পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশু খালেদা আক্তার। কিছুদিন আগেও ভীষণ চঞ্চলতায় ছুটে চলতো বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে। মাতিয়ে রাখতো স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী আর সহপাঠীদের। সেই শিশুই এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। মাত্র মাসখানেকের ব্যবধানে থমকে গেছে তার পৃথিবী। এখন বিছানায় শুয়ে-বসে অসহনীয় যন্ত্রণায় দিন পার করছে সে। তার অবুঝ চাহনিতে কেবল বেঁচে থাকার প্রবল ইচ্ছা।
শিশু খালেদা ভোলার লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের লেজছকিনা এলাকার সরকারি একটি আবাসনের বাসিন্দা আব্দুল খালেকের মেয়ে। এ ছাড়া স্থানীয় উত্তর লেজছকিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। সে লিভার ও ফুসফুস জটিলতায় ভুগছে। ছোট্ট কন্যাশিশুর এমন করুণ পরিস্থিতিতে অসহায় হয়ে পড়েছেন দিনমজুর বাবা। বাবা আব্দুল খালেক বলেন, আমার ৪ জন মেয়ে, একজন ছেলে। মেয়েদের মধ্যে সবার ছোট খালেদা। গত এক মাস আগে হঠাৎ স্কুল থেকে এসে পেট ব্যথা করছে বলে জানায়। এরপর তাকে লালমোহন সদরে নিয়ে ডাক্তার দেখাই। সেখানের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুত ঢাকায় নিয়ে যেতে বলে। চিকিৎসকের কথা মতো কয়েকদিনের মধ্যে তাকে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে ১৫ দিন থেকে চিকিৎসা করাই। এতে খরচ হয়েছে আড়াই লাখ টাকার মতো।
এইসব টাকা মানুষের সহযোগিতা ও ধার-দেনা করে জোগাড় করেছি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার ফুসফুস ও লিভারে সমস্যা রয়েছে। যার জন্য তার ফুসফুসে পানি জমেছে আর পেট ফুলে গেছে। এ জন্য খালেদাকে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা করাতে হবে। যার জন্য লাগবে তিন লক্ষাধিক টাকা।
তিনি আরও বলেন, এখন আমি কী করবো তা-ই বুঝতে পারছি না। আর টাকা জোগাড় করতে না পারলে মেয়েটা হয়তো চোখের সামনেই ধুঁকে ধুঁকে মারা যাবে। তাই সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও সমাজের বিত্তবানদের আর্থিক সহযোগিতা পেলে খালেদাকে বাঁচাতে পারবো। শিশু খালেদা জানায়, আমার বাবা গরিব। তিনি অনেক কষ্ট করে আমাদের সংসার চালান। আমার চিকিৎসা করাতে অনেক টাকা লাগবে। বাবা কীভাবে এতো টাকা জোগাড় করবেন। তাই সবাই সাধ্যমতো সাহায্য করলে আমি বাঁচতে পারবো। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুদ জানান, ওই শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করলে আমরা সহযোগিতা প্রদানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।
