দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ক্ষমতায় আসায় সীমান্তবর্তী উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা বেড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। কক্সবাজারের চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে এই অঞ্চল ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপি অধ্যুষিত হিসেবে পরিচিত। ফলে নতুন সরকার গঠনের পর উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়ে বাড়তি আশাবাদ তৈরি হয়েছে জনমনে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে বিএনপি’র প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী ১ হাজার ৫৪৯ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। সরকারি ঘোষিত ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৮২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহম্মদ আনোয়ারী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৩৩ ভোট। উখিয়ার ৫৪টি ও টেকনাফের ৬১টি কেন্দ্র মিলিয়ে মোট ১১৫টি কেন্দ্রে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। ভোট গণনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যবধান ওঠানামা করলেও শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করেন শাহজাহান চৌধুরী। এই জয়ের মধ্যদিয়ে পঞ্চমবারের মতো জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন তিনি। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) উখিয়া সভাপতি মোহাম্মদ সিকদার বলেন, দীর্ঘ সময় পর দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে বলে মানুষ স্বস্তি অনুভব করছে। তার ভাষ্য, বিগত সময়গুলোতে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল। প্রশাসনকে ব্যবহার করে একতরফা নির্বাচন হয়েছে, এমন অভিযোগও ছিল। এবার মানুষ সরাসরি ভোট দিতে পেরেছে। এখন প্রত্যাশা, প্রশাসন নিরপেক্ষ থেকে আইনের শাসন নিশ্চিত করবে এবং সীমান্ত এলাকায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে। উখিয়া অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি রবিউল হুসাইন বলেন, সীমান্ত এলাকার প্রধান দু’টি সমস্যা হলো- ইয়াবা ও রোহিঙ্গা সংকট। বহু বছর ধরে ইয়াবা কারবার সামাজিক কাঠামোকে দুর্বল করেছে এবং তরুণ সমাজকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। একইসঙ্গে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার অবস্থান স্থানীয় অর্থনীতি, পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে। নতুন সরকারের কাছে আমাদের দাবি- ইয়াবা ব্যবসা সমূলে নির্মূলে দৃশ্যমান ও টেকসই অভিযান এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনে জোরালো কূটনৈতিক উদ্যোগ। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জনসভায় শাহজাহান চৌধুরী ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে বলেন, নির্বাচিত হলে মাদক ব্যবসা নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুকে অগ্রাধিকার দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। তার এসব ঘোষণাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন স্থানীয়রা। বিশ্লেষকদের মতে, উখিয়া-টেকনাফ কেবল একটি নির্বাচনী এলাকা নয়; এটি কৌশলগত ও আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত অঞ্চল। ফলে ইয়াবাবিরোধী অভিযান জোরদার, সীমান্ত নজরদারি বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করতে পারলে নতুন সরকার এখানকার মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় করতে সক্ষম হবে। সীমান্তবাসীর প্রত্যাশা স্পষ্ট মাদকমুক্ত সমাজ, নিরাপদ জনপদ এবং রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান। এখন দেখার বিষয়, নতুন সরকারের পদক্ষেপে কতো দ্রুত সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটে।
ইয়াবা নির্মূল, প্রত্যাবাসনে জোর চায় সীমান্তবাসী
স্টাফ রিপোর্টার, উখিয়া থেকে
১৭ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
