স্থানীয় সরকার নির্বাচনে থাকছে না পোস্টার

সহযোগীদের খবর

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে থাকছে না পোস্টার

ফন্ট সাইজ:

যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার প্রতিবেদন ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে থাকছে না পোস্টার’। খবরে বলা হয়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের (সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং উপজেলা, জেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচনি প্রচারে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এসব নির্বাচনের আচরণ বিধিমালায় সংশোধনীর মাধ্যমে ইসি এ নিয়ম আরোপ করতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে নীতিগত এ সিদ্ধান্ত হয়। ইতোমধ্যে ইসি সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আচরণ বিধিমালা এবং নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা সংশোধনীর খসড়া তৈরি করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ইসি জানিয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সুফল পাওয়া গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও তা কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে পরিবেশদূষণ বন্ধ ও নির্বাচনি প্রচারে ভিন্নতা আসবে বলে মনে করছে কমিশন। দুজন নির্বাচন কমিশনার এবং একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্রগুলো জানাচ্ছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সংসদ-সদস্যরা প্রভাব বিস্তার করলে তা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তা নিয়েও ভাবছে ইসি। আগামী দিনে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোয় নির্দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে প্রতিটি উপজেলায় সংসদ-সদস্যদের জন্য কার্যালয় তৈরি করছে সরকার। এ অবস্থায় সংসদ-সদস্যরা উপজেলা কার্যালয়ে বসে নির্বাচনে যেন হস্তক্ষেপ করতে না পারেন, সে লক্ষ্যে আচরণ বিধিমালায় নতুন ধারা-উপধারা যুক্ত করার চিন্তা করছে ইসি।

এছাড়া নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় মনোনয়নপত্রের ফরমে পরিবর্তন, প্রার্থীর বিদেশে থাকা সম্পদের বিবরণ হলফনামায় উল্লেখ করা এবং দলীয় মনোনয়নে প্রার্থী হওয়া ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোটারের স্বাক্ষর যুক্ত করার বিধান বাতিল করতে যাচ্ছে ইসি। অপরদিকে আচরণ বিধিমালায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার রোধে নতুন বিধান যুক্ত করা হবে। এক্ষেত্রে সংসদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় ইসি।

ইসির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি বছরের শেষদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে-এমনটি ধরে নিয়েই এসব প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। জেলা প্রশাসকদের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছে ইসি। তাদের আরও বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন যে মানের হয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেই মানের ধারাবাহিকতা যেন বজায় থাকে। মঙ্গলবার জেলা প্রশাসন সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম, নাসির উদ্দিন ও চার নির্বাচন কমিশনার তাদের বক্তব্যে এসব নির্দেশনা দেন। এর মধ্য দিয়ে মূলত মাঠ প্রশাসনকে নির্বাচনের আগাম বার্তা দিল কমিশন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরিচালনা এবং আচরণ বিধিমালা সংশোধনের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ যুগান্তরকে বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোয় নির্দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার বিধান রেখে সংসদে আইন পাশ হয়েছে। ওইসব আইনের কপি আমরা পেয়েছি। আইন অনুযায়ী বিধিমালা সংশোধনের খসড়া তৈরি করতে কর্মকর্তাদের বলেছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কোন সময়ে শুরু হবে, সে বিষয়ে ইসি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। আমরা আপাতত প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারে পোস্টার বন্ধ করার সুফল ইসি পেয়েছে বলে যুগান্তরকে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। যুগান্তরকে তিনি বলেন, পোস্টার ছাড়াও প্রচার চালানো যায়, সংসদ নির্বাচনে সেটি পরীক্ষিত। আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ওই বিধান কার্যকর করার চিন্তা করছি। বিলবোর্ডে প্রচারের সুযোগ থাকবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন, ৪৫০টির বেশি উপজেলা পরিষদ, তিনশর বেশি পৌরসভা ও ৬১টি জেলা পরিষদের নির্বাচন আয়োজনের সময় অনেক আগেই চলে গেছে। এগুলো এখনই নির্বাচন করার উপযোগী। এসব নির্বাচন আয়োজনে আইনগত কোনো জটিলতাও নেই। এছাড়া প্রায় ছয়শ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন করার যে ১৮০ দিন সময়সীমা রয়েছে, তা এপ্রিলে শুরু হয়েছে। সে হিসাবে অক্টোবরের মধ্যে এ নির্বাচন করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। জুলাইয়ের মধ্যে আরও দুই হাজার আটশর বেশি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনি ক্ষণগণনা শুরু হবে। এ অবস্থায় সরকারের সবুজ সংকেত পেলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে পারবে ইসি। যদিও সরকারের তরফে এ বছরের শেষদিকে স্থানীয় নির্বাচন শুরু করার কথা বলা হচ্ছে।

ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জুলাই আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সময়ে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ব্যবস্থা ছিল। ওই আইন অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং উপজেলা, জেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন পরিচালনায় বিধিমালায় দলীয়ভাবে ভোটের বিধিবিধান রয়েছে। এমনকি দলীয়ভাবে নির্বাচনি প্রচারেরও সুযোগ আছে। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার বাতিলের লক্ষ্যে সিটি করপোরেশন আইনের ৩২(ক), পৌরসভা আইনের ২০(ক), উপজেলা পরিষদ আইনের ১৬(ক) এবং ইউনিয়ন পরিষদ আইনের ১৯(ক) ধারা বাতিল করে সংসদে পৃথক আইন পাশ হয়। ওই আইন অনুযায়ী, প্রতিটি নির্বাচনের পরিচালনা এবং আচরণ বিধিমালায় সংশোধনী আনার কাজ শুরু হয়েছে। নির্বাচন আয়োজনের আগে এসব সংশোধনী আনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

ইসি সূত্র আরও জানায়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একক বিধিমালা প্রণয়নের সুপারিশ ছিল নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের। তবে ওই প্রস্তাব আমলে নেবে না ইসি। তারা প্রতিটি নির্বাচনের জন্য প্রচলিত বিধিমালাগুলো বহাল রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেগুলোয় শুধু প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে। এছাড়া বিলবোর্ডের মাধ্যমে প্রচার চালানোসহ সংসদ নির্বাচনে যেসব নতুন নিয়মের প্রচলন করা হয়েছে, সেগুলো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আনতে চায় ইসি। স্থানীয় নির্বাচনে অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগ না রাখার পক্ষে ইসি। ফলে পলাতক ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে না।

প্রার্থী হওয়ার পথ সহজ হচ্ছে : ইসির কর্মকর্তারা জানান, পরিচালনা বিধিমালায় সংশোধনী আনা হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পথ সহজ হবে। নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠেয় এসব নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের প্রয়োজন হবে না। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোটারের স্বাক্ষরসহ নামের তালিকা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়ার যে নিয়ম রয়েছে, তা থাকবে না। ফলে আইন অনুযায়ী যোগ্য যে কেউ প্রার্থী হতে এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। এছাড়া নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকবে না। সব প্রার্থী নির্দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাবেন।

প্রথম আলো

জুলাই মামলা যাচাই হবে’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হতাহতের ঘটনায় করা মামলাগুলো যাচাই করবে সরকার। এসব মামলায় ‘ইচ্ছেমতো’ শত শত মানুষকে আসামি করা এবং মামলা–বাণিজ্য করার অভিযোগ রয়েছে।

জুলাই মামলার জেলাভিত্তিক তথ্য দিতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সরকার বলছে, এর উদ্দেশ্যে হলো যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে প্রকৃত আসামি কারা এবং যাঁদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তাঁদের নিষ্কৃতি দেওয়া।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের শেষ দিন গতকাল বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
চার দিনব্যাপী এই ডিসি সম্মেলন উপলক্ষে সারা দেশ থেকে বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিরা ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন। এর মধ্যে আলোচনার জন্য ৪৯৮টি প্রস্তাব নির্ধারণ করা হয়, যেগুলো ৩৪টি অধিবেশনের মাধ্যমে আলোচনা করা হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মন্ত্রী ও সচিবদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগসংক্রান্ত বিষয়ে ডিসিদের দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয় এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সম্মেলনের শেষ দিনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছাড়াও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত বিষয়ে আলোচনা হয়।

কার্য অধিবেশন শেষে রাতে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ডিসিসহ প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন।

বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর এটিই প্রথম ডিসি সম্মেলন। সম্মেলনের উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই চার দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং প্রধান বিচারপতির সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ডিসিরা।

৫ আগস্ট–পরবর্তী মামলা

২০২৪ সালে ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন থানায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হতাহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হওয়া এসব মামলায় ইচ্ছেমতো আসামি করা নিয়ে সমালোচনা আছে।

এসব মামলা যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ৫ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু মামলা হয়েছে, যেগুলো গণহত্যার মামলা এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদীর বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা। এখানে তাঁদের (ডিসি) কাছে তালিকা চাওয়া হয়েছে, জেলাওয়ারি কতগুলো মামলা হয়েছে। এগুলো প্রত্যন্ত এলাকার জেলায় হয়তো কম, কিন্তু মহানগরগুলোতে একটু বেশি। যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে।

এসব মামলা যাচাইয়ের উদ্যোগের কারণ ব্যাখ্যা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেক মামলার মধ্যে হাজার হাজার লোককে আসামি করা হয়েছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে প্রকৃত অর্থে প্রকৃত আসামি কারা। সেটা তদন্ত কর্মকর্তারা তদন্ত করে দেখবেন, যাতে স্বল্প সময়ের ভেতরে সেটি ডিসপোজড (নিষ্পত্তি) করা যায়। আর যাঁদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তাঁদের যাতে নিষ্কৃতি দেয়, সেই সুপারিশ করা হয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি আইনিভাবে নিষ্পন্ন করা হবে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। মামলাগুলো নিয়ে তথ্য পাঠাতে ডিসিদের কত দিন সময় দেওয়া হয়েছে, তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যথাশিগগির’। তবে মৌখিকভাবে সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে।

সাংবাদিকদের ঢালাও হত্যা মামলার আসামি করার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সে জন্যই তো আমরা যাচাই–বাছাই করছি এখন। আমরা সরকারে দায়িত্ব নিয়েছি কেবল দুই-আড়াই মাস হলো। এর মধ্যে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে প্রথম দিকেই নেওয়া হয়েছে এটি।’

আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে তৎপর হওয়ার নির্দেশনা

জমা দিতে বলার পরও ১০ হাজারের মতো লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র জমা দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় লাইসেন্সভুক্ত অস্ত্র ফেরত দেওয়ার জন্য একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল মাঠপর্যায়ে। তাতে দেখা গেছে, ১০ হাজারের মতো লাইসেন্সভুক্ত আগ্নেয়াস্ত্র জমা দেওয়া হয়নি। সেই অস্ত্রগুলো উদ্ধারের জন্য এবং উদ্ধার করে সেগুলো বাজেয়াপ্ত করার জন্য, মামলা করার জন্য আবারও ডিসিদের অনুরোধ করা হয়েছে।

২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত রাজনৈতিক বিবেচনায় ও নীতিবহির্ভূতভাবে যেসব অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো যাচাই-বাছাই করার জন্য জেলা পর্যায়ে কমিটি করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে প্রাক্‌-নির্বাচনী সময়ে যেসব লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র জমা দিতে বলা হয়েছিল জনসাধারণকে, সেই অস্ত্রগুলো এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি। সেই বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটা চিঠি দেওয়া হয়েছে, যাতে যথাশিগগির ফেরত দেওয়া হয়।

চিঠিতে তিন শ্রেণির আগ্নেয়াস্ত্র ফেরত দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারির আগের লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র। দ্বিতীয়ত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র। তৃতীয়ত, ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ‘রাজনৈতিক বিবেচনায়’ লাইসেন্স পাওয়া আগ্নেয়াস্ত্র, যা এ সংক্রান্ত কমিটি ঠিক করবে।

আরেক খবরে বলা হয়, দেড় বছরে স্থবির হয়ে পড়া সম্পর্কে গতি আনতে কাজ করছে ভারত। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সহযোগিতা এগিয়ে নিতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার জন্য ৪০টির বেশি প্রক্রিয়া রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে স্থবির হয়ে পড়া এসব প্রক্রিয়াকে ভারত পুনরুজ্জীবিত করে ধীরে ধীরে সক্রিয় করার চেষ্টা করছে।

দুই নিকট প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে এটাকে একটি সতর্ক ও পরিকল্পিত উদ্যোগে হিসেবে উল্লেখ করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি।

গত সোমবার বিকেলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ভারত সফররত বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে এ কথা বলেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের একটি প্রতিনিধিদল বর্তমানে নয়াদিল্লি সফর করছে। তাদের সঙ্গে বিক্রম মিশ্রি প্রায় এক ঘণ্টা দুই দেশের সম্পর্কের অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেন। এ সময় তিনি ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নিয়ে ভারতের ভাবনা, সহযোগিতার বিভিন্ন ইস্যুর পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতা ও ভূরাজনৈতিক বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। ভারত ও বাংলাদেশের সাংবাদিকদের এমন সফর প্রতিবছর হয়ে থাকে।

ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আমলে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে অবনতি ঘটে। আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ঘনিষ্ঠ মিত্র নয়াদিল্লি বাংলাদেশে সব দলের অংশগ্রহণে জাতীয় নির্বাচনের কথা বললেও গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপিকে স্বাগত জানায়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের পার্লামেন্টের স্পিকার ওম বিড়লাকে ঢাকায় পাঠায় নরেন্দ্র মোদি সরকার। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দেওয়া হয়।

মতবিনিময় সভায় ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বলেন, বাংলাদেশের নবগঠিত সরকারের রাজনৈতিক নেতৃত্বের পর্যায়ে যোগাযোগ হয়েছে এবং বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মের বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, গত দেড় বছরে গতি হারানো প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একধরনের ‘সাধারণ বোঝাপড়া’ রয়েছে।

দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক হবে পারস্পরিক সম্মান ও মর্যাদার ভিত্তিতে। সেখানে পারস্পরিক স্বার্থে দুই দেশের সংবেদনশীলতাকে বিবেচনায় নিতে হবে। আর সবকিছুর মূলে থাকবে দুই প্রতিবেশী দেশের জনগণ।

‘কোনো দলের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সমর্থন করেনি ভারত’

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং এ বিষয়ে ভারতের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিক্রম মিশ্রি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বলেন, বাংলাদেশে পূর্ববর্তী সরকারগুলোর সঙ্গে, বিশেষ করে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সরকারের সঙ্গে ভারত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে, যা স্বাভাবিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ।

গত ১৫ বছরে ভারত বাংলাদেশে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সমর্থন দিয়েছে—এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব। তিনি বলেন, একটি সরকার অন্য একটি সরকারের সঙ্গে দুই দেশের জনগণের স্বার্থে কাজ করে। ভারত থেকে বাংলাদেশে যে বিদ্যুৎ যায়, তা কোনো নির্দিষ্ট দলের নেতা-কর্মীদের ঘরে যায় না—সব নাগরিকের কাছেই পৌঁছায়।

বিক্রম মিশ্রি বলেন, ভারতের সম্পর্ক বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে, কোনো একক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নয়। সীমান্ত পেরিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের মতো প্রকল্পগুলোতে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে গিয়ে সব নাগরিক–নির্বিশেষে সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।

গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনার শাসনামলে ভারতের জোরালো সমর্থন ছিল। শেখ হাসিনার বিভিন্ন অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে একতরফা বিতর্কিত নির্বাচন আয়োজনে ভারতের সমর্থন দেখা গেছে। ভারতের এই নীতি দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বিক্রম মিশ্রি বলেন, ‘অতীতে আমরা আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে কাজ করেছি। বাংলাদেশে যখন যে সরকার থাকবে, আমরা কাজ করব। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের সব পদক্ষেপ যে বাংলাদেশের সব জনগণকে সন্তুষ্ট করেছে, তা আমরা মনে করি না। তবে এটা স্পষ্ট করেই বলি, অতীতে বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে কোনো ধরনের সমর্থন বা সহযোগিতা করেনি ভারত।’

বাংলাদেশে ২০১৪ সাল থেকে তিনটি জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এর মধ্যে দুটি নির্বাচন হয়েছে বিরোধী দলগুলোকে বাদ দিয়ে। অপর নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ রয়েছে। এসব নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে এসব নির্বাচন নিয়ে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়ে গেছে ভারত।

অভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন। দিল্লিতে তাঁর উপস্থিতি দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করেন। এ বিষয়টির সমাধানে আপনারা কী ভাবছেন—সে প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনার নাম ঊহ্য রেখে বিক্রম মিশ্রি বলেন, ‘কোনো ব্যক্তির ইস্যু দিল্লি–ঢাকা সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে আমি মনে করি না।’

গত বছর ৬ ডিসেম্বর এক অনুষ্ঠানে প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছিলেন, বিশেষ এক পরিস্থিতিতে ভারতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানেই থাকবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত একান্তই তাঁর ওপর নির্ভর করছে।

জুলাই অভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ঢাকার অনুরোধের বিষয়ে দিল্লির প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে প্রসঙ্গটি একাধিকবার এড়িয়ে যান ভারতের পররাষ্ট্রসচিব।

গঙ্গা, তিস্তা আর পশ্চিমবঙ্গের পালাবদল

গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তিটি ফলপ্রসূভাবে কাজ করেছে এবং বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমেই বিষয়টির সমাধান করা হবে।

দুই দেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে উল্লেখ করে বিক্রম মিশ্রি বলেন, পানি খাতে সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। গঙ্গা, তিস্তাসহ পানিবণ্টনের বিষয়গুলো নিয়ে যৌথ নদী কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কারিগরি সংস্থার বৈঠক শিগগিরই অনুষ্ঠিত হবে।

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি এখনো ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক জটিলতায় আটকে আছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তন এ ক্ষেত্রে অগ্রগতি আনতে পারে কি না, সে প্রশ্নের জবাবে বিক্রম মিশ্রি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি আগে থেকে অনুমান করতে চাই না।’ তবে এ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

তিস্তা নিয়ে বৃহদায়তন প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের প্রস্তাবের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বলেন, এরই মধ্যে ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের নতুন সরকার চাইলে ওই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে তৈরি আছে ভারত।

ভূরাজনীতি ও আঞ্চলিক ফোরাম

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে নিয়ে চীন গত বছর থেকে একটি ত্রিদেশীয় ফোরাম করতে আগ্রহ প্রকাশ করে। এ বছরের শুরু থেকে তিন দেশের সঙ্গে মিয়ানমারকে যুক্ত করে আরেকটি উদ্যোগেও চীন যুক্ত আছে। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করতে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়টিতে জোর দিচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন উদ্যোগ আর সার্ককে পুরোদমে সক্রিয় করার বিষয়টি নিয়ে ভারতের ভাবনা কী জানতে চাইলে বিক্রম মিশ্রি বলেন, ‘সার্ককে ফলপ্রসূ করতে অতীতে আমরা অনেক পদক্ষেপ নিয়েছিলাম; কিন্তু আশানুরূপ কোনো ফল আসেনি।’

এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘একটি দেশ এ অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদের বিস্তার ঘটানোয় সার্ক স্থবির হয়ে পড়েছে। কাজেই যে দেশটি অতীতে এখানে সন্ত্রাসবাদকে ব্যবহার করেছে, তারা তাদের অবস্থান থেকে সরে এসেছে, এটা বিশ্বাস করার কোনো সুযোগ নেই। এমন প্রেক্ষাপটে আমরা আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বিমসটেক নিয়ে আশাবাদী। আর বাংলাদেশ যখন এই মুহূর্তে বিমসটেকের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে, এখানে বেশ কিছু ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা দেখি।’

বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি দৃশ্যমান হয়। দুই দেশের সম্পর্কের এই পরিবর্তনকে ভারত কীভাবে দেখে জানতে চাইলে বিক্রম মিশ্রি বলেন, ‘বাংলাদেশ কোন দেশের সঙ্গে কী ধরনের সম্পর্ক রাখবে, সেটা আমার বলার কথা নয়। এটা বাংলাদেশই ঠিক করবে। আমি শুধু এটুকু বলব, কোনো নেতিবাচক পদক্ষেপ যেন আমাদের দুই দেশের ইতিবাচক উদ্যোগগুলোকে ব্যাহত না করে সে বিষয়টিতে আমার গুরুত্ব থাকবে।’

কালের কণ্ঠ

মাছ শিকারিরাই মানুষ শিকারে’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় মাছ শিকার করে জীবন কাটত শাকের মাঝির। একসময় দেখলেন, নদী বা সাগরে আগের মতো মাছ নেই। আয় গেল কমে। ২০০৭ সালের দিকে খেয়াল করলেন, বছর দুয়েক আগে শুরু হওয়া সমুদ্রপথে মানবপাচারের জুয়া খেলাটা বেশ জমে উঠেছে।

তাঁর চোখের সামনে দিয়েই মাছ ধরার ট্রলারে করে বিদেশে যাচ্ছে লোকজন। একদিন পাচারচক্রের মূল হোতার তরফে শাকের মাঝির কাছে একটি লোভনীয় প্রস্তাব আসে—ট্রলারে একজন যাত্রী দিতে পারলেই মিলবে ২০ হাজার টাকা। শাকেরের চোখ কপালে ওঠার দশা। গভীর সমুদ্রে ঝড়ঝঞ্ঝার সঙ্গে লড়াই করে দিনের পর দিন জাল ফেলেও যে আয় হয় না, সেই টাকা মিলবে মাত্র একজন মানুষ জোগাড় করলেই।

এর পরই শুরু হয় শাকেরের আরেক জীবিকা—যাত্রী শিকার। সুখের জীবনের গল্প শুনিয়ে মগজ ধোলাই করে সহজেই রাজি করিয়ে ফেলতে থাকেন দরিদ্র বাঙালি ও রোহিঙ্গা তরুণদের। কিছু সাফল্যের পর শুধু প্রলোভনেই সীমাবদ্ধ থাকে না এই পেশা, যুক্ত হয় অপহরণ। আরো বেশি যাত্রী শিকার, আরো বেশি আয়।

গড়ে ওঠে এক চক্র। প্রায় ১৯ বছরের ‘ক্যারিয়ারে’ এলাকায় এত বেশি প্রভাব পড়েছে যে, শাকেরকে এখন সবাই চেনে মানবপাচারের মাঝি নামে। এভাবে ধীরে ধীরে একজন সাধারণ জেলে থেকে হয়ে ওঠেন মানুষ শিকারি। কেজি দরে মাছ বিক্রির মতো মাথা দরে মানুষ বিক্রি শুরু হয় সাগরপারে।

গত ৮ এপ্রিল আন্দামান সাগরে প্রায় পৌনে ৩০০ যাত্রী নিয়ে ট্রলারডুবির পর কক্সবাজারে মানবপাচার ও অপহরণের ঘটনাগুলো নতুন করে আলোচনায় আসে। কালের কণ্ঠের মাসব্যাপী অনুসন্ধানকালে এসব অপকর্মের নাটের গুরুদের খুঁজে বের করা হয়। বেরিয়ে আসে অপহরণ-প্রলোভন, দালাল, ঘাট আর ট্র্যাজেডির পেছনের এক ভয়ংকর চক্র।

জানা গেছে, শুরুর দিকে বেশ কয়েক বছর ‘শান্তিপূর্ণভাবে’ মানবপাচারের মাধ্যমে বাজার তৈরি করে চক্রটি। মালয়েশিয়ায় পৌঁছানো কিছু যাত্রীর সফলতার গল্প বেশি বেশি প্রচার করে বাজারমূল্য বাড়ায় ওরা। তারপর যাত্রী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রলারের সংখ্যাও বাড়ে। কিন্তু বিভিন্ন সময় মাঝসাগরে ট্রলারডুবিতে অনেক মানুষের মৃত্যু বা নিখোঁজের ঘটনা স্থানীয়দের কিছুটা সচেতন করে তোলে। দেখা দেয় যাত্রীসংকট। আর তখনই ট্রলার পূর্ণ করতে প্রলোভনের সঙ্গে যুক্ত হয় অপহরণের ঘটনা। দেশে-বিদেশে জিম্মি করে রেখে মুক্তিপণ আদায়ই এই চক্রের মূল উদ্দেশ্য। এই মরণযাত্রায় কেউ বিদেশে পৌঁছাতে পারলেও অনেকেই উধাও হয়ে যায় সমুদ্রে, আবার কেউ মারা যায় নির্যাতনে। এর পেছনে রয়েছে কয়েক স্তরের সংঘবদ্ধ মানবপাচার সিন্ডিকেট, যেখানে অপহরণকারী, দালাল, মাঝি, প্রবাসফেরত, মাদক কারবারি—সবাই মিলে গড়ে তুলেছে ‘মানুষ শিকারের চক্র’।

আমাদের অনুসন্ধানে মানবপাচার ও অপহরণ চক্রের ১৫ জনেরও বেশি হোতার বিস্তারিত তথ্য জানা গেছে। এদের মধ্যে বেশির ভাগই শাকের মাঝির মতো জেলে বা সাধারণ মাঝি থেকে মানুষ শিকারে জড়িয়ে পড়ে। অনেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকের বেশে এই অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। আগে তারা এলাকায় মানুষের মগজ ধোলাই করে দালালি করে বেড়ালেও একসময় হয়ে ওঠে অপহরক।

অনুসন্ধানে টেকনাফ-উখিয়ার ১১টি পয়েন্ট বা ঘাটের নাম জানা গেছে, যেগুলো থেকে যাত্রা শুরু হয় এই মরণখেলার। এগুলো হলো— টেকনাফের কচ্ছপিয়া, সাবরাং মুণ্ডা ডেইল, মহেশখালীপাড়া, রাজারছড়া, তুলাতলী, হাবিবছড়া, নোয়াখালীপাড়ার জুম্মাপাড়া, হাজমপাড়া, শীলখালী, ইলিয়াস কোবরা ঘাট ও উখিয়ার ইনানী। বাহারছড়ার নোয়াখালীপাড়া, সাবরাং ও মহেশখালীপাড়া থেকে সবচেয়ে বেশি পাচার হয়।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘রাজনীতিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার বার্তা পেলেন ডিসিরা’। খবরে বলা হয়, দেশে চলমান সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিলেমিশে এবং সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা। চার দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন শেষে এমন বার্তা নিয়ে কর্মস্থলে ফিরছেন তারা। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করার পরামর্শও পেয়েছেন ডিসিরা।

বিএনপির সরকার গঠনের পর এটি ছিল প্রথম ডিসি সম্মেলন। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি ত্বরান্বিত করা, প্রশাসনকে আরও কার্যকর, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ ছাড়া জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাদক, কিশোর গ্যাং ও মব সন্ত্রাস দমনে প্রশাসনকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। একই সঙ্গে রাজস্ব আদায় বাড়াতে মাঠ প্রশাসনের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করা হয়।

ডিসি সম্মেলন শুরু হয় গত ৩ মে। চার দিনের সম্মেলনে ২৮টি কর্ম-অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দিন সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়াও রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম ও প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তারা।

গতকাল বুধবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন ডিসিরা। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভা অনুষ্ঠিত হয়। শেষ দিন সম্মেলনের প্রতিক্রিয়া ও মূল্যায়ন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এবারের সম্মেলনে জেলা প্রশাসকরা ৪৯৮টি প্রস্তাব পেশ করেন। এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পৃথক কর্ম-অধিবেশনগুলোয় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা, জ্যেষ্ঠ সচিব, সচিব ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

সম্মেলনের প্রথম দিন রাজনীতিকদের সমন্বয়ে জেলা পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি বৈঠক নিয়মিত করার তাগিদ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। এ বৈঠকের মূল লক্ষ্য মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়; মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির মাধ্যমে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন। সম্মেলনে ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনাররা গত কয়েক বছরের মতো এবারও বিচারিক ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার আবেদন করেন। তবে এ প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান। ফলে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।

মাঠ প্রশাসনে ভালোভাবে কাজ করতে ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে– প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার তাগিদ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণপূর্বক প্রতিরোধ ও দমনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ। অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা পরিহার করে দ্রুত, বাস্তবসম্মত ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়। সব উন্নয়ন প্রকল্প নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়ন নিশ্চিত এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে গুণগত মান নিশ্চিতকল্পে কার্যকর তদারকি জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে অনুসরণ করতে হবে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নে সততা, মেধা ও দক্ষতাকে। শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, প্রশাসন ও নির্বাচিত সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করে কীভাবে কার্যকর এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা যায়, তা নিয়েও অধিবেশনে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসকদের কাছে আমরা একটি জিনিস চেয়েছি– দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে তারা যেন নজরদারি বাড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখেন।

ওই দিন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন অনেকাংশেই নির্ভর করে ডিসিদের কার্যকর ভূমিকার ওপর। সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকরা সরাসরি মাঠ পর্যায়ে কাজ করেন। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় তারা নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন, যা সম্মেলনে তুলে ধরা হয়েছে। তাদের সমস্যা, প্রত্যাশা ও প্রস্তাবনা শুনে সমাধানের উপায় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

সম্মেলনের তৃতীয় দিন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে নেওয়া সরকারি সিদ্ধান্ত মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করেন ডিসিরা। এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নে তাদের উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া সমকালকে বলেন, জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ডিসিরা মিলেমিশে কাজ করলে সব সমস্যা সহজেই সমাধান করা যাবে। এবার যে ডিসি-এসপিদের সমন্বয়ে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি বৈঠক প্রতি মাসে হওয়ার কথা বলা হয়েছে, এটা ভালো উদ্যোগ। এতে বিচারপ্রার্থী জনগণ যেসব সমস্যার মুখোমুখি হয়, সেগুলো ওঠে আসবে। সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাবে।

তিনি আরও বলেন, জেলা পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি বৈঠক হলো মামলা-মোকদ্দমার বিষয়। এখানে রাজনীতিবিদদের অন্তর্ভুক্ত করলে তদন্তে প্রভাব পড়তে পারে। এই বৈঠকে বাইরের লোক যুক্ত না করাই ভালো।

ইত্তেফাক

ইরানে সামরিক অভিযান সমাপ্তি ঘোষণার পরই ট্রাম্পের হুমকি’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত সামরিক অভিযানের সমাপ্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরই ইরানকে ফের হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেন, চুক্তিতে না আসলে ইরানে এবার বড় ধরনের অভিযান চালানো হবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দুই দেশ সমঝোতার দিকে অনেকটাই এগিয়েছে। যদিও দুই দেশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ইসরাইলও এ বিষয়ে কিছু জানে না।

অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, সমঝোতার দর-কষাকষিতে রয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ইরানের ইউরেনিয়াম। সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরান তার সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করবে। তার বিনিময়ে ইরানের জব্দ করা ২ হাজার কোটি ডলার ফেরত দেবে যুক্তরাষ্ট্র। এমন চুক্তিই হচ্ছে বলে দুই মার্কিন কর্মকর্তা ও আলোচনার বিষয়ে অবগত আরো দুটি সূত্র জানিয়েছে।

গত মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে রুবিও বলেন, নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন হওয়ায় এই অভিযান শেষ করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, ইরানে নতুন কোনো সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেই যুক্তরাষ্ট্রের। তার ভাষায়, নতুন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হোক তা আমরা চাই না। আমরা শান্তির পথেই থাকতে চাই। রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট একটি সমঝোতার পক্ষেই রয়েছেন এবং আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যত্ সম্পর্ক নির্ধারণে আগ্রহী। তিনি আরো জানান, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত রাখার বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে বৈশ্বিক বাণিজ্য স্বাভাবিক থাকে। টানা কয়েক সপ্তাহের সংঘাতের পর গত ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যা এখনো বজায় রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির স্বার্থে প্রোজেক্ট ফ্রিডম আপাতত স্থগিত রাখা হলো। এই প্রজেক্ট ফ্রিডম হলো, হরমুজ থেকে জাহাজগুলোকে বাইরে নিয়ে আসা। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ‘পাকিস্তান এবং অন্য কয়েকটি দেশ এই অনুরোধ করেছিল। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছে।

এখন চূড়ান্ত ও সামগ্রিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দুই পক্ষের সম্মতিতে সাময়িকভাবে প্রজেক্ট ফ্রিডম অল্প সময়ের জন্য স্থগিত রাখা হলো। তবে ব্লকেড চলবে। এই অল্প সময়ে দেখা হবে চুক্তি চূড়ান্ত করে তাতে সই হচ্ছে কি না।’ অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ মঙ্গলবার ফোনে কথা বলেছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ল্যাভরভই ফোন করেছিলেন। সেখানে ইউক্রেন ও ইরান সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিলে বলেন, চুক্তি হলে ইরান যুদ্ধের ও যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের অবসান হতে পারে। তবে ইরান রাজি না হলে বোমা হামলা আরো তীব্র হতে পারে। গতকাল বুধবার তার মালিকানাধীন সোশ্যাল প্ল্যাটফরম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘যা নিয়ে সমঝোতা হয়েছে, ইরান যদি তা দেয় তাহলে অপারেশন এপিক ফিউরি শেষ হয়ে যাবে।’ যদিও তিনি নিজেই নিশ্চিত নন যে ইরান আসলে সেই শর্তগুলো মেনে নেবে কি না। তিনি আরো বলেন, শর্ত মেনে নিলে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যে মার্কিন অবরোধ চলছে, সেটি তখন তুলে নেওয়া হবে এবং ইরানসহ সবার জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে এ-ও বলেন, ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে আবারও বোমা হামলা শুরু হবে এবং দুঃখজনকভাবে সেটি মাত্রা ও তীব্রতা আগের চেয়ে অনেক বেশি হবে।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘গলার কাঁটা ৬৮ বিদ্যুৎকেন্দ্র’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সম্পাদিত জনস্বার্থবিরোধী অন্তত তিনটি বড় বিদ্যুৎ চুক্তি সংশোধনের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছে সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগ। উচ্চ ট্যারিফ ও অসম শর্তের কারণে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয় রোধে এসব চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন ও সংশোধনের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

বিদ্যুৎ বিভাগের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, ভারত ও চীনের সরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথ উদ্যোগে নির্মিত তিনটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে (পিপিএ) এমন কিছু কারিগরি ও আর্থিক শর্ত যুক্ত করা হয়েছে, যা উচ্চ ট্যারিফের জন্য সরাসরি দায়ী। এর মধ্যে রয়েছে : আরওই (ইক্যুইটির ওপর রিটার্ন) : বিনিয়োগের বিপরীতে মুনাফার হার। নন-আরওই খরচ : অব্যবস্থাপনাজনিত বা অন্যান্য ব্যয়। ওএন্ডএম খরচ : অস্বাভাবিক ও রক্ষণাবেক্ষণ শক্তি। আর তাপ হার : শক্তিনি বা তাপীয় হারের প্রতিকূল শর্ত।

বিভাগের মতে, দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এই কারিগরি বিষয়গুলো সমাধান করা গেলে ট্যারিফ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে এবং রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

ভর্তুকির বিশাল বোঝা ও আর্থিক সঙ্কট

বিদ্যুৎ বিভাগ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ তিন মাসেই (এপ্রিল ২০২৬ থেকে জুন ২০২৬) জয়েন্ট ভেঞ্চার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (বিসিপিসিএল, বিআইএফপিসিএল, আরএনপিএল), বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানি এবং ভারত ও নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিপরীতে ১৮ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা ভর্তুকির প্রয়োজন হবে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভর্তুকির এই পরিমাণ আগামী অর্থবছরে আরো ভয়াবহ রূপ নেবে : চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) : ভর্তুকির পরিমাণ ১৫ হাজার ১৭০ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে (২০২৬-২৭) : এই ভর্তুকির সম্ভাব্য আকার বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৪২ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

‘গলার কাঁটা’ ৬৮ বিদ্যুৎকেন্দ্র

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের বিতর্কিত আইনের অধীনে সম্পাদিত এসব চুক্তি বর্তমানে সরকারের জন্য ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কেনার ফলে যে বিশাল আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, তার বড় অংশই অর্থ বিভাগ থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ এসব ব্যয় অর্থ বিভাগের নিয়মিত ভর্তুকি তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

বণিক বার্তা

মূল্যস্ফীতি আবারো ৯ শতাংশ ছাড়াল’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, মূল্যস্ফীতি আবারো ৯ শতাংশ ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সবশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, এপ্রিলে দেশে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ; যা চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও বিশ্ববাজারে জ্বালানি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা মোকাবেলায় এপ্রিলের মাঝামাঝি দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা হয়। এতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ে ১৫ থেকে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত। এর প্রভাবে বাজারে প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামগ্রিক বৈশ্বিক ও স্থানীয় জ্বালানি পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে দেশের মূল্যস্ফীতিতে। তবে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা পূর্বাভাস দিয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করলে এবং অভ্যন্তরীণ সরবরাহে উন্নতি হলে সামনের অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের ঘরে নেমে আসবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি উসকে দিতে ভূমিকা রেখেছে। জ্বালানি সংকটের ফলে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির কারণে বাজারে কমেছে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ। অন্যদিকে নির্মাণসামগ্রী, ইলেকট্রনিক, অটোমোবাইলসসহ খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দামও বেড়েছে।

বিবিএসের তথ্যানুসারে, এপ্রিলে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ হয়েছে; যা মার্চে ছিল ৮ দশমিক ১৪ শতাংশ। এছাড়া খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ; যা মার্চে ছিল ৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের ঘরে থাকলেও ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ হয়। তবে বিবিএসের তথ্যে দেখা যায়, মার্চে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে নেমে এসেছিল। এর আগে জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং ডিসেম্বরে ছিল ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। তবে গত বছরের এপ্রিলে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ১৭ শতাংশ।

জানতে চাইলে বিবিএসের ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিং উইংয়ের পরিচালক মুহাম্মদ আতিকুল কবীর বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন এলাকার ১৫৪টি বাজার থেকে নিয়মিতভাবে তথ্য সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতির হিসাব প্রকাশ হয়। আমরা বাজার থেকে পণ্যের দাম সংগ্রহ করে মূল্যসূচক নির্ধারণ করি। যেমনটা দেখেছি সেটিই প্রকাশ করি।’

মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গ্রাম ও শহরে পার্থক্য দেখা গেছে। বিবিএসের তথ্যানুসারে, এপ্রিলে গ্রামে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ ও শহরে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। একই সঙ্গে বেড়েছে শ্রমিকের মজুরির হারও। মার্চে মজুরির হার ছিল ৮ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ, যা এপ্রিলে বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ।

মূল্যস্ফীতি নিয়ে গতকাল ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘ইনফ্লেশন ডায়নামিকস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদন বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬) মূল্যস্ফীতি আগের প্রান্তিকের তুলনায় বেড়ে গড়ে প্রায় ৮ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে যা ছিল ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। তৃতীয় প্রান্তিকে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে, যা মূলত শাকসবজি ও মসলার উচ্চ দামের ফলাফল। তবে খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে প্রোটিনভিত্তিক খাদ্যপণ্যই সর্বোচ্চ অবদান রেখেছে।

পরিসংখ্যান ও বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত কয়েক বছর ধরেই দেশে মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ছিল ১০ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ, যা এর আগের ১৪ বছরের তুলনায় সর্বোচ্চ।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও ব্যর্থ হয়। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি-জুন সময়ের জন্য নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে, সেখানে নীতি সুদহার ১০ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখার কথা জানানো হয়।

দেশ রূপান্তর

দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘খাদের কিনারে জ্বালানি খাত’। প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের এক চালে খাদে পড়েছে দেশের জ্বালানি খাত। ফলে স্বল্পমেয়াদি জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নতুন সরকার আন্তরিক হলেও কার্যকর কোনো কিছু করা সম্ভব হবে না। এতে করে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে দেশে অন্তত ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা পূরণ করা পেট্রোবাংলার জন্য দুরূহ হবে।

পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, এখন দেশে মোট গ্যাসের চাহিদা দৈনিক ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু সরবরাহ করা হয় দৈনিক ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এতে করে এখনই দেশে ঘাটতির পরিমাণ ১ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু চাহিদা এবং জোগানের মধ্যে এই পার্থক্য সত্ত্বেও রেশনিং করে মোটামুটিভাবে গ্যাস সংকট মোকাবিলা করা হয়। যদি এই ঘাটতির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পায়, তাহলে দেশের বিদ্যুৎ এবং শিল্প উৎপাদনে চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে, যা সামাল দেওয়া সরকারের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। এতে দেশে তীব্র লোডশেডিং হওয়ার পাশাপাশি শিল্পের চাকা ঘুরবে না। এই সংকট যদি স্থায়ী রূপ নেয়, সেক্ষেত্রে দেশে বিনিয়োগ কমার পাশাপাশি রপ্তানি এবং কর্মসংস্থানে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।

সংকট শুরু যখন থেকে: পেট্রোবাংলার তথ্য বলছে, ২০১৮ সালে দেশে এলএনজি সরবরাহ শুরু করা হয়। ওই সময় দেশীয় উৎস থেকে দৈনিক সরবরাহ হতো ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বাইরে তখন একটি এলএনজি টার্মিনাল দিয়ে দৈনিক ৩০০ থেকে ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হতো। এরপর ক্রমান্বয়ে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমতে থাকায় আরও একটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করা হয়। দুটি টার্মিনাল দৈনিক ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারে। এখন দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমতে থাকায় অবকাঠামো না থাকায় এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি করাও সম্ভব নয়।

সংকট কীভাবে আরও ঘনীভূত হচ্ছে: বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি গ্যাস উৎপাদন করে মার্কিন কোম্পানি শেভরনের বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র। এই ক্ষেত্রটি এককভাবে দেশের সবচেয়ে বেশি গ্যাস উত্তোলন করে। পেট্রোবাংলার দৈনিক উৎপাদন প্রতিবেদনে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে গত এপ্রিল এবং মে মাসের উৎপাদনচিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ক্ষেত্রটির গ্যাসের উৎপাদন ক্রমান্বয়ে কমছে। গত ১ জানুয়ারি বিবিয়ানা জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করেছে ৮২৩ মিলিয়ন ঘনফুট; এর বিপরীতে গত ৩ মে বিবিয়ানা উৎপাদন করেছে ৭৯৪ মিলিয়ন ঘনফুট। পেট্রোবাংলার একজন কর্মকর্তা বলেন, এই খনি থেকে যেভাবে গ্যাসের উৎপাদন কমছে, তা বিশ্লেষণ করে আমরা দেখেছি ২০২৮ সালের শেষে কিংবা ২০২৯ সালের শুরুতে তাদের গ্যাসের উৎপাদন ৪৫০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে যাবে। তখন বিবিয়ানার উৎপাদন নেমে দৈনিক ২০০ থেকে ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়াবে।

একই সঙ্গে দেশের অন্য খনিগুলোর উৎপাদনও কমতে শুরু করেছে। দেশের মধ্যে নতুন যে কূপ খনন হচ্ছে, তা দিয়ে অন্য খনিগুলো থেকে উৎপাদনের ঘাটতি পূরণ হলেও বিবিয়ানার বিশাল ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে না। এখন সরকারের কাছে দুটি এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে, তা দিয়ে ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি আমদানি করা যায়। নতুন করে টার্মিনাল নির্মাণ না করা হলে এলএনজি আমদানি বাড়ানো যাবে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন টার্মিনাল নির্মাণ করা কোনো সমস্যা নয়, কিন্তু সেটি ২০২৮ সালের মধ্যে গ্রিডে যোগ করা একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন