ময়মনসিংহে সাবেক এমপি’র গাড়ি ভাঙচুর

ময়মনসিংহে সাবেক এমপি’র গাড়ি ভাঙচুর

ফন্ট সাইজ:

ময়মনসিংহের ফুলপুরে ধানের শীষের বিপক্ষে কাজ করার অভিযোগে কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য আবুল বাশার আকন্দের গাড়ি ভাঙচুর করেছে বিএনপি’র বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। এরপর এক ঘণ্টা রাস্তা অবরুদ্ধ করে রাখে। শনিবার বিকালে ফুলপুর পৌর শহরের বালিয়া মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে তিনি পুলিশের সহায়তায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
সূত্র জানায়, বিকালে আবুল বাশার আকন্দ বালিয়া রোডে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত স্বাধীন মিয়ার তুলার গুদাম পরিদর্শন করতে গিয়েছিলেন। এ সময় বিএনপি’র নেতাকর্মীরা দেখতে পেয়ে তার গাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে একটি ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে আবুল বাশার আকন্দের সমর্থকরা ময়মনসিংহ-শেরপুর সড়ক অবরোধ করে। তাৎক্ষণিক বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা অবরোধকারীদের ওপর হামলা চালিয়ে দ্বিতীয় দফায় আবুল বাশার আকন্দের গাড়ি ভাঙচুর করে। এতে গাড়িচালক আরমানসহ দু’জন আহত হন। পুলিশের চেষ্টায় সন্ধ্যায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে পুলিশ তার ভাঙচুর করা গাড়ি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
ধানের শীষের প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদারের বিপক্ষে কাজ করার অভিযোগ এনে পরাজয়ের জন্য দায়ী করে কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-সভাপতি আবুল বাশার আকন্দ ও মহানগর যুবদল সাধারণ সম্পাদক জোবায়েদ হোসেন শাকিলসহ অনেকের বিরুদ্ধে ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ ও এর পাল্টা লেখালেখি চলতে দেখা যায়। অনেকেই বিএনপি প্রার্থী পরাজয়ের জন্য দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে দায়ী করেন। জানতে চাইলে বিএনপি’র প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকাদার বলেন, আবুল বাশার কোন দল করে আমার জানা নেই। তিনি যদি বিএনপি নেতা হতেন, তাহলে অবশ্যই আমি পাশে পেতাম। কিন্তু তাকে দেখা যায়নি। তবে, তার গাড়ি ভাঙচুরের বিষয়ে আমার জানা নেই। সাবেক এমপি আবুল বাশার আকন্দ বলেন, আমি একটি আগুনের ঘটনা পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। স্থানীয় বিএনপি নেতা মিঠুনের নেতৃৃত্বে এরশাদুলসহ ৩ জন মিলে আমার গাড়ি ভাঙচুর করেছে। আমার ওপর অন্যায়ভাবে হামলা করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের চলাচলও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ফুলপুর থানার ওসি (তদন্ত) ইয়ামিন রাসেল জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে। উল্লেখ্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট আবুল বাশার আকন্দ ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি বিতর্কিত নির্বাচনে বিএনপি’র সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের বিপক্ষে কাজ করার অভিযোগে উপজেলা বিএনপি’র সভাপতির পদসহ দল থেকে বহিষ্কার হন। পরবর্তীতে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-সভাপতিসহ দলের বিভিন্ন পদের দায়িত্বে আছেন। গত সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপি’র মনোনয়ন চেয়ে বঞ্চিত হন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন