ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক বর্তমানে ক্রমবর্ধমান টানাপোড়েনের মুখে পড়েছে। নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা এবং অর্থনৈতিক নীতিতে মতপার্থক্য বাড়ায় দুই পক্ষের মধ্যে আস্থার ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন ইউরোপকে সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাস ইঙ্গিত দিয়েছেন, বর্তমান নীতিগত পার্থক্য ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কে আস্থার সংকট সৃষ্টি করছে। স্পেন, জার্মানি, ইতালি এবং বেলজিয়ামসহ ইউরোপীয় দেশগুলো ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা কাঠামো শক্তিশালী করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং কৌশলগত স্বনির্ভরতার ধারণাকে সমর্থন করছে।
ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থানের পরিবর্তন ইউরোপীয় দেশগুলোকে বিকল্প নিরাপত্তা কৌশল ভাবতে বাধ্য করছে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পনীতি ও ভর্তুকি কাঠামো নিয়ে ইউরোপে অসন্তোষ রয়েছে। ইউরোপীয় নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা বাড়ানো প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক থিয়েরি দ্য মনব্রিয়াল মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অনিশ্চয়তা ইউরোপকে কৌশলগত পুনর্বিন্যাসে বাধ্য করছে। অন্যদিকে জুডি ডেম্পসি বলেন, এটি সম্পর্ক ভাঙনের ইঙ্গিত নয়, বরং পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় নতুন ভারসাম্য তৈরির প্রক্রিয়া।
