মালয়েশিয়ার মালাক্কা প্রণালী আরেক হরমুজ প্রণালি হওয়ার আশঙ্কা

মালয়েশিয়ার মালাক্কা প্রণালী আরেক হরমুজ প্রণালি হওয়ার আশঙ্কা

ফন্ট সাইজ:

পশ্চিম এশিয়ার সামরিক সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার পর এবার বৈশ্বিক বাণিজ্যের আরেক গুরুত্বপূর্ণ জলপথ মালাক্কা প্রণালী নিয়েও তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, কোনো পক্ষ এই প্রণালীকে ভূরাজনৈতিক 'অস্ত্র' হিসেবে ব্যবহার করলে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

দেশটির জাতীয় সংবাদ সংস্থা বারনামায় প্রকাশিত নিবন্ধে শিপিং শিল্প-বিশ্লেষক ও সামুদ্রিক বিশেষজ্ঞ নাজেরি খালিদ বলেছেন, সীমান্ত তীরবর্তী চার রাষ্ট্র — মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ড — কে এখনই ঐক্যবদ্ধভাবে সক্রিয় হতে হবে, যাতে এই প্রণালীকে কোনো শক্তি তাদের ভূরাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে।

৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ মালাক্কা প্রণালী ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং পূর্ব এশিয়া থেকে পশ্চিম এশিয়া ও ইউরোপের বাজারে পৌঁছানোর সংক্ষিপ্ততম সমুদ্রপথ। বার্ষিক প্রায় ৯৪ হাজার জাহাজ এই পথে চলাচল করে — দৈনিক গড়ে ২৫৭টি। বৈশ্বিক সমুদ্রবাণিজ্যের মূল্যমানের ৩০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক তেল চালানের এক-চতুর্থাংশ এই প্রণালী দিয়ে যায়।

নাজেরি খালিদ সতর্ক করে লিখেছেন, হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া জাহাজের চাপ ক্রমে ওমান উপসাগর ও পারস্য উপসাগর ছাড়িয়ে মালাক্কা প্রণালী-তীরবর্তী পোর্ট ক্ল্যাং ও সিঙ্গাপুরের মতো বন্দরেও ডমিনো প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজ আটকসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে নৌ-তৎপরতা বৃদ্ধি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহকে ব্যাহত করছে, আর তার গৌণ ধাক্কা মালাক্কা প্রণালীতেও অনুভূত হচ্ছে।

ফেডারেশন অব মালয়েশিয়ান ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স (এফএমএফএফ)-এর সভাপতি ড. টনি চিয়া হান তেউ জানিয়েছেন, লোহিত সাগর এড়িয়ে কেপ অব গুড হোপ পথে রুট পরিবর্তনের ফলে পরিবহন সময় ১০ থেকে ১৫ দিন বেড়ে যাচ্ছে এবং মালবাহী ও বিমা ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। তিনি এই পরিস্থিতিকে 'দ্বৈত চোকপয়েন্ট চাপ' আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি তেলের মূল্য ও শিপিং ব্যয় উভয় ক্ষেত্রে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে কাঠামোগত ঝুঁকি তৈরি করছে।

এই সংকট আবারও আলোচনায় এনেছে 'মালাক্কা ডিলেমা' প্রসঙ্গ — ২০০৩ সালে চীনা কর্মকর্তাদের দেওয়া এই পরিভাষাটি মালাক্কা প্রণালীর ওপর চীনের গভীর বাণিজ্য ও জ্বালানি নির্ভরতার বাস্তবতাকে তুলে ধরে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন টানা ১৭ বছর মালয়েশিয়ার শীর্ষ বাণিজ্য অংশীদার — ২০২৫ সালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯১.৬৬ কোটি মার্কিন ডলার।

দেশটির দ্য স্টার অনলাইন বারনামার উদ্ধৃতি দিয়ে আরও লিখেছে, সুন্দা ও লম্বক প্রণালীর মতো বিকল্প পথ থাকলেও সেগুলোতে যাত্রাপথ অনেক দীর্ঘ এবং লজিস্টিক ব্যয় বহুগুণ বেশি হওয়ায় তা তেমন কার্যকর বিকল্প নয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন