তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, অবাধ তথ্য প্রবাহ সভ্যতার জন্য অক্সিজেনের মতো। মানুষ যেমন অক্সিজেন ছাড়া বাঁচতে পারে না, তেমনি সঠিক তথ্য ছাড়া একটি রাষ্ট্র বা সমাজ টিকে থাকতে পারে না। শনিবার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে (এনএসইউ) ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, অবাধ তথ্য প্রবাহের প্রধান পূর্বশর্ত হচ্ছে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য। তথ্যের স্বাধীনতা যেমন আমাদের কাম্য, তেমনি অপতথ্য রোধ করে ‘ক্লিন ইনফরমেশন’ বা পরিচ্ছন্ন তথ্য নিশ্চিত করা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
মন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণের নিয়োগপ্রাপ্ত ড্রাইভার হিসেবে মালিক এবং অংশীজনদের কথা বিনয়ের সঙ্গে মনোযোগ দিয়ে শোনার চেষ্টা করছে। গাড়িটা ভুল ড্রাইভারদের খপ্পরে পড়েছিল। যার নানান রকম পার্টস চুরি হয়েছে। ইঞ্জিন নষ্ট হয়েছে। এমন একটা অবস্থা, কোনো উদ্যোগ নিতে গেলেও যেমন সমালোচনার মধ্যে পড়তে হবে, উদ্যোগ না নিলেও সমালোচনার মধ্যে পড়তে হবে।
তিনি বলেন, ক্ষমতার মধ্যে এমন কিছু ভাইরাস থাকে। আমাদের মতো একটা নবীন সরকারকে যখনই আপনারা কোনো পরামর্শ দেবেন অথবা ধমক দেবেন তখন কিন্তু একটু বুঝে দেবেন। কারণ আমরা কিন্তু এখনো বিধ্বস্ত একটা গাড়িতে। সরকার কর্তৃত্ব প্রকাশ করতে চায় এটা যেমন সত্য, অনেকে খুব জঘন্যভাবেও করেছে। একই সময় এটাও কিন্তু সত্য যে, এই গণমাধ্যমের শিল্পের মালিকপক্ষ গণমাধ্যমের ক্ষমতাকে তার অন্য ব্যবসার কাজে লাগিয়েছেন। গণমাধ্যম সম্পর্কে যে একটা সর্বসম্মত শ্রদ্ধাভাজন জনমত, সেটাকে কিন্তু তিনিও ব্যবহার করার চেষ্টা করেছেন। সরকার যেমন জোর করে ক্ষমতা রক্ষা করার কাজে লাগিয়েছেন, অনেক মালিকরাও কিন্তু এটাকে কাজে লাগিয়েছেন তার বিদেশ পাচারের টাকা অথবা অন্য অবৈধ উপায়ের টাকাকে বৈধতা দেয়ার জন্য। অথবা ব্ল্যাকমেইলিং ইন্সট্রুমেন্ট হিসেবে।
বর্তমান ডিজিটাল যুগের চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে মন্ত্রী সঠিক তথ্য ও মুক্ত গণমাধ্যমের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার একটি টেকসই রোডম্যাপ তৈরির কাজ করছে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগ, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি ‘রিসোর্সফুল নেটওয়ার্ক’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হবে।
সেমিনারে সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াব সভাপতি ও মানবজমিন প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, রাজনীতি ঠিক না হলে সাংবাদিকতা ঠিক হয় না। বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাস, আমার চোখের সামনেই ঘটেছে। ৫৪ বছরের পুরোটা সময় সাংবাদিকতা করছি। রাজনীতিবিদরা যখন ক্ষমতার বাইরে থাকেন তখন তারা একরকম। ক্ষমতায় গেলেই তারা চেঞ্জ হন। আমার ধারণা সেদিকেই যাচ্ছে এবং যাবে। এটাই বাংলাদেশে স্বাভাবিক। এখনো আমরা স্বাধীনতার কে পক্ষে, কে বিপক্ষে এই নিয়ে লড়াই করছি। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন দেশ নেই।
নোয়াব সভাপতি বলেন, আমরা বারবার হোঁচট খাই। আবার হোঁচট খাবো। কারণ এখন ডিজ ইনফরমেশন, মিস ইনফরমেশন এইরকম অবস্থায় চলছে। কম্পিটিশন চলছে ফটো কার্ডের। ফটো কার্ড আপনার জীবনটাকে অস্থির করে দিচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই অসম প্রতিযোগিতা ও অপতথ্য ছড়ানোর ফলে দিনশেষে মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোই ভিক্টিম বা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সবার প্রত্যাশা- মুক্ত সাংবাদিকতা, সুস্থ সাংবাদিকতা উল্লেখ করে তিনি তথ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা সহযোগিতা করবো- আপনারাও সহযোগিতার হাতটা বাড়িয়ে দেন। তবে অনুগত সাংবাদিক তৈরি করবেন না প্লিজ। এই অনুগত সাংবাদিক তৈরি করলেই আপনার বিপদ হবে। আমাদের বিপদ হবে।
সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য আমাদের কাঠামোগতভাবে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে হবে। যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং পেশাগত নীতিমালা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে টেকসই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার বলেন, দক্ষ ও নৈতিক সাংবাদিক তৈরি করার মাধ্যমে একাডেমিক প্রতিষ্ঠানগুলো গণমাধ্যমের স্বাধীনতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব পেশাজীবীদের সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে এবং জনস্বার্থে কাজ করতে সক্ষম হতে হবে। ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আমাদের নাগরিক চর্চা শক্তিশালী করতে হবে এবং শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে একাডেমিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নীতিনির্ধারণ ও গবেষণায় সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়া প্রয়োজন, যা একটি দায়িত্বশীল, দক্ষ ও স্বাধীন গণমাধ্যম গড়ে তুলতে সহায়ক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য এম এ কাশেম বলেন, স্বচ্ছ ও স্বাধীন গণমাধ্যম ছাড়া ব্যবসায়িক পরিবেশে আস্থা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশে গণমাধ্যম সবসময় মুক্তভাবে কাজ করতে পারে না। এই অবস্থার উন্নতি হওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজ বলেন, স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য তিনটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সততা, জবাবদিহি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলকতা। যা একটি স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও প্রতিনিধিত্বমূলক তথ্যব্যবস্থা নিশ্চিত করে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এনএসইউ’র স্কুল অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক রিজওয়ানুল ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এনএসইউ’র মিডিয়া, কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও চেয়ার ড. এস. এম. রিজওয়ান উল আলম। অনুষ্ঠানের আলোচক হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশনের প্রধান নির্বাহী এএইচএম বজলুর রহমান। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক নেছার ইউ. আহমেদ।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য বেনজীর আহমেদ, রেহানা রহমান ও ইয়াসমিন কামালসহ শিক্ষক শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

Abdul Matin Sikder
২ মাস আগেদেশবিরোধী চক্রান্তকারীরা মিথ্যা বানোয়াট অপতথ্য ছড়িয়ে আমাদের অনলাইন অফলাইন মিডিয়ায় বিনা বাধায় তথ্যসন্ত্রাস বাকসন্ত্রাস করে যাইতেছে, এই মিথ্যাবাদী সন্ত্রাসীরা এসব অপকর্ম করে পরিবার সমাজ ও দেশকে যেমন আতংকিত করতেছে, তেমনি দেশটাকে কলংকিত, কলুষিত এবং অস্থিতিশীল করতে ভয়ংকর অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় ও সরকারকে বিশেষভাবে অনুরোধ করতেছি,... "সত্যকে এগিয়ে নিতে আর মিথ্যাকে কবড় দিতে" দয়া করে জলদি আপনারা শক্ত পাকাপোক্ত ও কার্যকর একটি চিরস্থায়ী ব্যাবস্থা গ্রহন করুন। হাতে সময় থাকতে,ই অতিদ্রুত তথ্য সন্ত্রাস রুখে দিয়ে জনগনের মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করুন।