দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেয়ায় স্ত্রীকে তালাক দিলো বিএনপি কর্মী

দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেয়ায় স্ত্রীকে তালাক দিলো বিএনপি কর্মী

ফন্ট সাইজ:

গত ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। কিন্তু নির্বাচন শেষ হতে না হতে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ড. কেরামত আলীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেয়ায় স্ত্রী তারাফুল বেগমকে তালাক দিয়েছে স্বামী বিএনপি’র কর্মী সইবুর রহমান। ঘটনাটি ঘটেছে শিবগঞ্জ পৌর এলাকার শেখটোলা গ্রামে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তারাফুল বেগমের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।
জানা গেছে, শুক্রবার সকালে স্ত্রী তারাফুল বেগম অসুস্থ নাতির সুস্থতা চেয়ে অসহায় ও দুস্থদের মাঝে তবারক (খির, খিচুড়ি) রান্না করে বিতরণ করেন। কিন্তু বিষয়টি সইবুর রহমান জামায়াতে ইসলামীর বিজয় উৎসব ভেবে রেগে তার স্ত্রীকে তালাক দেন। তালাকের পরপর স্ত্রী তারাফুল বেগম তার ননদের বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছেন।
এ ব্যাপারে মোসা. তারাফুল বেগম জানান, আমি জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক এবং জামায়াতের বিভিন্ন মিটিং ও মাহফিলে যাই। সেটা আমার স্বামী জানে। আমার স্বামী বিএনপি করে। গত বৃহস্পতিবার ভোটের দিন আমি দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়েছি। আর আমার স্বামী তার দলের ধানের শীষে ভোট দেয়। কিন্তু ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা হয়। এতে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ড. কেরামত আলী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে বিজয় অর্জন করেন। বিষয়টি সে মেনে নিতে পারেনি। পরদিনে পবিত্র জুমা। আমার নাতি অনেক অসুস্থ। তাকে প্রতি মাসে রক্ত দিতে হয়। নাতির সুস্থতার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া চেয়ে (খির, খিচুড়ি) রান্না করে বিতরণ করি। কিন্তু সে বিষয়টি ভিন্নভাবে নিয়ে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়েছি বলে আমাকে তালাক দেয়।
এদিকে বিএনপি কর্মী সইবুর রহমান বলেন, আমি বিএনপি’র কর্মী। আমি আমার স্ত্রীকে ধানের শীষে ভোট দিতে বলেছি, কিন্তু সে আমার কথা শোনেনি। তাই রাগে আমার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছি। কিন্তু পরে বিষয়টি বুঝতে পেরেছি যে, আমার বড় ভুল হয়েছে। আমি পুনরায় সংসার করতে চাই তার সঙ্গে। কিন্তু আমার স্ত্রী কারও কোনো কথা শুনছে না। এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হুমায়ুন কবির বলেন, আমি বিষয়টি জানি না এবং আমার কাছে কেউ অভিযোগও করেনি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন