রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ-এ বিমান দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূস, সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম-এর আদালতে নিহত শিক্ষার্থী উক্য ছাইং মার্মার বাবা উসাইমং মারমা এ আবেদন করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে মামলা গ্রহণ করার মতো উপাদান না থাকায় মামলা খারিজের আদেশ দেন।
এর আগে সকালে মামলার আবেদন করেন মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী উক্য ছাইং মারমার বাবা উসাইমং মারমা। আবেদনে অভিযোগ করা হয়, সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ও দায়িত্বে গাফিলতির কারণে ওই বিমান দুর্ঘটনা ঘটে এবং এতে শিক্ষার্থীদের প্রাণহানি হয়। তবে শুনানি শেষে আদালত মামলাটি গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে আবেদনটি খারিজ করে দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ এখনও খোলা রয়েছে।
আবেদনে আরও যাদের আসামি করার আবেদন করা হয়েছিল, তারা হলেন-ইউনূস সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, সাবেক শিক্ষা সচিব সিদ্দিক জুবায়ের, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, এয়ার ভাইস মার্শাল মোরশেদ মোহাম্মদ খায়ের উল আফসার, গ্রুপ ক্যাপ্টেন রিফাত আক্তার জিকু, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিংবডির উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল নুরনবী, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলম, প্রিন্সিপাল (প্রশাসন) মাসুদ আলম, স্কুল শাখার প্রিন্সিপাল রিফাত নবী, রাজউক চেয়ারম্যান, রাজউকের ফিল্ড সুপারভাইজার (উত্তরা)।
আবেদনে বলা হয়েছিল, প্রতিদিনের মতো মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা গত বছরের ২১ জুলাই স্কুলে গিয়েছিল। সেদিন দুপুর ১টা ১৮ মিনিটের দিকে আসামিদের সরাসরি দায়িত্বে ও তত্ত্বাবধানে থাকা ত্রুটিযুক্ত প্রশিক্ষণ বিমান এফ-৭ বিজিআইকে উড্ডয়নের আদেশ দেওয়া হয়। নবীন পাইলট একা ওই যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করলে ‘ত্রুটিজনিত কারণে’ মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিধ্বস্ত হয়। এতে ২৮ জন শিক্ষার্থী, তিনজন শিক্ষিকা, তিনজন অভিভাবক এবং একজন পরিচালকসহ ৩৫ জন মারা যায়। এছাড়া ১৭২ জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেন বলে মামলার আবেদনে বলা হয়।
এতে এও বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটিতে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা না থাকায় এবং ভবনটি যথাযথ বিধি মোতাবেক নির্মাণ না করায় উদ্ধার কাজে চরম ব্যাঘাত ঘটে। এ কারণে উদ্ধার কর্মীরা উদ্ধার কাজে সহায়তা শুরু করলেও হাসপাতালে নেওয়ার আগেই শিক্ষার্থীরা মারা যায়।

নিশু
২ মাস আগেএ দেশে আবার বিচারহীনতার যুগ শুরু হলো মামলা খারিজ করে