শিল্পকারখানায় সমৃদ্ধ নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা এখন বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত। কারণ চাহিদার তুলনায় মিলছে অর্ধেক বিদ্যুৎ। ফলে কোথাও উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে, কোথাও আবার কারখানার দরজায় ঝুলছে বন্ধের আশঙ্কা। সরজমিন দেখা গেছে, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে শিল্পাঞ্চলে যেন অদৃশ্য স্টপ বাটন চাপা পড়ছে বারবার। ইকু পেপার মিল, পাটের চট উৎপাদন কারখানা, অ্যালুমিনিয়াম তৈজসপত্র নির্মাণ ইউনিটসহ শতাধিক হালকা মেশিনারিজ ওয়ার্কশপে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় চালু মেশিন থেমে যাচ্ছে মাঝপথেই। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যন্ত্রপাতিও। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সৈয়দপুরের শিল্প খাতে প্রতিদিন প্রায় ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন। অথচ নেসকোর আওতায় মোট ৪৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২৬ মেগাওয়াট।
এই ঘাটতির চাপ সরাসরি পড়ছে উৎপাদনে। ইকু শিল্প গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক বলেন, আমার পেপার মিল, জুটমিল, ওভেন ব্যাগ তৈরিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে লোডশেডিং কিছুটা মেনে নেয়া গেলেও, নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করলে অন্তত উৎপাদন পরিকল্পনা করা সম্ভব হতো এবং যন্ত্রাংশের ক্ষতি কমানো যেতো। সৈয়দপুর বাস টার্মিনাল এলাকায় অবস্থিত রয়েল মেটালিক্স ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজ কুমার পোদ্দার জানিয়েছেন, তার প্রতিষ্ঠানে প্রেসার কুকার, রাইস কুকার, ওভেন, ফ্রাইপ্যান, স্টিলের তৈরি জিনিসপত্র, অ্যালুমিনিয়ামের জিনিসপত্র, ব্লেন্ডার ইত্যাদি তৈরি হয়ে থাকে। অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা যাচ্ছে না।
নির্দিষ্ট সময় বিদ্যুৎ না থাকলে উৎপাদনের সময়সূচি বদলে নেয়া যেতো। এতে উৎপাদন কম হলেও ধারাবাহিকতা বজায় থাকতো। ওয়ার্কশপের মালিক ও শ্রমিকরা জানান, বারবার লোডশেডিংয়ে কাজের গতি কমে যাচ্ছে। সময়মতো অর্ডার সরবরাহ করতে না পারলে লোকসান গুনতে হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরবরাহ করা যাচ্ছে না। বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানিয়েছেন, বিসিকে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ৭ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এতে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা সরকারের রাজস্বেও প্রভাব ফেলবে। এদিকে সৈয়দপুর নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই (নেসকো) পিএলসি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আলিমুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, চাহিদার তুলনায় অর্ধেক বিদ্যুৎ পেয়েও আমরা চেষ্টা করছি শিল্পকারখানায় লোডশেডিং কম রাখতে।
সৈয়দপুরের এসব কারখানায় রেলওয়ের কোচ সংস্কার থেকে শুরু করে সিরামিক, অ্যালুমিনিয়াম পণ্য, পাটের চট, কাগজ, প্লাইউড, কৃষি যন্ত্রপাতি ও খাদ্যপণ্য উৎপাদন হয়। হাজারো শ্রমিকের জীবিকানির্ভর এই শিল্প খাত দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ-সংকটে পড়লে বাড়তে পারে বেকারত্ব। থেমে যেতে পারে শহরের অর্থনীতির স্পন্দন।
