‘হেয়ারকাট’ বাতিলে চট্টগ্রামে ব্যাংক গ্রাহকদের বিক্ষোভ শাখায় তালা

‘হেয়ারকাট’ বাতিলে চট্টগ্রামে ব্যাংক গ্রাহকদের বিক্ষোভ শাখায় তালা

ফন্ট সাইজ:

একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের আমানত ফেরত এবং মুনাফা কর্তনের ‘হেয়ারকাট’ পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন ব্যাংকের গ্রাহকরা। গতকাল সকাল ১১টায় খাতুনগঞ্জে ইউনিয়ন ব্যাংকের একটি শাখায় এ বিক্ষোভ করেন তারা।

একপর্যায়ে ওই শাখায় তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়। বিক্ষোভে অংশ নেন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংকের আমানতকারী ও গ্রাহকরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১১টার দিকে আমির মার্কেট এলাকায় জড়ো হয়ে ইউনিয়ন ব্যাংকের একটি শাখার গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন গ্রাহকরা। পরে একইভাবে এক্সিম ব্যাংকের সামনেও তালা দেয়া হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা খুলে দেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা তাদের জমাকৃত অর্থ উত্তোলন করতে পারছেন না। নতুন করে ‘হেয়ারকাট’ পদ্ধতিতে আমানতের একটি অংশ কেটে রাখার সিদ্ধান্ত তাদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

আন্দোলনকারী মো. তানভীর বলেন, ‘সেভিংস অ্যাকাউন্টে টাকা থাকা সত্ত্বেও আমরা তা তুলতে পারছি না। স্বাভাবিক লেনদেন বন্ধ হয়ে আছে। আগে এফডিআর থেকে মুনাফা পেলেও এখন বলা হচ্ছে ২০২৪-২০২৫ সালের ৪ শতাংশ ছাড়া বাকি মুনাফা মূলধন থেকে কেটে রাখা হবে।’ গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক বিষু দত্ত বলেন, ‘২০২১ সালে উচ্চ মুনাফায় এফডিআর করেছিলাম। এখন বলা হচ্ছে, নির্ধারিত সময়ের আগেই সেই মুনাফা সমন্বয় করে কেটে নেয়া হবে।

এমনকি আমানতের মূল টাকাও তুলতে পারছি না।’ সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারী শারমিন আক্তার বলেন, ‘২০১৮ সালে রাখা টাকা এখনো তুলতে পারছি না। ব্যাংক বলছে ২০২৮ সালের আগে টাকা উত্তোলন করা যাবে না- কিন্তু তখন আদৌ টাকা পাবো কিনা, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই।’ বিক্ষোভ চলাকালে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের একটি শাখায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা শাখা ব্যবস্থাপককে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

জানা যায়, প্রায় দুই শতাধিক গ্রাহক এদিন ইউনিয়ন ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখায় অবস্থান নেন। তারা ‘হেয়ারকাট’ পদ্ধতি বাতিল, আমানতের সম্পূর্ণ টাকা ফেরত এবং স্বাভাবিক লেনদেন চালুর দাবি জানান। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আমানতের ওপর মুনাফা না দেয়ার সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক। সরকারি ঘোষণার পরও বাস্তবে ব্যাংকিং লেনদেন স্বাভাবিক হয়নি বলেও দাবি তাদের।

তারা বলেন, আমরা আমাদের নিজের টাকা তুলতে পারছি না। দীর্ঘদিন ধরে ঘুরানো হচ্ছে। এখন আবার সেই টাকার একটি অংশ কেটে নেয়ার কথা বলা হচ্ছে- এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এ বিষয়ে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকরা জানান, ‘হেয়ারকাট’ বা লেনদেন সীমাবদ্ধতার বিষয়ে তাদের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা কাজ করছেন। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন বলেন, দেশের অন্যান্য জায়গার মতো এখানেও গ্রাহকরা আন্দোলন করেছেন। আমরা তাদের সঙ্গে এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

আব্দুল হালিম

১ মাস আগে

বিক্ষোভকারীরা গ্রাহক নাকি একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের কর্মকতা-কর্মচারী?

মন্তব্য করুন