মো. আব্দুল আজিজ, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ৩৫ হাজার ১৬৫ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের এমপি হিসেবে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হাকিম দাঁড়িপাল্লার প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৮৬ ভোট এবং বিএনপি’র প্রবীণ এই নেতা ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ৫৫১ ভোট। আব্দুল আজিজ ১৯৮৬ সালে মাত্র ২৫ বছর বয়সে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবরিষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার পর তৎসময়ের তরুণ ওই জনপ্রতিনিধি তার সততা, কর্মদক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণে দারুণভাবে প্রশংসিত হন এবং ধীরে ধীরে তার জনপ্রিয়তা আরও বাড়তে থাকে। এরপর তিনি আরও ৩ বার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। প্রায় দুই দশক ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব পালন করার পর ২০১৪ সালে তিনি গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। বারবার জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত এই বিএনপি নেতার জনপ্রিয়তার কথা চিন্তা করে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় নির্বাচনে এমপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য দল তাকে মনোনয়ন প্রদান করেন। কিন্তু তৎকালীন দায়িত্বে থাকা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করলে আইনি জটিলতা দেখিয়ে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়নি। ফলে তিনি এমপি পদে নির্বাচন করতে পারেননি। এরপর তিনি থেমে থাকেননি। চলনবিল অধ্যুষিত গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রামের খেটে খাওয়া মানুষের ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন ও প্রত্যয়ে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র রাজনীতির নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তার নেতৃত্ব, গ্রহণযোগ্যতা ও দৃঢ় মনোবল নজরে আসে দলের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার। অতঃপর জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক চলনবিলাঞ্চলের সাধারণ মানুষের প্রিয় মুখ আব্দুল আজিজকে মনোনয়ন প্রদান করেন। মনোনয়ন প্রাপ্তির পর নাটোর জেলার বিএনপি’র সিংহ পুরুষ খ্যাত বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর সহযোগিতা নিয়ে গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম উপজেলায় গঠন করেন ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি। সেই কমিটির পরিকল্পনা মতে ব্যাপক প্রচারণা ও ক্যাম্পেইনের মধ্য দিয়ে দুই উপজেলায় ধানের শীষ প্রতীকের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়। এই গণ জোয়ারের ফল হিসেবে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আব্দুল আজিজ ধানের শীষ প্রতীক বিপুল পরিমাণ ভোট পায়। দুই উপজেলার মোট ভোটার ৪ লাখ ৪৫ হাজার ১৭২ জন। মোট ৭১.৬৮ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। উৎসবমুখর পরিবেশে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোট গ্রহণ সম্পূর্ণ হয়েছে।
নির্বাচিত হওয়ার পর নব নির্বাচিত এমপি আব্দুল আজিজ দুই উপজেলার জনগণের উদ্দেশ্যে তার ভেরিফাইড ফেসবুকে লিখেন, ‘প্রিয় গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম উপজেলাবাসী, আস্সালামু আলাইকুম। আপনারা যে আন্তরিক ভালোবাসা দিয়ে আমাকে সম্মানিত করেছেন এবং জনাব তারেক রহমানের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন তার জন্য আপনাদের কাছে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম উপজেলার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দকে পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করায় আন্তরিক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আন্তরিক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আমার প্রিয় নেতা তারুণ্যের অহংকার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানকে আমার প্রতি আস্থা রাখার জন্য। ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি নাটোর সদর-২ আসনে নবনির্বাচিত এমপি শ্রদ্ধেয় প্রিয় নেতা এড. এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ভাইকে সার্বক্ষণিক পাশে থেকে সহযোগিতা করার জন্য। আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি নির্বাচনকালীন সময়ে নিয়োজিত সকল প্রশাসনের ভাই-বোনদের যারা দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিয়েছেন। আগামী দিনে গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রামের উন্নয়নে কি ভূমিকা রাখা যায়- তা দুই উপজেলার নেতৃবৃন্দ ও জনসাধারণের বুদ্ধি পরামর্শ নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। আগামী দিনে আপনাদের নিয়েই গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম ঢেলে সাজাবো- ইনশাআল্লাহ্। আগামী দিনে সবার আন্তরিক সহযোগিতা চেয়ে সবার সুস্বাস্থ্য কামনা করছি এবং আমার জন্য দোয়া কামনা করছি- সবার আগে বাংলাদেশ। উল্লেখ্য, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ গুরুদাসপুরের ধারাবারিষা গ্রামের মৃত তাজেম উদ্দিন ও মৃত আবেদা বেগম দম্পত্তির ছেলে।
নাটোর- ৪
ইউপি চেয়ারম্যান থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান, অতঃপর এমপি হলেন আব্দুল আজিজ
বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি
১৬ ফেব্রুয়ারি (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
