ভোটের লড়াই শেষ হতেই রাজশাহী বিভাগ জুড়ে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। রাজশাহী অঞ্চলের কোন কোন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন, তা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে হিসাবনিকাশ। দলীয় আনুগত্য, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং কেন্দ্রের আস্থা মিলিয়ে এই বিভাগের ৭ জন নেতাকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সম্ভাব্য নামগুলো নিয়ে নেতাকর্মী থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল বাড়ছে। রাজশাহী বিভাগের বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন, এটি নিশ্চিত। তিনি তার সঙ্গে এই বিভাগের আর কাকে মন্ত্রিসভায় নিয়ে যাচ্ছেন তা নিয়ে আলোচনা চলছে। বিএনপি’র নেতাকর্মীরা এই বিভাগের ৭ জনকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ৪ জন মন্ত্রী হবেন বলেও তারা আশা করছেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মন্ত্রিত্বের জন্য রাজশাহী-২ (সদর) আসন থেকে নির্বাচিত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসন থেকে নির্বাচিত ফারজানা শারমীন পুতুল, নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনের রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সিরাজগঞ্জ-২ (কামারখন্দ-সদর) আসনের ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, পাবনা-৫ (সদর) আসনের শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ ও জয়পুরহাট-২ (কালাই-ক্ষেতলাল-আক্কেলপুর) থেকে নির্বাচিত আব্দুল বারী রয়েছেন আলোচনায়। এদের মধ্যে মিজানুর রহমান মিনু দলের জ্যেষ্ঠ নেতা। মাত্র ৩২ বছর বয়সেই তিনি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৭ বছর মেয়র ছিলেন তিনি। মেয়র থাকা অবস্থায় নির্বাচিত হয়েছিলেন সংসদ সদস্যও। এবার তাকে নিয়ে প্রত্যাশা অনেক বেশি। তাকে নতুন সরকারে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হবে বলে নেতাকর্মীরা মনে করছেন। রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু জোট সরকারের ভূমি উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপি’র বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকও ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক থেকে বাদ পড়ে যাওয়া নিয়ে একটি অনিশ্চয়তা রয়েছে। নাটোর থেকে চমক দেখাতে পারেন বিভাগ থেকে নির্বাচিত একমাত্র নারী ফারজানা শারমীন পুতুল। বিএনপি’র নির্বাচিত নারীদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ পুতুল প্রয়াত যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে। তাকে নিয়েও স্বপ্ন দেখছেন এই অঞ্চলের বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। এই বিভাগ থেকে মন্ত্রিত্বের দৌড়ে এগিয়ে আছেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। এ ছাড়া বগুড়া থেকে নির্বাচিত গোলাম মোহাম্মদ সিরাজকে ঘিরেও আলোচনা রয়েছে। জেলা বিএনপি’র সাবেক এই আহ্বায়ক এর আগেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাদের বাইরে জয়পুরহাট-২ আসন থেকে নির্বাচিত আব্দুল বারীকে ঘিরেও আলোচনা রয়েছে। আব্দুল বারী আগে সরকারের সচিব ছিলেন। বিএনপি মনা হওয়ার কারণে আওয়ামী শাসনামলে তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে রাখা হয়েছিল। তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে বলে এলাকার নেতাকর্মীরা মনে করছেন। রাজশাহী বিভাগের সব জেলা থেকেই মন্ত্রী দেয়ার দাবি দেখা যাচ্ছে। নেতাদের অনুসারীরা এ ব্যাপারে ফেসবুকে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে পিছিয়ে পড়া রাজশাহীর উন্নয়নের জন্য এখানে মন্ত্রী দেয়ার দাবি একটু বেশিই দেখা যাচ্ছে। দল-মত নির্বিশেষে সবাই রাজশাহীতে মন্ত্রী চাচ্ছেন। রাজশাহী-৩ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপি নেতা শফিকুল হক মিলন শনিবার তার পরাজিত প্রতিদ্বন্দ্বী আবুল কালাম আজাদকে শুভেচ্ছা জানাতে তার বাসায় যান। এ সময় জামায়াতের এই নেতা মিলনের হাতের ওপর হাত রেখে অনুরোধ করে বলেন, ‘পিছিয়ে পড়া রাজশাহীর উন্নয়ন করতে হবে। এ জন্য মন্ত্রী দরকার। আপনারা রাজশাহীতে মন্ত্রী আনেন। রাজশাহীতে মন্ত্রী মানে রাজশাহী-২ (সদর) কিংবা রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুরে) হতে হবে। তাহলে এ অঞ্চলের উন্নয়ন হবে। তা না হলে রাজশাহীর মানুষের আকাক্সক্ষা পূরণ হবে না।
রাজশাহী বিভাগ থেকে মন্ত্রিত্বের আলোচনায় ৭ মুখ
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী থেকে
১৭ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%

আরেফিন
৩ মাস আগেমিজানুর রহমান মিনু মন্ত্রী হলে দারুন হবে।