একজন সালমা নজির নিয়ে ভাটি অঞ্চলের স্বপ্ন

ফন্ট সাইজ:

সুনামগঞ্জের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন সালমা নজির। তিনি প্রয়াত সংসদ সদস্য নজির হোসেনের সহধর্মিণী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ তাকে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে মনোনয়ন দেয়ার জোর দাবি তুলেছেন। তাকে নিয়ে ভাটি অঞ্চলের মানুষ স্বপ্ন বুনছেন। হাওরাঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সামাজিক সম্পৃক্ততার সমন্বয়ে সালমা নজির সামনে এগিয়ে এলে সুনামগঞ্জের উন্নয়ন ও নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণে নতুন মাত্রা যোগ হবে।
স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি- দীর্ঘ রাজনৈতিক ঐতিহ্য, পারিবারিক উত্তরাধিকার, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং সাম্প্রতিক মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তায় সালমা নজির মনোনয়নের যোগ্য দাবিদার। ব্যাংকের চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পর ব্যক্তিগত জীবনযাপন করলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরেন। বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের আহ্বান নিয়ে গ্রাম থেকে গ্রামে প্রচারণা চালান তিনি। কখনো নৌকায়, কখনো পায়ে হেঁটে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে দলীয় বার্তা পৌঁছে দেন।
সালমা নজির সুনামগঞ্জ-১ (তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, মধ্যনগর ও ধর্মপাশা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নজির হোসেনের সহধর্মিণী। ১৯৯১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পাঁচবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন নজির হোসেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে জাতীয় রাজনীতির আলোচিত নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে পরাজিত করে তিনি ব্যাপক আলোচনায় আসেন। দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে এসে তিনি সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ২৮শে মার্চ তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন সালমা নজির। বিএনপি’র কর্মী সারোয়ার ইবনে গিয়াস বলেন, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাবেক তিনবারের এমপি মরহুম নজির হোসেনের সহধর্মিণী সালমা নজিরকে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য করা হলে তিনি এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
বিএনপি নেতা নুরু মিয়া বলেন, প্রয়াত এমপি নজির হোসেনের আদর্শ, ত্যাগ ও জনগণের প্রতি ভালোবাসা আজও সুনামগঞ্জের মানুষের হৃদয়ে জীবন্ত। সেই ধারাবাহিকতায় অভিজ্ঞ সালমা নজির মনোনয়ন পেলে সুনামগঞ্জের নারীদের একটি শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হয়ে উঠবেন। তাহিরপুর উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জুনাব আলী বলেন, সালমা নজির সুনামগঞ্জ-১ আসন থেকে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। মনোনয়ন না পেলেও তিনি দলের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষেই আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন, যা তার দলের প্রতি নিষ্ঠা ও শৃঙ্খলার উজ্জ্বল প্রমাণ। তিনি আরও বলেন, সিলেট বিভাগে মহিলা রাজনীতিবিদের সংখ্যা তুলনামূলক কম। সেই প্রেক্ষাপটে সালমা নজির রাজনৈতিক ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সদস্য। তার স্বামী নজির হোসেন এলাকার নির্বাচিত এমপিদের মধ্যে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সততার দিক থেকে অনন্য ছিলেন। পাশাপাশি সালমা নজির নিজেও একজন সাবেক ব্যাংকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যা তার পেশাগত দক্ষতা ও নেতৃত্ব গুণের পরিচায়ক।
সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সদস্য ও ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব খান বলেন, রাজনৈতিক ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সদস্য হিসেবে সালমা নজিরকে দায়িত্ব দিলে মানুষের কল্যাণ হবে।



কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন