সংঘাত এড়িয়ে সংগঠিত হওয়ার কৌশলে ১১ দল

সহযোগীদের খবর

সংঘাত এড়িয়ে সংগঠিত হওয়ার কৌশলে ১১ দল

ফন্ট সাইজ:

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘সংঘাত এড়িয়ে সংগঠিত হওয়ার কৌশলে ১১ দল’। প্রতিবেদনে বলা হয়, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দল। তবে সংঘাত বেধে যেতে পারে এমন কর্মসূচিতে আপাতত যাবে না তারা। কঠোর বা সংঘাতমুখী কর্মসূচিতে না গিয়ে বরং সংগঠিত ও ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি করা হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এভাবে ধাপে ধাপে এই আন্দোলন এগিয়ে নিতে চায় জোটটি।

১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ গতকাল রোববার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সরকার যদি আমাদের দাবি মেনে নেয়, তাহলে তো ভালোই। আর মেনে না নিলে আমাদের আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। অর্থাৎ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথে আছি।’
জোটের শীর্ষ নেতারা বলছেন, আন্দোলনের দ্বিতীয় ধাপের কার্যক্রম ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে চলছে, যেখানে দলগুলোর নেতা-কর্মীরা অংশ নিচ্ছেন এবং দাবিসংক্রান্ত বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরছেন। এই ধাপ শেষ হওয়ার পর বিভাগীয় পর্যায়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করা হবে। এরপর রাজধানীতে জাতীয় সমাবেশের মাধ্যমে আন্দোলনকে নতুন মাত্রায় নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। ওই সমাবেশ থেকেই পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী কর্মসূচির রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে।

জোটের নেতারা আরও জানান, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়, এমন কোনো কর্মসূচি আপাতত দেওয়া হবে না। বরং শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ ও মিছিল-মিটিংয়ের মাধ্যমে তাঁরা সরকারকে দাবি মানতে বাধ্য করবেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলন দমন করার কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে সে ক্ষেত্রে আলাদা বিবেচনার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।

জ্বালানি নিয়ে চলমান সংকটের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হচ্ছে ১১ দলের নেতাদের। তাঁদের মতে, জ্বালানি সংকটে ইতিমধ্যে দেশের নানা খাতে অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিষয়টিকে মাথায় রেখেই তাঁরা আন্দোলনের পরিকল্পনা সাজাবেন।

জোট সূত্র বলছে, জোটের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে দীর্ঘ মেয়াদে আন্দোলনের সক্ষমতা ধরে রাখার ওপর। সে কারণে এখনই কঠোর কর্মসূচিতে না গিয়ে ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়ার কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।

এতে একদিকে যেমন জনসম্পৃক্ততা বাড়বে, অন্যদিকে আন্দোলনের গতি ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হবে বলে ধারণা করছেন নেতারা।

জামায়াত সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩০ এপ্রিল ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা আছে। ওই বৈঠকে তৃতীয় ধাপের বিভাগীয় পর্যায়ের সমাবেশ, পরবর্তী জাতীয় সমাবেশ এবং আন্দোলনের ধারাবাহিক কর্মসূচি নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হবে।
জানতে চাইলে ১১ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান গতকাল বলেন, ‘জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা অতীতের মতো মানুষের জন্য ক্ষতিকর কর্মসূচিতে যেতে চাই না। দেশের ৭০ ভাগ মানুষের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হওয়ার আগপর্যন্ত ১১ দল রাজপথ এবং সংসদেও থাকবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যেতে চাই। তবে সেটার জন্য আমরা কোনো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচির দিকে যেতে চাচ্ছি না।’
তবে প্রয়োজন হলে কঠোর কর্মসূচির ইঙ্গিত দিয়ে রাশেদ প্রধান আরও বলেন, সরকার যদি অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকারের মতে আন্দোলন দমন করতে চায়, সে ক্ষেত্রে ভিন্ন কথা।

প্রথম আলো

‘সরকার বদলায়, বাস বদলায় না’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বিগত দেড় দশকে দেশে পাঁচবার সরকার বদলেছে। আওয়ামী লীগের তিনবারের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পালন করেছে। নতুন এসেছে বিএনপি সরকার। এভাবে সরকার বদলেছে, বদলায়নি ঢাকার পুরোনো বাস।

২০১০ সাল থেকে পুরোনো ও ফিটনেসবিহীন বাস রাস্তা থেকে উঠিয়ে নেওয়ার বিষয়টি আলোচনা হচ্ছে। উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব ও মালিকদের বাধার মুখে তা বারবার ব্যর্থ হয়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হিসাবে, বর্তমানে ঢাকার প্রায় ৩০ শতাংশ বাসই ২০ বছরের বেশি পুরোনো। লক্কড়ঝক্কড় এসব বাসে অতিরিক্ত আসন বসিয়ে চড়া ভাড়া আদায় করা হয়।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মালিক সমিতির নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। আওয়ামী লীগ নেতাদের জায়গায় নিয়ন্ত্রণ গেছে এখন বিএনপি নেতাদের কাছে। বাসের অবস্থার উন্নতি হয়নি।

পরিবহন খাত বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস রুট র‍েশনালাইজেশন বা ফ্র্যাঞ্চাইজ ব্যবস্থা চালু না করা পর্যন্ত এই সংকট দূর হবে না।

পরিবহন–বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. হাদীউজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, বাসব্যবস্থা বিশৃঙ্খল থাকলে কোটি কোটি টাকা চাঁদা তোলা যায়। শৃঙ্খলা ফিরে এলে তো তা থাকবে না।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘এবার উন্মুক্ত পদ্ধতিতে তেল কেনার সিদ্ধান্ত’। প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনার ফলে হরমুজ প্রণালি এখন বন্ধ। এতে করে বাংলাদেশের জন্য জ্বালানি তেল আমদানি কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় তেল সংগ্রহে বিকল্প উপায় খুঁজে বের করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই উন্মুক্ত টেন্ডার পদ্ধতিতে তেল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও অন্য দেশ বা উৎস থেকে তেল আমদানির অংশ হিসাবে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা যায়।
এদিকে, প্রায় আড়াই লাখ টন জ্বালানি তেল বোঝাই ৭টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে অবস্থান করছে। আরও একটি জাহাজ বাংলাদেশের জলসীমার কাছাকাছি রয়েছে। এর মধ্যে কোনো কোনো জাহাজ তেল খালাসের জন্য ৬ দিন ধরে বহির্নোঙরে অপেক্ষায় আছে। একসঙ্গে এত জাহাজ আসায় আগামী এক মাস অন্তত তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে বলে মনে করছে জ্বালানি বিভাগ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, যুদ্ধবিরতির সুযোগে একসঙ্গে ৮টি তেলের জাহাজ পাওয়া দেশের জন্য ভালো খবর। এর ফলে মে মাস ও জুনের কয়েক দিন দেশে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যাবে। এছাড়া জুনের বাকি সময় এবং জুলাইয়ের তেল সংগ্রহ নিয়েও চেষ্টায় আছে জ্বালানি বিভাগ ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

গত এক সপ্তাহ ধরে অকটেন, পেট্রোল এবং ডিজেল সরবরাহ বাড়ানোর কারণে সারা দেশে তেলের সংকট কিছুটা হলেও কমেছে। চাহিদার ৮০ শতাংশ পেট্রোল এবং অকটেন দেশে উৎপাদন হয়। ফলে এ দুটি জ্বালানি পণ্য নিয়ে সরকারের চিন্তা কম। কিন্তু মূল উদ্বেগ ডিজেল নিয়ে। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সেই ডিজেল ৯০ দিনের বেশি মজুতের নির্দেশনা রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর ও বিপিসির সূত্রগুলো জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পরপর তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বিএসপি, ইউনিপ্যাক এবং ভিটল বেশ কয়েকটি তেলের পার্সেল (জাহাজ) বাতিল বা সরবরাহের সূচি পরিবর্তন করে। ওই তিনটি কোম্পানি পার্সেলগুলো সরবরাহ দিচ্ছে। এ কারণে এখন একসঙ্গে তেলবাহী ৮টি জাহাজ এসেছে। যার মধ্যে ৭টি চট্টগ্রাম বন্দরে রয়েছে এবং একটি বুধবার নোঙর করবে।

ভিটলের জাহাজ এমটি কুইটা ২৩ এপ্রিল ৩৩ হাজার ৪০০ টন পরিশোধিত ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ে। এটিকে বার্থিং করা হয় ২৫ এপ্রিল। এখন তা থেকে লাইটারেজের মাধ্যমে তেল খালাস করা হচ্ছে। ভিটলের আরও একটি জাহাজ এমটি প্রিভি এনজেল ৩৫ হাজার ৫৫ টন পরিশোধিত ডিজেল নিয়ে ২৪ এপ্রিল বহির্নোঙরে আসে। এটি থেকেও লাইটারেজের মাধ্যমে তেল খালাস করা হচ্ছে। জাহাজটি আজ (সোমবার) বার্থিং করা হবে। ভিটলের আরও একটি পার্সেল এমটি লিয়ান সন-হু ৪১ হাজার ৯০৭ টন ডিজেল নিয়ে ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে। এর সব তেল এমটি গ্রেড প্রিন্সেস নামে অন্য একটি জাহাজে লোড করে রোববার চট্টগ্রাম বন্দরে বার্থিং করা হয়। এখন সেই জাহাজ থেকে তেল খালাস করা হচ্ছে। বিপিসিতে তেল সরবরাহকারী ইন্দোনেশিয়ান প্রতিষ্ঠান বিএসপির জাহাজ এমটি এফপিএমসি ৩৪ হাজার ৩৫৩ টন ডিজেল নিয়ে ২০ এপ্রিল চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর করে। এ জাহাজ থেকে কবে নাগাদ তেল খালাস করা হবে তার সময় এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। বিএসপির আরও একটি জাহাজ এমটি হাফনিয়া চিটাম ৩৩ হাজার ৪০৫ টন ডিজেল নিয়ে ২১ এপ্রিল বহির্নোঙরে আসে। তবে এ জাহাজ থেকেও তেল খালাসের সময়সূচি এখনো নির্ধারণ করেনি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বিএসপির ৯ হাজার ৯৭৪ টন ডিজেল নিয়ে আরও একটি জাহাজ এমটি হাফনিয়া মারলিন চট্টগ্রাম বন্দরে বহির্নোঙরে আসবে ২৮ এপ্রিল (মঙ্গলবার)। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ভিটলের ২৬ হাজার ৫১৮ টনের অকটেনবাহী জাহাজ বহির্নোঙরে ভিড়বে ২৯ এপ্রিল। ভিটলের ৩৪ হাজার ৬৬৭ টনের জেট ফুয়েল নিয়ে এমটি জিং টং নামে অপর একটি জাহাজ গত ২৪ এপ্রিল চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। শনিবার এটি বার্থিং করা হয়। তবে এটি থেকে তেল খালাস এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। যদিও জাহাজগুলো থেকে দ্রুত তেল খালাসের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে বিপিসি। সংশ্লিষ্টরা জানান, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে একসঙ্গে দুটির বেশি জাহাজ থেকে তেল খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না।

চট্টগ্রাম বন্দরে আসা ৮টি জাহাজের মধ্যে ভিটলের এমটি লিয়ন সান জাহাজ ৬ এপ্রিল, বিএসপির এমটি এফপিএমসি জাহাজ ৩১ মার্চ এবং বিএসপির এমটি হাফনিয়া চিতা ১০ এপ্রিল চট্টগ্রামে আসার কথা ছিল। জাহাজগুলো দেরিতে আসায় তেল খালাসের বিলম্বের জন্য সরকারকে কোনো জরিমানা দিতে হবে না।

এদিকে, এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) নিয়ে বাংলাদেশ আসছে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামে একটি জাহাজ। এটি গত ৬ দিন আগে (২১ এপ্রিল) সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। সবকিছু ঠিক থাকলে ৬ মে জাহাজটি বাংলাদেশে পৌঁছবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে নিরাপত্তাজনিত কারণে জাহাজটি ইন্টিগ্রেটেড অটোমেশন সিস্টেম (আইএএস) বন্ধ রেখেছে। বাংলাদেশ জি-টু-জি পদ্ধতিতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ক্রুড অয়েল আমদানি করে। আমদানিকৃত এসব তেল পরিবহণ করে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)।

কালের কণ্ঠ

‘বাসই চলে না, বোয়িং বিলাস’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশের অর্থনীতিতে চলছে টানাটানি। তহবিলসংকটে বাড়ছে ধারকর্জ। জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ, গ্যাসের জন্য চারদিকে হাহাকার। এই সংকটকালে খোদ সরকারই যখন সর্বস্তরে কৃচ্ছ্রসাধনে জোর দিয়েছে, আরেক দিকে চলছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৪টি বোয়িং কেনার আয়োজন।
ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের করা চুক্তির দোহাই দিয়ে নীরবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার ঋণের বোঝা চাপাতে চাইছে সরকারের ঘাড়ে। অথচ আগের কেনা ১০টি বোয়িংয়ের পুরো টাকাও এখনো পরিশোধ করা হয়নি। দেশের অর্থনীতির দুঃসময়ে এমন বিলাসী কেনাকাটা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, একদিকে জ্বালানিসংকটে যানবাহন স্থবির, ডিজেলের অভাবে কৃষকের সেচ পাম্প চলে না, অন্যদিকে সরকারি মিতব্যয়িতার ঘোষণা জারি রেখে এমন ব্যয়বহুল কেনাকাটা সরকারের নীতির সঙ্গে সাঘর্ষিক।

ব্যয় সংকোচনের মাঝে বৈপরীত্য: দেশের অর্থনীতি বর্তমানে একাধিক চাপের মুখে। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, বৈদেশিক ঋণের ওপর আরো চাপ পড়লে সুদ পরিশোধের বোঝা বাড়বে।
বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন বছর ধরে প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিক পতন, বিনিয়োগে স্থবিরতা, কর্মসংস্থানে ধীরগতি এবং দারিদ্র্য বৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৩.৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আর্থিক খাতের দুর্বলতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ অব্যাহত রয়েছে।
অনিশ্চয়তা, অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং বৈদেশিক বাণিজ্য ব্যয় বৃদ্ধিতে স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক ঋণের ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।
সরকার আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের কাছে ৩০০ কোটি ডলারের জরুরি ঋণ চেয়েছে। এ অবস্থায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের বোয়িং ক্রয় রিজার্ভের ওপর চাপ আরো বাড়াবে।
ডাউন পেমেন্ট (৩-৩.৫ হাজার কোটি টাকা) জোগাড় করাও চ্যালেঞ্জ। মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা বিবেচনায় নিয়ে সরকারি ব্যয়ে বড় ধরনের কাটছাঁট করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী, যানবাহন ও কম্পিউটার কেনা, কর্মকর্তাদের বিদেশভ্রমণসহ ১১টি খাতে বরাদ্দ বন্ধ বা সীমিত করে কঠোর কৃচ্ছ্রসাধনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে কৃষি ও শিল্প উৎপাদন যখন ধুঁকছে, তখন বিপুল ঋণের দায় কাঁধে নিয়ে উড়োজাহাজ কেনার এই চুক্তিকে ‘শ্বেতহস্তী’ পোষার শামিল বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তাঁদের মতে, এটি সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির সঙ্গে চরমভাবে সাংঘর্ষিক।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘কষ্টের ধান দুঃখ ছড়াচ্ছে কৃষকের সংসারে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ হাওর অঞ্চলে বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে। কিন্তু কষ্টে ফলানো ধান ঘরে তুলতে না তুলতেই কৃষকের মুখের হাসি মিলিয়ে যাচ্ছে। বাজারে গিয়ে তারা দেখছেন, ধান উৎপাদনে তাদের যে খরচ হয়েছে, বিক্রি করতে হচ্ছে তার চেয়ে অনেক কম দামে। সরকার নির্ধারিত মূল্যও তারা পাচ্ছেন না।
বেশি দরে সার কিনে, বাড়তি খরচে সেচ ঠিক রেখে, ধার করে টাকা নিয়ে ফসল ফলিয়েছিলেন কৃষক। কাটার পর যথাযথ দাম না পেয়ে তারা হতাশ। নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজারসহ হাওরাঞ্চলে ইতোমধ্যে ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ক্ষেত থেকে সরাসরি বিক্রি করলে প্রতি মণ ধানের দাম পাওয়া যাচ্ছে ৭০০ থেকে ৮৫০ টাকা। কিছুটা শুকনো ধান বিক্রি করলে মিলছে ৮৫০ থেকে ৯৫০ টাকা।

কৃষি মন্ত্রণালয় গত বছর (২০২৫ সাল) এক কেজি ধানের উৎপাদন খরচ হিসাব করেছিল ৩২ টাকা ৯৬ পয়সা। তাতে এক মণ (৪০ কেজি হিসাবে) ধানের খরচ দাঁড়ায় এক হাজার ৩১৮ টাকা। এবারও তারা খাদ্য মন্ত্রণালয়কে ধানের উৎপাদন খরচের একই রকম হিসাব দিয়েছে। সে অনুযায়ী সরকার চলতি বোরো মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহের মূল্য প্রতি কেজি ৩৬ টাকা নির্ধারণ করে। যদিও সার ও সেচে কৃষককে এ মৌসুমে বাড়তি ব্যয় করতে হয়েছে। তবে কৃষক সরকার নির্ধারিত মূল্যেও ধান বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে মৌসুমের শুরুতেই বড় লোকসানের মুখে পড়ছেন কৃষক।

খরচ বেশি, দামে ধস

ডিজেলের দাম বৃদ্ধি, সেচ খরচ, সার-বীজ ও শ্রমিক মজুরি মিলিয়ে চলতি বোরো মৌসুমে ধানের উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সে অনুপাতে সরকারি সংগ্রহ মূল্য বাড়েনি। ফলে লোকসানের আশঙ্কায় প্রান্তিক কৃষক উদ্বিগ্ন।
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার মজলিশপুর গ্রামের কৃষক নবী হোসেন বলেন, ‘এবারের মৌসুমে উৎপাদন খরচ ২০-৩০ শতাংশ বেড়েছে। বর্গা চাষ করলে প্রতি কেজি ধানের উৎপাদন খরচ দাঁড়াচ্ছে সাড়ে ৩৭ টাকার বেশি। অথচ সরকার ধান কিনতে চাচ্ছে ৩৬ টাকা দরে। এ দরে ধান বিক্রি করলে আমাদের লোকসান হবেই।’

এমন উদ্বেগ শুধু নবী হোসেনের নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে একই শঙ্কা। বিশেষ করে ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়েছে সেচ, যান্ত্রিক চাষাবাদ এবং ধান কাটা-মাড়াইয়ের ওপর। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সেচযন্ত্র চালাতে ডিজেল ও বিদ্যুতের খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি সার, কীটনাশক ও বীজের দাম ঊর্ধ্বমুখী। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শ্রমিক সংকট ও বাড়তি মজুরি। সব মিলিয়ে ধান উৎপাদন ব্যয় গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার কৃষক আবদুর রহমান বলেন, গত বছর এক বিঘা জমিতে বোরো ধান উৎপাদনে খরচ হয়েছিল প্রায় ১২ হাজার ৫০০ টাকা। এবার সে খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার টাকার বেশি। অর্থাৎ, প্রতি বিঘায় বাড়তি খরচ হয়েছে প্রায় ছয় হাজার টাকা।
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার কৃষক জুলহাস মিয়া বলেন, এক মণ ধানের দামে এখন একজন শ্রমিকের এক দিনের মজুরিও ওঠে না। ধান উৎপাদনে খরচ পড়ে এক হাজার ৩০০ টাকার বেশি। কিন্তু লাভ তো দূরের কথা, খরচই ঠিকমতো উঠছে না।
হাওরাঞ্চলেও একই চিত্র। সেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মূল্য সংকট। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টিতে প্রায় ৩০ শতাংশ জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকায় ধান কাটা ও পরিবহনে চরম ভোগান্তি হচ্ছে। তেলের দাম বৃদ্ধি এবং শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটার খরচও হচ্ছে কয়েক গুণ।

ইত্তেফাক

‘বজ্রপাতে সাত জেলায় ১৪ জনের মৃত্যু’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার প্রতিবেদন। খবরে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গতকাল রবিবার বিকালে গাইবান্ধাসহ সাত জেলায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে গাইবান্ধা জেলায়, যেখানে একই এলাকায় একসঙ্গে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। ইত্তেফাকের জেলা প্রতিনিধিরা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

নাটোর জেলার সিংড়ায় ধান কাটার সময় বজ্রপাতে এক জন নিহত হয়। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ও সাঘাটা উপজেলায় পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ ও রায়গঞ্জে বজ্রপাতে দুই জন মারা গেছে। এছাড়া জামালপুরে রান্নার সময় বজ্রপাতে মর্জিনা নামে এক গৃহবধূসহ দুই জনের মৃত্যু হয়। বগুড়া জেলার গাবতলীর সোনারাই এলাকায় বজ্রপাতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। পঞ্চগড়ে এক জন চা-শ্রমিক ও ঠাকুরগাঁওয়ে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে।
আমাদের গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ও সাঘাটা উপজেলায় বজ্রপাতে এক শিশুসহ পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরো এক জন। বজ্রপাতে একটি গরুও মারা গেছে। গতকাল বিকালে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামে এবং সাঘাটা উপজেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে ফুয়াদ চৌধুরী (১০), একই গ্রামের ছোটন মিয়ার ছেলে রাফি চৌধুরী (১৫) ও নবীর হোসেনের ছেলে মিজান মিয়া (২০), ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়নের দেলুয়াবাড়ি গ্রামের শুক্কুর আলীর ছেলে মানিক মিয়া (২৫) ও সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চা গ্রামের নম্বার আলী (৬৫)।

এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিকাল ৪টার দিকে হঠাত্ আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় ঐ দুই তরুণ ও শিশু বাড়ির পাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাত্ তাদের ওপর সরাসরি বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তারা প্রাণ হারায়। একই সময়ে পাশে থাকা একটি গরুও মারা যায়। আহত শামীমকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় মারা যান নম্বর আলী। সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বজ্রপাতে নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আমাদের ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, ঠাকুরগাঁওয়ের পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ও কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন নিয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা রশিদুল ইসলামের স্ত্রী লাবণী আক্তার (৩৫) ও কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ইলিয়াস আলী (৩৭)। প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল থেকে পীরগঞ্জ উপজেলা ও এর আশপাশে থেমে থেমে বৃষ্টি চলছিল। বেলা পৌনে দুইটার দিকে গরুর ঘাস কেটে বাড়ি ফিরছিলেন লাবণী। তখন আকস্মিক বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে তিনি মারা যান। অন্যদিকে কোষাডাঙ্গীপাড়ায় বজ্রপাতের ঘটনার বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, দুপুরে বৈরামপুর এলাকায় জমিতে ফসল দেখতে যান ইলিয়াস। এ সময় হঠাত্ বৃষ্টি ও প্রচণ্ড শব্দে বজ্রপাত শুরু হয়।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘বেকার যুবকদের ৩২% উচ্চশিক্ষিত’। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি ৫৭ লাখ। জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে সপ্তম হলেও আয়তনে ৯১তম অবস্থানে থাকা দেশটি বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ রাষ্ট্র। ১৯৪৭ সালে পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যা ছিল প্রায় চার কোটি ৪০ লাখ; ১৯৭১ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় সাত কোটিতে। স্বাধীনতার পর গত পাঁচ দশকে জনসংখ্যা বেড়ে প্রায় ১৮ কোটিতে পৌঁছেছে। কিন্তু এই বিপুল জনসংখ্যার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসংস্থান তৈরি না হওয়ায় বেকারত্ব ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ ত্রৈমাসিক শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) দেশে বেকারত্বের হার বেড়ে ৪.৬৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩.৯৫ শতাংশ। একই অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই- সেপ্টেম্বর) এই হার ছিল ৪.৪৯ শতাংশ। রাজনৈতিক অস্থিরতা, গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা তৈরি হওয়াও এই বৃদ্ধির একটি কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বেকারের সংখ্যা ছিল ২৫ লাখ ৫০ হাজার, যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭ লাখে। একই সময়ে সামগ্রিক বেকারত্বের হার ৪.১৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪.৪৮ শতাংশ হয়েছে। আরো উদ্বেগজনক হলো- শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হারও কমছে। ২০২৪ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে এটি ৫০.২৭ শতাংশ থেকে কমে ৪৮.৪১ শতাংশে নেমে এসেছে, যার প্রধান কারণ নারী শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ হ্রাস।

২০২৪ সালের শেষ প্রান্তিকে মোট পাঁচ কোটি ৮৯ লাখ ৩০ হাজার শ্রমশক্তির মধ্যে কর্মসংস্থানে ছিল পাঁচ কোটি ৬২ লাখ মানুষ- যা আগের বছরের তুলনায় কম। অর্থাৎ, কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে তাল মিলিয়ে এগোতে পারছে না।
বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হলো যুব বেকারত্ব। বিবিএসের তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রায় ১৯.৪ লাখ যুবক বেকার ছিল, যা যুব শ্রমশক্তির ৭.২ শতাংশ। এর মধ্যে ৩১.৫ শতাংশই উচ্চশিক্ষিত। ২০২৪ সালে স্নাতক পর্যায়ের বেকারত্বের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩.৫ শতাংশ- যা প্রমাণ করে, উচ্চশিক্ষা অর্জন করেও কর্মসংস্থান নিশ্চিত হচ্ছে না। বাস্তবতা হলো- শিক্ষার স্তর যত বাড়ছে, বেকার থাকার ঝুঁকিও তত বাড়ছে।

গত তিন দশকে সরকার ও উন্নয়ন অংশীদাররা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং দক্ষতা উন্নয়নে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, জাতিসঙ্ঘ, বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সহায়তায় বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও প্রত্যাশিত ফল এখনো অর্জিত হয়নি।

আরেক খবরে বলা হয়, ‘আ’লীগের হেভিওয়েটদের তদন্তে আরো ৩ মাস সময়’। প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের হেভিওয়েট মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে আরো তিন মাস সময় বাড়িয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আগামী ২৬ জুলাই এই প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গতকাল রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো: গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো: শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো: মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এদিন সকালে কড়া নিরাপত্তায় কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে ৯ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। হাজির করা আসামিরা হলেন সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা: দীপু মনি, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক এমপি সোলাইমান সেলিম এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।

শুনানিতে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম মামলার একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্ত শেষ করতে আরো তিন মাস সময় চান। তিনি জানান, এ মামলায় মোট ৪৬ জন আসামি ছিলেন। এর মধ্যে ধাপে ধাপে অনেকের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছে এবং কয়েকটির বিচারও চলছে। বাকিদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে যা আগামী তিন মাসের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হবে।

শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ২৬ জুলাই প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী দিন ধার্য করেন। এর আগে গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলো দায়ের করা হয়।

বণিক বার্তা

‘মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে ইউরিয়ার দাম বেড়েছে ৭০%’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির পাশাপাশি অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে ইউরিয়া সারের দাম ও সরবরাহ।

উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ও সরবরাহ সংকটের কারণে গত কয়েক মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে এ সারের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। কৃষিতে বহুল ব্যবহৃত ইউরিয়ার দাম ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে প্রায় ৪২ শতাংশ বেড়েছে। আর যুদ্ধ শুরুর পর মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে স্পট মার্কেটে ইউরিয়ার দাম প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সামনের দিনগুলোয় ইউরিয়া সারের বাজারে অস্থিরতা আরো বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে বৈশ্বিক কৃষি উৎপাদন বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশকে ইউরিয়ার সরবরাহ নিশ্চিতে স্থানীয় উৎপাদনে জোর দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। গ্যাস সংকটে দেশে বন্ধ রয়েছে একটি বাদে সব ইউরিয়া সার কারখানার উৎপাদন। বর্তমানে নরসিংদীর ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানাটি (দৈনিক ২ হাজার ৮০০ টন উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন) কেবল চালু রয়েছে। অন্যদিকে মজুদ যা আছে তাও নিরাপদ সীমা অর্থাৎ চার লাখ টনের নিচে। তাই বিশ্ববাজার থেকে আমদানির পাশাপাশি দেশেও ইউরিয়া সার উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ কৃষি খাতের বিশেষজ্ঞদের। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ইউরিয়ার সরবরাহ দিতে না পারলে আসন্ন আমন (জুন-জুলাই) মৌসুমে দেশের প্রধান খাদ্যশস্য উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে বলে শঙ্কা তাদের।

বিশ্বব্যাংকের এপ্রিল ২০২৬-এর কমোডিটি পিঙ্কশিট প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিশ্ববাজারে ইউরিয়া সারের গড় দাম ছিল টনপ্রতি ৪১৫ দশমিক ৪ ডলার। ফেব্রুয়ারিতে দাম বেড়ে ৪৭২ ডলারে উন্নীত হয়। আর মার্চ শেষে গড় দাম বেড়ে ৭২৫ দশমিক ৬ ডলারে গিয়ে ঠেকে। আর সর্বশেষ বৈশ্বিক ট্রেডে স্পট মার্কেটে ইউরিয়ার দাম টনপ্রতি ৮০০ ডলার ছাড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি চললেও আমেরিকার পাল্টা নৌ-অবরোধ এবং নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আভাসে স্পট মার্কেটে পণ্যটির দাম বাড়ছে।

ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি, চুক্তি অনুযায়ী ইউরিয়াপ্রাপ্তি বিঘ্নিত হওয়া, নতুন করে দরপত্রে সরবরাহকারী না পাওয়ায় বিশ্বব্যাপী ক্রেতারা স্পট মার্কেটের দিকে ঝুঁকছে। যার কারণে স্পট মার্কেটে ইউরিয়া সারের দাম টনপ্রতি ৮০০ ডলার ছাড়িয়েছে। শনিবার শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে (সিবিওটি) ইউরিয়ার দাম ৮৫০ ডলারে পৌঁছেছে।

আসন্ন আমন মৌসুমের আগে বেসরকারিভাবে দুই লাখ টন ইউরিয়া আমদানি করতে চায় বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)। এজন্য দুই দফা দরপত্র আহ্বান করা হয়। তবে এতে সরবরাহকারীদের কাছ থেকে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। এখন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি তৃতীয় দফায় দরপত্রে যাওয়ার চিন্তা করছে বলে দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

বিসিআইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দফায় আন্তর্জাতিক দরপত্রে কোনো সাড়াই পাওয়া যায়নি। এরপর দ্বিতীয়বার দরপত্র আহ্বান করা হয়। কিন্তু সেখানেও সরবরাহকারীদের কাছ থেকে কেবল ৫০ হাজার টন ইউরিয়া সরবরাহের জন্য দরপত্র পাওয়া গেছে, যা চাহিদার মাত্র ২৫ শতাংশ।

আমন মৌসুম সামনে রেখে মজুদ বাড়াতে দুই লাখ টন ইউরিয়া আমদানির জন্য উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করে বিসিআইসি। সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের সঙ্গে জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) ভিত্তিতে আরো তিন লাখ টন ইউরিয়া আনার বিষয়েও কথাবার্তা হচ্ছে। তবে তা আসা নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার ওপর। পাশাপাশি জিটুজি পদ্ধতিতে ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, চীন ও রাশিয়া থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে সার আমদানি করতে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে সরকার। বিসিআইসি মনে করছে, চুক্তিভুক্ত ইউরিয়া আমদানির পাশাপাশি দেশীয় কারখানাগুলো পুরোদমে চালু করা গেলে চলতি কৃষি মৌসুমে চাহিদামতো সার সরবরাহ সম্ভব হবে।

বিসিআইসি সূত্র জানিয়েছে, দেশের ইউরিয়া সারের মজুদ পরিস্থিতি ও আমদানি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে বন্ধ থাকা কারখানাগুলো চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সরকার সার উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ১ মে থেকে ঘোড়াশাল-পলাশের পাশাপাশি কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি (কাফকো) ও শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানিতে (এসএফসিএল) গ্যাস সরবরাহ দিলে উৎপাদন শুরু হবে। পাশাপাশি সংকট মোকাবেলায় গ্যাস সরবরাহ পেলে চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি (সিইউএফএল) ও যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (জেএফসিএল) উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।

দেশ রূপান্তর

দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘জুলাই শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংসদে বিতর্ক’। খবরে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই শহীদের সংখ্যা নিয়ে জাতীয় সংসদে বিতর্কে অংশ নিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান। গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় এ প্রসঙ্গ নিয়ে বিতর্ক হয়। নৌ প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান বলেন, কয়েক দিন ধরে বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে খুব অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত ১৮ মাস (অন্তর্বর্তী সরকারের সময়) যে আরামে ছিলেন, সেই আরাম এখন হচ্ছে না। এ কারণে অনেক সমস্যা হয়ে যাচ্ছে।

রাজিব আহসান বলেন, জুলাই আন্দোলন নিয়ে অন্তত তিনজন এমপি বক্তব্য দিয়েছেন। একজন বলেছেন ৮৪৪ জন শহীদ, একজন বলেছেনএক হাজারের ওপরে শহীদ আরেকজন বলেছেন ১ হাজার ৪০০ শহীদ হয়েছেন। যদিও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিভিন্ন হাসপাতালের সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে বলেছে ১ হাজার ৪০০-এর অধিক শহীদ হয়েছে এবং এটা জাতিসংঘও বলার চেষ্টা করেছে। পরবর্তী সময়ে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের গেজেটে ৮৪৪ জনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলের নেতা একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন-১ হাজার ৪০০ শহীদের মধ্যে ১ হাজার ২০০ শহীদের বাসায় যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে তার। যখানে সরকারি গেজেটে ৮৪৪ জন শহীদ বলা হচ্ছে তিনি সেখানে ১ হাজার ৪০০ শহীদের মধ্যে ১ হাজার ২০০ শহীদের বাসায় কীভাবে গেলেন? তিনি বলেন, ‘এটা তো আমি বুঝতে পারতেছি না। উনি যদি যেয়ে থাকেন কোনো আপত্তি নাই, আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু আমরা প্রকৃত সংখ্যাটা জানতে চাই।’ তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলন হয়েছে। এক বছর দুই বছর হয় নাই। এখনই স্মৃতির বিস্মৃতিতে অনেক কিছু হারিয়ে যদি যায়, ১০ বছর ২০ বছর পরে এই ইতিহাস বিকৃতি কোথায় গিয়ে পৌঁছবে? মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে যে ধরনের একটি ব্যবসা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে যে ব্যবসা গত ৫৪ বছর দেখতে হয়েছে, এই জুলাইকে কেন্দ্র করে নতুন করে ব্যবসা শুরু আমরা চাই না। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই ব্যবসা বন্ধ করার জন্য প্রকৃত ইতিহাস, কতজন শহীদ হয়েছে, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় আমরা জানতে চাই। প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী এটাকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন। তিনি বিরোধী দলের উদ্দেশে বলেন, আপনারা এখানে অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলবেন, আমরাও শুনতে চাই, আমরাও কাজ করতে চাই আপনাদের সঙ্গে। কিন্তু যারা কুৎসা রটনা করছেন, আমরা দেখলাম আপনারা তাদের পুরস্কৃত করেছেন। যিনি অশ্লীল মন্তব্য করেছেন তার পরিবারের সদস্যকে এমপিকে করে কি প্রমাণ করতে চান?

মাগরিবের নামাজের বিরতির পর ফ্লোর নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান প্রতমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে বলেন, প্রতিমন্ত্রী বলেছেন শহীদদের সংখ্যা যদি ৮০০ প্লাস হয়, তাহলে আমি ১ হাজার ২০০ বাড়িতে গেলাম কীভাবে? ফ্যামিলিতে গেলাম কীভাবে?

সংসদের সবার দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, তিনি কোনো বানোয়াট কথা বলেননি। এ বিষয়ে তাদের কাছে একটা কমপ্লিট প্রোফাইল আছে, এখানে উপস্থিত অনেকে সেই প্রোফাইল পেয়েছেন। জামায়াতের ওয়েবসাইটে এটা সচরাচর পাওয়া যাচ্ছে। চেক এবং ক্রস চেক করে নিশ্চিত হওয়ার পরেই এই তালিকা করা হয়েছে।

শফিকুর রহমান বলেন, দেশীয় কোনো সংস্থার উদ্ধৃতি নয়, জাতিসংঘের মানবাধিকার ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি বলেছে এ সংখ্যাটা ১৪শ জনের বেশি। বিভিন্ন জায়গায় যখন যাই কিছু মানুষ আসেন, তারা অসহায়ের মতো আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকেন। এরপরে বলেন, ‘আমার বাবাটার কোনো খবর আপনাদের কাছে আছে কিনা?’ ওই যে দুইদিন ইন্টারনেট বন্ধ করে মানুষ খুন করে গুম করা হয়েছে, তাদের হিসাব তো কেউ দিচ্ছে না। এ সংখ্যা তো আরও বেশি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন