বাংলাদেশের বীমা ব্যবস্থায় আস্থা কেন তৈরি হচ্ছে না, নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে গ্রাহক-সবাই প্রশ্নের মুখে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি হঠাৎ তৈরি হয়নি বরং বছরের পর বছর ধরে সঞ্চিত কিছু কাঠামোগত ও নীতিগত ব্যর্থতার ফল। তারা বলছেন, বীমা খাতে আস্থার চরম সংকট তৈরি হওয়ার মূল কারণগুলো হলো- দীর্ঘদিন ধরে দাবি নিষ্পত্তিতে বিলম্ব ও জটিলতা, অস্বচ্ছ ও বিভ্রান্তিকর পলিসি, কোম্পানিগুলোর দুর্বল করপোরেট গভর্ন্যান্স এবং কোটি টাকার দুর্নীতি ও অনিয়ম। ঝুঁকিভিত্তিক আন্ডাররাইটিং, ডিজিটাল ক্লেইম, কেন্দ্রীয় ডেটাবেস ও ই-কেওয়াইসি বাধ্যতামূলক না করলে বীমা খাত আধুনিক আর্থিক ব্যবস্থার অংশ হতে পারবে না। সমপ্রতি দেশের বীমা খাতের চ্যালেঞ্জ এবং অর্থনীতিতে এ শিল্পের গুরুত্ব নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান ড. এম আসলাম আলম, অর্থনীতিবিদ (এফএসিএইচই, এফএলএমআই) ও ল্যাবএইড গ্রুপের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাকিফ শামীম এবং ব্যাংকার ও অর্থনীতি বিশ্লেষক মামুন রশীদ। এম আসলাম আলম বলেন, বীমা খাতে প্রশিক্ষিত ও পেশাদার মানবসম্পদ ঘাটতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের শীর্ষ-যোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক আছে; তাই দক্ষ জনবল উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে। আইডিআরএ’র ক্ষমতা কম থাকায় দুর্নীতি ও প্রতারণা প্রতিরোধে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিতে পারছে না-যা বীমা ফাঁকি প্রতিহত ও নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাড়তে থাকা ঝুঁকি মোকাবিলায় শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষা ও টেকসই বীমা ব্যবস্থা গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ। এটি বিশেষভাবে বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-সহনশীল দেশে অতীব জরুরি। সাকিফ শামীম বলেন, বীমা আছে, কিন্তু বিশ্বাস নেই- স্বাস্থ্য বীমা, সিলভার ইকোনমি ও পেনশন ছাড়া কি টেকসই উন্নয়ন সম্ভব? তিনি জানান, বাংলাদেশে ইন্স্যুরেন্স খাত কাগজে কলমে বহু বছর ধরে বিদ্যমান; আইন আছে, প্রতিষ্ঠান আছে এবং প্রয়োজনে এর প্রয়োজনও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে উপলব্ধি করা হচ্ছে। তবু বাস্তবে এটি এখনো সাধারণ মানুষের জীবনে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠতে পারেনি। ইন্স্যুরেন্স খাতে শক্তিশালী নীতি সংস্কার ও ডিজিটাল রূপান্তর অপরিহার্য। পলিসি ইস্যু থেকে শুরু করে ক্লেইম সেটেলমেন্ট পর্যন্ত প্রতিটি ধাপকে স্বচ্ছ, সময়সীমাবদ্ধ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে হবে। মামুন রশীদ বলেন, বাংলাদেশে বীমা খাতকে দীর্ঘদিন ধরে ‘আস্থার সংকটে থাকা খাত’ বলা হয়। এটি হঠাৎ তৈরি হয়নি, বরং বছরের পর বছর ধরে সঞ্চিত কিছু কাঠামোগত ও নীতিগত ব্যর্থতার কারণেই এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। আস্থাহীনতার মূল কারণ শুরু হয় ক্লেইম ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা থেকে। একজন গ্রাহক যখন নিয়মিত প্রিমিয়াম পরিশোধ করার পরও যৌক্তিক সময়ে ক্লেইমের টাকাটা পান না, তখন সেটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা নয়, পুরো খাতের ওপর আঘাত করে। বাস্তবভাবে বলতে গেলে, বাংলাদেশের বর্তমান বীমা পণ্যগুলো দেশের প্রকৃত চাহিদা- বিশেষ করে স্বাস্থ্য বীমা, পেনশন ও কৃষি বীমার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত, পর্যাপ্তভাবে পূরণ করতে পারছে না। তিনি বলেন, এজন্য বীমা খাতে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন।
‘দুর্নীতি-অনিয়মের কারণে বীমায় আস্থা তৈরি হচ্ছে না’
অর্থনৈতিক রিপোর্টার
১৬ ফেব্রুয়ারি (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
