সেনাবাহিনীকে পর্যায়ক্রমে ব্যারাকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত

সেনাবাহিনীকে পর্যায়ক্রমে ব্যারাকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত

ফন্ট সাইজ:

প্রায় দুই বছর ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে মাঠে থাকা সেনাবাহিনীকে পর্যায়ক্রমে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সরকারি পর্যায়ে একটা নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, আমরা অনির্দিষ্টকালের জন্য মাঠে সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কাজে রাখতে পারবো না। গতকাল সচিবালয়ে সিলেট বিভাগের পাথর কোয়ারির সর্বশেষ অবস্থা ও করণীয় বিষয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এর আগে মঙ্গলবার আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়।

তিনি বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। ফলে অনির্দিষ্টকালের জন্য সেনাবাহিনীকে মাঠে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে না। পর্যায়ক্রমে মাঠ থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এবং পুলিশ বাহিনীকে আবারো সুশৃঙ্খল অবস্থায় ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের আস্থা তৈরি হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি পুলিশ বাহিনীকে একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পেরেছি।

জনগণের মনেও সেই বিশ্বাস তৈরি হয়েছে। তাই পর্যায়ক্রমে সেনাবাহিনীকে মাঠ থেকে প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তবে কীভাবে এই প্রত্যাহার কার্যক্রম পরিচালিত হবে সে বিষয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা একসঙ্গে বসে পরিকল্পনা নির্ধারণ করবে বলেও জানান তিনি।

চলমান বিশেষ অভিযান প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি, জুয়াড়ি ও অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সময় শেষ হয়ে যায়নি। অপেক্ষা করুন, দেখতে পাবেন অভিযান চলছে। প্রতিদিনই দাগী আসমি গ্রেপ্তার হচ্ছে।

মাদক, সন্ত্রাসবাদ, জুয়া ও অস্ত্র সংক্রান্ত অপরাধীদের আটক করা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে এবং কোথাও কোথাও যৌথ অভিযানও পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এককভাবেও অভিযান পরিচালনা করছে। বড় গডফাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। সঠিকভাবে তালিকা প্রণয়ন করেই অভিযানে নামা হয়েছে।

পাথর কোয়ারি নিয়ে বৈঠকের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, পরিবেশ সংক্রান্ত আইন বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করে জাফলংসহ যেগুলো ক্রিটিক্যাল এলাকা, সেগুলো বাদে অন্য এলাকায় সীমিত আকারে ইজারা প্রদান করা যায় কিনা, সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য সভা হয়েছে। বৈঠকে সবার মতামত নিয়ে একটি সার্ভে রিপোর্টের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়। ওই সমীক্ষার জন্য সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি করা সিদ্ধান্ত হয়েছে, যেখানে সিলেট ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিসহ বিশেষজ্ঞরা থাকবেন।

মন্ত্রী বলেন, কমিটি সরজমিন পরিদর্শন করবে। যেখানে নদীভাঙনের কারণে সীমান্ত পরিবর্তন হচ্ছে, তা পরীক্ষা করবে। কতো গভীরতায় গিয়ে পাথর উত্তোলন করলে পরিবেশ রক্ষা হবে। পর্যটন এলাকাগুলোতে কীভাবে পর্যটক আকর্ষণ করা যায়, তা দেখবে। এ মাসের শেষে ওই প্রতিবেদন পাওয়ার পর আবার বৈঠক হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে যেসব মামলা আছে, সেগুলোর বিষয়ে কমিটি আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করবে এবং সেগুলো নিষ্পত্তির জন্য ব্যবস্থা নেবে। আমরা যাই করবো, আইন মেনে করবো।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন