গত পাঁচ বছরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা এলজিইডির পাঁচ জন উপজেলা প্রকৌশলী বদলি হলেও অজানা কারণে উপ-সহকারী প্রকোশলী বেল্লাল হোসেনের বদলি হয় না। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সময়ের ব্যবধানে সুর পাল্টে দলীয় কর্মীর মতো কাজ করেন তিনি ।
লক্ষ্মীপুর সদর এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকোশলী বেল্লাল হোসেন দীর্ঘ পাঁচ বছর একই স্টেশনে কর্মরত রয়েছেন। তার বাড়ি অত্র জেলার পাশের উপজেলা রায়পুরে। ফ্যাসিবাদের আমল থেকে তিনি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার এলজিইডিতে গড়ে তুলেছেন বিশাল সিন্ডিকেট। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার জানান, সদর এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী বেল্লাল হোসেনের সিন্ডিকেটের উল্লেখযোগ্য কিছু ঠিকাদারদের ম্যনেজ করে বিভিন্ন প্রকল্পের বড় কাজগুলো নিজের আয়ত্তে রাখতেন ও সকল ধরনের অনৈতিক সুবিধা আদায় করতেন।
তার বিরুদ্ধে অন্য উপ-সহকারী প্রকোশলী বা সার্ভেয়ারদের করা এস্টিমেটের কাজও জোরপূর্বক নিজ আয়ত্তে নিয়ে নিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি গত পাঁচ বছর যাবৎ সদর উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ (স্কুল, রাস্তা, খাল, ব্রিজ) নিজ আয়ত্তে রেখেছেন ও কাজ উত্তোলনে বহু অনিয়মের সাথে জড়িত রয়েছেন । উপজেলা প্রকৌশলীরা তার অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কথা বললে তিনি সুবিধাবাদীদেরকে উপজেলা প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিতেন। গত পাঁচ বছরে পাঁচ জন উপজেলা প্রকৌশলী হলেও বদলী করা হয়েছে । কিন্তু অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে উপ- সহকারী প্রকৌশলী বেল্লাল হোসেন পাঁচ বছর দরে একই অফিসে বহাল তবিয়তে।
ঠিকাদারদের কাজ সঠিক সময়ে সম্পন্ন হলেও নিজের চাহিদা মত কমিশন না পেলে অনেক দিন যাবৎ বিল আটকিয়ে রাখারও অনেক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্বৈরাচার পালিয়ে গেলেও বেল্লালরা একটি দলকে ম্যানেজ করে পুনরায় সিন্ডিকেট তৈরি করেন।
লক্ষ্মীপুর জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী বলেন, আমি লক্ষ্মীপুর আসলাম তিন চার মাস হয়েছে। আমি খোঁজ নিয়ে দেখবো। যদি কোন রকম অনিয়ম হয় আমরা ব্যবস্থা নিব আর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।
