সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করে আদালতের রায় অবজ্ঞার অভিযোগে সরকারের আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে কনটেম্পট নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তারা হলেন, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা। মঙ্গলবার ৪ জন আইনজীবীর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনিরের পক্ষে এই আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।
নোটিশ পাঠানোর পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ‘মাসদার হোসেন মামলার রায়ে এটি প্রথম নির্দেশনা হিসেবে আসে। পরবর্তীতে হাই কোর্ট রায় দিয়ে বলেন যে, ৯০ দিন বা তিন মাসের ভেতরে পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
অধ্যাদেশটি বাতিলের পর বর্তমানে সচিবালয়টির কোনো কার্যকারিতা নেই দাবি করে তিনি বলেন, ‘হাইকোর্টের রায় বহাল থাকা সত্ত্বেও এই সচিবালয় এখান থেকে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতির ক্ষমতা থেকে শুরু করে অধ্যাদেশে দেওয়া যে ক্ষমতাগুলো ছিল, সবগুলোকেই বাতিল করা হয়েছে।’
সরকারের নির্বাহী বিভাগের এমন পদক্ষেপকে ‘আদালতের রায়ের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের শামিল’ মন্তব্য করে শিশির মনির বলেন, ‘হাইকোর্টের নির্দেশনা এখনও বহাল আছে। সুপ্রিম কোর্টে তা স্থগিত হয়নি। এই আদেশ থাকা সত্ত্বেও তারা বিচার বিভাগীয় সচিবালয় স্থানান্তর করছেন এবং সবকিছুকে আইন মন্ত্রণালয়ের ওপর ন্যস্ত করার আদেশ দিচ্ছেন।’
সরাসরি মামলা না করে আগে নোটিশ কেন দেওয়া হলো এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আইনের বিধান হলো কারও বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার চার্জ আনতে গেলে আগে নোটিশ দিয়ে সতর্ক করতে হয়। এটি হলো আমাদের সতর্ক বার্তা। তারা যদি এই কাজ থেকে বিরত না হন, তবে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আমরা হাই কোর্টের উপযুক্ত বেঞ্চে কনটেম্পট পিটিশন দায়ের করব।’
‘অবাধ প্রবেশাধিকার থাকা উচিত গণমাধ্যমের’
সাম্প্রতিক সময়ে সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন আইনজীবী শিশির মনির। আদালত প্রাঙ্গণে গণমাধ্যমের অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার পক্ষে মত দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যম যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে, তাহলে গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ বিনষ্ট হয়। অনেকেই ভুল তথ্য বা অপতথ্যের কথা বলেন। এক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু তাই বলে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিরত রাখা কারও জন্যই কল্যাণকর হবে না। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা না থাকলে সমাজ থেকে দুর্নীতি দূর করা কঠিন।’
এদিকে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের অবকাঠামো ও নথিপত্র স্থানান্তরের কার্যক্রম থেকে বিরত না থাকলে হাইকোর্ট বিভাগে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন দায়ের করা হবে। নোটিশে আরও বলা হয়, হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন ও পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার কথা ছিল। সে অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ জারি হয় এবং ১১ ডিসেম্বর সচিবালয়টি উদ্বোধন করে জনবল নিয়োগের মাধ্যমে পুরোদমে কাজ শুরু হয়। কিন্তু ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ আইন’ পাস হয় এবং এরপর সচিবালয়ের অবকাঠামো ও নথিপত্র স্থানান্তরের পদক্ষেপ নেয়া হয়, যা আদালতের রায়ের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন।
