দেবীগঞ্জে ইউএনও’র ওপর হামলা

ফন্ট সাইজ:

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে পাম্পে দায়িত্ব পালনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সবুজ কুমার বসাক ও সঙ্গে থাকা আনসার সদস্যের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ভাউলাগঞ্জে অবস্থিত মেসার্স জান্নাতুল মাওয়া ফিলিং স্টেশনে এই ঘটনা ঘটনা ঘটে। এর আগে সকাল ৯টা থেকে ট্যাগ অফিসার, পুলিশ ও গ্রাম পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে তেল সরবরাহ অব্যাহত ছিল। পার্শ্ববর্তী ডোমার উপজেলার চিলাহাটি, বোদা উপজেলার বড়শশী, বগদুলঝুলা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ও চিলাহাটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা এই পাম্প থেকে পেট্রোল-অকটেন সংগ্রহ করার বাড়তি ভিড় থাকে সবসময়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার পেট্রোল সরবরাহের বিষয়টি জানতে পেরে ভোর থেকেই পাম্পে মোটরসাইকেলের লাইন দীর্ঘ হতে থাকে। বেলা সাড়ে ১২টায় তেল সরবরাহ কার্যক্রম পরিদর্শনের জন্য ওই পাম্পে যান ইউএনও সবুজ কুমার বসাক। ঘটনাস্থলে পৌঁছেই তিনি ফুয়েল কার্ড, মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই এমন চালকদের স্থান ত্যাগ করার নির্দেশ দেন। এই সময় দুইজন মোটরসাইকেল চালকের মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় উভয়কে ৫০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়।

মামলা প্রদানের পরপরই লাইনে অপেক্ষমাণ অন্তত ৩০-৪০ জন মোটরসাইকেল চালক হট্টগোল শুরু করে। ধারণা করা হচ্ছে তাদের কারোরই মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র ছিল না। এই সময় ইউএনও ও সঙ্গে থাকা আনসার সদস্যের দিকে তেড়ে আসে তারা। পরিস্থিতির অবনতি হলে ইউএনওকে পরে পার্শ্ববর্তী এক বাড়িতে সরিয়ে নেয়া হয়। এই সময় আনসার সদস্য তৈয়বুর রহমানকে কিলঘুষি দিয়ে তার সঙ্গে থাকা অস্ত্রটি ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে খবর পেয়ে দেবীগঞ্জ থানার ওসি অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

পরে ইউএনও’র সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তেল সরবরাহ বন্ধ ঘোষণা করেন ওসি। দেবীগঞ্জ থানার ওসি সেলিম মালিক বলেন, পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত ওই পাম্পে তেল বিক্রি বন্ধ থাকবে। একইসঙ্গে কারা এই ঘটনায় জড়িত সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন