পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে খড়খড়ি নদীর উপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ নির্ধারিত সময় পার হলেও শেষ হয়নি। এক দফা সময় বাড়ানোর পরও এখনো ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে শিক্ষার্থীসহ আশপাশের প্রায় ১০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বর্ষা শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। শুক্রবার উপজেলার সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের উমেষের ডাঙ্গা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেতুর পিলার নির্মাণ শেষ হয়েছে। একটি স্প্যান বসানো হলেও অন্য স্প্যানের কাজ চলছে ধীরগতিতে। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে।
আগে চলাচলের জন্য সেতুর পাশে একটি বাঁশের সাঁকো থাকলেও নির্মাণকাজের সময় সেটি ভেঙে ফেলা হয়। বর্তমানে স্থানীয়দের হাঁটুসমান পানি পেরিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নারী, বয়স্ক ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের উমেষের ডাঙ্গা এলাকার খড়খড়ি নদী পার হয়ে ইউনিয়নের ৪, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষ প্রতিদিন চলাচল করেন। এ ছাড়া, পার্শ্ববর্তী দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার বাদশা বাজার ও ভবানীগঞ্জ এলাকার লোকজনও এই পথ ব্যবহার করেন। ইউনিয়ন পরিষদ, হাসপাতাল ও উপজেলা সদরে যাতায়াতের অন্যতম সহজ পথ এটি।
প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থীও এই নদী পার হয়ে বিদ্যালয়ে যায়। দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদেক বলে, এখন নদীতে পানি বেড়েছে। স্কুলে যেতে অনেক কষ্ট হয়। কাপড় ভিজে যায়, পানির কারণে হাত-পা চুলকায়। ভ্যানচালক আলমগীর বলেন, পানি বেড়ে যাওয়ায় ভ্যান নিয়ে বাড়ি যাওয়া যায় না। ফসল পারাপারেও সমস্যা হচ্ছে। বর্ষার আগে অন্তত একটি বাঁশের সাঁকো করে দিলে মানুষ চলাচল করতে পারতো। জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ‘ওজওউচ-৩’ প্রকল্পের আওতায় খড়খড়ি নদীর ওপর ৯০ মিটার দীর্ঘ একটি পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৩০ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮৪ টাকা। নির্মাণকাজের দায়িত্বে রয়েছে চট্টগ্রামের মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেড। সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ১৮ই অক্টোবর কাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজের অর্ধেকও শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করা হয়। তবে বর্ধিত সময়সীমা শেষ হওয়ার দুই মাস পরও কাজের অগ্রগতি ৭০ শতাংশে পৌঁছায়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপ-ঠিকাদার রাসেল ইসলাম বলেন, ‘মূল ঠিকাদার দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ রেখেছিলেন। পরে নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে আমাকে কাজ শেষ করার দায়িত্ব দেয়া হয়।
দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহরিয়ার ইসলাম শাকিল বলেন, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। অতিবৃষ্টির কারণে যে দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে একটি অস্থায়ী সেতুর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক বলেন, এলাকাটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
