বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ ও গণনা প্রক্রিয়ায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন এনসিপি সমর্থিত আইনজীবী প্যানেলের সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এস এম আজমল হোসেন। বুধবার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়কের কাছে দেয়া এক আবেদনে তিনি বারকোড বা কিউআর কোডযুক্ত ব্যালট পেপার, ডিজিটাল ভোটার ভেরিফিকেশন এবং ইলেকট্রনিক সহায়তায় ভোট গণনার ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
আবেদনে বলা হয়, আগামী ১৩ ও ১৪ মে অনুষ্ঠিতব্য সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ নির্বাচন। তাই এ নির্বাচনের প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও প্রযুক্তিগতভাবে নিরাপদ হওয়া জরুরি।
এস এম আজমল হোসেন অভিযোগ করেন, বিগত কয়েক বছরে ভোট গ্রহণ, ব্যালট ব্যবস্থাপনা ও ম্যানুয়াল ভোট গণনা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। জাল ভোট, অতিরিক্ত ব্যালট, গণনায় বিভ্রান্তি ও অনিয়মের অভিযোগ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আবেদনে তিনি বলেন, প্রতিটি ব্যালট পেপারে স্বতন্ত্র বারকোড বা কিউআর কোড সংযোজন করা হলে ব্যবহৃত, অব্যবহৃত ও বাতিল ব্যালটের পূর্ণাঙ্গ ট্র্যাকিং সম্ভব হবে। এতে জাল ব্যালট বা অতিরিক্ত ব্যালট ঢুকানোর সুযোগ কমে আসবে।
এছাড়া ভোটার যাচাইয়ে এসএমএস-ভিত্তিক ওটিপি, সদস্য নম্বর যাচাই, ছবি-ভিত্তিক ভেরিফিকেশনসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তাব দেন তিনি। একই সঙ্গে ভোট গণনায় স্ক্যানিং বা ডিজিটাল ট্যাবুলেশন পদ্ধতি চালুরও দাবি জানান।
আবেদনে আরও বলা হয়, প্রযুক্তিনির্ভর এ ব্যবস্থাগুলো চালু করা হলে নির্বাচনের গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ হবে না; বরং ভোটের বৈধতা ও গণনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি ভোটগ্রহণ ও গণনার প্রতিটি ধাপে প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার আহ্বানও জানানো হয়।
এস এম আজমল হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছ ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি। এতে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে এবং অযাচিত বিতর্ক কমবে।’ তিনি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কাছে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।
