পশ্চিমবঙ্গে ভেঙে দেয়া হলো বিধানসভা

পশ্চিমবঙ্গে ভেঙে দেয়া হলো বিধানসভা

ফন্ট সাইজ:

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার নিয়ম মেনে বিধানসভা ভেঙে দেয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন রাজ্যপাল আর এন রবি। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পর্যন্ত ছিল সদ্য ক্ষমতা হারানো তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের মেয়াদ। সংবিধানের ১৭৪ ধারা বলে বিধানসভা ভেঙে দেয়ার নির্দেশ দেন রাজ্যপাল।

তার সেই নির্দেশের কথা উল্লেখ করে বিধানসভা ভেঙে ফেলার বিজ্ঞপ্তি জারি করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়াল। নির্বাচনে পরাজয়ের পরও ভোট লুট ও কারচুপির অভিযোগ তুলে মমতা মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেবেন না বলে ঘোষণা দেন। এমনকি রাজভবনে গিয়ে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেবেন না বলেও জানান। কিন্তু রাজ্যপালের নির্দেশের পর আনুষ্ঠানিকভাবে পদ না ছাড়লেও আর মুখ্যমন্ত্রী থাকছেন না মমতা। রাষ্ট্রপতির পক্ষে রাজ্যপাল দু’দিনের জন্য দায়িত্বে থাকবেন।

নতুন সরকার হিসেবে ভারতীয় জনতা পার্টি তথা বিজেপি আগামী ৯ই মে শপথ নেবে। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি’র জয়ের পরে আজ (শুক্রবার) রাজ্যে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পরিষদীয় দলনেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী বেছে নেয়া এবং পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিতির জন্যই শাহের এই সফর। আজই পরিষদীয় দলের বৈঠক ডাকা হয়েছে। অমিত শাহের নেতৃত্বে ওই বৈঠকেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে বেছে নেয়া হবে। পরের দিন, শনিবার ব্রিগেডে শপথ নেবেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। সেই অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার পরে দিল্লি ফিরে যাবেন অমিত শাহ।

দলে ভাঙনের সুর, মমতার ভাবনায় ফল নিয়ে আদালতে লড়াই: এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনে শোচনীয়ভাবে হারের পর কি পদক্ষেপ নেবেন তা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যেমন আলোচনা চলছে তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রবল কৌতূহল তৈরি হয়েছে। মমতা যদিও বলেছেন, রণকৌশল তিনি এখনই বলবেন না। তবে দলীয় সভায় মমতা যতই দৃঢ়তা প্রকাশ করুন না কেন, দলের মধ্যে যে ভাঙনের সুর শোনা যাচ্ছে তার খবর নেত্রীর কাছে এসে পৌঁছেছে। দলের অনেককেই তিনি সন্দেহের চোখে দেখছেন। ঘনিষ্ঠ বৃত্তও অনেক ছোট হয়ে এসেছে। তিনি নিজেই আগে থেকেই গেয়ে রেখেছেন, অনেকেই হয় তো বিজেপিতে যোগ দেয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে। বুধবারের জয়ী বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকেও দলীয় নেতাদের অন্তর্ঘাতের বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন। একটি কমিটি করে ব্যবস্থা নেয়ার পথে তিনি হাঁটবেন বলে জানিয়েছেন। দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও যে দলের নেতাদের অনেকের ক্ষোভ রয়েছে সেটা আঁচ করে মমতা অভিষেককে আগলে রেখেছেন। জয়ী বিধায়কদের সকলকে উঠে দাঁড়িয়ে অভিষেককে সম্মান জানাতে বাধ্য করেছেন।

ইতিমধ্যে বিভিন্ন জেলায় বহু নেতা বিজেপিতে যোগ দেয়ার জন্য যোগাযোগ শুরু করেছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র ঋজু দত্ত ফেসবুক পোস্টে যেভাবে দলীয় নেতাদের সাহায্য না পেয়ে বিজেপি’র নেতাদের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন তা নিয়ে দলের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। আর বৃহস্পতিবার ঋজু দলের বিরুদ্ধেই পক্ষান্তরে আঙ্গুল তুলেছেন শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহায়কের খুনের প্রশ্নে। তৃণমূল মুখপাত্র লিখেছেন, একদিকে যখন বিজেপি, হিংসা দমন করছে। শান্তি ফেরাতে চেষ্টা করছে। বিরোধীদের ও তাদের পরিবারকে সুরক্ষা দিচ্ছে, তখন কে বা কারা বাংলাতে আগুন লাগাতে চায়, সেই মাথাগুলোকেও খুঁজে বের করে শেষ করে দিতে হবে।

বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয়ভাবে কান পাতলেও শোনা যাচ্ছে দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ। অনেক নেতাও তাতে শামিল হয়েছেন। তৃণমূল অধ্যায়ে ইতি টেনে সাবেক মন্ত্রী ও ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারিও খোলাসা করে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছেন দলের মধ্যকার অরাজকতা। ফলে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বিদ্রোহ ঘোষণার জন্য অনেকেই তৈরি হয়ে রয়েছেন।

দলনেত্রী এই পরিস্থিতিকে কীভাবে সামাল দেবেন সেটা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে তার মাথায় এখনো ঘুরছে ভোট লুটের বিষয়টি। সেটাকে সামনে এনেই তিনি মুখ রক্ষার চেষ্টায় সুপ্রিম কোর্টে যাবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি নিজেই সম্ভবত নাটকীয়ভাবে সুপ্রিম কোর্টে শুনানিতে অংশ নেবেন। আর এ ব্যাপারে কংগ্রেসের আইনজীবী কপিল সিব্বল পাশে এসে দাঁড়াতে চলেছেন। গত এক বছরে রাজ্য সরকারের সমস্ত মামলায় কপিল ও মনু সিংভিরা যেভাবে কোটি কোটি রুপি লুটেছেন তার কৃতজ্ঞতা জানাতে কপিল মমতার সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশনও দাখিল করতে পারেন।

ইতিমধ্যেই তিনি সংবাদ বৈঠক করে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সিব্বল মমতার সুরেই বলেছেন, এই নির্বাচন বিজেপি’র সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, কার্যত তৃণমূল কংগ্রেস ও নির্বাচন কমিশনের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সিব্বল। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং উদ্দেশ্য নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন