ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার বলেছেন, বর্তমানে আগের মতো বড় ধরনের শীর্ষ সন্ত্রাসী নেই, তবে তাদের সহযোগী বা নতুনভাবে অপরাধ জগতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে এমন ব্যক্তিদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। আমাদের মনিটরিং ও পর্যবেক্ষণ অব্যাহত। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে। কেউ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার আগেই তাদের দমন করা হবে। গতকাল সকালে রাজধানীর কাওরান বাজারে পুলিশ ক্যাম্প উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মো. সরওয়ার বলেন, কাওরান বাজার এলাকায় অপরাধ শূন্যে নামিয়ে ক্যাম্পটি চালু করা হয়েছে। যারা স্থানীয় ব্যবসায়ী তারা এই ক্যাম্পে গোপনে অথবা প্রকাশ্যে এসে অভিযোগ করলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। ক্যাম্পে ২০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু এর পেছনে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটসহ বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নতুন স্থাপিত পুলিশ ক্যাম্পটি মূলত এ এলাকায় চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে। ক্যাম্পে সার্বক্ষণিক পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা গোপন বা প্রকাশ্যে তথ্য দিলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে ফোর্স বাড়ানো হবেও বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরীতে এরই মধ্যে চাঁদাবাজি ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গোপন নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সিনিয়র কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ঢাকায় অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
ব্যবসা-বাণিজ্য যারা করেন, পরিবহন ব্যবসায়ী, কাঁচাবাজার ব্যবসায়ীসহ অন্যান্য যারা আছেন তাদের আমরা কমফোর্ট দিতে পারবো। এর ফলে দ্রব্যমূল্যের ওপরে প্রভাব পড়বে, দ্রব্যমূল্য কমে যাবে বলে আমরা আশা করছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো থানায় মামলা না নিলে ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট জোনাল সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি), ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) কিংবা ডিএমপি’র ক্রাইম বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুলিশ সদস্যের অপরাধে জড়িয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, অপরাধের সঙ্গে পুলিশের জড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। তারপরও যদি ‘গোপনে বা অন্যভাবে’ কোনো পুলিশ সদস্য অপরাধে জড়ালে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাসহ আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন তিনি। এমনকি কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মৌখিক অভিযোগ পেলেও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
এ সময় ডিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ক্যাম্প ঠিকমতো কাজ না করলে আমাদের জানাবেন। তারা কোনো কিছুর সঙ্গে যদি জড়িয়ে পড়ে অবশ্যই আমাদের নলেজে দেবেন। আমরা ব্যবস্থা নেবো। এ ছাড়াও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, কেউ যদি মনে করেন প্রকাশ্যে তথ্য দেবেন না, তারা চাইলে গোপনে ক্যাম্পে যেকোনো তথ্য দিয়ে যেতে পারবেন। সর্বোচ্চ গোপনীয়তা রক্ষা করে সে অনুযায়ী পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।
