প্রথম আলো
‘তদন্ত এগোয় না, জামিনের অপেক্ষায় সাংবাদিকেরা’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাবন্দী রয়েছেন কয়েকজন সাংবাদিক। বারবার আবেদন করেও তাঁরা জামিন পাচ্ছেন না। এ ছাড়া মামলার কারণে কেউ কেউ আত্মগোপনে রয়েছেন। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এখন জামিন পাওয়ার আশা দেখছেন অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিকেরা।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট আটক করা হয়েছিল একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক বার্তাপ্রধান শাকিল আহমেদ ও সাবেক প্রধান প্রতিবেদক-উপস্থাপক ফারজানা রুপাকে। তাঁরা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। সেদিন তাঁরা বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে গেলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) তাঁদের আটক করে।
তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। রাজধানীর আদাবরে পোশাকশ্রমিক রুবেল হত্যা মামলাতেও তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। দেড় বছরের বেশি সময় ধরে তাঁরা কারাগারে আছেন, এখনো জামিন পাননি।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া সীমান্ত এলাকা থেকে আটক হন একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং ভোরের কাগজ-এর সম্পাদক শ্যামল দত্ত। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হওয়া কয়েকটি হত্যা মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তখন থেকে তাঁরা কারাগারে আছেন এবং তাঁদের জামিন আবেদন একাধিকবার নাকচ হয়েছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জাতীয় প্রেসক্লাব ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি এবং জনতা পার্টি বাংলাদেশের মহাসচিব শওকত মাহমুদ গ্রেপ্তার হন। তিনি বর্তমানে কারাগারে। গত বছরের এপ্রিলে ‘জনতা পার্টি বাংলাদেশ’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ হয়। দলটির চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় গত বছরের আগস্টে মাইটিভির চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দীনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় এক যুবককে গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এসব মামলা সরকার করছে না; সাধারণ মানুষ নিজ নিজ জায়গা থেকে মামলা করছেন। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, গ্রেপ্তার করা, জামিন না হওয়া এবং দীর্ঘ কারাবাসের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকায় রাষ্ট্র দায় এড়াতে পারে কি না।
দুর্নীতিবিরোধী বেসরকারি সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সারা দেশে ৪৯৬ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার হয়েছিলেন। এর মধ্যে ২৬৬ জনকে অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত হত্যা বা সহিংসতার মামলায় আসামি করা হয়েছে। গত বছরের ৪ আগস্ট তারা এই তথ্য প্রকাশ করে।
নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি ও মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা যদি আইনের শাসনের কথা বলি, তাহলে বিনা বিচারে কাউকে আটকে রাখা এবং দিনের পর দিন জামিন না দেওয়া সমীচীন নয়। বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। আমরা নোয়াবের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি বলেছি। শিগগিরই বিষয়টির সুরাহা হবে বলে আশা রাখছি।’
ঢালাও আসামি, এখন অনেকে আশা দেখছেন
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন বিকেল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বঙ্গভবনের প্রধান ফটকের সামনে দায়িত্ব পালন করছিলেন সাংবাদিক শাহনাজ শারমীন। সেখান থেকেই তিনি লাইভ সম্প্রচার করেন। অন্য টেলিভিশনেও সেই সম্প্রচারের দৃশ্য দেখা গেছে, যার তথ্যপ্রমাণ রয়েছে।
কিন্তু একই দিন বিকেলে মিরপুরের ভাষানটেক এলাকায় এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় অন্য অনেকের সঙ্গে তাঁকেও আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে একাত্তর টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শাহনাজ শারমীন এসব তথ্য উল্লেখ করে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাঁর প্রশ্ন, একই ব্যক্তি একসঙ্গে দুই জায়গায় থাকেন কীভাবে? এখন বিষয়টি দেখার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।
শাহনাজ শারমীনের ঘটনাটিই একমাত্র ঘটনা নয়। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হত্যা ও সহিংসতার অভিযোগে করা বিভিন্ন মামলায় সাংবাদিকদের ঢালাওভাবে আসামি করা হয়েছিল। বিভিন্ন পত্রিকা ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিক ও সম্পাদকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ সাংবাদিক এখনো মামলার বোঝা বহন করছেন এবং কারাবন্দীদের অনেকেই জামিন পাচ্ছেন না।
নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১৪ মার্চ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীর জামিন পেয়েছেন। ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি ব্যায়ামাগার থেকে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়েছিল। প্রথমে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও পরে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের অক্টোবরে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মুহাম্মদ জামাল হোসাইন। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগেরও সদস্য।
গত বছরের আগস্টে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান নিয়ে আয়োজিত একটি গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিতে গিয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম (পান্না)। মাস তিনেক পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।
এ ছাড়া চট্টগ্রামে ২৮ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এসব ঘটনায় অন্যদের মধ্যেও কিছুটা আশাবাদের সঞ্চার হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশা, যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি নেই, মামলাগুলোর দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাঁদের ক্ষেত্রে আদালত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত দেবেন। এর আগে গ্রেপ্তারকৃত সাংবাদিকদের জামিন পাওয়ারও প্রত্যাশা করছেন তাঁরা।
সাংবাদিকদেরই অনেকে বলছেন, সাংবাদিকেরা বিতর্কের ঊর্ধ্বে নন। তাঁদের লেখালেখি বা বক্তব্যে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত মনে করলে তার আইনি প্রতিকার রয়েছে। এমনকি কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা অন্যায়ভাবে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও আছে। কিন্তু ঢালাওভাবে হত্যা মামলার মতো গুরুতর অভিযোগে নাম ধরে ধরে আসামি করা ন্যায়বিচারের ধারণাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মামলাগুলো সংবেদনশীল। যেসব সংস্থা এসব মামলার তদন্ত করছে, তারা প্রতিটি মামলা যাচাই-বাছাই করে দেখছে। তদন্তে কারও বিরুদ্ধে দায় পাওয়া না গেলে তদন্তকারী কর্মকর্তা তাঁকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করছেন। আর কারও বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী অভিযোগপত্র দেওয়া হচ্ছে।
এক বছরে নির্যাতনের শিকার ৩৮৯ জন
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য বলছে, জুলাই অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের মার্চ—এই ১২ মাস বা এক বছরে বাংলাদেশে ৩৮৯ জন সাংবাদিক নির্যাতন বা হয়রানির শিকার হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি সাংবাদিকদের কমবেশি নির্যাতন বা হয়রানি করেছেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জাতীয় পার্টি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা–কর্মীরা। এর মধ্যে মরদেহ উদ্ধার হয়েছে চারজন সাংবাদিকের। এই সময়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ১৯টি।
এমন পরিস্থিতিতে আজ রোববার বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত হচ্ছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গঠন: মানবাধিকার, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রসার’।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চাপের মুখে ছিল দেশের গণমাধ্যম। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সেই সরকারের পতনের পর গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে বলে আশা করা হয়েছিল।
অন্তর্বর্তী সরকারের দিক থেকে সরাসরি কোনো চাপ না থাকলেও তাদের সময় বিভিন্ন গোষ্ঠীর ‘মব’ বা দলবদ্ধ সহিংসতার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায় দেশের গণমাধ্যম। ওই সরকারের দেড় বছরজুড়ে গণমাধ্যম একধরনের ‘মব–আতঙ্কের’ মধ্যে ছিল।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিন দফায় ১৬৭ জন সাংবাদিকের প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করা হয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড দিয়েও সচিবালয়ে ঢোকার অনুমতি বাতিল করা হয়। পরে সমালোচনার মুখে নির্ধারিত সংখ্যক সাংবাদিকের তালিকা করা হয়।
এরপর নতুন নীতিমালা করা হয়। তবে সাড়ে চার মাসেও নীতিমালার বাস্তবায়ন হয়নি। আবার সমালোচনা হলে কার্ড দেওয়া শুরু হয়। কিন্তু সেটি দিয়েও সরাসরি সচিবালয়ে ঢোকা যাচ্ছিল না।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার প্রতিবেদন ‘শ্যোন অ্যারেস্ট ঘিরে ঘাটে ঘাটে বাণিজ্য’। খবরে বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সারা দেশে সহিংসতার ঘটনায় করা মামলাগুলোয় ঢালাওভাবে আসামি করার অভিযোগ রয়েছে। এসব মামলায় আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরও কারামুক্তি মিলছে না অনেক আসামির। জামিনের পর কারামুক্তির আগেই দেখানো হচ্ছে অন্য কোনো মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট। এমন ঘটনা অহরহ। কাগজে-কলমে জামিন, মানে মুক্তি নিশ্চিত হলেও বাস্তবে কারাগারের দরজা খুলতে লাগছে পাঁচ স্তরের অদৃশ্য পুলিশ ক্লিয়ারেন্স। অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে, জামিন, কারামুক্তি ও শ্যোন অ্যারেস্ট ঘিরে প্রতিটি ধাপেই অনিয়ম ও বাণিজ্যের অভিযোগ। রাজধানীর বিভিন্ন থানার ২০টি মামলা বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
আইনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিআরপিসি অনুযায়ী এবং সুপ্রিমকোর্টের বিভিন্ন নজির অনুযায়ী আদালত জামিন মঞ্জুর করার পর তা কার্যকর করা প্রশাসনের দায়িত্ব। জামিন পাওয়া আসামিকে অযথা কারাগারে আটকে রাখা বা কারামুক্তিতে বিলম্ব আইনের পরিপন্থি। যার ফলে প্রশ্ন উঠছে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন নিয়ে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, জামিন আদেশ জারির পর আসামিকে মুক্তি পেতে ক্লিয়ারেন্সের জন্য প্রথমে ডিসি প্রসিকিউশন, বিভাগীয় পুলিশ কার্যালয়, গোয়েন্দা বিভাগ, সংশ্লিষ্ট থানা হয়ে আবার কারাগারে পাঠানো হয়। এই সুযোগে এসব অদৃশ্য ক্লিয়ারেন্স ঘিরে অভিযোগ উঠেছে ঘুস লেনদেনের। ভুক্তভোগীদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে অসাধু পুলিশ কর্মকর্তারা এ প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে কার্যত জিম্মি করে অর্থ আদায় করছেন। বিশেষ করে রাজনৈতিক মামলার আসামিদের কাছ থেকে। অন্যদিকে জুলাই আন্দোলনে সহিংসতায় জড়িত ছিলেন-এমন আসামিদের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনের মাধ্যমে মামলা থেকে অভ্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
জামিন পেলেও মিলছে না কারামুক্তি: অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, জামিন পেলেও সহজেই আসামিদের মুক্তি মিলছে না। কারামুক্তির জন্য তৈরি হয়েছে ‘পুলিশের পাঁচ স্তরের ক্লিয়ারেন্স’ প্রক্রিয়া। প্রথমে আদালতের জামিন আদেশ ডিএমপির ডিসি প্রসিকিউশন হয়ে কারাগারে পৌঁছায়। এরপর সেটি যায় বিভাগীয় পুলিশের কার্যালয়, সেখান থেকে যায় সংশ্লিষ্ট থানায়। সবশেষে আবার কারাগারে ফিরে আসে নিশ্চিতকরণের জন্য। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় প্রতিটি স্তরেই ঘুস লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ‘একেকটি ধাপ পার হতে আলাদা করে ‘ম্যানেজ’ করতে হয়। না হলে পরবর্তী সময়ে অন্য মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। যার ফলে আসামি কারামুক্ত হতে পারেন না।
জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ: অনুসন্ধানে পাওয়া যায়, কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা ও দালালচক্র এই ‘ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়া’কে জিম্মি করে অর্থ আদায় করছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক মামলার আসামিদের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা বেশি। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের এসব ক্লিয়ারেন্সের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়।
ঢাকা জজকোর্টের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি যুগান্তরকে বলেন, রাজনৈতিক মামলায় কাউকে আটক করার পর জামিন পেলেও সরাসরি কারামুক্তি পাওয়া খুব সহজ হয় না। থানাকে ম্যানেজ না করতে পারলে কেউ বের হতে পারেন না। যদি সেটা না করা হয়, তাহলে নতুন করে অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। কখনো একই থানায়, আবার কখনও পাশের থানায় মামলা দেওয়া হয়, যাতে মুক্তি আটকে যায়। আমি যাদের দেখেছি, তারা প্রায় সবাই এভাবে ম্যানেজ করেই বের হয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, পুরো প্রক্রিয়া এমনভাবে চলে যে, জামিন পাওয়ার পর আসামির স্বজনরা কারাগারের গেটে গিয়ে জানতে পারেন আরেকটি মামলায় তার শ্যোন অ্যারেস্ট আছে। তখন আবার শুরু হয় নতুন দৌড়ঝাঁপ।
কেস স্টাডি: রাজধানীর শাহজাহানপুর থানার একটি বৈষম্যবিরোধী মামলায় গ্রেফতার হওয়া এক মাংস ব্যবসায়ী আদালত থেকে জামিন পান। কিন্তু জামিন পেলেও তিনি কারাগার থেকে বের হতে পারেন না। স্বজনরা কারাগারে তার মুক্তির জন্য গেলে জানতে পারেন তাকে অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। এমন করে কয়েকটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় তাকে। পরবর্তী সময়ে তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে ম্যানেজ করে কারামুক্ত হন। এমন ঘটনা আদালতে অহরহ। তিনি যুগান্তরকে বলেন, আমাকে ব্যবসায়িক দন্দ্বে গ্রেফতার করা হয়। পরে যখন আদালত থেকে জামিন পাই, তখন অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এভাবে ৩টি মামলায় আমাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে থানা ম্যানেজ করে কারামুক্ত হই। আইনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জবাবদিহির আওতায় না আনলে এ অনিয়ম বন্ধ হবে না। আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ এবং ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম চালুর পরামর্শ দিয়েছেন তারা। জামিন একটি সাংবিধানিক ও আইনি অধিকার। কিন্তু সেই অধিকার যদি প্রশাসনিক স্তরে ‘বাণিজ্যে’ পরিণত হয়, তাহলে তা শুধু ব্যক্তির নয়-পুরো বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ধ্বংস করে।
কালের কণ্ঠ
‘সংসার চালাতে সঞ্চয়ে টান’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, আয় না বাড়লেও খরচ বাড়ছে লাগামহীনভাবে। বিলাসিতা তো অনেক দূরের কথা, মিতব্যয়িতার চরম পাঠ নিতে হচ্ছে দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে। চাল-ডাল-তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে স্কুল-কলেজের ফি, চিকিৎসা, যাতায়াত খরচসহ জীবনযাত্রার সামগ্রিক ব্যয়। একদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অন্যদিকে আয়ের সংকটে পড়েছেন নির্ধারিত আয়ের এসব মানুষ।
নিম্ন আয়ের মানুষ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায় থেকে নানা ধরনের সহায়তা পেলেও মধ্যবিত্তের ভাগ্যে তা জুটছে না। আবার লোকলজ্জার ভয়ে কোথাও গিয়ে হাত পাতাও তাঁদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সীমিত আয়ের মধ্যবিত্ত মানুষের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। মধ্যবিত্তরা বলছেন, তাঁরা দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখেন, কর দেন, সঞ্চয় করেন, বাজারে চাহিদা তৈরি করেন।
কিন্তু প্রতিবছর বাজেটে প্রাপ্য গুরুত্ব পান না তাঁরা। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তাঁরা সুরক্ষা চান। অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মধ্যবিত্ত শ্রেণির সুরক্ষায় নীতি গ্রহণ করলেও বাংলাদেশ এখনো সুনির্দিষ্ট সুরক্ষা বলয় তৈরি করেনি। আগামী বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো, নিত্যপণ্যে ভ্যাট-কর কমানো ও টার্গেটেড অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে এই জনগোষ্ঠীকে বাঁচানোর দাবি অর্থনীতিবিদদের।
পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) জরিপ বলছে, গত তিন বছরে দারিদ্র্যের হার লাফিয়ে ২৭.৯৩ শতাংশে পৌঁছেছে, চরম দারিদ্র্য বেড়ে হয়েছে ৯.৩৫ শতাংশ। বেসরকারি চাকরিজীবী ও মধ্যবিত্তরা পড়েছেন চরম সংকটে। তাঁদের সঞ্চয় ভাঙছে, ঋণ বাড়ছে, খরচ মেটাতে না পেরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিশুরা ঝরে পড়ছে।
ঠিক কতজন মধ্যবিত্ত?
নির্ধারিত আয়ের মানুষ—যাঁরা মাসিক বেতনের ওপর নির্ভরশীল, যাঁদের বেতনের বাইরে বাড়তি আয় নেই, তাঁরাই মূলত মধ্যবিত্ত। বাংলাদেশে মধ্যবিত্তের সংখ্যা নিয়ে নানা মত আছে।
বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক বিনায়ক সেনের মতে, মধ্যবিত্তের হার মোট জনগোষ্ঠীর ২০ শতাংশ, প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষ। বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের মতে, মধ্যবিত্তের সংখ্যা দেড় কোটি, প্রতিবছর যুক্ত হচ্ছে ২০ লাখ নতুন মানুষ।
সঞ্চয় ভাঙার রেকর্ড, বাড়ছে ঋণনির্ভরতা
মধ্যবিত্তের এই অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সবচেয়ে বড় প্রমাণ মিলছে সঞ্চয় ভাঙার তথ্যে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে সঞ্চয়পত্র ভাঙার পরিমাণ ৩২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। মানুষ এখন আর বিলাসী প্রয়োজন বা বিনিয়োগের জন্য নয়, বরং সংসার চালাতেই ভবিষ্যতের এই শেষ ভরসাটুকু ভাঙছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, সঞ্চয় ভাঙাটা অর্থনীতির জন্য একটি অশনিসংকেত। এর অর্থ হলো, মানুষ ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার কথা ভুলে বাঁচার তাগিদে তাঁর দীর্ঘদিনের জমানো পুঁজি শেষ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
একই চিত্র ফুটে উঠেছে মানুষের ঋণনির্ভরতায়। বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে দেশের এক-তৃতীয়াংশ পরিবার এখন ঋণনির্ভর হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শহরের পরিবারগুলোর মাসিক গড় আয় আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। ২০২২ সালে নগর পরিবারের মাসিক গড় আয় ছিল ৪৫ হাজার ৫৭৮ টাকা, যা বর্তমানে নেমে দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৫৭৮ টাকায়। অথচ পরিবারের খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে গড়ে ৪৫ হাজার টাকায়।
কর্মহীনতা যেন নতুন মহামারি
আয়ের সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চাকরি হারানোর শঙ্কা। শিল্প মালিকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে এক লাখ ৬০ হাজার মানুষ কাজ হারিয়েছেন। কিন্তু ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসেই এই সংখ্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে—কাজ হারিয়েছেন প্রায় ২১ লাখ মানুষ। বেকারত্বের এই উল্লম্ফন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এক অন্ধকার ভবিষ্যতের ইঙ্গিত। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য মতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বেকারত্বের হার ৪.৬৩ শতাংশ, বা প্রায় ২৭ লাখ বেকার হয়েছেন।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘আত্মীয় ও জামায়াতীকরণের অভিযোগ নিয়োগে’। খবরে বলা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উর্দু বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় মেধা তালিকায় দ্বিতীয় হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সালাম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন। দুবার স্বর্ণপদক বিজয়ীও হয়েছিলেন। রাবি কর্তৃপক্ষ তাঁকে নিয়োগ দেয়নি। নিয়োগ পান মেধা তালিকার প্রথম, তৃতীয় ও চতুর্থজন।
এমন অনিয়ম দেখে নিয়োগ বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. ইস্রাফিল চূড়ান্ত ফলের নথিতে সই করেননি। তবু নিয়োগটি বৈধ করেছেন সদ্য সাবেক উপাচার্য সালেহ্ হাসান নকীব। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পেয়েছিলেন তিনি।
শুধু এই একটি নিয়োগ নয়, সালেহ্ হাসান নকীব যে ৫৫৭ দিন উপাচার্য ছিলেন, সেই সময়ে ১৫টি সিন্ডিকেট বৈঠকের মাধ্যমে নিয়োগ দিয়েছেন অন্তত ৪৭৮ জনকে। এর অধিকাংশ নিয়ে নানা ধরনের অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও জামায়াতীকরণের অভিযোগ উঠেছে।
সালেহ্ হাসান নকীবের সময়ে নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৫৪ জন শিক্ষক, ছয় চিকিৎসক, তিন কর্মকর্তা এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছেন ৩১৫ জন। অতীতে এত অল্প সময় দায়িত্বে থেকে কোনো উপাচার্য এত বেশি জনবল নিয়োগ দিতে পারেননি।
সদ্য সাবেক উপাচার্যের প্রায় দেড় বছরের মেয়াদে অন্যতম আলোচিত ঘটনা এইচএসসি পাস দুজনকে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেওয়া। পছন্দের লোকের সমন্বয়ে নিয়োগ বোর্ড তৈরি করে এ নিয়োগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া নিজের শ্বশুরকে তিনি ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেন, যা নিয়েও তীব্র সমালোচনা রয়েছে। ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্স বিভাগে একটি শূন্য পদের বিপরীতে ১০ জন শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বদল এনে কৌশলে লিখিত পরীক্ষা চালু করেন অধ্যাপক নকীব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রনেতাদের অভিযোগ, জুলাই চেতনাকে পুঁজি করে উপাচার্য হয়ে সালেহ্ হাসান নকীব নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিয়োগ বাণিজ্য, দলীয়করণ ও আত্মীয়করণে নামেন। তিনি যাদের নিয়োগ দিয়েছেন, তাদের অধিকাংশই জামায়াতপন্থি। বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নিয়োগ দেওয়া হয় জামায়াতপন্থি একাধিক চিকিৎসক। জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়কদের এক ‘পৃষ্ঠপোষক’কেও বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে নিয়োগকাণ্ডে সবচেয়ে আলোচিত উপাচার্য ছিলেন অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান। তিনি তাঁর প্রথম মেয়াদের চার বছরে ৫৯৫ জন শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় মেয়াদে ২৪৩ জনকে নিয়োগ দেন।
শিক্ষক নিয়োগের জন্য উপাচার্যের চিঠি
অধ্যাপক নকীব উপাচার্যের দায়িত্ব নেওয়ার পর রেজিস্ট্রার দপ্তরের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগে-বিভাগে চিঠি পাঠান। এর আগে কোনো উপাচার্যকে এমন কাজ করতে দেখা যায়নি। দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দিতে কোনো কোনো বিভাগে দুই থেকে তিনবার চিঠি দিয়ে তাগাদা দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক সমকালকে বলেন, ৩০ বছর ধরে এখানে শিক্ষকতা করছি। এ সময়ের মধ্যে অনেক উপাচার্যকে দেখেছি। তবে, নকীব স্যার ছাড়া কোনো উপাচার্যকে এখন পর্যন্ত শিক্ষক নিয়োগ দিতে বিভাগে চিঠি ইস্যু করতে দেখিনি।
স্বজন নিয়োগ
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে সম্প্রতি পাঁচ শিক্ষক নিয়োগ পান। এদের একজন ড. মুর্শিদা খাতুন। তিনি ফিশারিজ বিভাগের জামায়াতপন্থি প্রভাবশালী শিক্ষক অধ্যাপক ইয়ামিন হোসেনের স্ত্রী। চল্লিশোর্ধ্ব এই শিক্ষিকা এর আগে স্বনামধন্য কোনো পাবলিক বা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেননি।
জানতে চাইলে ড. মুর্শিদা সমকালকে বলেন, আমি পাবলিক পরীক্ষায় বোর্ড স্ট্যান্ড করেছিলাম। ১৯৯৯-২০০০ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলাম। বিভাগ প্রতিষ্ঠার পর আমি প্রথম ফার্স্ট ক্লাস পেয়েছিলাম।
ইত্তেফাক
‘ইরানের প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নন ট্রাম্প’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ইরানের সর্বশেষ কূটনৈতিক প্রস্তাবেও অসন্তুষ্টি জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন হামলার আশঙ্কায় পূর্ণমাত্রার সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে তেহরান। প্রায় দুই মাস ধরে চলমান সংঘাতে অচলাবস্থা কাটার কোনো লক্ষণ এখনো স্পষ্ট নয়, যদিও উভয় পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি মেনে চলছে।
মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রস্তাবে এমন কিছু দাবি রয়েছে যা ওয়াশিংটনের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ট্রাম্প জানিয়েছেন, একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আলোচনা চলমান থাকলেও বর্তমান প্রস্তাব তাকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। অন্যদিকে, ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের কঠোর অবস্থান পরিবর্তন করলে তেহরান আলোচনায় ফিরতে প্রস্তুত।
এদিকে সম্ভাব্য সংঘাতের নতুন পর্যায় সামনে রেখে ইরান সামরিক প্রস্তুতি বাড়িয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের যে কোনো ‘দুঃসাহসিক পদক্ষেপের’ জবাব দিতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে এবং হামলার ক্ষেত্রে বড় ধরনের পালটা আঘাতের পরিকল্পনাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো ইরানের নতুন প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করা এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি অগ্রাধিকার পেয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরবর্তী ধাপে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। তবে এই কাঠামোও যুক্তরাষ্ট্রকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি।
সংঘাত ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা বাড়ছে। ফ্রান্স স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা এই যুদ্ধে অংশ নেবে না এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও ইরান যুদ্ধ নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৬১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক এই যুদ্ধকে ‘ভুল’ সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন। কংগ্রেসে যুদ্ধ পরিচালনার আইনি বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, যদিও ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধবিরতির কারণে অনুমোদনের সময়সীমা প্রযোজ্য নয় বলে দাবি করছে।
অন্যদিকে, সামরিক তত্পরতা অব্যাহত রেখেছে ওয়াশিংটন। হামলার সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে প্রেসিডেন্টকে ব্রিফ করা হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে উল্লেখযোগ্য নৌ ও সামরিক শক্তি মোতায়েন রাখা হয়েছে। পালটা হিসেবে ইরানও তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুনর্গঠন করছে। ইরান যুদ্ধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এখনো কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে এর প্রভাব পড়ছে। যদিও ইরানের নতুন প্রস্তাবের খবরে তেলের দাম সাময়িকভাবে কিছুটা কমেছে, তবু দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ আরো বাড়তে পারে। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে স্পষ্ট, কূটনৈতিক তত্পরতা চললেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই নিজেদের অবস্থানে অনড়। ফলে সংঘাতের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হওয়ার আশঙ্কা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, হাওরের আকাশটা যেন এবার একটু বেশিই নিচু হয়ে এসেছে। মেঘ জমে থাকে সারাক্ষণ, আর সেই মেঘ ভেঙে নামা বৃষ্টির পানি গ্রাস করে নিচ্ছে কৃষকের বছরের একমাত্র সম্বল। ক্ষেতের পাকা ধান তলিয়ে গেছে আগেই। যে ধান কেটে আনা হয়েছিল-মাড়াই করে খলায় রাখা হয়েছিল শুকানোর জন্য- সেগুলোর ওপরও উঠেছে পানি। বাড়িতে সযতেœ রাখা ধানে চারা গজাচ্ছে। জমিতে স্তূপ করে রাখা খড় ভেসে গেছে, উঁচু জায়গায় তোলা খড় টানা বৃষ্টিতে পচে নষ্ট হয়ে গেছে। এ যেন শুধু একটি কৃষি দুর্যোগ নয়- ধীরে ধীরে বিস্তৃত হওয়া একটি মানবিক বিপর্যয়ের গল্প। এই বিপর্যয় আরো ভারী হচ্ছে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কায়।
গতকাল শনিবার ভোর থেকে শুরু হওয়া ভারী থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত সারা দিন ধরে চলেছে। রোববারও একই ধরনের বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর, আর সোমবার বজ্রঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যেই কিশোরগঞ্জের কালনী, মগড়া ও ধনু-বৌলাই নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। উজান থেকে নেমে আসছে পাহাড়ি ঢল, যা হাওরের মানুষের কাছে আতঙ্কের আরেক নাম। জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এটি দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় রূপ নিতে পারে।
চোখের সামনে ভেসে যাওয়া স্বপ্ন
অষ্টগ্রামের হাওর অঞ্চলের কৃষক বরজু মিয়ার কণ্ঠে হতাশার ভার- ‘বৃষ্টি এইবার আগেই শুরু অইয়া গেছে। আমার পাঁচ কানি জমির ধান কাটতে পারি নাই, সব পানির নিচে। চার কানি জমির ধান কাইট্টা খলায় রাখছিলাম- ওইগুলাও পইচা গেছে।’
একই এলাকার কৃষক আব্দুর রহমানের কণ্ঠে অসহায়তার দীর্ঘশ্বাস- ‘ধান তো গেছে গেছেই, হাওরে রাখা খড়ও ভেসে গেছে। সারা বছর উপাস থাকতে হইবো। গরুগুলাও না খাইয়া মরবো।’ তাদের এই কথাগুলো শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতির গল্প নয়- এগুলো হাওরের হাজারো কৃষকের সম্মিলিত আর্তনাদ। সাধারণত বৈশাখের প্রথম সপ্তাহেই হাওরে বোরো ধান কাটা শেষ হয়; কিন্তু এবার বৈশাখের শুরু থেকেই টানা বৃষ্টি জমিকে ভিজিয়ে রাখায় ধান পাকতে দেরি হয়েছে। পরে ধান পাকলেও ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে মাঠে নামতে পারেননি কৃষকরা। ফলে সেই পাকা ধানই এখন পানির নিচে ডুবে আছে।
ক্ষতির বিস্তার: সাত জেলার হাওরাঞ্চল
শুধু কিশোরগঞ্জ নয়- সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ হাওর এলাকায় একই চিত্র। হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।
কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় এখন পর্যন্ত ৫৬ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। বাকি জমির প্রায় অর্ধেক ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতোমধ্যে ৯ হাজার ৪৫ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শনিবার দুপুর পর্যন্ত ১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হলেও, বাস্তবে তার প্রভাব ছিল অনেক বেশি। কারণ, এর সাথে যুক্ত হয়েছে উজানের ঢল।
বণিক বার্তা
‘পুঁজিবাজার থেকে অর্থায়নের পরিমাণ দেশের মোট স্থায়ী মূলধনের মাত্র ৬ শতাংশ’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে দেশের পুঁজিবাজারের ইস্যুকৃত মূলধনের পরিমাণ ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। অর্থাৎ পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের কাছে এখন পর্যন্ত ১ লাখ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে।
দেশের গ্রস ফিক্সড ক্যাপিটাল ফরমেশন বা মোট স্থায়ী মূলধনের সঙ্গে তুলনা করলে এর পরিমাণ দাঁড়ায় মাত্র ৬ শতাংশে।
দেশের পুঁজিবাজারের যাত্রা সাত দশক আগে, ১৯৫৬ সালে। স্বাধীনতার পর ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে আনুষ্ঠানিক লেনদেন চালু হয়। সেই হিসেবেও পুঁজিবাজারের যাত্রা পাঁচ দশকের। অথচ পুঁজির জোগানের দিক থেকে এখনো তলানিতে রয়ে গেছে পুঁজিবাজার। অর্থনীতির আকার বিবেচনায় নিলে দেখা যায় যে বিশ্বের আর কোথাও পুঁজিবাজার থেকে এত কম অর্থায়ন হয়নি। তার ওপর গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে নতুন কোনো কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসছে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে দেশের পুঁজিবাজারে ইস্যুকৃত মোট মূলধনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা। গতকালের দর অনুযায়ী প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা হিসাবে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৮৪১ কোটি বা ৮ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বাংলাদেশের গ্রস ফিক্সড ক্যাপিটাল ফরমেশনের (জিএফসিএফ) আকার ছিল ১৩৮ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে গত পাঁচ দশকে পুঁজিবাজার থেকে অর্থায়নের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মোট স্থায়ী মূলধনের ৬ শতাংশে।
জিএফসিএফ বা মোট স্থায়ী মূলধন গঠন হলো জাতীয় পরিসরে নিট বিনিয়োগের ধারণা, যা সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে অ-আর্থিক সম্পদে ব্যয় পরিমাপ করে। মোটা দাগে কোনো দেশে উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানোর জন্য যেসব সম্পদ (অবকাঠামো, ভবন ও যন্ত্রপাতি) নতুন করে তৈরি বা কেনা হয়, তার মোট মূল্যই হলো গ্রস ফিক্সড ক্যাপিটাল ফরমেশন। এর হিসাবায়নের ক্ষেত্রে সরকারি বিনিয়োগের (অবকাঠামো, মেগা প্রকল্প) পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও বিদেশী বিনিয়োগকেও (এফডিআই) আমলে নেয়া হয়।
সারা বিশ্বে শিল্পায়নে মূলধনের জোগান আসে পুঁজিবাজার থেকে। যদিও বাংলাদেশে এ মূলধনের প্রধান উৎস ব্যাংক খাত। এক্ষেত্রে পুঁজিবাজারের অবদান যৎসামান্য। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ব্যাংক ঋণের ৪৩ শতাংশ বা ৭ লাখ ৬৫ হাজার ১১৭ কোটি টাকা অর্থায়ন করা হয়েছে শিল্প খাতে। এর মধ্যে ৪ লাখ ২৩ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা মেয়াদি ঋণ এবং ৩ লাখ ৪১ হাজার ৫৩১ কোটি টাকা চলতি মূলধন। দেখা যাচ্ছে শিল্প খাতে পুঁজিবাজারের তুলনায় ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থায়ন করা হয়েছে সাত গুণেরও বেশি অর্থ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি টাকা, যার প্রায় ৩১ শতাংশই শিল্প খাতে। স্বল্পমেয়াদি আমানতের অর্থ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে শিল্প খাতে ঋণ বিতরণ করার কারণে ব্যাংকগুলোকেও সমস্যায় পড়তে হয়েছে। এক্ষেত্রে পুঁজিবাজার থেকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন করা হলে সেটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর তহবিল সংগ্রহ ব্যয়কেও অনেকাংশে কমিয়ে দিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ইকুইটি বা কোম্পানিনির্ভর হলেও বৈশ্বিক চিত্র এর বিপরীত। বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর পুঁজিবাজার বেশ বৈচিত্র্যময়। সেখানে কোম্পানির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বন্ড, ডেরিভেটিভস, কমোডিটি ও অবকাঠামো প্রকল্পের অর্থায়নও পুঁজিবাজারের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। বাংলাদেশে সিকিউরিটাইজেশনের মাধ্যমে অবকাঠামো প্রকল্পের অর্থায়ন পুঁজিবাজারের মাধ্যমে সংগ্রহ করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও সেটি কখনো আলোর মুখ দেখেনি। তবে সম্প্রতি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে বাজেট আলোচনায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সিকিউরিটাইজেশনের মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থায়নের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বিষয়টি নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্যানুসারে, আইপিওর মাধ্যমে সর্বশেষ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে নয়টি কোম্পানি পুঁজিবাজার থেকে ৮৪১ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল। এ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিক থেকে এখন পর্যন্ত আইপিওর মাধ্যমে নতুন কোনো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়নি। দেশের পুঁজিবাজারে এত দীর্ঘ সময় ধরে আইপিও না আসার নজির আর কখনো দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, ২০২২ সালের শুরুতেই দেশের পুঁজিবাজারে মন্দা ভাব দেখা যায়, যা বর্তমানেও অব্যাহত রয়েছে। পুঁজিবাজারের এ নিম্নমুখিতার কারণে উদ্যোক্তারা কোম্পানিকে আইপিওতে আনতে আগ্রহ দেখান না। নিম্নমুখী বাজারে শেয়ারের প্রত্যাশিত দাম পাওয়া নিয়ে তাদের সংশয় থাকে। তাছাড়া বিগত সময়ে দেশের পুঁজিবাজারে যেভাবে অনিয়ম ও কারসাজির ঘটনা ঘটেছে তাতে অনেক ভালো কোম্পানি আগ্রহ হারিয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার (সাবেক) ক্ষমতা নিলে অনেকে প্রত্যাশা করেছিলেন যে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে। যদিও সে প্রত্যাশার বাস্তবায়ন হয়নি। তার ওপর সে সময়ের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে কোনো বিনিয়োগে যাননি উদ্যোক্তারা। তবে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর পুঁজিবাজারের পরিস্থিতি পরিবর্তন হওয়ার নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সূচক ও লেনদেনে কিছুদিন এর প্রতিফলনও দেখা গেছে। অবশ্য এর কয়েকদিন পরই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধের প্রভাবে ছন্দপতন ঘটে পুঁজিবাজারে। এ অবস্থায় নতুন করে ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য আইপিওতে আসার আগ্রহ দেখাচ্ছেন না উদ্যোক্তারা।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘সেতু-সড়কের টোল: প্রযুক্তির ভিন্নতায় মিলছে না সুবিধা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের কিছু সড়ক ও সেতুতে টোল আদায়ে আধুনিক প্রযুক্তি হিসেবে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থা চালু হয়েছে। কিন্তু ব্যবস্থাটির সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন সরকারি সংস্থা, অপারেটর ও সফটওয়্যার সংশ্লিষ্ট থাকায় গাড়ির এক নিবন্ধন দিয়ে সব সেতুর টোল বুথে সুবিধা নেওয়া যাচ্ছে না। এতে ব্যবহারকারীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সময়ের দিক থেকে সাশ্রয়ী হলেও আধুনিক সেবাটির প্রতি আগ্রহও আশানুরূপ বাড়ছে না।
দেশে প্রধানত তিনটি সংস্থা— সেতু বিভাগ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ইটিসি প্রযুক্তির ব্যবস্থাপনা করছে। পাশাপাশি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতেও রয়েছে পৃথক ইটিসি ব্যবস্থা। এ সেবার জন্য নির্দিষ্ট মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হয়। গাড়ির নাম্বার প্লেটে থাকতে হয় রেডিও-ফ্রিকোয়েন্সি আইডেনটিফিকেশন (আরএফআইডি) ট্যাগ। সরকারি কর্তৃপক্ষ নিজস্ব বা ঠিকাদারনির্ভর ভিন্ন ভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করায় ইটিসি টোলব্যবস্থায় একাধিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে। ব্যবহারকারীদের প্রতিটি ব্যবস্থায় আলাদাভাবে নিবন্ধন করতে হচ্ছে। একটিতে নিবন্ধন করে অন্য ইটিসিতে টোল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
সেতু বিভাগের সেতুতে তিন ব্যবস্থা
সেতু বিভাগের আওতাধীন চারটি স্থাপনায় ইটিসি চালু রয়েছে—যমুনা, পদ্মা ও মুক্তারপুর সেতু এবং কর্ণফুলী টানেল। এসব স্থাপনায় তিনটি ভিন্ন অপারেটর তিন ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার করে টোল আদায় করছে। সেতু বিভাগের সব সেতুতেই ইটিসি চালু করতে হলে আরএফআইডি ট্যাগ থাকতে হবে গাড়ির নাম্বার প্লেটে। তবে যমুনা সেতু ও মুক্তারপুর সেতুর ইটিসি ব্যবস্থা এক ধরনের।
পদ্মা সেতুর টোল বুথে নিবন্ধনের জন্য ব্যবহারকারীকে বিকাশ বা রকেটের মতো মোবাইল আর্থিক সেবা বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যুক্ত হতে হয়। এরপর টোল প্লাজায় থাকা নিবন্ধন বুথে গিয়ে আরএফআইডি ট্যাগ যাচাই করে গাড়ি সিস্টেমে যুক্ত করা হয়। এই নিবন্ধনব্যবস্থাটি অন্য দুই সেতুতে কার্যকর নয়।
আলাদা ব্যবস্থা কর্ণফুলী টানেলেও সেতু বিভাগের আওতাধীন ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে রয়েছে ডিভাইসভিত্তিক টোলব্যবস্থা। এখানকার ইটিসির পদ্ধতি আলাদা। এখানে গাড়িতে একটি বিশেষ ডিভাইস (যন্ত্র) বসাতে হয়, যার ভেতরে রিচার্জযোগ্য কার্ড থাকে। টোল প্লাজা অতিক্রমের সময় সেন্সরের মাধ্যমে কার্ড থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোলের টাকা কেটে নেওয়া হয়। এই ডিভাইস অন্য কোথাও ব্যবহার করা যায় না।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বাসেক) প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফেরদাউস বলেন, ‘আমাদের এক এক সেতুতে আলাদা অপারেটর। কারণ অনেক আগে নেওয়া বলে। তবে যমুনা ও মুক্তারপুর সেতুর ইটিসি ব্যবস্থা এক।’
সওজে এক নিবন্ধনে সব সেতু ও সড়ক
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) আওতায় ৭১টি টোল প্লাজার মধ্যে ১৫টিতে নিজস্ব সফটওয়্যারের ইটিসি চালু রয়েছে। এর মধ্যে আছে মেঘনা, গোমতী, তৃতীয় শীতলক্ষ্যা, শহীদ ময়েজ উদ্দিন, ভৈরব, চরসিন্ধুর, মধুমতী, তৃতীয় কর্ণফুলী, রূপসা, লালন শাহ, হজরত শাহপরান, পায়রা, অষ্টম বাংলাদেশ সেতু এবং হাটিকুমরুল-বনপাড়া সড়ক।
সওজের ক্ষেত্রে ইটিসিতে একবার নিবন্ধন করলে তাদের আওতায় থাকা সব সেতু ও সড়কে টোল দিতে ব্যবহার করা যায়। বর্তমানে প্রায় ৬০ হাজারের বেশি যানবাহন এতে নিবন্ধিত। তবে সওজের ইটিসির নিবন্ধন সেতু বিভাগ বা সিটি করপোরেশনের স্থাপনায় কার্যকর নয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সওজের সব সেতুতেই একই ইটিসি ব্যবস্থা চালু রয়েছে। শুধু ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে এটি এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। তবে এ ব্যবস্থাকে সমন্বিত করতে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ও বিভিন্ন ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হচ্ছে। বিকাশ, নগদসহ জনপ্রিয় এমএফএস সেবাগুলোর পাশাপাশি ৯টি ব্যাংকের সঙ্গে ইতিমধ্যে চুক্তি হয়েছে। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও একই উদ্যোগে যুক্ত হলে সব টোল প্লাজায় অভিন্ন ফরম্যাটে টোল আদায় সম্ভব হবে।
দেশ রূপান্তর
‘বিএনপি-জামায়াত টক্কর এবার পশুর হাটে’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর কোরবানির পশুর অস্থায়ী হাটের ইজারা নিয়ে এবার ক্ষমতাসীন বিএনপির স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছেন সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতারাও। এ কারণে হাট ইজারার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কোনো কোনো হাট নিয়ে দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনামূলক পরিস্থিতিও বিরাজ করছে। দক্ষিণ নগর ভবনে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার হাটগুলোতে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে জামায়াতের পাশাপাশি এনসিপির নেতাদেরও সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। তবে ঢাকা উত্তর সিটিতে (ডিএনসিসি) বিএনপির একচেটিয়া আধিপত্য লক্ষ করা গেছে।
দীর্ঘদিন পর রাজধানীর পশুর হাট নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রতিযোগিতা। বিগত প্রায় দুই দশক কোরবানির পশুর হাটগুলো ইজারার ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের কারণে প্রতিযোগিতা ছাড়া তুলনামূলক কম মূল্যে হাটগুলো ইজারা হতো। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হতো দুই সিটি করপোরেশন। আবার সিন্ডিকেটের কারণে অনেক হাটে খাস আদায়ও করা হতো। তবে এবার প্রতিযোগিতার ফলে সিটি করপোরেশন কিছুটা লাভবান হচ্ছে। কিন্তু এর মধ্যেও অনেকগুলো হাটের নাম পরিবর্তন করে সরকারি মূল্য তুলনামূলক কম ধরা হয়েছে। এটিও একটি সিন্ডিকেট চক্রের মাধ্যমে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সহযোগীদের খবর
তদন্ত এগোয় না, জামিনের অপেক্ষায় সাংবাদিকেরা
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন
২ মাস আগে
৩ মে (রবিবার), ২০২৬, ৯ঃ২৩ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
