আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘গুপ্ত’ ইস্যু: ছোট শব্দে বড় রাজনীতি। খবরে বলা হয়, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর তুলনামূলক শান্ত থাকা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস হঠাৎ করেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ক্ষমতাসীন দল বিএনপির ছাত্রসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। এরই মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও পাবনায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আপাত-দৃষ্টিতে ‘গুপ্ত’ শব্দকে কেন্দ্র করে বিরোধের প্রকাশ ঘটলেও এর পেছনে রয়েছে বহুমাত্রিক রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ। দুই সংগঠনের নেতা-কর্মী, শিক্ষক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জাতীয় রাজনীতির জটিল সমীকরণ, ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার এবং আসন্ন ছাত্র সংসদ নির্বাচন —এই তিন কারণ ‘শান্ত’ ক্যাম্পাসকে ‘অশান্ত’ করে তুলেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২১ এপ্রিল চট্টগ্রাম সিটি কলেজে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবির একটি গ্রাফিতি আঁকে, যেখানে লেখা ছিল ‘ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’। পরে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ‘ছাত্ররাজনীতি’ থেকে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে দিয়ে তার ওপর ‘গুপ্ত’ শব্দ লিখে দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দুই দফায় সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে দুই পক্ষই দাবি করেছে।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে যাঁরা প্রকাশ্যে এসেছেন, তাঁদের অনেকে আওয়ামী লীগ আমলে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন—এমন অভিযোগ ঘিরেই ‘গুপ্ত’ শব্দটি আলোচনায় আসে। ছাত্রদলের অভিযোগ, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও শিবিরের হল কমিটিসহ অন্যান্য কমিটিগুলো ঘোষণা করা হয়নি, যা গুপ্ত রাজনীতিরই বহিঃপ্রকাশ।
এর রেশ কাটতে না কাটতেই ২৩ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর ফটোকার্ড ছড়ানোকে কেন্দ্র করে রাজধানীর শাহবাগ থানা এলাকায় আবারও সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। সবশেষ গত শুক্রবার রংপুর মেডিকেল কলেজের আবাসিক হলে সিট বরাদ্দকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্রসংগঠনের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ছাত্রসংগঠনগুলোর অভিভাবক রাজনৈতিক দলের নেতারাও পরস্পর বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। শিক্ষাঙ্গনের অস্থিরতা ছড়িয়েছে রাজপথ ও সংসদেও।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আপাতদৃষ্টিতে ছোট একটি শব্দকে কেন্দ্র করে শুরু হলেও বাস্তবে এটি বড় রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ। জাতীয় রাজনীতির প্রভাব, সংগঠনগত শক্তি প্রদর্শন এবং ভবিষ্যৎ ছাত্ররাজনীতির নিয়ন্ত্রণ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা বলছেন, সংস্কার ও ‘জুলাই সনদ’ ইস্যুতে ইতিমধ্যে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো মাঠে সক্রিয়, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের শক্তির মধ্যে অনেক শক্তিই ভেবেছিল তারা ক্ষমতায় আসবে। যারা প্রত্যাশিত ভোট পায়নি তারা মনে করছে, এই সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করতে পারলে তাদের জন্য ক্ষমতায় আসা সহজ হবে। এখন আমরা যাদের অনুঘটক হিসেবে দেখছি, তাদের বাইরেও দেশি-বিদেশি শক্তি থাকতে পারে।’
এই অধ্যাপক আরও বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে পরিবর্তন ঘটেছে, সেই পরিবর্তনের আগের অনুঘটকও ফ্যাক্টর হিসেবে রয়ে গেছে। তাদের নিষিদ্ধ করা হলেও তাদের বিচারও কিন্তু সেভাবে হয়নি। একাধিক ছাত্রসংগঠনের নেতা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মতে, ৫ আগস্টের ছাত্র-গণ-অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সাফল্যের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে ছাত্রশিবির। ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ছাত্রদল কিছুটা চাপে ছিল। বিএনপি সরকার গঠনের পর সেই অবস্থান পুনরুদ্ধার করতে চায় সংগঠনটি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ৫ আগস্টের পর ‘ব্যাচ প্রতিনিধি’ পদ্ধতির মাধ্যমে শিবির হলগুলোতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। পরে ডাকসু নির্বাচনে এসব প্রতিনিধিরা শিবির-সমর্থিত প্যানেল থেকে অংশ নিয়ে জয়ী হন। এতে হলভিত্তিক রাজনীতিতে ছাত্রদল পিছিয়ে পড়ে। এখন তারা দ্রুত নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে।
বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল বলেন, ক্যাম্পাস দখলকে কেন্দ্র করে দুটি দল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে। ৫ আগস্টের পর শিবির করেছে, আর এখন ছাত্রদল করছে। এ কারণেই মূলত ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল হতে শুরু করেছে।
জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন আজকের পত্রিকাকে বলেন, বর্তমানে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল হওয়ার মূল কারণ শিবিরের ‘গুপ্ত’ রাজনীতি। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের বট আইডির মাধ্যমে তারা ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করে চলছে। তবে ছাত্রদলকে উদ্দেশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাদিক কায়েম বলেছেন, ‘রাষ্ট্রের অন্যান্য সমস্যাগুলোকে (তেল সংকট, আইনশৃঙ্খলা) ঢাকতে তারা এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। ডাকসুর পক্ষ থেকে ক্যাম্পাস স্থিতিশীল রাখতে আমরা সচেষ্ট আছি।’
এ ছাড়া ডাকসু নির্বাচন ঘিরেও রয়েছে নানা হিসাব-নিকাশ। ছাত্রশিবির চায় তাদের বর্তমান অবস্থান ধরে রাখতে, আর ছাত্রদল চায় হলভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডাকসুর মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। নির্বাচন সামনে রেখে প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরি এবং শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবেই ছোট ছোট ইস্যুকে বড় করে তোলা হচ্ছে। সম্ভাব্য নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার, অবস্থান শক্ত করা এবং সমর্থন বাড়ানোর লক্ষ্যেই আগাম শক্তি প্রদর্শনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ জন্যই ছোটখাটো ইস্যুকে সামনে রেখে সক্রিয় অবস্থানে তারা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ক্যাম্পাস অস্থিতিশীলতার পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে জাতীয় রাজনীতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংগঠনগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক দলের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হয়—এ বাস্তবতাকে পুরোপুরি অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
প্রথম আলো
‘চারটি বড় কেন্দ্রে উৎপাদন কম, বেড়েছে লোডশেডিং’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশে বিদ্যুতের চাহিদার দ্বিগুণ উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও তা কাজে লাগছে না। জ্বালানিসংকট, বকেয়া বিল ও কারিগরি ত্রুটির কারণে সক্ষমতার অর্ধেক বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এর মধ্যে উৎপাদন কমেছে চারটি বড় কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্রেও। ফলে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে (শুক্র-শনি) চাহিদা কমলেও লোডশেডিং কমেনি। বৃষ্টি না হলে আরও কয়েক দিন ভুগতে হতে পারে লোডশেডিংয়ে।
বিদ্যুৎ সরবরাহের দুই মূল সংস্থা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড পিএলসি (পিজিসিবি) সূত্র বলছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা এখন প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু কয়েক দিন ধরে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদন করা যাচ্ছে না। যদিও দিনের অধিকাংশ সময় উৎপাদন হচ্ছে ১২ হাজার মেগাওয়াট। চাহিদা ১৪ থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াট। দুই থেকে আড়াই হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে।
দেশে বিদ্যুতের চাহিদা মেটায় মূলত গ্যাস, কয়লা ও তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো। বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতার ৪৩ শতাংশ গ্যাসভিত্তিক। এ ছাড়া ২২ শতাংশ কয়লাভিত্তিক ও ১৯ শতাংশ ফার্নেস তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এর বাইরে রয়েছে আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।
বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশে গ্যাস-সংকট আগে থেকেই ছিল। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা এখন ১২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। উৎপাদন হচ্ছে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। জ্বালানি তেল থেকে উৎপাদন ক্ষমতা আছে ৬ হাজার মেগাওয়াট। রাতে সর্বোচ্চ চাহিদার সময় আড়াই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন করা হচ্ছে। এটি মূলত সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। ভারতের ঝাড়খন্ডে নির্মিত আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৮ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট। এখন উৎপাদন হচ্ছে ৫ হাজার ১০০ মেগাওয়াট।
বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গ্যাস-সংকটের কথা আগে থেকেই জানা ছিল। গ্যাসের পর কয়লা থেকে কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। তাই কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সব তৈরি রাখা উচিত ছিল। এ ছাড়া তেলচালিত কেন্দ্রও বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের কারণে উৎপাদন বাড়াতে পারছে না। এসব কেন্দ্র যত বেশি চালানো হবে, তত বেশি ভর্তুকি বাড়বে সরকারের। তাই তেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে চায় না সরকার।
পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম প্রথম আলোক বলেন, জ্বালানিসংকটের মধ্যেও সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেষ্টা করা হচ্ছে। হঠাৎ করে কয়েকটি কেন্দ্রে কারিগরি সংকটের কারণে বিদ্যুতের ঘাটতি কমানো যাচ্ছে না। এগুলো মেরামতের কাজ চলছে, কয়লার সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে। শিগগিরই বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও বাড়ানো হবে।
কয়লার স্বল্পতা ও কারিগরি ত্রুটি
পিডিবির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, সংকট বাড়িয়েছে কয়লাভিত্তিক চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্র। এর মধ্যে দুটিতে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে। একটিতে কয়লার সংকট ও অন্যটিতে বকেয়া বিলের চাপ। এ চারটি কেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা ৪ হাজার ৩৫৪ মেগাওয়াট। গতকাল শনিবার উৎপাদন করা হয়েছে ১ হাজার ৬৬২ মেগাওয়াট। মানে সক্ষমতার মাত্র ৩৮ শতাংশ উৎপাদন করা গেছে। এর বাইরে মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে গত দুই দিন উৎপাদন কিছুটা কমানো হয়েছিল। গতকাল রাত থেকেই আবার পুরোদমে উৎপাদন করার কথা।
একক বিদ্যুৎকেন্দ্র হিসেবে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র। ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট আছে এখানে। এপ্রিলে চাহিদা বাড়ার পর কিছুদিন ধরে দেড় হাজার মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে আদানির কেন্দ্রটি। ২২ এপ্রিল কারিগরি ত্রুটির কারণে একটি ইউনিট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর উৎপাদন কমে ৭৫০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। এতে রাজশাহী বিভাগে সরবরাহ কমে লোডশেডিং বেড়েছে। দু-তিন দিনের মধ্যে এটি উৎপাদনে ফিরতে পারে বলে জানা গেছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত সূত্র বলছে, পটুয়াখালীর ১ হাজার ২৪৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সরকারিভাবে চীন ও বাংলাদেশের যৌথ মালিকানায় নির্মিত। কয়লার অভাবে কেন্দ্রটি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না। গতকাল সর্বোচ্চ ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে কেন্দ্রটি। এ সপ্তাহের মধ্যে চালু ইউনিট থেকে উৎপাদন আরও কিছুটা বাড়ানো হবে। আর আগামী মাসে আরেকটি ইউনিট চালু হতে পারে।
বেসরকারি খাতে চীনের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে নির্মিত চট্টগ্রামের বাঁশখালী কেন্দ্রটির দুই ইউনিট মিলে উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ২২৪ মেগাওয়াট। বকেয়া বিলের কারণে কয়লা আমদানি ব্যাহত হয়েছে কেন্দ্রটির। তাই প্রথম ইউনিট বন্ধ রাখা হয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ৬১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। ২৮ এপ্রিল প্রথমটি উৎপাদন ফিরতে পারে।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘স্কুল ফিডিং প্রকল্পে অনিয়ম: নিম্নমানের পচা খাবারে অসুস্থ হচ্ছে শিশুরা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করতে চালু করা স্কুল ফিডিং (মিডডে মিল) প্রকল্পেও দুর্নীতি ঢুকে পড়েছে। জেলা-উপজেলা পর্যায়ের স্কুলগুলোতে নিম্নমানের ও পচা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। দুর্গন্ধযুক্ত অপুষ্টিকর খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অতি লোভের খেসারত দিচ্ছে শিশুরা। এসব খাবার খেয়ে শিশুদের অসুস্থ হওয়ার ঘটনা বাড়ছে। ২২ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার শংকরবাটি ১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিডডে মিলের খাবার খেয়ে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। ওই দিন শিক্ষার্থীদের খাবারের আইটেম ছিল পাউরুটি, দুধ, কলা ও ডিম। খাবার গ্রহণের কিছুক্ষণের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বমি, পেটব্যথা ও চোখে জ্বালাপোড়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামসুন্নাহার অভিযোগ করেন, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরেই নিম্নমানের ও দুর্গন্ধযুক্ত খাবার সরবরাহ করে আসছিল। বিষয়টি একাধিকবার জানানো হলেও কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেন। সাময়িকভাবে তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়।
শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জ নয়, একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে দেশের অনান্য জেলায়ও। ৯ এপ্রিল মাদারীপুর সদর উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয়ে নিম্নমানের খাবার খেয়ে অন্তত ১৫ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, নিম্নমানের খাবার সরবরাহের বিষয়ে আগেই আপত্তি জানানো হলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।
পিরোজপুরের নেছারাবাদ, ঝালকাঠির নলছিটি, বরগুনার তালতলী এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলাতেও একই ঘটনা ঘটেছে। কোথাও ছোট ও নিম্নমানের ডিম, কোথাও পচা বা আধাপাকা কলা, আবার কোথাও নির্ধারিত খাদ্যতালিকা অনুযায়ী খাবার দেওয়া হচ্ছে না। কিছু ক্ষেত্রে সরবরাহে অনিয়ম ছাড়াও আংশিক বিতরণেরও অভিযোগ আছে।
এসব খাদ্যে কোনো নির্দিষ্ট প্যাকেজিং বা চিহ্ন থাকে না। তাই অপব্যবহার বা সরিয়ে নেওয়ার সুযোগও তৈরি হচ্ছে। আবার শিক্ষার্থীদের খাবার না দিয়ে বাইরে বিক্রি করে দেওয়া মতো ঘটনাও ঘটছে। শনিবার দেশব্যাপী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্কুল ফিডিং সরবরাহের পরিস্থিতির দেখার অংশ হিসাবে নরসিংদীতে বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এ সময় তিনি বাসাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিডডে মিলে সরবরাহকৃত বনরুটি, ডিম ও খাবারের মান দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে সরকারের দেওয়া মিডডে মিলের মাধ্যমে কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার মতো এমন ত্রুটি-বিচ্যুতি যেন না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়া যেসব খাবার খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যেতে পারে সেগুলো বদলে দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ যুগান্তরকে বলেন, মিডডে মিল প্রকল্পে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। ইতোমধ্যে ১৫০টি উপজেলায় এ কার্যক্রম চালু হয়েছে। সারা দেশে তা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিযোগ, পচনশীল খাবার ডিম, কলা ও দুধ সংরক্ষণ ও পরিবহণে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় এসব খাদ্য দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি এসব খাদ্য বিতরণ করা হচ্ছে। যা শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বেশির ভাগ এলাকায় খাবারের মান যাচাই করার মতো উপকরণও নেই।
স্কুল ফিডিং প্রকল্পের পরিচালক ও যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ যুগান্তরকে বলেন, স্কুল ফিডিং সরবরাহে যারা অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। সারা দেশে প্রায় ২৮ লাখ শিশুকে আমরা খাবার সরবরাহ করছি। এতে কিছু ভুলত্রুটির ঘটনা ঘটবে, এটাই স্বাভাবিক। প্রতিদিন শিশুদের একই ধরনের খাবার দিলে অনীহা সৃষ্টি হয়। তাই আমরা রোস্টার করে ভিন্ন ভিন্ন আইটেম দেওয়ার চেষ্টা করছি। স্কুল ফিডিং প্রকল্পের কারণে শিশুরা আগ্রহ নিয়ে স্কুল আসা শুরু করছে বলে জানান তিনি।
কালের কণ্ঠ
‘জঙ্গি হামলার ঝুঁকিতে দেশ’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, আবারও বড় ধরনের জঙ্গি হামলার ঝুঁকিতে দেশ। এবার রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা জাতীয় সংসদ ভবন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর স্থাপনা ও সদস্য, ধর্মীয় উপাসনালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বোমা হামলা ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে বেশ অনেক দিন পর নড়েচড়ে বসেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। চব্বিশের ৫ আগস্টের পর জেল পলাতক অনেক জঙ্গির বাইরে চলে আসা এবং নিষিদ্ধ বিভিন্ন জঙ্গি গ্রুপের নাশকতা ও অপতৎপরতার বিষয়টিকে সংবেদনশীল বিবেচনায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ নিয়ে পুলিশ সংবাদ সম্মেলনও করেছে। জঙ্গি হামলার বিষয়টি অবগত হওয়ার পর পুলিশ সদর দপ্তর সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করে একটি চিঠি দিয়েছে। ওই চিঠিটি কালের কণ্ঠের হাতে এসেছে। ডিআইজি (কনফিডেনশিয়াল) স্বাক্ষরিত ওই চিঠি থেকে জানা যায়, জঙ্গি সংগঠনের সমর্থক কর্তৃক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানো হতে পারে।
সম্প্রতি গ্রেপ্তারকৃত নিষিদ্ধঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ ওরফে সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে মোহাম্মদের সঙ্গে চাকরিচ্যুত দুজন ‘সেনা সদস্যের’ নিয়মিত যোগাযোগের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। তারা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বোমা বিস্ফোরণ, দেশীয় ধারালো অস্ত্র কিংবা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হামলা চালাতে পারে। দেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য তারা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরপত্তা জোরদারের জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।
এ ছাড়া নজরদারি বাড়িয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয় ওই চিঠিতে। মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধানে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, দেশে সম্ভাব্য হামলা নিয়ন্ত্রণে ওই চিঠিটি মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারসহ সারা দেশে রেঞ্জ ডিআইজি এবং সব জেলা পুলিশ সুপারসহ পুলিশের সব ইউনিটকে দেওয়া হয়েছে। বাহিনীর ইউনিটপ্রধানদের কাছে পাঠানো এসংক্রান্ত এক বার্তায় ‘নিরাপত্তা জোরদারের’ কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে সারা দেশে সন্দেহজনক জঙ্গিদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে।
সূত্র বলছে, জেল পলাতক মৃত্যুদণ্ড ও সাজাপ্রাপ্তসহ সারা দেশে এখনো দেড় হাজারের বেশি উগ্রবাদী সক্রিয় রয়েছে। তাদের প্রধান টার্গেটের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা জাতীয় সংসদ ভবন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর স্থাপনা ও সদস্য, ধর্মীয় উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্র এবং শাহবাগসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। বোমা বিস্ফোরণের পাশাপাশি দেশীয় ধারালো অস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হতে পারে। সূত্র: পুলিশ ও গোয়েন্দা।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘জ্বালানি সংকটে শিল্পকারখানায় উৎপাদন ২৪ শতাংশ কমেছে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের শিল্পকারখানা বড় ধরনের চাপে পড়েছে। জ্বালানি তেল ও গ্যাসের ঘাটতি এবং লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন কমেছে। এর সঙ্গে পরিবহনের বাড়তি ব্যয়ও যুক্ত হয়েছে।
গত দুই মাসে তৈরি পোশাক, ইস্পাত, সিমেন্ট, ওষুধ, হিমায়িত মৎস্য, ভোগ্যপণ্য তৈরির কারখানায় উৎপাদন কমেছে গড়ে ২৪ শতাংশ। একই সময়ে পরিচালন ব্যয় বেড়েছে ৩০ শতাংশের বেশি। গত এক সপ্তাহে চট্টগ্রাম, সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খুলনা, মুন্সীগঞ্জের প্রধান শিল্পাঞ্চল ঘুরে এবং তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
দেশের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র চট্টগ্রামে সচল থাকা এক হাজার ৬৭৬টি শিল্পকারখানার মধ্যে পোশাক, রি-রোলিং মিল, জাহাজ ভাঙা ও সিমেন্টের মতো ভারী শিল্পগুলোই প্রধান। জ্বালানি সংকটের কারণে এ ধরনের শিল্পে উৎপাদন প্রায় এক-চতুর্থাংশ কমেছে। এ ছাড়া সাভার-আশুলিয়ায় সাড়ে তিন শতাধিক সচল পোশাক কারখানা ও আনুষঙ্গিক প্রতিষ্ঠান আছে। সেগুলোতে দৈনিক উৎপাদন এক লাখ পিস থেকে নেমে এসেছে ৮০ ১৯৫১ হাজারে।
গাজীপুরে ছোট-বড় প্রায় পাঁচ-চান্দ্রার শিকারখানা রয়েছে, যার একটি বড় মাংশ টেক্সটাইল ও চাই। এখানে বিদ্যুৎ ঘাটতি ৩০ শতাংশে পৌঁছে যাওয়ায় উৎপাদন কমেছে প্রায় ২৯৫ শতাংশ। অন্যদিকে, নাররাণগঞ্জের রণাজে প্রায় দুই হাজার ছোট-বড় বন্ধ ও পোশাক কারখানায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে।
এ ছাড়া কুমিল্লার রপ্তানিমুখী বিভিন্ন ইউনিট, ময়মনসিংহের ভালুকা এবার টেক্সটাইল চাল এবং খুলনার সহস্রাধিক হিমায়িত মাস্য ও পাটজাত পণ্য উৎপাদনকারী কারখানায় উৎপাদন ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।
উৎপাদন কমার পাশাপাশি দ্রুত বাড়ছে বায়। ড্রালানি সংকটে জেনারেটরনির্ভরতা বাড়ায় অনেক গেত্রে বিস্তাতের তুলনায় দরচ দ্বিগুণ হয়েছে। পরিবহন ধায় ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় সময়মতো পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। গলে অনেক উদ্যোক্তাকে বাড়তি খরচে বিকল্প ব্যবস্থায় যেতে হচ্ছে। র সঙ্গে কাঁচামাদের আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধি যুক্ত হয়ে রপ্তানি খাত্রেও চাল তৈরি করছে।
ইত্তেফাক
‘জঙ্গি হামলার শঙ্কা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, নিষিদ্ধঘোষিত একটি সংগঠনের সমর্থকদের নাশকতার পরিকল্পনা ঘিরে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন কমিশনার ও সব জেলা পুলিশ সুপারসহ পুলিশের সব ইউনিটকে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এই সতর্কবার্তার কথা স্বীকার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান (সিটিটিসি) যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন বলেছেন, আমরা তথ্য পেয়েছি, কাজ করছি।
পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (গোপনীয়) কামরুল আহসানের স্বাক্ষরিত চিঠিটি গত বৃহস্পতিবার রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন কমিশনার ও সব জেলা পুলিশ সুপারসহ পুলিশের সব ইউনিটে পাঠিয়ে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে আবু মোহাম্মদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সেনাসদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। এই চক্রটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা যেমন, জাতীয় সংসদ ভবন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থাপনা ও সদস্য, ধর্মীয় উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্র এবং শাহবাগ ম্যুরালসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হামলার পরিকল্পনা করতে পারে। বোমা বিস্ফোরণের পাশাপাশি দেশীয় ধারালো অস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে হামলার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে চিঠিতে।
চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, তারা বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগারে হামলার পরিকল্পনাও গ্রহণ করে থাকতে পারে বলে গোয়েন্দা তথ্যের ইঙ্গিত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। এই পরিপ্রেক্ষিতে চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি নজরদারি বৃদ্ধি এবং সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সেনাবাহিনী থেকে ইতিমধ্যে দুই সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এছাড়া অন্য একটি সংস্থা থেকে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৮ জন অফিসার রয়েছেন। তাদের সঙ্গে তেহেরিক-ই-তালিবান অব পাকিস্তানের (টিটিপি) যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে দুই জন বিমানবন্দর দিয়ে পাকিস্তান যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে তাদের অফলোড করে গ্রেফতার হয়েছে। যদিও এ ব্যাপারে সরকারের কোন সংস্থা থেকে পরিষ্কার করে কোন ধারণা দেওয়া হয়নি।
গতকাল শনিবার রাজধানীর মিন্টোরোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত চলমান ‘এসএসসি পরীক্ষা-২০২৬ এর প্রশ্নপত্র ফাঁস সম্পর্কিত অনলাইন প্রতারণা সংক্রান্ত’ সংবাদ সম্মেলন শেষে এক প্রশ্নের জবাবে সিটিটিসি প্রধান মুনশী শাহাবুদ্দীন বলেন, আমরা এই তথ্য পেয়েছি, আমাদের সিটিটিসি, সাইবার ইন্টিলিজেন্সসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছি। মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে, এটার জন্য আপনারা কি করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই, আমরা কাজ করছি।
সিটিটিসি প্রধান জানান, এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের নামে একটি প্রতারক চক্র সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তবে তাদের সরবরাহ করা প্রশ্নের সঙ্গে আসল প্রশ্নপত্রের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘চতুর্মুখী সঙ্কটে বোরো মৌসুম’। খবরে বলা হয়, দেশের কৃষি অর্থনীতির প্রাণভোমরা বোরো মৌসুম। মোট ধান উৎপাদনের ৫৫ শতাংশের বেশি আসে এই মৌসুম থেকেই। অথচ চলতি বছর বোরো চাষ একযোগে একাধিক সঙ্কটে জর্জরিত। বিদ্যুতের লোডশেডিং, ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ ঘাটতি, সারের সঙ্কট, কৃষিযন্ত্র ও শ্রমিকের অভাব- সবমিলিয়ে কৃষি খাত এখন চরম চাপে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে প্রাকৃতিক ঝুঁকি, বিশেষ করে হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যার আশঙ্কা। ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও ধানের সরকারি মূল্য অপরিবর্তিত থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষকরা।
বাংলাদেশের ধান উৎপাদন কাঠামোতে বোরো, আমন ও আউশ- এই তিন মৌসুম গুরুত্বপূর্ণ হলেও উৎপাদনের মূল ভরকেন্দ্র বোরো। এ মৌসুমে প্রায় দুই কোটি ১০ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হয়, যেখানে আমনে প্রায় এক কোটি ৬৭ লাখ টন এবং আউশে প্রায় ৩০ লাখ টন। ফলে বোরো মৌসুমে সামান্য ব্যাঘাতও সরাসরি জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিতে পারে।
জ্বালানিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার চাপ
বর্তমান কৃষিব্যবস্থার প্রতিটি ধাপই জ্বালানিনির্ভর। জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে রোপণ, সেচ, ধান কাটা, মাড়াই এবং পরিবহন-সব ক্ষেত্রেই ডিজেলের ব্যবহার অপরিহার্য। শ্রমিক সঙ্কট ও মজুরি বৃদ্ধির কারণে কৃষকরা ক্রমেই যন্ত্রনির্ভর হয়ে উঠেছেন। কম্বাইন হারভেস্টার, থ্রেশার, ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার, সেচ পাম্প সবই ডিজেলচালিত।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২১ লাখের বেশি ডিজেলচালিত কৃষিযন্ত্র রয়েছে, যার মধ্যে কম্বাইন হারভেস্টারই ১০ হাজারের বেশি। সেচ মৌসুমে কৃষিতে ডিজেলের মোট চাহিদা প্রায় ১২.৫ লাখ টন, যার মধ্যে ৭.৬ লাখ টন লাগে শুধু সেচে। দৈনিক চাহিদা প্রায় ৭ হাজার টন। কিন্তু সরবরাহ ঘাটতির কারণে অনেক ক্ষেত্রেই যন্ত্র মাঠে অচল হয়ে পড়ে থাকছে, ফলে ধান কাটা বিলম্বিত হচ্ছে।
আগাম বন্যার শঙ্কা ও হাওরের উদ্বেগ
হাওরাঞ্চলে এখন ধান কাটার ভরা মৌসুম। কিন্তু আকাশে সামান্য মেঘ জমলেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে কৃষকদের মধ্যে। বজ্রপাতের ঝুঁকি এতটাই বেড়েছে যে, অনেক সময় কাজ ফেলে আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষক-শ্রমিকরা।
উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ইতোমধ্যে নির্দেশ দিয়েছে- ৮০ শতাংশ পাকা ধান দ্রুত কেটে ফেলতে হবে। কারণ হাওরাঞ্চলে ধান কাটার সময় খুবই সীমিত; সামান্য বিলম্বও পুরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।
বণিক বার্তা
‘বিদ্যুতে ভর্তুকির টাকা ছাড়ে কঠোর শর্ত অর্থ বিভাগের’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বিদ্যুৎ খাতের ঘাটতি মোকাবেলায় প্রতি মাসে বড় অংকের ভর্তুকি প্রয়োজন হয় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি)। এ অর্থ দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রির ঘাটতি মেটায় সংস্থাটি।
মার্চেও বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানি (আইপিপি) ও ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বকেয়া বিল পরিশোধে বিপিডিবিকে ২ হাজার ৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি হিসেবে দিয়েছে অর্থ বিভাগ। তবে এবার অর্থছাড়ে তারা বেশকিছু কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে, ভর্তুকির অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমদানি বিদ্যুতের বিল যেমন পরিশোধ করা যাবে না, তেমনি আইপিপি ও ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের (৯৪টি) বিল ব্যতীত অন্য কোনো ক্ষেত্রে অর্থ পরিশোধ করা যাবে না। পাশাপাশি যেসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিষয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন নেই, সেগুলোর জন্যও ভর্তুকির অর্থ ব্যবহার করা যাবে না। বিপুল বকেয়া পরিশোধের দায় এবং বিদ্যুতের উৎপাদন ও কেন্দ্রের জ্বালানি ঘাটতির মধ্যে ভর্তুকির টাকা ছাড়ে অর্থ বিভাগের এ ধরনের শর্তারোপ বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহ ব্যবস্থাপনাকে চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলবে বলে মনে করছেন বিদ্যুৎ বিভাগ ও বিপিডিবির কর্মকর্তারা।
এখন থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেয়া ভর্তুকির অর্থ পেতে বিপিডিবিকে ক্যাপাসিটি চার্জ যৌক্তিক পর্যায়ে হ্রাস, বর্তমানে অনুমোদিত ট্যারিফ সমন্বয়, আইপিপি, রেন্টাল ও কুইক রেন্টালের মাসভিত্তিক ক্ষতির আলাদা হিসাব এবং এসব কেন্দ্রের বিদ্যুৎ ক্রয়-বিক্রয়ে ভর্তুকির চাহিদার বিষয়ে আগামী মে মাস থেকে অর্থ বিভাগে আলাদা করে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেনের সই করা এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি গত সপ্তাহে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব বরাবর পাঠানো হয়েছে। বিপিডিবির চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিমকে ওই চিঠির অনুলিপি দেয়া হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ খাতের ঘাটতি মোকাবেলায় বেসরকারি ও ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আর্থিক ক্ষতি পরিশোধ করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ভর্তুকি ও প্রণোদনা ব্যবস্থাপনার আওতায় মার্চের জন্য ২ হাজার ৬৭ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে, যা ৮৫টি আইপিপি ও নয়টি ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য পরিশোধ করতে হবে। ওই চিঠিতে এ অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে মোট ১৩টি শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন না থাকায় দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ভর্তুকি অর্থ পাবে না। এছাড়া এ অর্থ আমদানি বিদ্যুতের বিল পরিশোধেও ব্যবহার করা যাবে না।
বিদ্যুৎ বিভাগ ও বিপিডিবির কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঘাটতি থাকছে। এ ঘাটতির পরিমাণ এতটাই বেশি যে ভর্তুকি পাওয়ার পরও কেন্দ্রগুলোর বিপুল বিল বকেয়া জমে গেছে। সরকারি-বেসরকারি ও যৌথ উদ্যোগে নির্মিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের এ বকেয়ার পরিমাণ ৫২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বেশি। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে বিপিডিবির রাজস্ব আয় ও প্রতি মাসে অর্থ বিভাগ থেকে যে টাকা ছাড় করা হয়, তা দিয়ে বিভিন্ন বিদ্যুৎ কোম্পানির বিল সমন্বয় করে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা হয়। এখন বিপুল বকেয়ার মধ্যে ভর্তুকি ছাড়ে অর্থ বিভাগের এমন শর্ত পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলবে। এমনকি ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিল পরিশোধে জটিলতা বাড়বে। তাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও জানান তারা।
দেশে ভারত থেকে আমদানি বিদ্যুৎ চুক্তি রয়েছে ২ হাজার ৭৬০ মেগাওয়াটের (আদানি)। বর্তমানে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত আমদানি বিদ্যুতের বিল বকেয়া ৩ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা। যার মধ্যে বড় অংশ আদানি পাওয়ারের। এরই মধ্যে বকেয়া বিল পরিশোধে বিদ্যুৎ বিভাগ ও বিপিডিবিকে চিঠি দিয়েছে আদানি। এমনকি বকেয়া পরিশোধ করা না হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দেয়ার কথাও বলা হয়েছে চিঠিতে।
বিপিডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, ভর্তুকি ও বিপিডিবির রাজস্ব আয় থেকে যে অর্থ পাওয়া যায় তা বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানিগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা হয়। অর্থ বিভাগের এ শর্তের কারণে আমদানি বিদ্যুতের বিল পরিশোধ বন্ধ হয়ে যাবে। এতে বকেয়া বিলের যতটুকু সমন্বয় করা হতো সেটিও এখন বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে শেরপুরের বিআর পাওয়ার জেনের ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং পটুয়াখালীতে চীনা অর্থায়নে নির্মিত আরপিসিএল ও নরিনকো পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেড বা আরএনপিএলের ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র। বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে এরই মধ্যে জানানো হয়েছে আরএনপিএলের বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে পুরোদমে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করবে। বর্তমানে একটি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ নিচ্ছে বিপিডিবি। এ কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ কেনা বাবদ বিপিডিবির প্রতি মাসে বড় অংকের বিল জমা হচ্ছে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির অনুমোদন না থাকায় ভর্তুকির অর্থ দিয়ে কেন্দ্রটির বিল পরিশোধ করা যাবে না বলে শর্ত দিয়েছে অর্থ বিভাগ।
দেশ রূপান্তর
দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘আবার সক্রিয় উগ্রবাদ!’। প্রতিবেদনে বলা হয়, হঠাৎ করেই উগ্রবাদী তৎপরতা নিয়ে পুলিশের চিঠিতে নড়েচড়ে বসেছে সরকারের হাইকমান্ড। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ওই বিশেষ চিঠি পুলিশের সবকটি ইউনিটিতে পাঠানো হয়েছে। চিঠি পেয়ে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় কঠোর নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। উগ্রবাদী সংগঠনগুলো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে বলে একটি গোয়েন্দা সংস্থার গোপন নোটেও এ তথ্য জানানো হয়েছে। এক্ষেত্রে তুরস্ক থেকে এক ব্যক্তি কলকাঠি নাড়ছেন।
একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে আবু মোহাম্মদ নামে এক সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। এরই আলোকে পুলিশ চিঠি দিয়ে সতর্ক করেছে সবকটি ইউনিটকে।
এদিকে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্যরা পালিয়ে গেলেও তাদের আইনের আওতায় আনতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ নিয়ে পুলিশ আছে দুশ্চিন্তায়। তাদের অবস্থান চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের সবকটি ইউনিটকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জঙ্গি বা উগ্রবাদী সংগঠন নেই বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়। তবে মাঝেমধ্যে পুলিশের শীর্ষ কর্তারা উগ্রবাদীদের সক্রিয় থাকার বিষয়টি উড়িয়েও দেননি। ওই সময়কার ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী ‘দেশে জঙ্গি নেই’ বলে মন্তব্য করে আলোচিত হন। এমনকি ‘আওয়ামী লীগের সময় জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ছেলেপেলেদের মারধর করেছে, কীসের জঙ্গি’ এমন মন্তব্যও তখন তিনি করেছিলেন।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মুনীরুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেশে উগ্রবাদী সংগঠনের তৎপরতা চলে আসছিল। কিন্তু সেটা দৃশ্যমান ছিল না। এখন সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়ার কারণেই সরকার এ সতর্কতা জারি করেছে। কোনো তথ্য থাকলে জননিরাপত্তার জন্য বিষয়টি সম্পর্কে সরকারের পক্ষ থেকে সচেতনার জন্য করা হয়ে থাকে। এসব বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে থাকবে বলে তিনি আশা করেন।’
পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (অপারেশন) রেজাউল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি। উগ্রবাদ বা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে পুলিশ সবসময় সতর্ক থাকে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ সব স্থানে নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’
