জাতীয় সংসদের পর এবার রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এ নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। স্থানীয় নির্বাচনের দাবি জোরদারের পাশাপাশি প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে নিচ্ছে জামায়াত। ১১ দলীয় ঐক্যের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিলেও এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে এককভাবে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।
ইতোমধ্যে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারসহ প্রায় সব পদে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের এলাকায় সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডসহ নানাভাবে গণসংযোগ চালাচ্ছেন। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী স্থানীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি শূন্যতা বিরাজ করছে। তাই জাতীয় নির্বাচনের আগেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবি ছিল জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের। তবে বিএনপির বিরোধিতায় অন্তর্বর্তী সরকার সে দাবি আমলে নেয়নি।
স্বাভাবিকভাবেই জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার দ্রুত স্থানীয় নির্বাচন দেবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বিভিন্ন পদে নিজ দলের লোকদের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ায় সে আশাও ভঙ্গ হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকার গণতান্ত্রিক ধারা ব্যাহত করে দলীয়করণের মাধ্যমে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে।
সেই ধারাবাহিকতায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে দলীয়ভাবে জামায়াতের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নাম সুনা যাচ্ছে। তন্মধ্যে উত্তর হামছাদি ইউনিয়নে আনোয়ার হোসেন পাটওয়ারী, দক্ষিণ হামছাদি ফয়েজ আহম্মদ, ৩নং দালাল বাজার আশ্রাফ হোসেন পাটওয়ারী বাবুল ও মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, ৪নং চররুহিতা ইউনিয়নে মাষ্টার হুমায়ুন কবির ও মাওলানা কাজী রফিকুল ইসলাম, ৫নং পার্বতী নগর মনিরুল ইসলাম মিলন, ৮নং বশিকপুর মাওলানা মোরশেদ আলম, শাকচর ইউনিয়ন এড. মাহীর আসহাব ও মাওলানা ইলিয়াস শাহ, ২০নং চররমনীমোহন মোহাম্মদ হানিফ, টুমচর ইউনিয়ন সাজ্জাদ বাহার প্রমুখ।
লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়তের আমির এসইউ এম রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, তৃণমূলের মতামত নিয়ে নিয়মানুযায়ী জনপ্রিয় ব্যক্তিকে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনে প্রার্থী করা হবে। আমরা আশা করি স্থানীয় নির্বাচনে আমাদের প্রার্থীরা ইনশাআল্লাহ বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে। তখনই দেশে ইনসাফভিত্তিক সুষম বণ্টন হবে। তাহলে সমাজে কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা এবং নৈরাজ্য সৃষ্টি হবে না।
