চাপ আরও বাড়ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের নথিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সম্ভাব্য ভর্তুকির একটি হিসাবও দেওয়া হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, শুধু এই চার বড় কেন্দ্রের জন্যই আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সম্ভাব্য ভর্তুকির পরিমাণ প্রায় ২৭ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। এর মধ্যে আদানি পাওয়ারের জন্য সাত হাজার ৮২১ কোটি টাকা, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ছয় হাজার ৮২৫ কোটি টাকা, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ছয় হাজার ৮১৪ কোটি টাকা এবং আরএনপিএলের পটুয়াখালী কেন্দ্রের জন্য ছয় হাজার ২৬০ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রয়োজন হতে পারে বলে সরকারি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইত্তেফাক
দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর ‘হামের প্রাদুর্ভাব রোধের পাশাপাশি ডেঙ্গুর জন্য প্রস্তুতি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, হামের প্রাদুর্ভাব রোধের পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এবার ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব হওয়ারও আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞগণ। এ কারণে সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিভাগীয় পর্যায়ের হাসপাতাল এলাকায় ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডা. মিলন অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গনে ২০ শয্যার একটি ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে।
বর্তমানে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব চলছে। গত ২৪ ঘন্টায় আরো ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অনেক সরকারি হাসপাতাল হামের প্রাদুর্ভাব সামাল দিতে কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সামনে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত রাখার কার্যক্রম চলছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকগণের মতে হামের মত ডেঙ্গুরও প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত কিছু সংখ্যক রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। তাই হামের প্রাদুর্ভাব থেকে শিক্ষা নিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগাম প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন চিকিত্সকগণ।
এদিকে হামে আক্রান্ত সকল শিশুর হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন নেই বলে চিকিত্সকরা জানিয়েছেন। শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, হাম বা মিজেলস একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এটি একটি ছোঁয়াচে রোগও । সাধারণত হাম শুরু হওয়ার সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে নিজ থেকে ভাল হয়ে যায়। খুব কম ক্ষেত্রে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন পড়ে বলে তিনি জানান।
যেসব লক্ষ্মণ দেখা দিলে হাসপাতালে যেতে হবে : শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, রোগীর শ্বাসকষ্ট বা শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হলে, বুকের খাঁচা দেবে গেলে তরল খাবার বা বুকের দুধ খেতে না পারলে, বারবার বমি হলে, খিঁচুনি, নিস্তেজ, তন্দ্রাচ্ছন্ন বা ডাকে সাড়া না দিলে, মুখে ঘা, চোখের সমস্যা, চোখ খুলতে না পারা ও তীব্র পানি শূন্যতা বা অপুষ্টিজনিত উপসর্গ দেখা দিলে, রোগীকে হাসপাতালে নিতে হবে।
শিশু হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ও অধ্যাপক ডা. শফি আহমেদ মোয়াজ বলেন, হামে আক্রান্ত বা উপসর্গ নিয়ে জ্বর হলে চিকিত্সা দিলে বেশিরভাগ সুস্থ হয়ে যায়। হাসপাতালে নেয়ার প্রয়োজন নাই। তবে হামের ধরণের কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেছে। হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে প্রথমে ডায়রিয়া ও পরে জ্বর এবং গায়ে র্যাশ দেখা যায়। এ ধরণের শিশু চিকিত্সার জন্য আসছে। শিশুদের জ্বর হলে চিকিত্সকদের পরামর্শ নিতে বলেন তিনি।
ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহবুবুল হক বলেন, শিশুদের জ্বরের পর যদি র্যাশ হয়, এ ক্ষেত্রে হাসপাতালে আসার প্রয়োজন নেই। সেক্ষেত্রে চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে। জ্বরের পর নিউমোনিয়ার লক্ষ্মণ দেখা দিলে অবশ্যই দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি। হামে সুস্থ হলেও পরবর্তীতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অন্য জীবাণু দিয়ে নিউমোনিয়া আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে অথবা লক্ষ্মণ দেখা দিলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
নয়া দিগন্ত
‘ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফেরায় বাড়ছে আমদানি ব্যয়’-এটি দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার প্রতিবেদন। খবরে বলা হয়, দেশের অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে গতি ফিরছে। শিল্পকারখানায় উৎপাদন বাড়ছে, কাঁচামাল ও ভোগ্যপণ্যের আমদানিও ঊর্ধ্বমুখী। এর প্রভাব পড়েছে আমদানি ব্যয়ের ওপর। সেই ধারাবাহিকতায় মার্চ-এপ্রিল সময়ের আমদানি বিল বাবদ এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) কাছে ১ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে শিল্প খাতে উৎপাদন কার্যক্রম কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় কাঁচামাল, জ্বালানি, ভোগ্যপণ্য ও মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি বেড়েছে। ফলে আকুর মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া আমদানি দায়ও বেড়েছে। যদিও এটি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরার একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত, তবে একই সাথে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপও বাড়াচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত দেশের মোট বা গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৫ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব অনুযায়ী নিট রিজার্ভ ছিল ৩০ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার। আকুর বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ আরো কিছুটা কমে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে সমন্বয় শেষে রিজার্ভের প্রকৃত অবস্থান জানা যাবে।
গত কয়েক দফাতেই আকুর দায় পরিশোধের অঙ্ক এক বিলিয়ন ডলারের বেশি থাকছে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি সময়ের আমদানি বিল বাবদ ১৩৬ কোটি ৮৭ লাখ ডলার পরিশোধ করেছিল বাংলাদেশ। ২০২৫ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর সময়ে এ দায় ছিল প্রায় ১৫৩ কোটি ডলার। একই বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর সময়ে পরিশোধ করা হয় ১৬১ কোটি ডলার। এরও আগে জুলাই-আগস্ট সময়ে প্রায় ১৫০ কোটি ডলার এবং মে-জুন সময়ে রেকর্ড ২০২ কোটি ডলার পরিশোধ করতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। অর্থাৎ, প্রতি দুই মাস অন্তর গড়ে সোয়া এক বিলিয়ন ডলারের বেশি দায় পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা দেশের আমদানি ব্যয়ের উচ্চ প্রবণতাকেই নির্দেশ করছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশে শিল্প উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই আমদানি ব্যয় বাড়ে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও ভোগ্যপণ্য খাতে কাঁচামাল আমদানির ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা অনেক বেশি। ফলে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি ফিরলে আমদানির চাপও বাড়ে। তবে রফতানি আয় ও প্রবাসী আয় বাড়লে এই চাপ কিছুটা সামাল দেয়া সম্ভব হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ধারাও কিছুটা ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। এ ছাড়া রফতানি আয়ও ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবু ডলারের চাহিদা বেশি থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সতর্ক অবস্থানে থাকতে হচ্ছে। ব্যাংক খাতে ডলারের তারল্য বাড়লেও আমদানি দায় পরিশোধে এখনো চাপ রয়েছে। এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন বা আকু হলো সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের লেনদেন নিষ্পত্তির একটি আন্তঃরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা। জাতিসঙ্ঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের উদ্যোগে ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সদর দফতর ইরানের রাজধানী তেহরানে।
বণিক বার্তা
দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম ‘মাধ্যমিক ও কলেজে শিক্ষার্থীর হার বেশি হলেও শিক্ষকতা ও নেতৃত্বে পিছিয়ে নারীরা’। খবরে বলা হয়, প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক—শিক্ষার প্রায় প্রতিটি স্তরেই এখন ছেলেদের তুলনায় দেশের মেয়েদের অংশগ্রহণ বেশি।
শুধু ভর্তি নয়, উপস্থিতি ও পরীক্ষার ফলেও ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। তবে শিক্ষার্থী হিসেবে এগিয়ে থাকলেও মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষকতা ও নেতৃত্বদানের ক্ষেত্রে এখনো বেশ পিছিয়ে নারীরা।
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রাথমিক স্তরে নারী শিক্ষকদের অংশগ্রহণ সন্তোষজনক পর্যায়ে থাকলেও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে এ চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। কওমি মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থায় এ ব্যবধান আরো প্রকট। বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে নারী শিক্ষকের হার এক-তৃতীয়াংশেরও কম। অর্থাৎ শ্রেণীকক্ষে ছাত্রীদের উপস্থিতি বেশি হলেও শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক, অধ্যক্ষ কিংবা প্রশাসনিক নেতৃত্বে পুরুষদেরই আধিপত্য।
শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের মতে, গত এক দশকে নারীশিক্ষায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। উপবৃত্তি, বিনামূল্যে বই বিতরণ, সচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিবারে মেয়েদের শিক্ষার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরির কারণে এসেছে এ পরিবর্তন। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকাতেও এখন মেয়েদের স্কুল ও কলেজে যাওয়ার হার বেড়েছে। তবে শিক্ষাজীবন শেষ করার পর কর্মক্ষেত্রে প্রবেশে নারীরা এখনো নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন। আবার অধ্যক্ষ বা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মতো শীর্ষ পর্যায়ের প্রশাসনিক পদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব একেবারেই কম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. তানিয়া হক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নেতৃত্ব বা প্রধান শিক্ষকের মতো দায়িত্বপূর্ণ অবস্থানে পুরুষদের ক্ষেত্রে সাধারণত সহজেই ধরে নেয়া হয় যে—তারা যোগ্য ও দায়িত্ব পালনে সক্ষম। কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে যোগ্যতা অর্জনের পরও আলাদাভাবে প্রমাণ করতে হয়, তারা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত। সমাজের এ মানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গি নারীদের অগ্রগতির ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে।’
ব্যানবেইস প্রকাশিত সর্বশেষ শিক্ষা পরিসংখ্যান-২০২৪ অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মাধ্যমিক স্তরে মোট শিক্ষার্থী ৯০ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ জন। এর মধ্যে ৪৯ লাখ ৬০ হাজার ৭৩ ছাত্রী, যা মোট শিক্ষার্থীর ৫৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এ স্তরে মোট শিক্ষক ২ লাখ ৯৩ হাজার ২৮৯ জন। এর মধ্যে নারী ৯২ হাজার ৪৯২ জন, যা মোট শিক্ষকের মাত্র ৩১ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
আবার মাধ্যমিক স্তরে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নারী শিক্ষকের হার সবচেয়ে বেশি গার্হস্থ্য অর্থনীতিতে। এর পরই রয়েছে সংগীত ও বাংলা। এ তিন বিষয়ে নারী শিক্ষকের হার যথাক্রমে ৯৪ দশমিক ৫০, ৫৫ দশমিক ৯৫ ও ৫২ দশমিক ১১ শতাংশ। আর সবচেয়ে কম নারী শিক্ষক ইসলাম শিক্ষা (১১ দশমিক ৪০) ও গণিতে (১২ দশমিক ৫১)।
উচ্চ মাধ্যমিকে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৯ লাখ ২৬ হাজার ২৬৬। এ স্তরে ২৫ লাখ ৩৭ হাজার ৯৯৮ ছাত্রী, যা কলেজ পর্যায়ের মোট শিক্ষার্থীর ৫১ দশমিক ৫২ শতাংশ। তবে এ স্তরে মোট ১ লাখ ৩২ হাজার ৭৮৯ শিক্ষকের মধ্যে নারী আছেন কেবল ৩৭ হাজার ২৫২ জন। অর্থাৎ মোট শিক্ষকের মাত্র ২৮ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ নারী।
এদিকে মাদরাসাগুলোর মধ্যে প্রায় ৮৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠানেই কো-এডুকেশনের সুযোগ রয়েছে। আর মেয়েদের জন্য বিশেষায়িত মাদরাসার হার ১২ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। শিক্ষা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে মাদরাসা শিক্ষার্থীর ৫২ দশমিক ২৬ শতাংশ ছাত্রী। অথচ বিশেষায়িত এ শিক্ষায় নারী শিক্ষকের হার মাত্র ১৯ দশমিক ২২ শতাংশ।
দেশের বিভিন্ন মহিলা মাদরাসায় প্রশাসনিক ও ক্ষমতার কাঠামো নিয়ে তাই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা মনে করেন, নামের সঙ্গে ‘মহিলা’ শব্দটি যুক্ত থাকলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা পুরুষ পরিচালকদের হাতেই কেন্দ্রীভূত। নীতিনির্ধারণ থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী ও নারী শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই থাকে তার একচ্ছত্র প্রভাব। ফলে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে একটি বদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ তৈরি হয়, যেখানে ভিন্নমত বা অভিযোগ প্রকাশের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন মহিলা মাদরাসায় যৌন নিপীড়নেরও অভিযোগ উঠেছে। তাই নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিমূলক প্রশাসন ও নারী নেতৃত্বের অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও নারী শিক্ষকদের নিরাপত্তা ও মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কার্যকর তদারকিরও দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজকের পত্রিকা
‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: চরম আবাসন সংকটে ছাত্রীরা’-এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তার। বাড়ি গাজীপুর। সেখান থেকে প্রতিদিন ক্যাম্পাসে এসে ক্লাস-পরীক্ষা চালানো কঠিন হয়ে যায় তাঁর। চেষ্টা করছেন আবাসিক হলে ওঠার। কিন্তু হলগুলোতে পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় সম্ভব হচ্ছে না।
ফারজানা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘প্রতিদিন যাওয়া-আসায় অন্তত পাঁচ ঘণ্টা সময় চলে যায় পথেই। এত দূর থেকে এসে ক্লাস করা, পরীক্ষা দেওয়া ও পড়াশোনা ঠিক রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের ছাত্রী ফারজানা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন শিক্ষার্থী ৪১ হাজারের মতো। এর মধ্যে ছাত্র প্রায় ২২ হাজার এবং ছাত্রীর সংখ্যা ১৯ হাজারের কাছাকাছি। শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য হল আছে ১৮টি। ছাত্রদের হল ১৩টি এবং ছাত্রীদের ৫টি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র বলছে, বর্তমানে মোট শিক্ষার্থীর প্রায় অর্ধেক নারী। অনেক অনুষদ ও বিভাগে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা পুরুষদের সমান কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি। কিন্তু আবাসন সুবিধার ক্ষেত্রে সেই অনুপাতে অবকাঠামোগত সম্প্রসারণ ঘটেনি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন ব্যবস্থায় সবচেয়ে বেশি বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন নারী শিক্ষার্থীরাই।
ছাত্রীরা থাকেন পাঁচটি হলে। এগুলো হলো—রোকেয়া হল, শামসুন নাহার হল, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল, ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল ও সুফিয়া কামাল হল। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৮ হাজার ৯০২ নারী শিক্ষার্থীর বিপরীতে এক সিটে দুজন থাকার মাধ্যমে পাঁচটি হলে আবাসিক হতে পেরেছেন ৯ হাজার ৫ জন। অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি ছাত্রী ক্যাম্পাসের বাইরে থেকে এসে প্রতিদিন ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেন। দীর্ঘদিন ধরে এমন আবাসন সংকটে গণরুম এবং গাদাগাদি করে বসবাসের বাস্তবতায় দিন কাটাচ্ছেন নারী শিক্ষার্থীরা।
ছাত্রীদের সবচেয়ে বড় আবাসিক হল রোকেয়া হল। হলটিতে ৫০১টি কক্ষে মোট ২ হাজার ৪টি সিট রয়েছে। এই হলের সঙ্গে সংযুক্ত ছাত্রীর সংখ্যা ৭ হাজার ২৭৮ জন। এর মধ্যে আবাসিক হতে পেরেছেন ৩ হাজার ৫৬ জন।
সংকট সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হলগুলোতে ‘বাঙ্ক বেড সিস্টেম’ বা দোতলা শয্যা চালু করেছে। কিন্তু এতে সংকট কমার বদলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রোকেয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সামিয়া জাহান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বাঙ্ক বেড চালুর পর এখন আটজনের একটি রুমে ১৬ জন করে থাকতে হচ্ছে। এত অল্প জায়গায় এত বেশি মানুষ থাকায় নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। পড়াশোনার পরিবেশ থাকে না, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নেই। রাতে ঘুমানো, কাপড়চোপড় রাখা কিংবা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করাও কঠিন হয়ে যায়। অতিরিক্ত মানুষের কারণে গরম, শব্দ ও স্বাস্থ্যগত সমস্যাও বেড়ে যাচ্ছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছোট ছোট কক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী থাকায় ব্যক্তিগত জীবন, মানসিক স্বস্তি ও শিক্ষার পরিবেশ—সবকিছুই ব্যাহত হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলা বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘হলে উঠতে না পেরে অনেককে ক্যাম্পাসের বাইরে থাকতে হয়। থাকেন মেস করে। বাইরে থাকার কারণে যেমন অতিরিক্ত খরচ হয়, তেমনি নিরাপত্তা নিয়েও সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়।’
দেশ রূপান্তর
দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘গুজবকারীরা মানসিক অসুস্থ গুজবেও ছড়াচ্ছে অসুস্থতা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, অজ্ঞাত এক নারীর আপত্তিকর ছবির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ছবি! ক্যাপশন ‘অনেক দিন পর বান্ধবীর সঙ্গে দেখা’! কী ভাবছেন? ঘটনাটি সত্য? না মোটেও সত্য না। এডিট করে এই আপত্তিকর ছবিটি একটি ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হয়। শুধু তাই নয়; সেই ছবি নিজের ফেসবুক আইডিতেও শেয়ার করেন ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার আজিজুল হক। বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের নজরে এলে তারা প্রতিবাদ জানান। পরে আজিজুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জানা যায়, তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাকে গ্রেপ্তারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পক্ষ নিয়ে সরব হয় সরকারের প্রতিপক্ষ।
এটাকেও দাবি করা হয় বাকস্বাধীনতা হিসেবে। একটি দুটি ঘটনা নয়; অহরহ এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। কখনো আক্রান্ত হচ্ছেন সরকারপ্রধান, সিনিয়র মন্ত্রী, এমপি, কখনো আবার বিরোধী দলের নেতারাও। বাদ যাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারীরা। এআইর যুগে মিথ্যা ছবি তৈরি করা এখন ডাল-ভাত। প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে কিংবা পোস্ট করে গালি দেওয়া, কুরুচিপূর্ণ ভাষার ব্যবহার, মিথ্যা ছবি এবং অপতথ্য প্রকাশ হরহামেশাই হচ্ছে। দাবি করা হচ্ছে এটাও ‘বাকস্বাধীনতা’। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই ধরনের প্রবণতাকে অনেক ক্ষেত্রে মানসিক রোগের লক্ষণের সঙ্গে তুলনা করা যায়। যেটিকে বলা হয় ‘অ্যান্টিসোশ্যাল পারসোনালিটি ডিজঅর্ডার’। আর এই মানসিক রোগের কিছু কিছু সমস্যায় ভুগছেন দেশের অসংখ্য মানুষ। সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো, সংশ্লিষ্টরা নিজেরাও জানেন না তারা অসুস্থ। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আর যারা গুজব বা অপতথ্যের শিকার হচ্ছেন তারাও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন আরও মারাত্মকভাবে। তাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, এমনকি বিষণ্নতার মতো সমস্যাও। সামাজিক আস্থার কাঠামোও দুর্বল হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে দীর্ঘদিন ধরে ‘গুজব’ ছড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত ফায়দা হাসিলে কারও বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো, মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সম্মানহানি করা যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে অনেক সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠীতে কিংবা এলাকাভিত্তিক দাঙ্গা বেধে যায়। ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়। মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে।
প্রতিনিয়তই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ গুজবের শিকার হচ্ছেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেশে এবং দেশের বাইরে বসে একটি চক্র এটা করছে। এছাড়া কিছু সংবাদমাধ্যমে তথ্য যাচাই না করে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ পাচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের আদলে কার্ড বানিয়ে ভুয়া তথ্যও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
