অভিযানিক সক্ষমতা বাড়াতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন- র্যাবের জন্য ১৬৩টি গাড়ি কেনার সীদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ৩টি জিপ, ১০০ টহল পিকআপ ও ৬০টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মাইক্রোবাসের জন্য খরচ ধরা হয়েছে ১২২ কোটি ২৭ লাখ টাকা। তবে কোনো উন্মুক্ত টেন্ডার ছাড়াই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটে থেকে কেনা হবে এসব গাড়ি।
বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপন করা ওই প্রস্তাবে- প্রতিটি ২ হাজার ৫০০ সিসির জিপের বাজারমূল্য ধরা হয়েছে দেড় কোটি টাকা। আর একেকটি টহল পিকআপের বাজারমূল্য ধরা হয়েছে ৬৪ লাখ টাকা। আর শীতাতপনিয়ন্ত্রিত মাইক্রোবাসের প্রতিটির মূল্য ধরা হয়েছে ৪৮ লাখ টাকা।
এর আগে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে ২০১৮ সালে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছিল। তখন প্রকল্প মেয়াদে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৩৪ কোটি টাকা। পরে ২০৭ কোটি টাকা কাটছাঁট করে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয় এবং সংশোধিত ব্যয় দাঁড়ায় ৮২৭ কোটি টাকা। প্রকল্পটির আওতায় মোট ১ হাজার ৫৭০টি বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এবং ১৩১টি সরঞ্জাম কেনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ইতিমধ্যে ৮০৯টি যানবাহন ও ১০১টি সরঞ্জাম কেনাও হয়।
এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র কিছু আগেই গত ২৬শে জানুয়ারি তৎকালীন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই ১৬৩টি গাড়ি সরাসরি কেনার জন্য নীতিগত প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছিল। এরপর গত ৫ই এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সব ধরনের যানবাহন কেনা বন্ধের জন্য পরিপত্র জারি করে। তবে সেই পরিপত্রকে পাশ কাটিয়ে বৃহস্পতিবার ‘র্যাব ফোর্সেসের আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি (প্রথম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই গাড়ি কেনার অনুমোদন দেয়া হয়। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই খরচ বহন করা হবে।
