অফলাইন ও অনলাইনে চলছে বেচাকেনা। মাত্র এক বছরে আচার ও মসলার ব্যবসায় স্বাবলম্বী হয়েছেন সৈয়দপুরের কামারপুকুর ইউনিয়নের বকশাপাড়া গ্রামের উম্মে তছলিমা আকতারি। নানা পদের আচার তৈরি করে পেয়েছেন জনপ্রিয়তা- হয়েছেন একজন সফল নারী উদ্যোক্তা। এখন প্রতিমাসে তার আয় প্রায় লাখ টাকা।
সরজমিন দেখা যায়, বাসাটি বানিয়ে ফেলেছেন আচারের বাড়ি। একদিকে কড়াইয়ে তৈরি হচ্ছে আচার। আরেক দিকে তৈরি করা হচ্ছে প্যাকেজিং। থরে থরে সাজানো হয়েছে মজাদার আচার। লেখাপড়া শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে দৃঢ় মনোবল নিয়ে শুরু করেন আচার তৈরি। ২০২৫ সালের মার্চে শুরু করে এ আচারের ব্যবসায় প্রায় একবছরে গড়িয়েছে। এ সময় গড়ে তোলেন প্রিমি ফার্ম নামে একটি কারখানা।
সেই কারখানায় তৈরি গরুর মাংসের আচার, বরই, তেঁতুল, জলপাই, চালতা, টমেটো, রসুনসহ বিভিন্ন ধরনের আচার বিক্রি হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জায়গায়। তৈরি হচ্ছে জিরা, ধনিয়া গুঁড়া, ফিরনি ইত্যাদি জিনিসপত্র মানুষের মন জয় করেছে। বিশেষ করে তাজা গরুর মাংস থেকে মানসম্মত উপায়ে তৈরি গরুর মাংসের আচার খাবার টেবিলে জয় করে নেবে সবার মন। এ ছাড়া তছলিমার তৈরি আচারের স্বাদ ও গুণগত মান বাড়িয়েছে ক্রেতার চাহিদা। এ ফার্মে তৈরি হচ্ছে জলপাই আচার, চালতা আচার, রসুন আচার।
এর আগে তছলিমা অন্যান্য ব্যবসা ট্রাই করলেও সফল হতে পারেননি। পরে স্বামীর পরামর্শে এ আচারের ব্যবসায় আসেন সঙ্গে যোগ করেন গরুর মাংসের আচার। নিজ বাড়িতে সুস্থ-সবল গরু এনে ডাক্তার দিয়ে পরীক্ষা করে জবাই করে চর্বি ও হাড় বাদ দিয়ে মাংস নেন। এরপর প্রসেসিং করে তৈরি করেন গরুর মজাদার আচার।
ভাত, খিচুড়ি আর এক চামচ গরুর মাংসের আচার- আহা, স্বাদটা যেন মন ভরে যায়! ভাবুন তো- গরম গরম ভাত বা ধোঁয়া ওঠা খিচুড়ির সঙ্গে যখন এক চামচ ‘গরুর মাংসের ঝুরা আচার’ মেশাবেন, প্রথম কামড়েই মনে হবে ‘এই তো সেই আসল স্বাদ, যেটার খোঁজে ছিলাম!’। সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মতভাবে তৈরি এসব আচার নিরাপদ খাদ্য হিসেবে বিএসটিআই’র অনুমোদন পেয়েছে।
উম্মে তছলিমা আকতারির স্বামী শামসুজ্জামান ভেটেরিনারি চিকিৎসক হিসেবে সরকারি চাকরি করেন। পরিবারে মাত্র দুটো সন্তান। প্রতিটি কাজে স্বামী ও পরিবারের সহযোগিতা পান তছলিমা। প্রিমি ফার্মে কর্মসংস্থান হয়েছে এলাকার বেকার নারী-পুরুষের। তারা দিনহাজিরা ও মাসিক বেতনে কাজ করছেন প্রিমি ফার্মে আচার তৈরিতে।
তছলিমা আকতারি বলেন, শুরুর পথ আমার কিছুটা কঠিন ছিল, তবে আমি আমার সিদ্ধান্তে অটুট ছিলাম। ছোটবেলা থেকে আমার ইচ্ছা ছিল নিজে কিছু করার পাশাপাশি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো। ছোটবেলায় মায়ের কাছেই আচার ও অন্যান্য জিনিস তৈরির হাতেখড়ি হয়েছে। প্রথমে অনেকে অনেক কথা বললেও এখন সকলেই সাহস জোগান। নিজের স্বপ্ন আর সাহসকে পুঁজি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন তিনি।
সৈয়দপুর মহিলা মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক ও নারী সংগঠক শিউলী বেগম বলেন, তছলিমা একজন উদ্যমী নারী উদ্যোক্তা। সে অনেকবার ব্যর্থ হলেও থেমে থাকেনি। নারীদের সামাজিকভাবে বিভিন্ন ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয়, তবে আমি মনে করি নারীদের স্বাবলম্বী হওয়া জরুরি। তছলিমার কাজ সমাজের অনেক নারীর অনুপ্রেরণা হতে পারে।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা নুরুন্নাহার শাহাজাদী বলেন, নারীরা এগিয়ে যাবে এজন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের কাজ করি। বিষয়টি জানলাম। তাকে কীভাবে সহায়তা করা যায়, খোঁজ নিয়ে সেটি করার চেষ্টা করবো। আশা করি, তছলিমা অনেকদূর এগিয়ে যাবেন।
